স্পাইডার ম্যান

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

বিশ্ব বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্ভেল ও সনির ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সিনেমাটি ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম চলচ্চিত্র হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। 


এর আগে সবচেয়ে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছাতে ‘অ্যাভঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর সময় লেগেছিল মাত্র ১১ দিন।


বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ২২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। টম হল্যান্ড ও জেনডায়া অভিনীত এবং ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আয় করেছে ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১ দশমিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে মাত্র অষ্টম ছবি, যা ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।


তৃতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাপী সপ্তাহান্তের আয় ১৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার। এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। এই তালিকায় এখনো শীর্ষে আছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকনস’। আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি ৬৭টি দেশে চলমান। তৃতীয় সপ্তাহান্তে বিদেশি বাজার থেকে আয় করেছে ১১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার ছিল চীন, যেখানে সপ্তাহান্তে আয় ১০ মিলিয়ন ডলার এবং মোট আয় ২১০ মিলিয়ন ডলার। 


এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৬৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন), যুক্তরাজ্য (১০৬ মিলিয়ন), মেক্সিকো (৭৮ মিলিয়ন), ব্রাজিল (৫৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন) ও ভারত (৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার)। ভারতসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক বাজারে এটি সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে গেছে। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইতালি, স্পেন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।


অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ও দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছে। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৫০৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৭৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। শুধু চীনেই প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৩৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। 


তবে এই মুহূর্তে বিশ্ব বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ১৭ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে ছবিটি শুধু স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নয়, পুরো সুপারহিরো সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা যখন ব্যর্থতার মুখে, তখন নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ কীভাবে সাফল্য পেল? জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য ১০ কারণ-


‘স্পাইডার-ম্যান’ নিজেই এক বিশাল ব্র্যান্ড


টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সও নয়-স্পাইডার-ম্যান নিজেই একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো স্পাইডার-ম্যানও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপারহিরোদের একজন। এমসিইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে চরিত্রটি আরও বড় একটি জগৎ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা এমসিইউর ওপর নির্ভরশীল নয়।

এই কারণেই টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দেখতে দর্শক শুধু মার্ভেলের ভক্ত হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে যান না। 


সাধারণ দর্শকের কাছেও চরিত্রটির আলাদা আবেদন আছে। ফলে এমসিইউর অন্য কিছু সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমলেও স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।


টম হল্যান্ডের আগের তিন সিনেমাই ছিল সফল


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর আগে টম হল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিনটি স্পাইডার-ম্যান সিনেমা-‘হোমকামিং’ (২০১৭), ‘ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯) ও ‘নো ওয়ে হোম’ (২০২১)-দর্শক ও সমালোচকদের কাছেই জনপ্রিয় হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এও হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দর্শক পছন্দ করেছেন।


অর্থাৎ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শূন্য থেকে শুরু করেনি। আগের সিনেমাগুলো চরিত্রটির জন্য যে আস্থা তৈরি করেছে, নতুন ছবিটি সেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে যেন ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষত থেকেছে-আগের প্রতিটি সিনেমা পরের সিনেমার জন্য দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। মার্ভেলের বৃহত্তর ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু চরিত্র ও গল্প নিয়ে যেখানে দর্শকের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনা ছিল অনেক বেশি ধারাবাহিক।


‘নো ওয়ে হোম’-এর আবেগ এখনো তাজা


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে বোঝার জন্য ‘নো ওয়ে হোম’-এর শেষটাও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটির শেষে পিটার পার্কারকে এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার ফলে পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে যায়। এমনকি তার প্রিয় মানুষ এমজিও আর জানে না পিটার পার্কার কে।


এই সমাপ্তি শুধু একটি সিনেমার শেষ ছিল না; এটি ছিল চরিত্রটির জীবনে বড় এক পরিবর্তন। ফলে পরের সিনেমায় কী হবে, পিটার কীভাবে এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে-তা জানার কৌতূহল তৈরি হয় দর্শকের মধ্যে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই আবেগের জায়গা থেকেই গল্প শুরু করেছে। ফলে আগের সিনেমার দর্শকের জন্য এটি শুধু আরেকটি নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমা নয়; বরং অসমাপ্ত একটি আবেগের পরের অধ্যায়।


