প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মেয়েরা যাতে বেতন ছাড়াই ‘ডিগ্রি পর্যন্ত’ পড়াশোনা করতে পারে, তা সরকার নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই যে প্রায় ২০ কোটি, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে।
“খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব।”
আজ সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় খুলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সাথে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে, যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার কথা বললেও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল- মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
নারীরা পাবেন ‘এলপিজি কার্ড’
পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য বিএনপির যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা মিলবে, যা দিয়ে একজন নারী সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারবে। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে নিজের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবে।
নারীদের জীবনকে আরও সহজ করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “আমরা দুদিন আগে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই মা-বোনদের একটি ব্যাপারে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক বা শহরের মা-বোনই হোক।
“আমরা যেরকম সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ করতে চাই- সেটি হবে ‘এলপিজি কার্ড’। ‘এলপিজি গ্যাস’- এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দেব, যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।”
‘তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়’
জামায়াত জোটকে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।
সরকারপ্রধান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।
“এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি- ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি- সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি বিগত সাড়ে সতেরো বছর থেকে বিভিন্ন সময় কারা কারা দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছে, বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে। যতবার বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, অতীতে আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল-মনে আছে আপনাদের?
“১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এখনো আমার সেই ভূত আরেকজনের কাছে গিয়ে আছর করেছে। আপনাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি- আমরা যারা শহীদি দল করি, আমরা যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক; আমরা বিশ্বাস করি-এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম, এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি-‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’।”
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
“এখন আজকে আমরা এসেছি এই খালটি আবার পুনঃখনন করতে, গত প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন এবং এই প্রায় চার কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করতে পারি, তাহলে এই এলাকার মানুষ পানি পাবে।
“পানি পেলে কী হবে? আমরা দেখেছি, প্রায় ২০ হাজারের মত কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এই খালে পানি আসলে।”
তিনি বলেন, “এই খালে পানি থাকলে উপকারটা কাদের হবে ভাই? এই এলাকার মানুষের হবে। শুধু তাই নয়, ইনশাল্লাহ এই খাল পুনঃখনন যখন শেষ হয়ে যাবে, আমরা ইনশাল্লাহ এই খালের দু‘পাশ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করব।
“যারা ঘরে হাঁস পালন বা হাঁস পালতেন আগে; কিন্তু এই খালে পানি না থাকার কারণে অনেকের ঘরে সেটা সম্ভব হয় না। কিন্তু যখন খালে পানি থাকে, তখন মা-বোনদের জন্য একটি বাড়তি রোজগারের সুবিধা হবে হাঁস পালনের মধ্যে দিয়ে।
“আমরা যদি সকলে মিলে পরিশ্রম করি তাহলে অবশ্যই ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।”
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বেনজীর আহমেদ
দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুই শর্তে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর।
গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে সেখানকার আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।
আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল গণমাধ্যমে। তবে, খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সংস্থাটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ‘মোটরসাইকেলের সামনেও বসছে নম্বর প্লেট’ শীর্ষক খবরটি সঠিক নয়। গতকাল রোববার (২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেল এআই ক্যামেরার আওতায় আনতে সামনেও নম্বর প্লেট লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ প্রচার করা হয়।
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বিআরটিএর সূত্রের বরাতে জানানো হয়, এআইভিত্তি ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট (সংখ্যা) ঢেকে সড়কে চলাচল করছে কোনো কোনো চালক। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পেছনে থাকায় ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে এআই ক্যামেরা তা কখনও কখনও সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। তাই মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট সামনে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি কার্যকর করতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফা বৈঠক ও করেছেন।
তবে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিআরটিএ জানায়, এ সম্পর্কিত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই, পূর্ববর্তী প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হলো।
সরকারি ছুটি
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে।
তবে এই ছুটি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একযোগে প্রযোজ্য হচ্ছে না। জরুরি ও জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিতদের সেদিনও স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি। এ বছর দিনটি বুধবার হওয়ায়, পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ যাপনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে অনেক সরকারি চাকরিজীবীর সামনে।
তবে হাসপাতাল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলওয়ে, গণপরিবহন, কারাগার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গত বছর সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল।
সংগঠনটি তখন জানিয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে চলতি বছর এ বিষয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পোশাক খাতে ৫ আগস্ট ছুটি থাকবে কি না, তা কারখানাগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে; যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ।
আজ সোমবার সকালে ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’
ময়লা আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’
সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’
দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ শিগগির সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, অগাস্ট ঘিরে আওয়ামী লীগ তৎপর হয়ে উঠতে পারে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের এত মুরোদ আছে বলে তো আমার মনে হয় না।
“একে তো নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, মাফিয়া শক্তি; তারা মাঝে-মধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, এর বেশি তৎপরতা তো দেখি না।”
গণঅভ্যুত্থানের পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ওই দাবির মুখে ২০২৫ সালের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
সম্প্রতি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ আসে শেখ হাসিনার এক বক্তব্যকে ঘিরে। গেল মাসে রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তার সঙ্গে দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ ফিরবেন বলেও আভাস দেন শেখ হাসিনা।
এর মধ্যে রোববার ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবার কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে যাচ্ছেন।
আগামী ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে ওই ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে; যে দিনটিতে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কি না?
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “বিষয়টি এমন নয়। পুলিশ বাহিনীর মধ্যে একটা সবসময় চালু থাকে আনঅ্যাটেন্ডেন্ট কোন কিছু না থাকে, কোন ভ্যাহিকেল না রাখে।
“টিমের পুরো সদস্য যেন এক সাথে চা না খেতে যায়, গাড়ি রেখে সবাই যেন বিশ্রাম না করে, সবাই যেন সতর্ক থাকে; এটা নরমাল প্রাকটিস।“
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিষয়টায় জানার পরে- আমাদের নিয়োজিত যে ল ফার্ম আছে, তাদেরকে বিষয়টা জানিয়েছি। ইউএই অ্যাম্বাসেডরের সাথে আমাদের সচিব মহোদয় কথা বলেছেন। উনার (বেনজীর) সহধর্মিণী তারা হয়তো আছেন।
“কী কী শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে- ইউএই না ছাড়ার শর্ত তো একটা শুনেছি, অন্যান্য শর্ত কী আছে-সেটা সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। আর আমাদের যে ল ফার্ম নিয়োজিত আছে তার বিষয়ে রিপ্যাট্রিয়েশনের জন্য, যা যা কাগজপত্র আমরা পাঠাই, সেগুলো ওখানে আদালতে সাবমিট করার জন্য; সেই ল ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি যেন ইমিডিয়েটলি তার জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করে, তারা আদালতে পিটিশন দাখিল করে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়েরি আইনের ছাত্র সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আদালতের বিষয়ে পুরোপুরি না জেনে আমি বক্তব্য দিতে চাই না। আমাদের ল ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি সার্টিফাইড কপি তুলে কথা বলবে এবং আমরা ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি যেন তার জামিন বাতিলের জন্য তারা পিটিশন দেয়।
“কারণ তার কাছে অন্যান্য দেশেরও পাসপোর্ট থাকতে পারে, সেটা আমাদের সন্দেহ। কিন্তু প্রক্রিয়া তো চলছে! কিন্তু ওইখানে তার আদালতে যাওয়ার হয়তো একটা অধিকার আছে, সেজন্য সে আদালতে গিয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়াতেই আমরা ফেরত আনার চেষ্টা করছি।”
উল্টা রথযাত্রার দিন গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা-এই দুইটাকে আমরা নিরাপদ করার জন্য সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ খুব সমন্বিত প্রচেষ্টা নিয়েছিল। কোনো অসুবিধা হয় নাই এবং শান্তিপূর্ণভাবে সেটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্টো রথযাত্রার দিনে কমলাপুরের ওইদিকে, মতিঝিলের ওইদিকে একটা মেট্রো রেলের পিলারের নিচে একটা বোমা সদৃশ জিনিস পাওয়া যায়- একটা ছাতার মধ্যে…
“এতে করে খুব শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। কোনো পক্ষ হয়তো চেষ্টা করেছিল যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো কিছু করা যায় কি না।”
এরপরে আশুলিয়াতে বোমা উদ্ধার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেটা একই কায়দায় উদ্ধার করে আমরা বিস্ফোরণ করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কি না, সেটা তদন্ত করতে বলেছি আমরা, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।
“তবে আগের সময়ের তুলনায়, যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই-একই সময়ে এই বিষয়গুলো কীরকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটাই কম। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি এবং আমাদের এই জাতীয় বিষয়গুলো যারা অ্যাড্রেস করে আরকি-আমাদের উগ্রবাদী তৎপরতা বা এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার যে সমস্ত তৎপরতা, এগুলো যারা মনিটর করে-আমাদের স্পেশাল টিম আছে, তারা এ ব্যাপারে সতর্ক আছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, “সার্জিও গোর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কল অনের পরেই নিজেই তো স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আশাবাদী এবং আস্থাশীল।
“এবং যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অগ্রগতি সাধিত হবে-তিনি আশা প্রকাশ করেছেন; এটা তার মুখেরই কথা।”
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মসূচি চলবে ৬ মাস
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ১ আগস্ট থেকে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। এর আওতায় ৫৫ লাখ কার্ডধারী উপকারভোগী ৬ মাস (আগস্ট- নভেম্বর ও মার্চ এবং এপ্রিল) পর্যন্ত ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পাবেন। সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কাজের অভাবের মৌসুমে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় এই সুবিধা চালু করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি মোকাবিলা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে পুষ্টি চাল এবং ২৪৭টি উপজেলায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগীর মাঝে সাধারণ চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা দেশে ১ হাজার ১০৮টি কেন্দ্রের (দোকান বা ট্রাক) মাধ্যমে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত চাল ও আটা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে দেশে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি খাদ্য মজুত রয়েছে। খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের ২ আগস্ট খাদ্য মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন (চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন।
বিজ্ঞপ্তি খাদ্য মন্ত্রণালয় বেলেছে, সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপুষ্টি কমানো এবং জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।