ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনা চলছে। এরই মধ্যে কিছু আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে।
বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে ৫টি আসনে। কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক সামগ্রিক ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।
যেসব আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হলো-
ঝিনাইদহ-১ আসনে এগিয়ে বিএনপির আসাদুজ্জামান
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলের হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ভোট। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মাহফুজুর রহমান বলেন, সমস্ত কেন্দ্রের ফলাফল না আসলেও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
ভোলা-৩ আসন জয়ের পথে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১১৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৯ কেন্দ্রের সবগুলো ফলাফল পাওয়া গেছে। কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টদের পাওয়া তথ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ১১৯ কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট।
লালমোহন উপজেলার মোট ৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৯ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭৮ ভোট। তজুমদ্দিন উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৫ ভোট। ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৮২ ভোট। উপজেলা সককারী রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আজীজ জানান, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে রাত ১১টা থেকে ১২টা বাজতে পারে।
হবিগঞ্জ–৪ আসনে এগিয়ে বিএনপির সৈয়দ ফয়সল
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা সৈয়দ মো. ফয়সল। এ আসনের ১৮৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে সৈয়দ ফয়সল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৫টি কেন্দ্রে সৈয়দ মো. ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৪ ভোট। সমপরিমাণ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ৯৪৮ ভোট।
ঠাকুরগাঁও -১ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল এগিয়ে
ঠাকুরগাঁও -১ (সদর) আসনের ৯৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ৬৭ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও আপন বড় ভাই বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানকে ২০ হাজর ৯৯৮ ভোটে পরাজিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোট পান ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে এগিয়ে বিএনপি
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। তারঁ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এগিয়ে আছেন। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানিয়েছেন, রাত আটটা পর্যন্ত ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফল পেয়েছেন তাঁরা। ৮৮টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৬৭ ভোট। ৮৮ কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ৩১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে আছেন। এরই মধ্যে নাছির চৌধুরীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জামায়াতের আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
রাজবাড়ীর ২ আসনেই এগিয়ে বিএনপি
রাজবাড়ীর দুটি আসনেই এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীরা। রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর-গোয়ালন্দ) আসনে ১৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ কেন্দ্রে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৭৮ ভোট।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ১৯৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বিএনপির হারুন অর-রশিদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) পেয়েছেন ২২ হাজার ১৫১ ভোট।
পাবনার ৫টি আসনের ৩টিতে জামায়াত, ২টিতে বিএনপি
পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত তিনটিতে এবং দুটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড.ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮ ভোট। পাবনা ২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে জামায়াতের মাওলানা আছগার আলী, পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা ৫ (সদর) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন।
বগুড়ায় তারেক রহমান বিজয়ী হচ্ছেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি ১৫০টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল জানান, ৬৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩২ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৫৬ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
১৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট।
ফরিদপুর–২ আসনে এগিয়ে বিএনপি
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (১,২১,০৮১) ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আকরাম আলী ৮৭ হাজার ২৫০ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি জয়ী
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীকে ১,৬৯,৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ১,২০,৪১৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীকে ৩৩,৯১১, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীকে ৪,৮৭৫, বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসান মই প্রতীকে ৯৬৯ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোাহাম্মদ জরিপ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ৯১০ ভোট পেয়েছেন। কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি জয়ী
১৭৬ কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
মাগুরা ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী
মাগুরা -১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান ১৮৪১৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের অবদুল মতিন পেয়েছেন ৮৩৭৮৩। এ আসনে ৫২টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৫৫৩৬৬। না ভোট পড়েছে ৩১৬২২। মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী ১৫০১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের মুশতারশেদ বিল্লা পেয়েছেন ১১৭৮০৭। এ আসনে ২৭টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১১৬০৫টি। না ভোট ১০০৪২টি।
চুয়াডাঙ্গার ২ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো রুহুল আমিন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন। ৪৬ হাজার ৮১২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১৭৪টি।
চুয়াডাঙ্গা -১ আসনে ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১১ দলীয় জোট (জামায়াত) প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জান শরীফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট। দলীয় অফিস সূত্রে মাসুদ পারভেজ রাসেল ৫৯ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ জয়ী
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দীন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপি জয়ী
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪৭টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। নিকটতম জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ (শাপলা কলি) ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আহছান খান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট, এবি পার্টির কর্নেল হেলাল উদ্দিন (ঈগল) পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট ও জাসদের প্রার্থী আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, আমরা ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি। আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত জামিন বাতিল করতে পারব এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঘিরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অগাস্ট মাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু পাওয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আগস্ট মাসে পুলিশ সারাদেশে সতর্কতা জারি করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী, যেটা নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী- তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।’
এদিকে, ঢাকায় গত কয়েকদিনে বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে শনিবার দুপুরে মিরপুর - ১০ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সেটিতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য নেই বলে জানিয়েছে। তবে, প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে শনিবার, পুলিশ সদর দপ্তর পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সারাদেশে সতর্কতা জারি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ের সকল ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার। আজ রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তাই মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশ আগ্রহী। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো প্রস্তাবও নতুন করে আলোচনায় আসে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগ আবারও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানান।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, চীন মিয়ানমার বাংলাদেশ করিডোর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মত দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক পুনরায় শুরু করে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে এ রোগে ৮৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ১১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। আর ৯৬ জন মারা গেছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১১ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১২ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ২২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৪৬ জন।
ঢাকা বিভাগে ভর্তি ২৮৩ জন, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৬৩, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ১৪২, ময়মনসিংহে ৬৫, খুলনায় ২২, রংপুরে ৪৫ জন।
এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ১২ হাজার ৬২০। যার মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ সহাজার ৮৩। শনাক্ত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৯৫।
ছবি : সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।রোববার বিইআরসি এ-সংক্রান্ত পৃথক আদেশ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেনের মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৬৪০ মার্কিন ডলার। গড়ে সৌদি আরামকোর কন্টাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৩৩ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এই কেজিপ্রতি দর অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ টাকা। এছাড়া ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩৯৭ টাকায় বিক্রি হবে। তুলনামূলক বড় আকৃতির সিলিন্ডারের মধ্যে ২০ কেজির দাম ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং সর্ববৃহৎ ৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ টাকা।
সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ও অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বাসা-বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি রেটিকুলেটেড এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির মূল্য প্রতি লিটার ২৮ টাকা ৭৫ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।
তবে বেসরকারি খাতের গ্যাসের দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিইআরসির পূর্বের নির্দেশনানুযায়ী সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য পূর্বের ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাতেই অপরিবর্তিত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এলপিজি মজুদকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক কিংবা খুচরা বিক্রির কোনো ধাপেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজীর আহমেদ
বাংলাদেশের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথাও হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়।
জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
বেনজীরের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে কালবেলা লিখেছে, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত আরোপ করলেও সাবেক এই পুলিশ প্রধান দুবাই থেকে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।
এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
“তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।"
আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়।
সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার।
সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।
এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এল, যা তার প্রত্যাপর্ণের বিষয়টিই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।
পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।
প্রাথমিক-গণশিক্ষা-মন্ত্রণালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দিনক্ষণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
এতে আরও বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য পাঠানো হলো।
এদিকে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ের পদায়ন চান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে তাদের।
এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জডড়ো হতে শুরু করেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।