প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৫:৩৭ এএম

কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইরান যুদ্ধের জেরে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো ক্ষেত্রে কেবল কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় ধৈর্য্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশ গড়ার আহ্বান রেখেছেন তিনি।


সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে পারেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশটি আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক…সেটি আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু একই সাথে আমরা যদি বাস্তবতা বিবেচনা করি এবং সমসাময়িক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিস্থিতি সকল কিছু যদি বিবেচনা করি তাহলে আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র আমরা অবস্থান পরিবর্তন করব না। হয়ত সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে হয়ত আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য।


“সেজন্যই আজকে আমি সকলকে অনুরোধ করব, এখানে যে সকল এলাকাবাসী উপস্থিত আছেন আপনাদেরকে, আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে যে, আসুন আমরা ধৈর্যের সাথে সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবেলা করি, আমরা ধৈর্যের সাথে সুন্দরভাবে আমাদের এই দেশটিকে গড়ে তুলি।”


মঙ্গলবার মহাখালীর কড়াইলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিরেন তারেক রহমান। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হল।


করাইল বস্তি এলাকা সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠের পর বিএনপি দলীয় সঙ্গীত পরিবেশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের ওপরে একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।


প্রধান অতিথির আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন। এরপর পরিবেশ করা হয় জাতীয় সঙ্গীত।


এ অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারীভোগীদের কাছে নগদ অর্থ চলে যায়। এ সময়ে তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।


‘নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেক’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। 


সরকারের ভাবনা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যদি এই এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রাখা হয়, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা না হয়, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।


নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরেন তারেক রহমান।


তিনি বলেন, “আপনাদের নিশ্চয়ই সকলের খেয়াল আছে। এর আগে বিএনপি সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সেই সময় সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন।


“সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়তন করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার সরকার গঠনের আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি কিভাবে নারীদেরকে আমরা ক্ষমতায়ন করব, অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করে গড়ে তুলব এবং তারই অংশ হিসাবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমিকভাবে ইন্ট্রোডিউস শুরু করলাম।”


‘ফ্যামিলি কার্ডের’ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশে যে চার কোটি পরিবার রয়েছে সেই চার কোটি পরিবারের যারা নারী প্রধান, তাদের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইনশআল্লাহ পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।”


‘জনগণকে জবাবদিহি করতে চাই’


প্রধানমন্ত্রীর কথায়ম, তারা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চান। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে চায় বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, “তারই একটি অংশ হিসাবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব।


“আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন আমরা আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের এই প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ আমরা শুরু করেছি।”


‘আগামী মাসে কৃষক কার্ড’


বিএনপির আরেকটি প্রতিশ্রুতি কৃষক কার্ডের কথাও উঠে এসেছে তারেক রহমানের কথায়।


তিনি বলেন, “আমরা আরো কিছু প্রতিশ্রুতি করেছিলাম তার মধ্যে যেগুলো আমাদের প্রায়োরিটি প্রয়োজন ছিল তার মধ্যে আরেকটি আছে কৃষক কার্ড, সেই কৃষক কার্ডের কাজও আমরা শুরু করেছি ইনশাল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও আমরা কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।



“আমরা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে যাদের কৃষি ঋণ মওকুফ করব। আল্লাহর রহমতে আমরা গত সপ্তাহে সেই ১০০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ সরকারের পক্ষ থেকে করে দেওয়া হয়েছে সুদসহ। এইভাবে আমরা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। যেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমিকভাবে যে কোনো মূল্যে পূরণের চেষ্টা করব।”


‘আজকের দিনটি আমরা জন্য ইমোশনাল’


অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, “আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের দিনটি ব্যক্তিগতভাবে জন্য খুবই ইমোশনাল। কারণ এখানে আজকে যারা আপনারা অতিথি উপস্থিত আছেন, এখানে কিছু মানুষ উপস্থিত আছেন যাদের সাথে বিগত অনেকগুলো বছর ধরে আমি বসে বসে আমি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যে কিভাবে যখন সময় আমরা পাবো, সুযোগ পাবো, জনগণের সমর্থন পাবো সেই ফ্যামিলি কার্ডটিকে আমরা বাস্তবায়ন করব। আল্লাহ তাআলা রাব্বুল আলামীনের রহমতে আজকে আমাদের সেই দিনটি উপস্থিত। যেই দিনে আমরা আমাদের এই প্রতিস্থিতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি।


