• প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম
  • আপডেট : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের হার তরুণদের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা আক্রান্ত প্রায় ৫৩ শতাংশ তরুণ। তাদের বড় অংশই আগে জানত না– রক্তচাপে ভুগছে। শরীরে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর বা অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধরা পড়ছে উচ্চ রক্তচাপ। গত এক বছরে চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি চার হাসপাতালে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ৩ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব জানা গেছে। 


তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, এসব রোগীর কেউ কেউ দৈনিক খাচ্ছেন ৭ গ্রাম লবণ। কেউ আবার ৯ গ্রাম পর্যন্ত। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের প্রভাব নীরবে পড়ছে শরীরে। বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ। দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘এক সাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি’। 


বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শুধু অতিরিক্ত লবণ সেবন নয়; অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপার টেনশনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা, ফলোআপ, ওষুধ সেবন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল এবং পার্কভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রায় তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। অধিকাংশ রোগীর শরীরে লবণের মাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। 


তরুণদের বড় একটি অংশ খাবারের সঙ্গে আলাদা লবণ খায়। আবার চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, আচার, স্যুপ ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মাধ্যমে অজান্তেই শরীরে ঢুকছে অতিরিক্ত সোডিয়াম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফাস্টফুডে অভ্যস্ততা, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার প্রবণতা। চিকিৎসকদের পর্যালোচনায় জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি অনেকেই আয়োডিনযুক্ত লবণ খান না। বাজারে আয়োডিনযুক্ত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত প্রতি কেজি লবণ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। খোলা লবণ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকায়। দাম কম হওয়ায় তা লুফে নেন এক শ্রেণির ক্রেতা। তারা মূলত খেটে খাওয়া মানুষ। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে সচেতনমূলক কর্মসূচি পালন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।


রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহাম্মদ মনজুরুল আজিজ বলেন, গ্রামে মানুষ শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে। তবে সেখানেও জাঙ্ক ফুড গ্রহণ ও আয়েশি ভাব বাড়ছে। গ্রামে রোগ নির্ণয়ের হারও কম। আবার শহরে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা থাকলেও সেই হারে শনাক্ত করা হয় না। আরেকটি উদ্বেগের বিষয়– রক্তচাপ মাপার মেশিন। হাসপাতালে মেশিনের মান সব সময় ভালো থাকে না।


স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. নূর-আ-আলম খান বলেন, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম না হলে শরীরে বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে ঘুমের ঘাটতিতে গ্রেলিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং লেপটিন হরমোন কমে যায়। এর ফলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অনিয়মিত ঘুমের কারণে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


বর্তমানে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমও বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘসময় কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমে যায়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে মানসিক চাপ, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এ সমস্যা অনেক বেশি। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুল হুদা চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ হাইপার টেনশনে ভুগছে। দিন দিন এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ।


সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. আশিকুর রহমান খান বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নীরবে শরীরে বাসা বাঁধলেও এর পরিণতি কখনও নীরব থাকে না। হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতাসহ নানা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে এই রোগ। তাই এখনই সচেতন হওয়ার সময়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।


চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, উচ্চ রক্তচাপে ভোগা রোগীর মধ্যে কম বয়সীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। অনেকেই আগে থেকে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু বিষয়টি জানতেন না। তাই চিকিৎসা নেননি; প্রয়োজনীয় পরীক্ষাও করাননি। জটিলতা তৈরি হওয়ার পর হাসপাতালে আসছেন। চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, অনেক রোগীর শরীরে লবণের মাত্রা ৭ থেকে ৯ গ্রামের বেশি পাওয়া গেছে। 


চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণকারীদের মধ্যে গ্রামাঞ্চলের মানুষ ও কম শিক্ষিত সংখ্যাই বেশি। অনেকেই এখনও মনে করেন, খাবারের সঙ্গে আলাদা লবণ খাওয়া স্বাভাবিক অভ্যাস। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে। অতিমাত্রায় লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করে বহু গুণ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়ে সচেতন নন।


ছয় মাস পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ১৮ বছর বয়সের পর অন্তত ছয় মাস পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। কিন্তু ৩০ বছর বয়সী অনেক রোগীকেও পাওয়া যায়, যারা জীবনে কখনও রক্তচাপ মাপেননি। চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাবারে লবণ কমানো, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করলে ঝুঁকি অনেকটা কমবে।


স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম বলেন, জিনগত কারণ, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ, বয়স বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপে বড় ভূমিকা রাখে। ফাস্টফুড, এনার্জি ড্রিংকস, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও অনিয়মিত ঘুম তরুণদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। 


তিনি বলেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বড় সমস্যা হলো, হাইপার টেনশনের সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর, কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। আবার অনেকে রোগ শনাক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত ওষুধ খান না।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।


এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারারোপণ করেন। এসময় তাঁ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারারোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।


চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তারা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।


এসময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

ফ্যাসিস্টটের ভাষয়া বলা হচ্ছে, সরকারকে পাঁচ বছরও যেতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান-সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। তাই টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে হবে।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনো ধরনের সেল্ফ সেন্সরশিপ নয়, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে।


সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


তিনি বলেন, সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হবে।


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ শিশু। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।


সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সে সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

সেমিনারে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২১ পিএম

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


তিনি বলেন, "গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।" রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে শুক্রবার তিনি কথা বলছিলেন।


মির্জা ফখরুলের কথায়, গণতন্ত্র কেবল ‘নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতি’।


টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে তাগিদ দেন তিনি।। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন।


সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এখানে কোনো ধরনের আত্মসেন্সরশিপ থাকা চলবে না।


এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।


গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, "মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।"


সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"


সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

সর্বশেষ সব খবর

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে ইলিয়াস কাঞ্চন (ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪০ পিএম

‘৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এক বেদনাকে মানুষের জীবনরক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের আন্দোলন।’


আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মহান আল্লাহ-তাআলা যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের পাশে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশে আবারও সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি দেন।’


তিনি বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করেছিলাম। দীর্ঘ এই পথচলায় আন্দোলনটি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং সারাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।


নিসচা প্রতিষ্ঠাতা সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবনরক্ষার সহযোদ্ধা।’


আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’


বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪১ এএম

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ভর্তিতে কোনো পরীক্ষা হবে না। এ শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‎আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম শ্রেণি ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে।


১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। ওই সময় মন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম।’


২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। 


পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর