প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এসেছিল ভারত থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠান। আমন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকেও। এরপরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়েরও আমন্ত্রণপত্র আসে বেইজিং সফরের জন্য। শেষ পর্যন্ত ভারত বা চীন নয়, সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।
২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তারেক রহমান এই সফরে যাচ্ছেন।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকার গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে চিঠি দিয়েছে। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ২২ জুন দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি আয়োজনের বিষয়ে কথা চলছে।
এই সফরের আলোচ্যসূচি এবং বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো ঠিক হয়নি। ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দিকে এগুলো চূড়ান্ত হতে পারে।
সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
কূটনীতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য শুধু প্রটোকলের বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারেরও একটি প্রতীকী বার্তা। সেই বিবেচনায় ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বিবেচনায় ভূরাজনীতি আর ভারসাম্য
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এরপর আলোচনায় ছিল, প্রথম সফরে ওমরাহ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব যাবেন কি না? অতীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীদের সৌদি আরবে প্রথম যাওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ওমরাহ পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরের পরিকল্পনা আর এগোয়নি। তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ভুটানের মতো সার্কভুক্ত দেশ দিয়ে শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল সরকারের উচ্চপর্যায়ে।
এরপর গত এপ্রিল থেকে চীন আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল তারেক রহমানকে বেইজিং সফরে নিতে। গত ৬ মে বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের অন্যতম আলোচ্যসূচি ছিল তারেক রহমানের সফর। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জুনের শেষ সপ্তাহে বেইজিং নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। গত ২৩ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠিও আসে ঢাকায়।
চীনের দূতাবাস থেকে ২৩ থেকে ২৬ জুন সফরের চিঠি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরটি চীনে নাকি অন্য কোনো দেশে হবে, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়। কিন্তু চীন বা ভারত—এ দুই দেশের পরিবর্তে তৃতীয় দেশ হিসেবে তখন মালয়েশিয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরপরই তারেক রহমানকে ফোনে শুভেচ্ছা জানানোর সময় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
এ প্রেক্ষাপটে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও জনপরিসরে সমালোচনা এড়াতে সরকার মালয়েশিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়।
ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঈদের ছুটির ঠিক আগে গত ২৪ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। ১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে ২১ ও ২২ জুন দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।
সম্পর্কের সমীকরণে মালয়েশিয়া
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মতে, প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া ইতিবাচক। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বাড়ছে। বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মুসলিম দেশটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্তটা বেশ ভালো।
মালয়েশিয়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর শুরুর বিষয়টিকে বাংলাদেশের ভারসাম্যমূলক কূটনৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে। তাঁদের মতে, ভারত ও চীনের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আর বিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলাটা জরুরি।
আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও আসন্ন সফরে অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তত ১১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দ্বিতীয়। দেশটিতে এখন চীনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার।
সামগ্রিকভাবে মালয়েশিয়া শুধু শ্রমবাজার নয়, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশিল্পে নতুন অংশীদার খোঁজার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব পেতে পারে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে।
ছবি : সংগৃহীত
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণীত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।
ইতিমধ্যে গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তবে এ বছরের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতো বহাল থাকবে।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ওষুধ শিল্পে স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা দূর হবে। বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে। শিল্প মালিকেরা আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, যে আইনি জটিলতা ছিল তা দূর হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তারেক রহমান মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।
উপ প্রেস সচিব আরো জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।
বেনজীর আহমেদ
দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুই শর্তে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর।
গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে সেখানকার আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।
আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল গণমাধ্যমে। তবে, খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সংস্থাটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ‘মোটরসাইকেলের সামনেও বসছে নম্বর প্লেট’ শীর্ষক খবরটি সঠিক নয়। গতকাল রোববার (২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেল এআই ক্যামেরার আওতায় আনতে সামনেও নম্বর প্লেট লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ প্রচার করা হয়।
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বিআরটিএর সূত্রের বরাতে জানানো হয়, এআইভিত্তি ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট (সংখ্যা) ঢেকে সড়কে চলাচল করছে কোনো কোনো চালক। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পেছনে থাকায় ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে এআই ক্যামেরা তা কখনও কখনও সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। তাই মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট সামনে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি কার্যকর করতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফা বৈঠক ও করেছেন।
তবে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিআরটিএ জানায়, এ সম্পর্কিত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই, পূর্ববর্তী প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হলো।
সরকারি ছুটি
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে।
তবে এই ছুটি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একযোগে প্রযোজ্য হচ্ছে না। জরুরি ও জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিতদের সেদিনও স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি। এ বছর দিনটি বুধবার হওয়ায়, পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ যাপনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে অনেক সরকারি চাকরিজীবীর সামনে।
তবে হাসপাতাল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলওয়ে, গণপরিবহন, কারাগার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গত বছর সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল।
সংগঠনটি তখন জানিয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে চলতি বছর এ বিষয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পোশাক খাতে ৫ আগস্ট ছুটি থাকবে কি না, তা কারখানাগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে; যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ।
আজ সোমবার সকালে ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’
ময়লা আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’
সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’
দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’