এবার মাল্টিভার্স নয়, নিউইয়র্কের রাস্তায় স্পাইডার-ম্যান


সাম্প্রতিক এমসিইউর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাল্টিভার্স। অন্য জগৎ, বিকল্প বাস্তবতা, অসংখ্য চরিত্র ও সময়ের নানা স্তর-সব মিলিয়ে বিশাল এক গল্পের কাঠামো। ‘নো ওয়ে হোম’ও সেই মাল্টিভার্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল এবং দর্শক সেটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপর একই ধরনের ধারণার পুনরাবৃত্তিতে দর্শকের একাংশ ক্লান্ত হয়েছে।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পথ থেকে সরে এসেছে। ছবিটির গল্প তুলনামূলকভাবে স্ট্রিট-লেভেল বা মাটির কাছাকাছি। পিটার পার্কার নিউইয়র্কে নিজের মতো করে কাজ করছেন, অপরাধীদের মোকাবিলা করছেন, পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন।


এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্পাইডার-ম্যানের আসল শক্তি শুধু পৃথিবী বাঁচানো নয়; একজন সাধারণ তরুণ কীভাবে নিজের ব্যক্তিজীবন ও সুপারহিরো পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখে-সেটিও।


‘ম্যাকগাফিন’ নেই, আছে চরিত্র


সুপারহিরো সিনেমার বহুল ব্যবহৃত একটি কাঠামো হলো কোনো বিশেষ বস্তু খুঁজে বের করা, রক্ষা করা কিংবা ধ্বংস করা। কখনো পাথর, কখনো কিউব, কখনো তলোয়ার, কখনো এমন কোনো বস্তু যা পুরো মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পরিচিত কাঠামো থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।


স্পাইডার-ম্যান কমিকসের দীর্ঘদিনের লেখক জে মাইকেল স্ট্র্যাজিনস্কিও এ বিষয়টিকে ছবিটির সাফল্যের একটি কারণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দর্শক বারবার একই ধরনের ‘ম্যাকগাফিন’ বা রহস্যময় বস্তুকেন্দ্রিক গল্প দেখতে দেখতে ক্লান্ত হতে পারেন।


‘এন্ডগেম’-এর পর আবার সেই উন্মাদনা?


‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছিল এমসিইউর একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অনেক সিনেমাই ব্যবসা করেছে, কিছু সিনেমা বড় সাফল্যও পেয়েছে। কিন্তু ‘এন্ডগেম’-এর মতো সর্বজনীন সাংস্কৃতিক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্য তাই শুধু স্পাইডার-ম্যানের সাফল্য নয়। এটি মার্ভেলের জন্যও একধরনের স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল-সুপারহিরো সিনেমা কি তার আগের আবেদন হারিয়ে ফেলেছে?-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তার উত্তর দিয়েছে অন্যভাবে। দর্শক হয়তো সুপারহিরো সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তাঁরা শুধু একই ধরনের সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়েছেন। 


তাই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যখন একই পুরোনো চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে এনে গল্পকে ব্যক্তিগত করেছে, মাল্টিভার্সের বদলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিরিয়েছে, অতিরিক্ত ম্যাকগাফিন বাদ দিয়েছে এবং টম হল্যান্ড-জেন্ডায়ার মতো তারকাদের আবেগকে সামনে রেখেছে-তখন দর্শক আবারও সাড়া দিয়েছেন। আর এখানেই ছবিটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা: সুপারহিরো সিনেমার সমস্যা হয়তো সুপারহিরো নয়, সমস্যা গল্প বলার ধরনে।


চরিত্রনির্ভর গল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে তাই গল্পের কেন্দ্রে কোনো জাদুকরি বস্তু নয়; বরং পিটার পার্কার নিজেই। তার হারানো সম্পর্ক, একাকিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নতুন শত্রুর মোকাবিলা-গল্পের আবেগ তৈরি হয়েছে এসব জায়গা থেকে। সুপারহিরো সিনেমায় এটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও দর্শকের কাছে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।


বাস্তবধর্মী আবহ দর্শককে টেনেছে


‘গ্রাউন্ডেড’ বা বাস্তবধর্মী-শব্দ দুটি শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগে, কারণ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কোনো বাস্তবধর্মী পারিবারিক নাটক নয়। এটি স্পাইডার-ম্যানের সিনেমা। তবু মার্ভেলের অন্যান্য অনেক ছবির তুলনায় এর গতি কম উন্মত্ত, গল্প বেশি চরিত্রনির্ভর এবং বেশ কিছু দৃশ্যকে নিছক সিজিআই প্রদর্শনী মনে হয় না।


সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের মধ্যে বাস্তবধর্মী নির্মাণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে-লো-ফাই ঘরানার সফল সিনেমা থেকে শুরু করে বড় বাজেটের কিছু ছবিতেও বাস্তব সেট, বাস্তব অ্যাকশন ও চরিত্রনির্ভর গল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ও সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।


এমনকি ছবিটির সবচেয়ে দুর্বল অংশ হিসেবে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের দৃশ্যটির কথা বলা হয়েছে, সেটিও হলো সবচেয়ে বেশি ‘মার্ভেলসুলভ’ অংশ-স্পাইডার-ম্যান ও হাল্কের দীর্ঘ লড়াই। অর্থাৎ ছবিটির যে অংশটি বেশি প্রচলিত সুপারহিরো ঘরানার, সেটিই তুলনামূলকভাবে গল্পের জন্য কম জরুরি বলে মনে হয়েছে।


টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার প্রভাব


স্ট্রিমিংয়ের যুগে অনেকেই মনে করেন, বড় তারকার প্রয়োজন কমে গেছে। কিন্তু বক্স অফিস আবারও দেখাচ্ছে, তারকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।


টম হল্যান্ড ও জেনডায়া দুজনই বর্তমানে নিজেদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার শীর্ষ পর্যায়ে। বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ফলে পর্দায় পিটার পার্কার ও এমজের সম্পর্কও বাড়তি আবেগ তৈরি করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে এই সম্পর্কই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর এমজি পিটারকে মনে না রাখার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন সিনেমার শুরু থেকেই দর্শকের আবেগের কেন্দ্র।


অর্থাৎ এখানে তারকাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং চরিত্রের আবেগ-দুটো একে অন্যকে শক্তিশালী করেছে।


স্যাডি সিঙ্ককে ঘিরে রহস্য


সিনেমা মুক্তির আগে স্যাডি সিঙ্ককে নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলাদা কৌতূহল। মার্ভেল তাঁর চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ভক্তদের মধ্যে নানা তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কে-এই প্রশ্নের উত্তর জানতে দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জিন গ্রের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে, বিশেষ করে এমসিইউতে এক্স-মেনের নতুন যুগ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে।


বর্তমান সময়ে সিনেমার বড় কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে চরিত্রের পরিচয় গোপন রাখা নিজেই একটি বিপণন কৌশলে পরিণত হয়।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখতে গেছেন শুধু গল্পের জন্য নয়, স্যাডি সিঙ্ক আসলে কে-সেটি নিজের চোখে দেখার জন্যও।


দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা


বক্স অফিসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য প্রথম সপ্তাহের আয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সব নয়। একটি সিনেমাকে দীর্ঘ দৌড়ের জন্য প্রয়োজন দর্শকের ভালোবাসা।


‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই জায়গাতেও সুবিধা পেয়েছে। দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং সিনেমাকে ঘিরে নানা মিম-সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির পরও পপ সংস্কৃতির আলোচনায় থেকে গেছে। একটি সিনেমা যত বেশি মানুষকে কথা বলায়, নতুন দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।


এই ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচারই বড় বাজেটের সিনেমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপনগুলোর একটি।


শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দর্শকের ভালো লেগেছে


সব বিশ্লেষণের পর সবচেয়ে সহজ কারণটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- দর্শকের সিনেমাটি ভালো লেগেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ টম হল্যান্ড যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমা। দর্শক-প্রতিক্রিয়াও ছিল অসাধারণ। ছবিটির দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা লাইভ-অ্যাকশন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।


ছবিতে ক্যামিও আছে, ভবিষ্যৎ সিনেমার জন্য কিছু প্রস্তুতিও আছে, আছে নানা চমক ও মোড়। কিন্তু এসবের মধ্যেও গল্পের কেন্দ্র থেকে সরে যায়নি পিটার পার্কার। একদিকে তাকে নতুন এক রহস্যময় শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।


