করণ জোহর
দুই দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বন্ধুত্ব, বিয়ে, বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে নানা বিতর্কিত মন্তব্য—সবকিছুরই সাক্ষী হয়েছে যে সোফা, এবার সেখানে শেষবারের মতো বসবেন করণ জোহর। ২২ বছর পর জনপ্রিয় সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানটির নবম মৌসুমই হবে শেষ মৌসুম। ১৪ অক্টোবর থেকে জিওহটস্টারে শুরু হয়েছে এই শেষ অধ্যায়।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা অনুষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত আটটি মৌসুমে মোট ১৬১টি পর্ব প্রচার করেছে। দীর্ঘ এ সময়ে ভারতীয় বিনোদনজগতের তারকারা বসেছেন করণের সেই বিখ্যাত ‘কফি কাউচে’। তাঁদের কেউ বলেছেন প্রেমের কথা, কেউ জানিয়েছেন সম্পর্ক ভাঙার গল্প, কেউ প্রকাশ করেছেন বন্ধুত্বের অন্দরমহলের খবর। আবার কখনো অতিথির একটি মন্তব্যই পরদিন হয়ে উঠেছে বড় সংবাদ। জেনে নেওয়া যাক, অনুষ্ঠানটি এমন ১০ বিতর্কের কথা।
রণবীরকে নিয়ে দীপিকা-সোনমের খোঁচা
অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে স্মরণীয় বিতর্কগুলোর একটি ২০১০ সালের তৃতীয় মৌসুমে। অতিথি হয়ে এসেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন ও সোনম কাপুর। দুজনের কথার কেন্দ্রে চলে আসেন দীপিকার সাবেক প্রেমিক রণবীর কাপুর। সোনম মন্তব্য করেছিলেন, রণবীরের একজন স্টাইলিস্ট প্রয়োজন। প্রেমিক হিসেবে তিনি ভালো নন, বন্ধুবান্ধব হিসেবে ভালো—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন সোনম। দীপিকার অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে কথাবার্তা আরও জমিয়ে তোলেন তাঁরা।
রণবীরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে আলোচনা করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নাখোশ হয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে করণ জোহরও স্বীকার করেছিলেন, ওই পর্বে রণবীরকে নিয়ে কিছু মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছিল, তারকাদের নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডাও কীভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নিতে পারে।
‘কনডমের বিজ্ঞাপন করুক রণবীর’, দীপিকার মন্তব্যে তোলপাড়
একই মৌসুমের আরেকটি ঘটনায় রণবীরকে নিয়ে দীপিকার মন্তব্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল। দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে করণ জানতে চেয়েছিলেন, রণবীর কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন করলে ভালো হবে। দীপিকার উত্তর ছিল, কনডমের বিজ্ঞাপন।
রণবীরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর করা এই মন্তব্যকে অনেকে সাবেক প্রেমিককে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন। রণবীরের বাবা-মা ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুরও মন্তব্যটি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পরে দীপিকা ব্যাখ্যা করেন, কথাটি তিনি মজা করেই বলেছিলেন। কিন্তু টেলিভিশনের সেই কয়েক সেকেন্ডের রসিকতা বছরের পর বছর ধরে বলিউডের আলোচিত ঘটনা হয়ে আছে।
করণের মুখের ওপর ‘স্বজনপ্রীতির পতাকাবাহক’ বলেছিলেন কঙ্গনা
২০১৭ সালে ‘রেঙ্গুন’ সিনেমার প্রচারে করণের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কঙ্গনা রনৌত ও সাইফ আলী খান। সেই পর্বে কঙ্গনা সরাসরি করণকে বলেছিলেন, তিনি বলিউডে স্বজনপ্রীতির পতাকাবাহক। তাঁর অভিযোগ ছিল, করণ তারকা সন্তানদের সুযোগ দেন, অথচ বহিরাগতদের প্রতি তাঁর আচরণে অভিজাতসুলভ ঔদ্ধত্য দেখা যায়।
করণ প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও পরে কঙ্গনার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এরপর স্বজনপ্রীতি নিয়ে দুজনের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়। একই বছর আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র একাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে করণ, সাইফ ও বরুণ ধাওয়ান স্বজনপ্রীতি নিয়ে ঠাট্টা করায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। করণ পরে দুঃখ প্রকাশও করেন।
এ ঘটনাকে শুধু একটি টেলিভিশন বিতর্ক বললে কম বলা হয়। বলিউডে কারা সুযোগ পান, তারকা সন্তানদের সুবিধা কতটা, আর বহিরাগতদের সংগ্রাম কেমন—এসব প্রশ্নকে মূলধারার আলোচনায় আনতে কঙ্গনার বক্তব্য বড় ভূমিকা রেখেছিল।
হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলের মন্তব্যে ক্রিকেটেও ঝড়
‘কফি উইথ করণ’-এর সবচেয়ে গুরুতর বিতর্ক সম্ভবত ২০১৯ সালের এই ঘটনা। ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুল অতিথি হয়ে এসে নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেন। বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও নাইট ক্লাবে তাঁদের আচরণ নিয়ে হার্দিকের বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা হয়। তাঁর একটি মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলেও সমালোচনা করা হয়েছিল।
প্রতিক্রিয়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসক কমিটি দুজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনে। অনুষ্ঠানটির ওই পর্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বোর্ড দুজনকে জরিমানাও করে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারেননি আলিয়া, তৈরি হলো অসংখ্য মিম
২০১৩ সালে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ সিনেমার সহশিল্পী বরুণ ধাওয়ান ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আলিয়া ভাট। দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে তাঁকে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতির নাম জিজ্ঞেস করা হয়। আলিয়া উত্তর দেন, পৃথ্বীরাজ চৌহান। অথচ তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রণব মুখার্জি।
ভুল উত্তরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলিয়ার সাধারণ জ্ঞান নিয়ে অসংখ্য মিম তৈরি হয়। দীর্ঘদিন তাঁকে নিয়ে চলেছে বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ঠাট্টা। তবে আলিয়া বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে পরে নিজের ভুল নিয়ে নিজেই হাস্যরস করেন। ‘জিনিয়াস অব দ্য ইয়ার’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতেও অংশ নেন।
ঐশ্বরিয়াকে ‘প্লাস্টিক’ বলেছিলেন ইমরান হাশমি
২০১৪ সালে ‘কফি উইথ করণ’-এর দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম শুনে ইমরান হাশমি এক শব্দে উত্তর দিয়েছিলেন—‘প্লাস্টিক’। সৌন্দর্য ও বাহ্যিক রূপ নিয়ে এমন মন্তব্যকে অনেকে অপমানজনক বলে মনে করেছিলেন।
বছর কয়েক পর ঐশ্বরিয়া জানান, তাঁর সম্পর্কে বলা সবচেয়ে খারাপ কথাগুলোর একটি ছিল তাঁকে ‘ফেক’ ও ‘প্লাস্টিক’ বলা। ইমরানও পরে মন্তব্যটির জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, মুহূর্তের উত্তেজনায় কথাটি বলে ফেলেছিলেন।
কারিনার প্রশ্ন, প্রিয়াঙ্কার পাল্টা জবাব—অ্যাকসেন্ট নিয়ে লড়াই
বলিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মধ্যে একসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন ছিল। তৃতীয় মৌসুমে সাইফ আলী খানের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে কারিনা প্রিয়াঙ্কার উচ্চারণ নিয়ে খোঁচা দেন। জানতে চান, প্রিয়াঙ্কা ওই ধরনের অ্যাকসেন্ট কোথা থেকে পেয়েছেন।
পরে প্রিয়াঙ্কা যখন শহীদ কাপুরের সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসেন, তখন পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, কারিনার তৎকালীন প্রেমিক সাইফ আলী খান যেখান থেকে তাঁর উচ্চারণ পেয়েছেন, তিনিও সেখান থেকেই পেয়েছেন।
আনুশকাকে নিয়ে রণবীর সিংয়ের মন্তব্য, অস্বস্তিতে দর্শক
‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ সিনেমার সাফল্যের পর রণবীর সিং ও আনুশকা শর্মা একসঙ্গে ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেছিলেন। সেই পর্বে আনুশকাকে উদ্দেশ করে রণবীর এমন একটি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা দর্শকের একাংশের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছিল। আনুশকাও তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, তাঁর সঙ্গে এভাবে কথা না বলতে।
ঘটনাটি প্রথম প্রচারের সময় যতটা আলোচিত হয়েছিল, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলের বিতর্কের সময় ক্লিপটি আবার সামনে আসে।
‘আমি এখনো ভার্জিন’
২০১৩ সালে চতুর্থ মৌসুমের প্রথম পর্বে প্রথমবারের মতো করণের সোফায় বসেছিলেন সালমান খান। তাঁর বিয়ে না করা নিয়ে বহুদিনের কৌতূহল ছিল দর্শকের। করণের প্রশ্নের জবাবে সালমান বলেছিলেন, তিনি এখনো ভার্জিন।
সালমানের বক্তব্য তখন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় মিম। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বলা সালমানের এমন মন্তব্য তাই বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল।
তুষার কাপুরের ‘বোটক্স’ উত্তর, প্রীতি জিনতার অস্বস্তি
তৃতীয় মৌসুমে ‘বোটক্স’ শব্দ শুনে অভিনেতা তুষার কাপুরের মনে পড়েছিল প্রীতি জিনতার নাম। উত্তরটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ এটি প্রীতির চেহারা ও সম্ভাব্য প্রসাধনী চিকিৎসা নিয়ে ব্যক্তিগত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
তুষার পরে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, দ্রুত উত্তর দেওয়ার খেলায় বেশি ভাবার সময় থাকে না।
নতুন মৌসুমে অতিথি কারা
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর করণ জোহর ঘোষণা করেন, নবম মৌসুমের পর আর ফিরবে না ‘কফি উইথ করণ’। ১৪ অক্টোবর শুরু হয়েছে এই বিদায়ী মৌসুম। প্রথম অতিথি সালমান খান। এ ছাড়া এবারের মৌসুমে দেখা যেতে পারে শাহরুখ খান, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খান, কিয়ারা আদভানি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, রাশমিকা মান্দানা, বিজয় দেবরাকোন্ডাসহ হিন্দি ও দক্ষিণি সিনেমার তারকাদের।
জেমস ও হাসান
রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে আজ একই মঞ্চে গান শোনাবেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই জনপ্রিয় তারকা নগরবাউলের জেমস ও আর্কের হাসান। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মঞ্চে হাজির হচ্ছেন তারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে যমুনা শপিং কমপ্লেক্সের কার্নিভাল অ্যারেনায় শুরু হবে ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্ট।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, কনসার্টে নগরবাউল ও আর্কের পাশাপাশি পারফর্ম করবে দেশের আরও তিন জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য। ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন গিটারিস্ট ওনি হাসান। তিনি একক পরিবেশনাতেও মঞ্চে থাকবেন। এ ছাড়া একক পরিবেশনা করবেন এ কে রাহুল।
কনসার্টে নিজ দল নগরবাউলকে নিয়ে পারফর্ম করবেন জেমস। দেশে দীর্ঘদিন পর টিকিট কনসার্টে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করি শ্রোতা-দর্শক নতুন কিছু শুনতে ও দেখতে পাবেন।’
কনসার্টের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯৯ টাকা। একটি টিকিট দিয়ে ভেন্যুতে একবারই প্রবেশ করা যাবে। রি-এন্ট্রির সুযোগ থাকবে না। ছোট হাতব্যাগ বা পার্স ছাড়া বড় কোনো ব্যাগ নিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করা যাবে না।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।
অন্তর্বাসটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।
র্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।
তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।
ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।
২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হাজির হন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশ নেন তিনি। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণে অন্য ভক্তদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন এই শিল্পী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান শাওন।
উৎসবে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাওন বলেন, ‘আমরা বন্ধু, ঈদের দিন ওরা বাসায় আসে। আমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাই তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে এসেছি।’সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের কপালে সিঁদুর ও আবির মাখিয়ে উৎসবের আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেও দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মনে ছিল বিষাদের ছোঁয়া।
বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা ওই শোভাযাত্রায় যুক্ত হওয়ার পর ঢাকার ১১টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে।
ইজে ও স্যাম কিম
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তাঁর বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার ‘ভোগ’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম– দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।
ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এতদিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিল এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে। ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন; সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী।
ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’, যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট-এর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’ ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাঁকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’
‘কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে...’– এই লাইনগুলো আজও উচ্চারিত হয় শ্রোতাদের মুখে। সৃষ্টির ৩২ বছর পরও এই গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। সে কারণে ‘নিঃসঙ্গতা’ গানটি আনপ্লাগড সংগীতায়োজন রেকর্ড করেছেন সোলস সদস্যরা। একযোগে প্রকাশ করছেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে। সোলস সদস্যদের কথায়, মাত্র এক দিনের নোটিশে বিটিভির জন্য যে গানটি তৈরি হয়েছিল, সেই ‘নিঃসঙ্গতা’ সংগীতাঙ্গনে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে; যুগের পর যুগ অনুরণন তুলে যাবে শ্রোতামনে, তা কল্পনাও করেননি তারা। আর এই গানের প্রতি যতটা ভালো লাগা শ্রোতাদের, ততটাই সৃষ্টির আনন্দ মিশে আছে তাদের মনে। সে কারণে আনপ্লাগড ভার্সনে গানটি রেকর্ড করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা অনেকের ভালো লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস।
কালজয়ী এই গানের সৃষ্টি নিয়ে সোলসের লিড গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা’ গানের জন্ম অনেকটা গল্পের মতো মনে হয়। সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তপন চৌধুরী সোলস ছাড়ার পর অ্যালবাম প্রকাশনাও থেমে গেছে। সেই সময়ে হঠাৎ একদিন বিটিভিতে সোলসের ডাক পড়ে নতুন একটি গান করার জন্য। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না। যে জন্য সেখানে পারফর্ম করতে পারা যে কোনো শিল্পী ও ব্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। আমরাও তাই এক দিনের নোটিশে গান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম। গীতিকার কবির বকুলের কাছ থেকে গীতিকথা লিখিয়ে নিয়ে এক রাতেই শেষ করে ফেলেছি গানের সুর ও সংগীতায়োজন। পরদিনই বিটিভিতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছি। এরপর ‘নিঃসঙ্গতা’ বিটিভিতে প্রচারের পর যা হয়েছে, তা আজ এক ইতিহাস।
সম্প্রতি সোলস সদস্যরা ব্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে কানাডা সফর করে এসেছেন। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডা সফরে যায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ব্যান্ড। এই সফরের প্রথম কনসার্ট ছিল সাসকাচুয়ানে। প্রথম আয়োজনে সোলসের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সাড়া ফেলেছিল। যে কারণে বাড়াতে হয়েছে তাদের কনসার্ট সংখ্যা। সাসকাচুয়ানের পর একে একে কানাডার ক্যালাগেরি, হ্যালিফ্যাক্স ও এডমন্টনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গানের এই ব্যান্ড। কানাডায় ধারাবাহিকতায় আয়োজনের সমাপ্তি টানে স্কারবোরোয়। সোলসের কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার কথায়, উত্তর আমেরিকার বৃহৎ এই দেশটিতে আগেও কনসার্ট করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবারের এই কনসার্ট সফর ব্যান্ডের সবার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার। কারণ একটাই, ধারাবাহিক কনসার্টের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের ৫০ দশক পূর্তি উদযাপন করতে পারা। আশার কথা হলো, প্রতিটি কনসার্টে দর্শক সমাগম ও তাদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছরই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রথম সারির ব্যান্ড সোলস গানের ভুবনে পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করে। দেশের একমাত্র ব্যান্ড হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারা নিয়ে সোলস সদস্যরা নানা আয়োজন শুরু করেন, যা কয়েকটি ধাপে চলমান।