“সেজন্যই আজকে আমার জন্য যেমন একটি ইমোশনাল দিন, আমি মনে করি আমার সরকার এবং আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং একটি ইমোশনাল দিন আজকে।”


নির্বাচনের সময়ে ব্যবহৃত স্লোগান ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে নিজের বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন তারেক রহমান।


সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।


অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি, কূটনীতিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

ফ্যাসিস্টটের ভাষয়া বলা হচ্ছে, সরকারকে পাঁচ বছরও যেতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান-সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। তাই টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে হবে।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনো ধরনের সেল্ফ সেন্সরশিপ নয়, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে।


সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


তিনি বলেন, সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হবে।


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ শিশু। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।


সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সে সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

সেমিনারে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২১ পিএম

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


তিনি বলেন, "গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।" রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে শুক্রবার তিনি কথা বলছিলেন।


মির্জা ফখরুলের কথায়, গণতন্ত্র কেবল ‘নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতি’।


টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে তাগিদ দেন তিনি।। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন।


সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এখানে কোনো ধরনের আত্মসেন্সরশিপ থাকা চলবে না।


এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।


গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, "মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।"


সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"


সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

সর্বশেষ সব খবর

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে ইলিয়াস কাঞ্চন (ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪০ পিএম

‘৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এক বেদনাকে মানুষের জীবনরক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের আন্দোলন।’


আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মহান আল্লাহ-তাআলা যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের পাশে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশে আবারও সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি দেন।’


তিনি বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করেছিলাম। দীর্ঘ এই পথচলায় আন্দোলনটি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং সারাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।


নিসচা প্রতিষ্ঠাতা সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবনরক্ষার সহযোদ্ধা।’


আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’


বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪১ এএম

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ভর্তিতে কোনো পরীক্ষা হবে না। এ শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‎আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম শ্রেণি ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে।


১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। ওই সময় মন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম।’


২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। 


পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। তবে কোন তারিখ পর্যন্ত মতামত জানানো যাবে তা উল্লেখ করা হয়নি।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সবার মতামত নিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত আইন তোলা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদ অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে।


আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হবে একাধিক বিধান। খসড়া অনুযায়ি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানি করা হলে এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।


তবে এই কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। খসড়ায় বলা হয়েছে, এসআরবির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যে কোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিট গঠন করা যাবে। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সম্পর্কিত আইন সাপেক্ষে কোনো সদস্যকে নির্ধারিত শর্তাধীনে এই ইউনিটের চাকরিতে প্রেষণে নিযুক্ত বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।


এতে আরও দেখা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা থাকবে বাহিনীর। এছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত পরিচালনারও সুযোগ রাখা হয়েছে। তদন্ত পরিচালনা করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে। এই আইনের অধীন সুষ্ঠু তদন্তকাজ পরিচালনার প্রয়োজনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে। জব্দ মালামাল আদালতের আদেশ মতে বা সরকারের বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তি করতে হবে।

এই বাহিনীর অভিযোগ প্রতিকার কমিটির সভাপতি হবেন- এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি। কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে, প্রয়োজন হলে আলাদা অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে। অভিযোগ প্রতিকার কমিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ দিতে পারবে। ইউনিটের কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূত প্রভাব, পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায় আচরণ সংক্রান্ত ক্ষোভ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিতে পারবে। ইউনিটের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধিবহির্ভূত ও অযাচিত প্রভাব বিস্তার করলে এবং অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে, ওই ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করতে পারবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।


খসড়া আইনে সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলা লঙ্ঘন অথবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটন করে পালালে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন। পলাতক সদস্যের স্থায়ী অথবা বর্তমান বাসস্থান যে থানায় অবস্থিত, সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করবেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই অনুরোধ কোনো ম্যাজিস্ট্রেট জারি করা পরোয়ানা হিসেবে গণ্য করে পলাতক সদস্যকে ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন।


খসড়ায় বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র্যা বের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর