মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে ভেস্তে যায় বড় হামলার পরিকল্পনা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের একটি মাদ্রাসায় তৈরি করা বোমা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। একইসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হুমকি দেওয়ারও চেষ্টা করছিল নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 


তবে গত প্রায় চার মাসেও ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।


মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। পাশাপাশি এসব বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যও ছিল।


গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা সংগঠিত হয়ে নাশকতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে সংগঠনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালায়। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করে উগ্র ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ ও জিহাদি কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের (জেএমজেবি) সমর্থক। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ, সমর্থন ও প্ররোচনা দিয়ে আসছিল।


তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদ্রাসার আড়ালে সেখানে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। আস্তানা গড়ে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল, যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। 


তবে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেই তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।


উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদের উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের দুটি কক্ষের দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 


স্থানীয়রা জানান, তিন থেকে চার দিন পর একই স্থানে আবারও একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে একজন আহত হন।


ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা ও বোমা তৈরির কারিগর আল আমিন শেখসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। তাদের মধ্যে সাতজন এজাহারভুক্ত আসামি।


তদন্ত সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসময় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


সুত্র আরও জানায়, শেখ আল আমিনসহ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন এর আগেও অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কাজ শুরু করেন।


জানা গেছে, শেখ আল আমিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৭টি মামলার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলাগুলো বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লা থানার মামলা, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় একই আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলা, ঢাকার মতিঝিল থানায় ২০২০ সালে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, ২০১৭ সালে নরসিংদী মডেল থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও মোল্লারহাট থানায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা।


সূত্র আরও জানায়, বিস্ফোরণের আলামত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। 


তবে প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্ত কার্যক্রম আরও গতি পাবে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত সহজ হবে।


তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, ২০২২ সালের ১ এপ্রিল মাসিক ১০ হাজার টাকায় জনৈক পারভীন বেগমের কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নেন মুফতি হারুন নামে এক ব্যক্তি। পরে সেখানে ‘উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়। 


তবে মাদ্রাসার আড়ালে সেখানে বোমা তৈরি ও জঙ্গি সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলতো বলে ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কোনও সন্দেহ তৈরি হয়নি।


জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন কাজ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, এজাহারে উল্লেখিত জেএমজেবি মূলত জেএমবির একটি উপ-সংগঠন ছিল। জেএমবির শীর্ষ নেতা ছিলেন শায়খ আব্দুর রহমান এবং জেএমজেবি পরিচালিত হতো সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে। পরবর্তীকালে সংগঠনটির সদস্যরা ‘নব্য জেএমবি’ নামে আত্মপ্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শ অনুসরণ শুরু করে।


এদিকে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলটি এখনও ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে কর্ডন করে রাখা হয়েছে। বাড়ির মূল মালিক পারভীন বেগম এখনও তার বাড়ির দখল বুঝে পাননি। জনসাধারণের প্রবেশ ঠেকাতে চারপাশে ক্রাইম সিন লেখা হলুদ ফিতা টানানো রয়েছে।


পারভীন বেগমের মেয়ে সোহানা আক্তার মুনিয়া বলেন, “মুফতি হারুনের ছোট বোন আয়েশার সঙ্গে স্থানীয়ভাবে পরিচয়ের সূত্র ধরেই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। মাদ্রাসা পরিচালনার কথা বলায় বাড়তি খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে দেখায় কোনও সন্দেহও হয়নি।” ঘটনার পর প্রকৃত বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।


তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকেই পুলিশকে বাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রাইম সিন হিসেবে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। আমার বাবা মারা গেছেন, মায়ের বয়স হয়েছে। বাড়ি ভাড়ার টাকাতেই সংসার চলতো। দ্রুত বাড়িটি বুঝিয়ে দিলে আমাদের উপকার হবে।”


এটিইউ’র পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মাহফুজুল আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই বলার মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।




পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সৌদি আরবে একাধিক হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় ৩ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।







ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।