বাংলাদেশ সরকারের লোগো
সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।
শপথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি হতে পারে। মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের যেমন সমন্বয় করা হবে, তেমনি জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনের ৯ তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।
রাষ্ট্রপতি তখন তাঁকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর ওই দিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।
মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ আছে সংস্কার প্রস্তাবে
জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ মন্ত্রী এবং ১২ প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করে। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে নামিয়ে ২৫ আনার সুপারিশ করে কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। এমনকি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই সুপারিশের পর প্রথমবারের মতো দলীয় সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাদে মন্ত্রণালয় হবে ২৫টি। এতে দুজন টেকনোক্র্যাটসহ মন্ত্রী হবেন ২৩ জন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন ১২ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন ও সচিব থাকবেন ৪২ জন। একাধিক বিভাগ সংবলিত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং সমন্বয়ের জন্য একজন মুখ্য সচিব থাকবেন।
কেমন ছিল আগের মন্ত্রিসভা
সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুটি করে বিভাগে পৃথক করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগ দুটিকে একীভূত করেছে।
২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ জন হয়েছিলেন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জন। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬২ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে যাচ্ছেন।
মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক বড় মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলে পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আবার ছোট মন্ত্রণালয়ে একাধিক মন্ত্রী হলে কাজে শৃঙ্খলা থাকে না। এ জন্য ২০ থেকে ২২ জন মন্ত্রী এবং আট থেকে ১০ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। এতে বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রীরা। ছোট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন প্রতিমন্ত্রীরা।
সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সমকালকে বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করে ৩৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আর্থিক অবস্থা, সেখানে মন্ত্রিসভার সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত। এ ছাড়া ডিজিটাল যুগে একজন লোক অনেক কাজ করতে পারে। এ জন্য জনবলের সংখ্যা কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।’
আলোচনায় যারা
এবারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া থাকতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তরুণ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় নাম এসেছে নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ কয়েকজনের। জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরের নাম শোনা যায়। তবে কারও নামই দায়িত্বশীল কোনো নেতা নিশ্চিত করেননি।
১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ
শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
এদিকে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থানে অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি।
প্রস্তুত হচ্ছে সংসদ ভবন
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি অধিবেশনের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
শপথ গ্রহণের পর নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রতীক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ জন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ শ্রদ্ধা জানানোর পর আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
জামায়াতের ইসলামী ও এনসিপির দলীয় মনোগ্রাম
এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে বাহাস চলছে ফেসবুকে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জোটেও চলছে মন কষাকষির গুঞ্জন।
যদিও দল দুটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের গুরুত্ব রাজনীতিতে নেই। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে হামলা হয়।
দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির স্থানীয় এক কর্মীর বাঁ চোখ নষ্ট হয়েছে।
এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির সেই রাতেই বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। একে একে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকা খেলাফত মজলিস। ২৮ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত।
ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরের দিন সিলেট এবং কুড়িগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা, মিছিলে হামলা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতে ১১ দলের বৈঠক থেকে এসব হামলার নিন্দা করা হয়।
তবে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে আবার অভিযোগ তোলেন, জোটসঙ্গী জামায়াত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করছে না। বিএনপির প্রতি অনেকটাই নমনীয়, প্রধান বিরোধী দল। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে জামায়াত।
বিপরীতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই বিরোধ লোক দেখানো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতে বিএনপি এসব হামলা করছে। যাতে মনে হতে পারে, জামায়াত নয় এনসিপিই প্রধান বিরোধী দল।
শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের প্রোফাইলে লেখেন, ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’
এতে জামায়াতের অনেকে সমর্থন করেন। তাদের ভাষ্য, এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা করছে। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এই পোস্ট ডিলিট করেন জাহিদুল।
তবে জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।’
এই বক্তব্যে সমর্থন করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা লেখেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার পর জামায়াতই নিরাপত্তা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে হামলার পর জামায়াত নেতাকর্মীরা এনসিপিকে নিরাপত্তা দেয়। একে ‘খোটা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টাপাল্টি চলছে ফেসবুকে। যদিও বাস্তব দুনিয়ায় এর প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপিকর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি এ হামলার বিচার দাবি করেন। আগের রাতে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট এনসিপির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই বেঠক হয়।
বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক সংশোধন করেছে।
তার ভাষ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আগামী মাসে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সার্জিও গোর আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জবাবে বিশেষ দূত বলেন, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগির একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি নিজেও কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে সার্জিও গোর বলেন, এ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এসব তথ্য জানান।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী চার দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণেরও আভাস রয়েছে।
সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিনও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) দেশটির জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) লেভেল-৩ থেকে কমিয়ে লেভেল-২ করেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রয়েছে এবং সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছার পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া আরেক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সফর শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী দুই দিনে ফলপ্রসূ বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন সার্জিও গর। সেখানে তিনি ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাত জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব অঞ্চলেও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে পেছনে রাখা নয়; বরং একাত্তরকে সামনে আনার পাশাপাশি জুলাইকেও সামনে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা জুলাইকেও অস্বীকার করতে পারি না। এ জন্য যে আমাদের অসংখ্য সন্তান, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। একাত্তর ও চব্বিশ কোনোটিকেই বিএনপি ছোট করে দেখে না বলে উল্লেখ করেন দলটির মহাসচিব।
একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে ধর্মের নামে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মের নামে যারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের অবশ্যই রুখে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।
ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল ও ভবিষ্যৎ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির সরকার গঠনের পেছনে এবার সংখ্যালঘুদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লালন করেন। সরকারের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোনো মতের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, বিএনপি সরকার সেই অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
যেকোনো পরিস্থিতির বিশ্লেষণে পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পটভূমি বিচারে শুধু সাম্প্রতিক দু-এক বছর নয়; বরং আগের সব ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সভা সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্য। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ– ৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি অশোক তরু সাহা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হারে নির্যাতন বেড়েছে, সেটা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি অবিলম্বে সরকারকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলোয় যথাযথ সরকারি ছুটি দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি এই ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।