প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দিনাজপুরে যে খাল কেটেছিলেন, পাঁচ দশক বাদে সেই সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের সূচনা করলেন তারই ছেলে তারেক রহমান। বাবার মতোই নিজে কোদাল দিয়ে কেটে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পোলো শার্ট, জিন্স, কেডস পরিহিত তারেক রহমানের মাথায় ছিল লাল-সবুজের ক্যাপ, যাতে লেখা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।


এর মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়াসহ সারাদেশে ৫৪ জেলার খাল খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন সরকারপ্রধান।


সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই খালটির সঙ্গে পুনর্ভবা নদীর সংযোগ রয়েছে।


এ খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “এই খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে এই এলাকার সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করছেন। দেখছেন মানুষজনের উপস্থিতি।


“সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন জনসাধারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক্ষায় আছে।”


দিনাজপুর-৬ আসনের এ সাংসদ বলেন, ‘‘এই খালটি পুরোটা কমপ্লিট করা গেলে এই অঞ্চলের প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি বেনিফিট হবে এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবে।


“শুধু তাই নয়, সাহাপাড়া খাল খনন হলে এই এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে। আল্টিমেটলি এই মানুষজন অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে। এই এলাকায় মৎস্য চাষ, হাঁস পালন, খালের দুই পাড়ে সবুজায়ন করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। মোট কথায় কৃষি উৎপাদনও বাড়বে বলে জিডিপিতে ভালো ভূমিকা রাখবে।”


জাহিদ হোসেন বলেন, “বিএনপির যে নির্বাচনি অঙ্গীকার—সারাদেশে খালখনন ও পুনঃখনন করা হবে; যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে শুরু করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে সারাদেশের ৫৪ জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।”


সাহাপাড়া খালখনন কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষ্যে কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে হচ্ছে সমাবেশ। প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির উদ্বোধন করেই সেখানে স্থাপিত মঞ্চে আসন গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বলরামপুরের অনুষ্ঠানস্থলে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হতে শুরু করে। রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের গ্রামবাসী বিশেষ করে নারীরা একনজর তারেক রহমানকে দেখতে উপস্থিত হয়েছেন।


রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা আসলেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি-ঘরে পানি ওঠে, নিচু এলাকার ফসলি জমি ডুবে যায়। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাগো। সাহাপাড়া খালটি খনন হলে আমাদের উপকার হবে।”


খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন-স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসস্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুরের সাংসদ মনজুরুল ইসলাম, সাদিক রিয়াজ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সরফরাজ বান্দা, বিএনপির জেলা সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, কাহারোল থানার সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শামীম আলী।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর আসেন। সেখান থেকে সড়কপথে বলরামপুরে এ অনুষ্ঠান স্থলে আসেন। তার গাড়িরবহর আসার পথে সড়কের দুইধারে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন ‍উপলক্ষে সাহাপাড়া খালখনন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।


খনন হবে ২০ হাজার কিলোমিটার


পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নাল, জলাধার খনন করা হবে।


জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়।


১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় ‘বেতনা নদী’ পুনর্খনন কাজ যখন উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান, তখন তিনি সেনাপ্রধান ও উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।


‘জিয়া কেন জনপ্রিয়’ শীর্ষক একটি সংকলন গ্রন্থে এ কে এম সালেক তার প্রবন্ধে লিখেছেন, জিয়াউর রহমানের এই কার্যক্রম শুরুর আগে দেশে ১০ শতাংশ জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি সরবরাহ সম্ভব ছিল। খাল খনন কর্মসূচির পর অন্তত ৫২ লাখ একর জমিতে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মাছ উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন ও নৌ চলাচলে সহায়ক হয় ওই প্রকল্প। বৃদ্ধি পায় খাদ্য উৎপাদন।


এখন নতুন করে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির চাহিদা হ্রাস করাও এই খনন কার্যক্রমের লক্ষ্য।


সরকার আশা করছে, এই কার্যক্রমের ফলে খরা প্রবণতা কমবে, অনদিকে বন্যা ও জলাবদ্ধতাও হ্রাস পাবে।


পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সমন্বয়ে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।


প্রতি কিলোমিটার খনন, পুনঃখননে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।


