প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যাঁরা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তাঁদের সহযোগিতার জন্য সরকার পাশে আছে। এখন কাজ করার সময়। যাঁরা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান, তাঁদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব।
‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন, সে কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষ ও সমাজের জন্য সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন উদ্যোক্তা। দেশের লাখো কোটি মানুষের এই উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন। দেশের জন্য এই উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীসহ সফল অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য একসময় আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’
অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’
তরুণ উদ্যোক্তাদের কাজও খুব কঠিন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এ রকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
সম্প্রতি দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেশন ইভেন্ট ছিল। ছোটবেলায় সায়েন্স ফেয়ার বলতে যা বোঝায়, অনেকটা ও রকম। বিভিন্ন স্কুলের শিশুরা সারা দেশ থেকে এসে সেখানে অংশ নেয়। তারা তাদের বানানো নানা প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। কিছুদিন আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সারা দেশের প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ শিশু বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই বাচ্চাগুলোকে দেখার পর আমার সে হতাশা কেটে গেছে। আমার নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। আর আজ আপনাদের বক্তব্য শুনে ও আপনাদের কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে।’
ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, সেই প্রত্যাশার কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার। আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে, আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. মোর্শেদ হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্টল পরিদর্শন করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ (startup.ictd.gov.bd)- এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করতে নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। দেশের ঐতিহ্য জামদানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রাফিহা ফ্যাশন হাউসের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদানপ্রাপ্তির আবেদনের কথা উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক তাঁর হাতেও অনুদানের একটি চেক তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে উদ্ভাবিত প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নতুন প্রজন্মে উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, আমরা ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি। আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত জামিন বাতিল করতে পারব এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঘিরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অগাস্ট মাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু পাওয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আগস্ট মাসে পুলিশ সারাদেশে সতর্কতা জারি করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী, যেটা নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী- তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।’
এদিকে, ঢাকায় গত কয়েকদিনে বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে শনিবার দুপুরে মিরপুর - ১০ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সেটিতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য নেই বলে জানিয়েছে। তবে, প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে শনিবার, পুলিশ সদর দপ্তর পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সারাদেশে সতর্কতা জারি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ের সকল ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার। আজ রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তাই মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশ আগ্রহী। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো প্রস্তাবও নতুন করে আলোচনায় আসে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগ আবারও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানান।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, চীন মিয়ানমার বাংলাদেশ করিডোর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মত দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক পুনরায় শুরু করে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে এ রোগে ৮৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ১১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। আর ৯৬ জন মারা গেছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১১ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১২ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ২২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৪৬ জন।
ঢাকা বিভাগে ভর্তি ২৮৩ জন, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৬৩, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ১৪২, ময়মনসিংহে ৬৫, খুলনায় ২২, রংপুরে ৪৫ জন।
এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ১২ হাজার ৬২০। যার মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ সহাজার ৮৩। শনাক্ত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৯৫।
ছবি : সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।রোববার বিইআরসি এ-সংক্রান্ত পৃথক আদেশ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেনের মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৬৪০ মার্কিন ডলার। গড়ে সৌদি আরামকোর কন্টাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৩৩ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এই কেজিপ্রতি দর অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ টাকা। এছাড়া ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩৯৭ টাকায় বিক্রি হবে। তুলনামূলক বড় আকৃতির সিলিন্ডারের মধ্যে ২০ কেজির দাম ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং সর্ববৃহৎ ৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ টাকা।
সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ও অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বাসা-বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি রেটিকুলেটেড এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির মূল্য প্রতি লিটার ২৮ টাকা ৭৫ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।
তবে বেসরকারি খাতের গ্যাসের দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিইআরসির পূর্বের নির্দেশনানুযায়ী সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য পূর্বের ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাতেই অপরিবর্তিত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এলপিজি মজুদকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক কিংবা খুচরা বিক্রির কোনো ধাপেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজীর আহমেদ
বাংলাদেশের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথাও হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়।
জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
বেনজীরের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে কালবেলা লিখেছে, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত আরোপ করলেও সাবেক এই পুলিশ প্রধান দুবাই থেকে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।
এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
“তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।"
আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়।
সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার।
সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।
এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এল, যা তার প্রত্যাপর্ণের বিষয়টিই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।
পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।
প্রাথমিক-গণশিক্ষা-মন্ত্রণালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দিনক্ষণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
এতে আরও বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য পাঠানো হলো।
এদিকে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ের পদায়ন চান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে তাদের।
এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জডড়ো হতে শুরু করেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।