জুলাই সনদ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সই করার এক বছর পূর্ণ হলো। তবে সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার আনা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ কাউন্সিল বিষয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। পরে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনও আর গঠিত হয়নি। এসব সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) না থাকলেও বিএনপি সরকার গঠনের পর এগুলো টেকেনি।


রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই সনদ প্রণয়নের সময় জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় রাশ টানা হবে। নির্বাহী, বিচার এবং আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এই লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের যেটুকু ক্ষমতা কমেছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 


টিআইবি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসী উদ্যোগের ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপসের কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি তৈরি হয়নি।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটও জনস্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারে সহায়ক ভূমিকা রাখার বদলে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যস্ত রয়েছে।


গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে সই করে রাজনৈতিক দলগুলো। তখন বলা হয়েছিল, এই সনদ হবে ভবিষ্যতের পথরেখা। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৯ মাসের সংলাপে সনদ প্রণয়ন করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিএনপি-জামায়াতসহ অধিকাংশ দল এতে সই করলেও কয়েকটি দল সই করেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ওই সময় সই করেনি। চার মাস পর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তারা সনদে সই করে।


বিএনপি সনদ সই করার সময় এটিকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল আখ্যা দিয়ে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা জানায়। 


তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তোলে।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৮টি বাস্তবায়নের বাধ্যবাদকতাসহ অনুমোদিত হয়। কিন্তু আট মাসেও এগুলো এখনও কার্যকর হয়নি। 


সংবিধান সংস্কার পরিষদে ভোটের অনুপাতে সংবিধান সংশোধন অনুমোদনের ক্ষমতাসহ সংসদের উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গঠন পদ্ধতি গণভোটে অনুমোদন পেলেও কার্যকর হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। 


বিএনপি বলছে, যেসব প্রস্তাবে দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, গণভোটে যেভাবে অনুমোদিত সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, সংশোধন নয়। এ দাবিতে রাজপথে নামা জামায়াত-এনসিপির জোট সরকারের গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে অংশ নেয়নি। 


সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সংলাপের সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও দ্বিমত ছিল না। এর ভিত্তিতেই সনদ প্রণয়ন করা হয়, যা এতে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণের চুক্তিপত্র। জনগণ গণভোটে সনদ অনুমোদন করে, তারাও চুক্তিতে অংশ নিয়েছেন। সুতরাং এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। 


সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, পুলিশ কমিশনসহ যেসব সংস্কার অধ্যাদেশের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার করেছিল, সেগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে করা হয়েছিল বলে জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, সংলাপে একমত হয়েও পরে বাতিল করা হয়েছে; যা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাওয়ার শামিল। ফলে জুলাই সনদ কতটা বাস্তবায়ন হবে, এ নিয়ে সংশয় রয়ে যায়।


কী হওয়ার কথা ছিল


রাজনৈতিক দলগুলো সনদ স্বাক্ষরের পর গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের দিনে গণভোট হবে। গণভোটে জনগণের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা জুলাই আদেশ অনুমোদন করেন কিনা। অনুমোদন করলে, আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। 


আদেশে বলা হয়েছিল, এই পরিষদে ভোটের অনুপাতে সংবিধান সংশোধন অনুমোদনের ক্ষমতাসহ ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গঠন-সংক্রান্ত আটটি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। 


আদেশ অনুযায়ী, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিষদে সংবিধান সংস্কার করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করার পর সংসদে গণভোট অধ্যাদেশ পাস করা হয়নি। জুলাই আদেশও উত্থাপন করা হয়নি। 


তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে সরকার। কমিটি জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এরপর আসবে সংবিধান সংশোধন বিল। সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদের পরিবর্তনের কারণে এই বিল সংশোধনে পাসের পর, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে আবার গণভোট হতে পারে। 


এ বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানা যায়নি।


তবে তিনি গত মঙ্গলবার বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারি দলের আন্তরিকতার অভাব নেই। বিরোধী দল না এলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। 


এ বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘সরকার যে কোনো বিষয়ে গণভোট আয়োজন করতে পারে। কিন্তু সংবিধান সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে যে জনগণ তাদের সম্মতি দিয়েছে, তারা কী আবার একই বিষয়ে ভিন্নমত দেবে?’ 


জুলাই সনদ প্রণয়নের সংলাপে দলের প্রতিনিধিত্ব করা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি যা বলছে তা সহজ কথায় বিশ্বাসঘাতকতা। গণভোটে সনদ অনুমোদনের পর তো আর বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে জবাবদিহিহীন সরকার, অপরিসীম ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীসহ পুরোনো সব বন্দোবস্ত রেখে দিয়েছে। 


তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেমন হবে


জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংসদের মেয়াদপূর্তির ১৫ দিন আগে এবং মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। ৯০ দিন মেয়াদি এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। 


সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধী দল থেকে মনোনীত ডেপুটি স্পিকার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধির সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত করবে। 


তবে প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের একটি ধাপে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বলেছিল, পরবর্তী সংসদে ধাপটি ঠিক করবে। বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই দুই ধাপে এমন পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। 


এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে নাকচ করে জনগণ গণভোটে জুলাই সনদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনুমোদন করেছে। বিএনপি বিশেষ কমিটির নামে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাইছে। 


যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি, হবে কিনা প্রশ্ন


জুলাই সনদে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের এমপিদের গোপন ব্যালটের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এতে সব দল একমত হয়েছিল। কিন্তু গত আগস্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচন হয়েছে প্রকাশ্য ব্যালটে। 


সনদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগ ক্ষমতা দিতে আপত্তি রয়েছে বিএনপির।


সনদে বলা হয়েছে, কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধনের আগে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে না। বিএনপি এই সংস্কার বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। 


সনেদ বলা হয়েছে, ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন লাগবে। বিপরীতে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, বিএনপির ৩১ দফা অনুযায়ী সংসদে আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। 


সনদে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। তবে আপিল বিভাগে বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা পাঁচজন। একসময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৭। এই প্রস্তাবে নোট ডিসেন্ট না থাকলেও কার্যকর করা হয়নি। 


প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগে কাউন্সিল গঠন করেছিল। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে বিচারপতি নিয়োগও হয়। সনদে প্রস্তাব ছিল, কাউন্সিলকে কমিশনে রূপান্তর করা হবে। তা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত না করে এ-সংক্রান্ত আইন করার প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। তবে গত এপ্রিলে অধ্যাদেশ বাতিল করায় কাউন্সিল বিলুপ্ত হয়ে গেছে।


প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং  সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে। তবে বর্তমান সরকার আগের মতোই পিএসসি এবং দুদকে নিয়োগ দিয়েছে নির্বাহী ক্ষমতায়। 




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। 


তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। 


আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।


এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।


আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।


শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠিয়ে বাংলাদেশকে তাঁদের কারাবাস ও দণ্ডের বিষয়ে অবহিত করে। বিভিন্ন কারণে এসব প্রবাসী দণ্ডিত হয়েছেন।


সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।


সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।


বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।


তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবও তাদের বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক নিহত হলে বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ধৈর্য ধরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।


দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসের সময়কালেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৩ সালে ঘটনা ঘটে থাকলে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমান সরকার যখনই এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে পারবে, তখনই বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।


তিনি বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


তিনি জানান, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের দেশে পুনর্বাসন কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।


আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।


বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।


এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।






ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।