জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি
আমদানি পর্যায়ে একক পণ্য হিসেবে সরকারের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে ডিজেল থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত অর্থবছরে শুধু ডিজেল আমদানিতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারকে ১১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে অঙ্কটি আরও বড়।
বিপিসির হিসাবে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে শুল্ক-কর বাবদ সরকারকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে সংস্থাটি।
এই বিপুল শুল্ক-কর দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মুনাফায় ছিল বিপিসি। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নিরীক্ষিত হিসাবে মাত্র এক বছর লোকসান হয়েছে তাদের। সেই লোকসান বাদ দিয়ে বাকি ১০ বছরে সংস্থাটির নিট মুনাফা টিকেছে ৫৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
১০ বছরের শুল্ক-কর ও মুনাফার দুই অঙ্ক যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। এই অর্থ এসেছে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে জ্বালানি বিক্রির আয় থেকেই।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে তেলের দাম সেভাবে না কমানো হয়নি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়।
গত রোববার তা আরও ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
এ বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এত দিন দাম বাড়াতে চায়নি। কিন্তু বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, নিয়মিত সরবরাহ ধরে রাখা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দামের ব্যবধান থেকে পাচারের ঝুঁকি-সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তেলের ওপর সরকার কেন এত বেশি হারে শুল্ক-কর আরোপ করে রেখেছে।
লোকসান এক বছর
বিপিসির নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরে সংস্থাটি ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লোকসান করেছে। অন্য বছরগুলোতে মুনাফা হয়েছে।
সদ্য বিদায়ী অর্থবছরেও লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি, যদিও নিরীক্ষিত হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি। সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যে তেল কিনে দেশে নিয়ন্ত্রিত দামে বিক্রি করায় প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, আগের মুনাফার পুরো অর্থ তাদের হাতে নেই। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন ব্যয়েও অর্থ গেছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১ মার্চ সংস্থাটির হাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ছিল। এরপর জ্বালানি আমদানির বিলসহ বিভিন্ন দায় পরিশোধ করতে হয়েছে। বিপিসির কিছু অর্থ দুর্বল ব্যাংকে আটকে আছে, আর কিছু অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত। বর্তমানে জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহারযোগ্য অর্থ প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। ৪০টি ঋণপত্রের অর্থের ব্যবস্থা করতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে।
ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ ১৭৭ টাকা
চলতি মাসে প্রায় ১৩ কোটি ১৩ লাখ লিটার ডিজেল খালাস করেছে বিপিসি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও বাংলাবান্ধা স্থল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার ডিজেলের গড় আমদানি ব্যয় ছিল ১২৬ টাকা ৪১ পয়সা।
এর ওপর লিটারে প্রায় ৩৩ টাকা শুল্ক-কর দেওয়ায় ব্যয় দাঁড়ায় ১৫৯ টাকা ৪১ পয়সা। বন্দর থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পরিচালন, পরিবহন, ডিলার কমিশন, উন্নয়ন তহবিলসহ আরও ১৭ টাকা ২৭ পয়সা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি লিটারে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৭৬ টাকা ৬৮ পয়সা। বর্তমান বিক্রয়মূল্য ১৩৫ টাকা ধরে এই চালানগুলোতে বিপিসির ঘাটতি লিটারে প্রায় ৪২ টাকা।
তবে এর মধ্যে সরকারের শুল্ক-করই প্রায় ৩৩ টাকা। শুল্ক-কর বাদ দিলে আমদানি ও অন্যান্য ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থাকে প্রায় ৯ টাকা।
তবে বিপিসির চেয়ারম্যান বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় প্রায় ২০৫ টাকা। দাম বাড়ানোর আগে তা বিক্রি করা হচ্ছিল ১১৫ টাকায়। অর্থাৎ তখন প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা ঘাটতি হচ্ছিল। এর মানে, এখনো প্রতি লিটারে ঘাটতি ৭০ টাকা।
এখন ভর্তুকি চায় বিপিসি
বিপিসির মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা গত এক দশকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আর্থিক চাপের মধ্যে সংস্থাটি উল্টো সরকারের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়ার আশা করছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান জানান, জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির পরিমাণ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ নতুন আমদানির অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।
চাপ কমানোর সুযোগ কতটা
দাম না বাড়িয়ে শুল্ক-কর কমানোর সুযোগ ছিল কি না, এ প্রশ্নও উঠেছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই কর কমাত। তা না হওয়ায় ধরে নিতে হচ্ছে সেই সুযোগ ছিল না।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিপিসির মুনাফার বড় অংশ সরকারি কোষাগারে নেওয়া হয়েছে। সংকটের সময়ে তার একটি অংশ ফেরত দিলে ভোক্তার ওপর চাপ কমানো যেত।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, বিপিসিকে মূলত সেবাদানকারী সংস্থা হিসেবে ‘না লাভ, না ক্ষতি’ কাঠামোয় পরিচালনা করা উচিত। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন নিরীক্ষা প্রয়োজন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকে না; উৎপাদন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ে ভোক্তার ওপর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)
৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন।
তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।