ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৫ মে, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ এএম

দীর্ঘ ১৫ বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেন না। বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঢেউয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের ক্ষমতার কাঠামো।


সোমবার (৪ মে) ভোট গণনা চলতে থাকলেও সন্ধ্যা নাগাদ প্রবণতা স্পষ্ট—‘দিদি’র শাসনের অবসান ঘনিয়ে আসছে। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে রয়েছে।


এই অগ্রগতি শুধু আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্বল হয়ে পড়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের চেয়ে বিদ্যমান নীতির ধারাবাহিকতাই আপাতত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির শক্ত অবস্থান আগেই দৃশ্যমান ছিল। কংগ্রেস বা স্থানীয় দলগুলোর বিচ্ছিন্ন সাফল্য সত্ত্বেও সামগ্রিক ফলাফল অনেকটাই পূর্বানুমেয়।


মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, এই পরিবর্তনের ফলে ভারতের কেন্দ্রীয় নীতিতে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বিদ্যমান নীতিগুলোই অব্যাহত থাকতে পারে, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও একটি স্থিতিশীল ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।


তিনি বলেন, দিল্লির বর্তমান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর যোগাযোগ এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি পরিণত নয়। ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পর্কের কাঠামো ভেঙে পড়ার শঙ্কা নেই।


এই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নীতিনির্ধারণে সমন্বয় বাড়াতে পারে।


বিশেষ করে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুতে নতুন গতি আসতে পারে। অতীতে এই চুক্তি মূলত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে আটকে ছিল। ফলে রাজনৈতিক সমন্বয় বাড়লে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, পূর্বের আলোচনার জায়গা থেকে সরাসরি অগ্রগতি সম্ভব নয়। নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন হবে।


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় দেড় দশক ধরে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় মমতার আপত্তির কারণেই চুক্তিটি আর স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে বাংলাদেশে এই ইস্যুতেই তাকে বেশি করে চেনা হয়।


ভারতের নির্বাচনি রাজনীতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসে, বিশেষ করে ‘অনুপ্রবেশ’ বা অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে। নির্বাচনের সময় এসব বক্তব্য আরও তীব্র হয়।


মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, এসব বক্তব্যের বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত। বাস্তবে বাংলাদেশ থেকে বড় ধরনের ‘রিফিউজি ঢল’-এর কোনো প্রমাণ নেই।


তবে এই ধরনের রাজনৈতিক বয়ান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর মতো উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে— যা অতীতেও দেখা গেছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিনও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে।


বিশ্লেষকদের মতে, যদিও রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, বাস্তবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কলকাতার স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা ব্যবসা এবং শিক্ষা খাতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি গ্রাহকদের ওপর নির্ভরশীল।


একইভাবে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। সীমান্ত বাণিজ্য, পরিবহন ও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে উভয় অর্থনীতিই পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল।


এই বাস্তবতা রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশকে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর থেকেই রাজ্যে দলটির প্রভাব ধীরে ধীরে বেড়েছে।


একসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক বলেন, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়সহ ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির বিস্তার এই প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের এই পরিবর্তন বৃহত্তর একটি জাতীয় প্রবণতার অংশ।


তার মতে, এবার না হলেও ভবিষ্যতের কোনো নির্বাচনে এই পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আগেই ছিল।


বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যেই নির্ধারিত হয়, কোনো রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নয়।


অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তাদেরকে রাজ্য পর্যায়ের বক্তব্য ও আচরণের দিকেও নজর রাখতে হবে।


তিনি সতর্ক করে বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের জটিলতা থাকায় ‘পুশব্যাক’ ইস্যু সহজেই কূটনৈতিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে।


বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও একটি আশ্বস্তকারী অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।


তার মতে, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে। ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও এই সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১২ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। 


আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণীত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। 


ইতিমধ্যে গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তবে এ বছরের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতো বহাল থাকবে। 


অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।


মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ওষুধ শিল্পে স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা দূর হবে। বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে। শিল্প মালিকেরা আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, যে আইনি জটিলতা ছিল তা দূর হবে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। 


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তারেক রহমান মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। 


পাশাপাশি দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।


উপ প্রেস সচিব আরো জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।


সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

সর্বশেষ সব খবর

বেনজীর আহমেদ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুই শর্তে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর।


গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে সেখানকার আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।


আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 


মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।


২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। 


এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০২ পিএম

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল গণমাধ্যমে। তবে, খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। 


সংস্থাটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ‘মোটরসাইকেলের সামনেও বসছে নম্বর প্লেট’ শীর্ষক খবরটি সঠিক নয়। গতকাল রোববার (২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।


এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেল এআই ক্যামেরার আওতায় আনতে সামনেও নম্বর প্লেট লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ প্রচার করা হয়। 


পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বিআরটিএর সূত্রের বরাতে জানানো হয়, এআইভিত্তি ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট (সংখ্যা) ঢেকে সড়কে চলাচল করছে কোনো কোনো চালক। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পেছনে থাকায় ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে এআই ক্যামেরা তা কখনও কখনও সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। তাই মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট সামনে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি কার্যকর করতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফা বৈঠক ও করেছেন।


তবে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিআরটিএ জানায়, এ সম্পর্কিত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই, পূর্ববর্তী প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হলো।

সর্বশেষ সব খবর

সরকারি ছুটি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ পিএম

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে। 


তবে এই ছুটি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একযোগে প্রযোজ্য হচ্ছে না। জরুরি ও জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিতদের সেদিনও স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি। এ বছর দিনটি বুধবার হওয়ায়, পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ যাপনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে অনেক সরকারি চাকরিজীবীর সামনে।


তবে হাসপাতাল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলওয়ে, গণপরিবহন, কারাগার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


এদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গত বছর সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল। 


সংগঠনটি তখন জানিয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


তবে চলতি বছর এ বিষয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পোশাক খাতে ৫ আগস্ট ছুটি থাকবে কি না, তা কারখানাগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে।


সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে; যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ। 


আজ সোমবার সকালে ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’


ময়লা আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’


নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’


তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’


সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’


দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’

সর্বশেষ সব খবর