ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিলেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জামায়াত জোটের এমপিদের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে ভাষণ দিলেন, তাতে মিশে থাকল ভাগ্যের পরিহাস। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ভাষণের শুরুতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে তিনি বললেন ‘স্বাধীনতার ঘোষক’। তাকে বারবার বলতে হলো, আওয়ামী লীগ সরকার ছিল ‘ফ্যাসিস্ট’। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ বানিয়েছিল। পরে বিএনপি সরকারের ‘কঠোর পদক্ষেপে’ বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ ‘মুক্তি পেয়েছিল’।
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দেশের জন্য কী কী করবেন, তার বিস্তারিত ফিরিস্তি রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে দিলেন। তিনি ভাষণ শেষ করলেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে বক্তব্য শেষ করতেন ‘জয় বাংলা’ বলে। বিএনপি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে এলেও আওয়ামী লীগ তা সব সময় প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ রাষ্ট্রপতি ‘জয় বাংলা’ ছাড়াই শেষ করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে গেলেও রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজনে তার বক্তব্য দিতে দেওয়ার সুযোগ হয়নি। নির্বাচনে জিতে বিএনপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর গত ৬ মার্চ প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মো. সাহাবুদ্দিন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জাতীয় পাট দিবসের ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শেষ হয় বিএনপির ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ দিয়ে, যা নিয়ে সেদিনও আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন। এক সময় তিনি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, তখন দেশের মানুষ তাকে সাহাবুদ্দিন চুপপু নামে চিনত।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এর বাইরে পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। এমনকি সংসদে যে ভাষণ রাষ্ট্রপতি দেন, তাও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হতে হয়। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার কথাই তিনি ওই ভাষণে তুলে ধরেন। ফলে নিজের দর্শন ও অবস্থান তুলে ধরার খুব বেশি স্বাধীনতা কার্যত তার থাকে না।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে যখন ভাষণ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হল, বিরোধী দলের আসনে থাকা জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদের কর্মকর্তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদস্যদের দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন কেউ কেউ দাঁড়ালেও কয়েকজন সদস্য বসে ছিলেন। তবে এসময় জামায়াত জোটের সদস্যদের প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের শুরুতেই বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। হাজারো শহিদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং এই নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন।
“অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। জাতীয় সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের পাশাপাশি কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যও রয়েছেন।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি এই সংসদে আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। জাতীয় সংসদের সকল সদস্যের প্রতিও রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন।” এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারদলীয় এমপিরা টেবিল চাপড়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বাংলাদেশে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
সেই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।”
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া সাহাবুদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল ‘ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে’ জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণ। সেই লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র মেরামতের অংশ হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও 'করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'-এই স্লোগানকে উপজীব্য করে দলীয় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। “ইশতেহারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসন-এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তবে সরকারের সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কঠোর হস্তে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এই দুইটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বাংলাদেশ যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করা দুর্নীতির ধারণা সূচকে কয়েকবার ‘দুর্নীতির শীর্ষে’ ছিল, সে বিষয়ে বিএনপির ব্যাখ্যা শোনা যায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করে। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়।
“২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবারও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।”
জামায়াতের ইসলামী ও এনসিপির দলীয় মনোগ্রাম
এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে বাহাস চলছে ফেসবুকে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জোটেও চলছে মন কষাকষির গুঞ্জন।
যদিও দল দুটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের গুরুত্ব রাজনীতিতে নেই। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে হামলা হয়।
দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির স্থানীয় এক কর্মীর বাঁ চোখ নষ্ট হয়েছে।
এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির সেই রাতেই বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। একে একে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকা খেলাফত মজলিস। ২৮ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত।
ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরের দিন সিলেট এবং কুড়িগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা, মিছিলে হামলা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতে ১১ দলের বৈঠক থেকে এসব হামলার নিন্দা করা হয়।
তবে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে আবার অভিযোগ তোলেন, জোটসঙ্গী জামায়াত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করছে না। বিএনপির প্রতি অনেকটাই নমনীয়, প্রধান বিরোধী দল। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে জামায়াত।
বিপরীতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই বিরোধ লোক দেখানো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতে বিএনপি এসব হামলা করছে। যাতে মনে হতে পারে, জামায়াত নয় এনসিপিই প্রধান বিরোধী দল।
শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের প্রোফাইলে লেখেন, ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’
এতে জামায়াতের অনেকে সমর্থন করেন। তাদের ভাষ্য, এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা করছে। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এই পোস্ট ডিলিট করেন জাহিদুল।
তবে জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।’
এই বক্তব্যে সমর্থন করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা লেখেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার পর জামায়াতই নিরাপত্তা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে হামলার পর জামায়াত নেতাকর্মীরা এনসিপিকে নিরাপত্তা দেয়। একে ‘খোটা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টাপাল্টি চলছে ফেসবুকে। যদিও বাস্তব দুনিয়ায় এর প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপিকর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি এ হামলার বিচার দাবি করেন। আগের রাতে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট এনসিপির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই বেঠক হয়।
বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক সংশোধন করেছে।
তার ভাষ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আগামী মাসে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সার্জিও গোর আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জবাবে বিশেষ দূত বলেন, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগির একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি নিজেও কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে সার্জিও গোর বলেন, এ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এসব তথ্য জানান।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী চার দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণেরও আভাস রয়েছে।
সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিনও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) দেশটির জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) লেভেল-৩ থেকে কমিয়ে লেভেল-২ করেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রয়েছে এবং সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছার পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া আরেক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সফর শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী দুই দিনে ফলপ্রসূ বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন সার্জিও গর। সেখানে তিনি ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাত জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব অঞ্চলেও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে পেছনে রাখা নয়; বরং একাত্তরকে সামনে আনার পাশাপাশি জুলাইকেও সামনে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা জুলাইকেও অস্বীকার করতে পারি না। এ জন্য যে আমাদের অসংখ্য সন্তান, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। একাত্তর ও চব্বিশ কোনোটিকেই বিএনপি ছোট করে দেখে না বলে উল্লেখ করেন দলটির মহাসচিব।
একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে ধর্মের নামে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মের নামে যারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের অবশ্যই রুখে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।
ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল ও ভবিষ্যৎ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির সরকার গঠনের পেছনে এবার সংখ্যালঘুদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লালন করেন। সরকারের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোনো মতের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, বিএনপি সরকার সেই অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
যেকোনো পরিস্থিতির বিশ্লেষণে পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পটভূমি বিচারে শুধু সাম্প্রতিক দু-এক বছর নয়; বরং আগের সব ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সভা সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্য। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ– ৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি অশোক তরু সাহা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হারে নির্যাতন বেড়েছে, সেটা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি অবিলম্বে সরকারকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলোয় যথাযথ সরকারি ছুটি দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি এই ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।