মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) যন্ত্রকৌশল শিক্ষায় সূচিত হয়েছে নতুন অধ্যায়।


ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে ৪র্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম বিভাগ হিসেবে চালু হওয়া মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের কারণে অল্প সময়েই বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে।


মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশলকে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তৃত শাখা এবং ‘Mother of Engineering’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ গুরুত্ব বিবেচনায় ইউজিসি ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিভাগটি অনুমোদন করে এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।


বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট, শাবিপ্রবি ও হাবিপ্রবিসহ মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে।


এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইইউটি এবং কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, আধুনিক ইঞ্জিন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে ২২ জুলাই ২০২৬ ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়।


এর মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অটোমোটিভ প্রযুক্তিতেও শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের সমন্বয়ে বিভাগটি ভবিষ্যতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সকলেই প্রত্যাশা করছেন।


দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বিভাগের যাত্রা



মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা।


দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এনআরএফ)’-এর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে সাত বছর মেয়াদি ‘অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ)’ প্রকল্পের আওতায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজ চলছে।


এই প্রকল্পের অধীনে বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক সহযোগিতা, ল্যাব সম্প্রসারণ, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য টেক্সট বই প্রদান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।


২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে উল্লিখিত প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা বর্তমানে বিভাগের ল্যাবগুলোতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে।


যেভাবে যাত্রা শুরু



মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির যাত্রা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো মাভাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ ও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনের কাছে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এরপর ২০২০ সালে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বিভাগ খোলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশসহ ইউজিসিতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ইউজিসি ১২/০৯/২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি এবং সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই যৌথ প্রকল্পের কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।


নেতৃত্বে অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ। মূলত তাঁর উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বিষয়ে যোগাযোগ, বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রকল্প অনুমোদন, বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু এবং প্রকল্প পরিচালনা থেকে সকল কাজেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠা করা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার একার পক্ষে সেই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সফলভাবে তার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে – এতেই আমি আনন্দিত।


চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যেটা আমরা করতে পেরেছি। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের ফলে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হবে।”


একাডেমিক কার্যক্রম ও ল্যাব সুবিধা


২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ (ত্রিশ) জন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে বিভাগটিতে তিনটি ব্যাচে ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিভাগের ১ম ব্যাচে নেপাল থেকে আগত একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। নতুন এ বিভাগে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি বিদ্যমান। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড অটোমোটিভ রিসার্চ (CAAR), ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রথম গবেষণা ইঞ্জিন (ইঞ্জিন সিমুলেটর) বিভাগে সংযোজিত হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ৩০টিরও বেশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। প্রকল্প মেয়াদ পর্যন্ত আরও অনেক গবেষণা সরঞ্জামাদি বিভাগে যুক্ত হবে।


বর্তমানে যেসব ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনটি ক্লাসরুম, ১০০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল, ১০০০-এর অধিক বই সম্বলিত সেমিনার লাইব্রেরি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ (মেশিন শপ, ফেব্রিকেশন ও শিট মেটাল শপ, ওয়েল্ডিং শপ), অ্যাডভান্সড মেকানিক্স ল্যাব, মেট্রোলজি ল্যাব, ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাব, থার্মোডাইনামিক্স ল্যাব, হিট ট্রান্সফার ল্যাব, ইঞ্জিন ল্যাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ল্যাব এবং CAAR (Center for Advanced Automotive Research)। এছাড়াও ভবিষ্যতে CAD মডেলিং ও সিমুলেশন কাম কম্পিউটার ল্যাব, ফ্লুইড মেশিনারিজ ল্যাব, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ল্যাব, ম্যাটেরিয়ালস টেস্টিং ল্যাব, প্রোডাকশন ল্যাব, রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ল্যাবসহ বেশ কিছু আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।




কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও সহযোগিতা কার্যক্রম এবং উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া গমন


উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় এবং শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে শিক্ষা সফরে ১০ জন করে শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন।


মূলত কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও শিক্ষার আধুনিকায়নে তারা এ সফরে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই ১০ জন শিক্ষার্থী দশ দিনের শিক্ষাসফরে ২য় বারের মতো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় তারা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করা, ফুটবল ম্যাচ খেলা, বিভাগ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ ছাড়া তারা যৌথভাবে আইইউটি (Islamic University of Technology)-তে একটি এডুকেশন ভিজিটে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় আইইউটি ও বুয়েট-এর চারজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোরিয়ার সরকার প্রদত্ত GKS স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।



বিভাগের বর্তমান অবস্থা



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিভাগে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। ইউজিসি কিছু শিক্ষক ও টেকনিক্যাল পদের অনুমোদন দিয়েছে। সেসব পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিভাগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক ও ল্যাবের টেকনিক্যাল জনবলের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষে ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট, চূড়ান্ত বর্ষে রিসার্চ ও থিসিস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিং রয়েছে। এ সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক অপরিহার্য।


এছাড়াও বিভিন্ন ল্যাবের যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিষয়ভিত্তিক কারিগরি জনবল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কর্তৃক প্রদেয় আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতিসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভাগটি দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।”



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিভিন্নজনের মতামত


                                                                                                                                                             মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন,  “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”                             


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।


নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, “মাভাবিপ্রবিতে নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটির অগ্রযাত্রা আমাকে সত্যিই আশাবাদী ও মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জামাদির যথেষ্ট সমৃদ্ধি রয়েছে। তবে শিক্ষক সংকট একটি সাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিভাগটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই বিভাগ দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করবে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি। নবীন এই বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করছি।” 


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও ইতোমধ্যে শিক্ষা, পাঠদান ও একাডেমিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভাগটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ও সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি সুবিধা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরন্তর নিষ্ঠা, প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিভাগটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রকৌশল শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”


প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো বলেন, “I am truly delighted to have contributed to the establishment of the Department of Mechanical and Automotive Engineering at Mawlana Bhashani Science and Technology University. I have been providing my full support in developing the necessary laboratories and equipment and will continue to do my best to meet the department’s future needs. I also believe that the growing collaboration between the students and the Government of South Korea will open new opportunities for their future, particularly in higher education.”


নেপাল থেকে আগত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীদ আনসারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “Bangladesh was a completely new place for me, and since this department was also new, I felt a little nervous in the beginning. However, after coming here, all my perceptions changed. The people of Bangladesh are so friendly and welcoming that I never feel like I am living outside my own country. Moreover, this department has given me much more than I ever expected. Everyone here is very dear to me, especially our respected Chairman Prof. Dr. Md. Iqbal Mahmud Sir. I feel truly grateful and proud to be a part of the MBSTU Mechanical and Automotive Engineering family.”


বিভাগের প্রথম ব্যাচ (২০২৩-২৪)-এর শিক্ষার্থী মশিউর রহমান মারুফ বলেন, “গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন এই বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার নাম ছিল প্রথম। সত্যি কথা বলতে, শুরুতে আমার মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পড়ার কোনো বিশেষ ইচ্ছা ছিল না। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভাগের সহযোগিতার কথা শুনেই আমি এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তবে ভর্তি হওয়ার পর বিভাগের ল্যাবগুলো দেখে আমার ভেতরে যে আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজ মনে হয়, যদি আমি এই বিভাগে না পড়তাম, তাহলে হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সুন্দর একটি অংশই মিস করতাম।


বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ (২০২৪-২৫)-এর শিক্ষার্থী সাব্বির হাওলাদার বলেন, “শৈশব থেকেই গাড়ি ও এর প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালীর প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই আমাকে মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথে নিয়ে আসে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পর মাভাবিপ্রবির নবীন বিভাগ হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ আমাকে এই বিভাগে আসতে অনুপ্রাণিত করে। দ্বিতীয় ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এখন মনে হয়, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। একটি নবীন বিভাগকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা এবং সেই অগ্রযাত্রার অংশ হওয়া সত্যিই গর্বের। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্ব বিভাগের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আমাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে এই বিভাগ থেকেই দেশের অটোমোটিভ শিল্প ও বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি। এমন একটি উদীয়মান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।”


বিভাগের তৃতীয় ব্যাচ (২০২৫-২৬)-এর শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই ক্রমবর্ধমান পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ও উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধার মাধ্যমে আমাদের বিভাগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অগ্রগতির পেছনে আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের বিভাগ ভবিষ্যতে প্রকৌশল ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।


বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার থেকে আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান। 



এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা থাকার সময় দুই ঘণ্টা কমছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। 



সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ থেকে পুরোনো নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।


এ বছর জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। এপ্রিলের শুরুতে শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত ১২ মে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। 


এরপর জুনে বন্ধের সময় রাত ৯টা নির্ধারণ করা হয়। পরে ১২ আগস্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। সেই অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম চালু হয়, যা আজ থেকে আবার কার্যকর হলো।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার র‍্যালি ও সমাবেশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ পিএম

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সবার জন্য বাংলাদেশ, নিসচা মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা ঢাকা জেলা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচা ধামরাই উপজেলা,নিসচা পলাশ উপজেলা শাখা, নিসচা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, নিসচা লৌহজং উপজেলা শাখা, নিসচা শিবপুর উপজেলা শাখা, নিসচা সাভার উপজেলা শাখা, নিসচা ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা  এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অনেকে অংশ নেন।


 


র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা, আইন মানা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়। র‍্যালি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


 


জাতীয় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ব্যবস্থা, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এজন্য সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।


 


নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, সড়কের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ, পথচারীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, আইন বাস্তবায়ন, তদারকি, তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।


 


নিসচার দাবি ও সুপারিশ

র‍্যালি ও সমাবেশ থেকে নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়:


 


সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে।


চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা: পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, বিশ্রাম এবং কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দিতে হবে, যাতে ক্লান্তি বা অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে।


যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা তদারকি: যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানসহ সব ধরনের যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, অনুপযোগী বা অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিক নজরদারি করতে হবে।


সড়ক ও অবকাঠামো নিরাপদ করা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত সাইন-সিগন্যাল এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পরিকল্পনায় চালক, যাত্রী, পথচারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখতে হবে।


পথচারী ও যাত্রী সুরক্ষা: ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক সংকেত স্থাপন এবং বাসস্টপ ও যাত্রী ওঠানামার স্থান সুশৃঙ্খল করা জরুরি। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


গতিসীমা ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা নিয়ন্ত্রণ: সড়কের ধরন ও পরিবেশ অনুযায়ী গতিসীমা নির্ধারণ করে তা দৃশ্যমানভাবে জানাতে হবে। দ্রুতগতির যান শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।


দুর্ঘটনার তথ্য ও গবেষণা: দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেবা: দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


নিরাপত্তা শিক্ষার বিস্তার: বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা ও প্রচার চালাতে হবে। চালক, হেলপার, যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন মালিক—সবার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।


সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ: সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


 


নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। চালককে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হবে, যাত্রীকে নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে, পথচারীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ম প্রয়োগ ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।


 


তাঁরা আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান, প্রতিরোধমূলক সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


 


জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি থেকে নিসচা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করা এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত, ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


 


২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো – ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আর নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নিরাপদ নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।