স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। পলি ও বালিতে ভরাট হয়ে বর্তমানে নৌপথ কমে হয়েছে চার হাজার কিলোমিটার।


বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিআইডব্লিউটিএ-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশে বর্ষা মৌসুমে যেখানে নৌপথ থাকে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার, শুষ্ক মৌসুমে নৌপথ এসে দাঁড়ায় মাত্র ৪ হাজার ৩৪৭ কিলোমিটারে।




বেনজীর আহমেদ

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

বাংলাদেশের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।


এশিয়া পোস্ট লিখেছে, কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথাও হয়েছে।


পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি।


এশিয়া পোস্ট লিখেছে, বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়।


জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।


বেনজীরের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে কালবেলা লিখেছে, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত আরোপ করলেও সাবেক এই পুলিশ প্রধান দুবাই থেকে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।


এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন।


“তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।"


আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়।


সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।


এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার।


সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।


এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এল, যা তার প্রত্যাপর্ণের বিষয়টিই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।


পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।


প্রাথমিক-গণশিক্ষা-মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দিনক্ষণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।


এতে আরও বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য পাঠানো হলো।


এদিকে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ের পদায়ন চান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে তাদের।


এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জডড়ো হতে শুরু করেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

প্রশাসন সংস্কার ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বাড়ছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া এবং মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 


স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয় গত ২৫ মার্চ। পরে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়। 


বিএনপি সরকারের গত সাড়ে পাঁচ মাসে নানা কারণে ১১ জন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পদোন্নতি পেলেও তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না সরকার।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করা হয় ১৭৯ জনকে। তাদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। কিন্তু ২৪ ও ২৫ ব্যাচে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি। 


২৪ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা দুই দফায় বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হযেছে। মেধা তালিকা মানা হয়নি। আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য আরও বেড়েছে। 


আগের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছর কোনো পদোন্নতি পাইনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সচিব হিসেবে পদোন্নতির পর কেন জনপ্রশাসনে সংযুক্ত হলাম- কিছুই বুঝতে পারছি না।’ 


সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটা অনেক ভালো দিক। কিন্তু এই সংস্কারে আমলাতন্ত্রই প্রধান বাধা। কারণ তারা নতুন কিছু চায় না।


তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিকতার সঙ্গে ফাইল উপস্থাপন করতে হবে। এর পর মন্ত্রী-এমপিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু আমলারা সংস্কারের সেই প্রস্তাব উপস্থাপনই করেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রস্তাব তারা বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে পরিবর্তন করতে হলে সরকারপ্রধানকে সরাসরি তদারক ও সমন্বয় করতে হবে।   


সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই


জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ-পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল। একই ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্র, ৩১ দফা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান চিত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সরকার পরিবর্তন করলেই প্রশাসনের চরিত্র বদলায় না। পদোন্নতি, পদায়ন, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার ছাড়া একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।


বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ: মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। 


এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের কম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ; সরকারি কর্মচারীর জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন; সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় হলফনামায় সই করার মতো সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই। 


দণ্ডপ্রাপ্তরা পেলেন পদোন্নতি


আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমেনি বরং আরও বেড়েছে। কারণ শিক্ষা ক্যাডারের বদলি নীতিমালা-২০২৬ এ প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষমতা বেড়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এডিসি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলির ক্ষমতায় যুক্ত করা হয়েছে। 


মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেও শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে প্রশাসন ক্যাডারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যুগ্ম সচিবের পদোন্নতির তালিকায় থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। ডেমরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে তিন বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করলেও তাঁর দণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামকে বালুমহাল কেলেংকারিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) থাকাকালে তিস্তা নদীর বালুমহালের ইজারা গ্রহীতার চেক ব্যাংকে জমা না দিয়ে অর্থপ্রাপ্তির ভুয়া চুক্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিতকরণের দণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও পদোন্নতি পেয়েছেন। 


স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে দুর্নীতির দায়ে শাস্তি দেওয়া হয়। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে কর্মরত থাকাকালে নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে তাঁকে দুই বছরের জন্য দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তাঁর এ দণ্ড বাতিল করেন। তিনিও আছেন পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে।


কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে


প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনপ্রশাসনের অঙ্গীকার- এসব প্রত্যাশা নিয়ে প্রশাসনে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আগের সরকারের সময়কার বিতর্কিত ধারা বহুলাংশে বহাল রয়ে গেছে।  


