প্রতীকী ছবি
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন শিশু রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। এছাড়া, নতুন ৩৭২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার ফলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে এক হাজার ৩৪ জনে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৮৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে একজন কন্যাশিশু, যার বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এবং দুজন নারী, যাদের একজনের বয়স ৩১ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে ও আরেকজনের বয়স ৪৬ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৮৪৭ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন নয় হাজার ৭৮৬ জন।
এ পর্যন্ত মারা যাওয়াদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ৩৭ জনের মধ্যে নারী ২২ জন বা ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষ ১৫ জন বা ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১২, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ছয় ও সিটি করপোরেশনের বাইরে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহে পাঁচ, চট্টগ্রামে চারজন ও খুলনায় পাঁচজন, বরিশালে তিন ও রাজশাহীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে পেছনে রাখা নয়; বরং একাত্তরকে সামনে আনার পাশাপাশি জুলাইকেও সামনে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা জুলাইকেও অস্বীকার করতে পারি না। এ জন্য যে আমাদের অসংখ্য সন্তান, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। একাত্তর ও চব্বিশ কোনোটিকেই বিএনপি ছোট করে দেখে না বলে উল্লেখ করেন দলটির মহাসচিব।
একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে ধর্মের নামে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মের নামে যারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের অবশ্যই রুখে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।
ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল ও ভবিষ্যৎ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির সরকার গঠনের পেছনে এবার সংখ্যালঘুদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লালন করেন। সরকারের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোনো মতের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, বিএনপি সরকার সেই অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
যেকোনো পরিস্থিতির বিশ্লেষণে পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পটভূমি বিচারে শুধু সাম্প্রতিক দু-এক বছর নয়; বরং আগের সব ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সভা সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্য। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ– ৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি অশোক তরু সাহা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হারে নির্যাতন বেড়েছে, সেটা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি অবিলম্বে সরকারকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলোয় যথাযথ সরকারি ছুটি দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি এই ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৫টি শিশু। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৩৭টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৮৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯০০। এই সময়ে ৮০৫টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮০৬টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তারা বিদেশে কীভাবে চলাচল করবে সে বিষয়ে ১০ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বেশকিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা:
কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলা; পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা; চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা; অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রতারণা (Scam) ও ফিশিং (Phishing) থেকে সাবধান থাকা; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা। পাশাপাশি তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে সত্যতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা।
এ ছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বর্জনীয় কিছু বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো:
সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য বা প্রচার না করা এবং গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা; ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করা; কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা; যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান (Donation) না দেওয়া; কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করা; নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করা; ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া; ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়া; কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।
মো. ফজলুর রহমান
নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটি ট্রাস্টের আইন, বিধিমালা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অর্পিত দায়িত্ব ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ট্রাস্ট ও এর অধীন বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, হিসাব নিরীক্ষা, ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
সরকার আশা করছে, পুনর্গঠিত এই নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।
নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। পুনর্গঠিত এ কমিটিতে ফজলুর রহমান ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
এ ছাড়া অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন নির্বাহী কমিটি ট্রাস্টের আইন, বিধিমালা ও ট্রাস্টি বোর্ডের অর্পিত দায়িত্ব বাস্তবায়নের পাশাপাশি ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবে। এ ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, অধীনস্থ বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন, হিসাব নিরীক্ষা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বও পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন ‘ভ্রমণের জন্য আরও নিরাপদ’
বাংলাদেশের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন মূল্যায়নে দেশের সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা লেভেল-৩ (ভ্রমণের আগে পুনর্বিবেচনা করুন) থেকে কমিয়ে লেভেল-২ (অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে ভ্রমণ করুন) নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় ‘ভ্রমণের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সরকারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠকের পর এই অগ্রগতির বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠক শেষে সার্জিও গর খুদে বার্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত বহন করে।
সরকারের মতে, ভ্রমণ সতর্কতার এই উন্নয়ন দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে নেওয়া পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় তাকে হাতকড়া পরানো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
হাতকড়া প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। এতে আমরা খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, আমরা হাতকড়াকেও তেমনই মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করায় প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের কথা বলার অধিকার আছে। লতিফ সিদ্দিকীও কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তার বয়স এখন ৮৭ বছর। তিনি যদি এমন অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পান, যা তিনি করেননি, তাহলে দুনিয়ায় যে ভুল-ত্রুটি করেছেন, সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমরাও তা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ শেষ বিচারে আল্লাহ তাআলা তাকে মুক্তি দেবেন।’
শাপলা চত্বরে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়েছে- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাকে পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। কারণ তিনি তখন ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না। তিনি পাটমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ‘পাট নিয়ে হত্যা চলে না। ওই সময় বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কাছে বিতর্কিত ছিলেন। পরে তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়’।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের ঘটনার বিচার এখন তার ভাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে- এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাব।’