মেধা ও কর্মদক্ষতার বদলে নানা বিবেচনায় পদোন্নতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এতে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ আবারও বঞ্চিত। অনেকে দ্বিতীয় দফায় ওএসডি হয়েছেন।


অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে নতুন অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।


চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ছে 


একদিকে নিয়মিত পদোন্নতি ও পদায়নে জটিলতা, অন্যদিকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে শুধু সচিব পদে ২২ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এতে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, অবসরোত্তর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যতিক্রম হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মে পরিণত হচ্ছে।


এসএসবির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে


পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডের কার্যক্রম যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। মূল্যায়নের সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রকাশ না হওয়ায় পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দেওয়ার পর তা বাতিল করা হয়।


প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে- এমন ধারণা প্রশাসনের ভেতরে জোরালো হচ্ছে। বাড়ছে বঞ্চনাবোধ।


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ এএম

রাজধানীর জিগাতলায় ট্যানারি মোড়ের সন্দীপন স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা ও দিবাযত্নের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৪ বছর বয়সী শিশুরাও পড়ে। অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বিদ্যালয় থেকেই।


গ্যাস সংকটের আগে খাবার রান্না করা হতো সকাল ১০টার পর থেকে। চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় নিভু নিভু আগুনে এখন আর দিনের বেলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক দিন বিদ্যালয়ের সামনের ভবনের পার্কিংয়ের স্থানে লাকড়ির চুলায় রান্না করা হয়। 


তবে বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে রান্না করা হচ্ছে। কারণ, তখন গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় চুলায় কিছুটা চাপ বাড়ে।


বিদ্যালয়ের বাবুর্চি রহিমা বেগম জানান, রাত ২টার দিকে রান্না শুরু হয় এবং ভোরের আগেই তা সম্পন্ন করতে হয়। এরপর আর গ্যাস থাকে না। এই খাবারই শিশুদের দুপুরে ‘মিড-ডে মিল’ হিসেবে দেওয়া হয়। সারারাত জেগে রান্না করার কারণে শরীরের ওপর চরম ধকল যাচ্ছে বলে জানান এ বৃদ্ধা।


দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গৃহিণীদের প্রাত্যহিক রুটিন আগের মতো নেই। পারিবারিক বাজেটেও চাপ পড়েছে। দিনের বেলা একদম গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ গৃহিণীকে বাধ্য হয়ে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে রান্না সেরে রাখতে হচ্ছে। অনিদ্রার কারণে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে। অনেক সময় সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার অর্ধেক রান্না হতেই গ্যাসের চাপ মিলিয়ে যাওয়ায় থমকে যাচ্ছে পুরো সংসারের কাজ।


কেউ কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় রান্না করে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন। বহুতল ভবনের বারান্দা কিংবা ছাদে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ঝুঁকছেন এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলার মতো বিকল্প পদ্ধতিতে। বাজারে সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট এবং বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহারে খরচের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।


একদিকে মাসের শেষে লাইনের গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার, বিদ্যুৎ ও হোটেল থেকে কেনা খাবারের পেছনে চলে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।


গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট এখন আরও তীব্র হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে।


রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বিজৎ পাল শনিবার জানান, সম্প্রতি গ্যাসের যে সংকট শুরু হয়েছে তা সামলাতে তিনি স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে হোটেলে খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু হোটেলের খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকায় পেটের পীড়ায় ভুগছেন। আদাবরের বাসিন্দা অরুণিমা জানান, গ্যাস না থাকায় শ্যামলীতে ভাইয়ের বাসা থেকে রান্না করে এনে ফ্রিজে রেখে খেতে হচ্ছে। তাঁর ভাইয়ের বাসায় এলপি গ্যাসের চুলা আছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এই দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। 


এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করছেন টার্মিনাল মেরামতে। বিশেষভাবে প্রস্তুত যন্ত্রপাতি হাতে এসেছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

দেশের সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং রুট ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে আজ (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। 


একই সঙ্গে জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে।


জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।


সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

‎আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।


তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।


এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।


‎চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো।‎কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

‎তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। ‎গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।


‎আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।


পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।