বিশেষ করে পিটার ও এমজেকে ঘিরে একটি ছাদদৃশ্য দর্শকের আবেগকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ প্রমাণ করে, সুপারহিরো সিনেমার সাফল্যের জন্য সব সময় পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি দরকার হয় না; কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা দিয়েও লাখো দর্শককে নাড়া দেওয়া সম্ভব।



সর্বশেষ সব খবর

দিলজিত দোসানজে ও অমিতাভ বচ্চন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বলিউডের শাহেন শাহ অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এসেছে। এই অবস্থায় জুহুতে অমিতাভের বাড়ি ‘জলসা’র সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেইলে সরাসরি মুম্বাইয়ের মেয়রকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। মেয়র রিতু রাজেশ তাওড়ের কাছে শুক্রবার একটি হুমকির মেইল আসে। 


সেইসঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়েছে গায়ক-অভিনেতা দিলজিত দোসানজেকেও। ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ে দিলজিতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। হুমকি মেলে বলা হয়েছে, সেই অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হবে। এসব হুমকির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলিউডে।


হুমকি বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। এর আগে অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলা হয়েছে। 


মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে ডিসিপি মণীশ কালওয়ানিয়া জানিয়েছেন, বিএএমসি-র কাছে একটি হুমকি মেইল এসেছে। মুম্বাইয়ের দাদরের স্কুলেও হামলার হুমকি এসেছে। তবে এই হুমকির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


ভারতের একাধিক শহরে দিলজীতের অনুষ্ঠান করার কথা আগামী কয়েক দিনে। টাইগারের ওপর হামলার পরেই দিল্লিতে দিলজিতের অনুষ্ঠানের অনুমতি মেলেনি দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই দিল্লিতে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হচ্ছে না।


কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক


কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দরের নারীদের শৌচাগারে একটি চিরকুট পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এতে ৩০ নম্বর গেটে বোমা রাখা আছে বলে লেখা ছিল। চিরকুটটি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানবন্দরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।


চিরকুট পাওয়ার পরপরই এয়ারপোর্ট থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য ও বম্ব স্কোয়াডের দল বিমানবন্দরে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে, কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী ও বিমানবন্দরকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।


উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর জুহু এলাকায় এক ফুটবল ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলেন টাইগার। গাড়িতে ওঠার পরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতকারীরা। টাইগার গুরুতর আহত হননি। কিন্তু তার গাড়ির চালক ও আর এক ব্যক্তির গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকে ত্রাস ছড়িয়েছে মুম্বাইয়ের টিনসেল টাউনে।

সর্বশেষ সব খবর

জেমস ও হাসান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে আজ একই মঞ্চে গান শোনাবেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই জনপ্রিয় তারকা নগরবাউলের জেমস ও আর্কের হাসান। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মঞ্চে হাজির হচ্ছেন তারা।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে যমুনা শপিং কমপ্লেক্সের কার্নিভাল অ্যারেনায় শুরু হবে ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্ট।


আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, কনসার্টে নগরবাউল ও আর্কের পাশাপাশি পারফর্ম করবে দেশের আরও তিন জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য। ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন গিটারিস্ট ওনি হাসান। তিনি একক পরিবেশনাতেও মঞ্চে থাকবেন। এ ছাড়া একক পরিবেশনা করবেন এ কে রাহুল।


কনসার্টে নিজ দল নগরবাউলকে নিয়ে পারফর্ম করবেন জেমস। দেশে দীর্ঘদিন পর টিকিট কনসার্টে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করি শ্রোতা-দর্শক নতুন কিছু শুনতে ও দেখতে পাবেন।’


কনসার্টের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯৯ টাকা। একটি টিকিট দিয়ে ভেন্যুতে একবারই প্রবেশ করা যাবে। রি-এন্ট্রির সুযোগ থাকবে না। ছোট হাতব্যাগ বা পার্স ছাড়া বড় কোনো ব্যাগ নিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করা যাবে না।


আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ এএম

দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র‍্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র‍্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।



রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।



অন্তর্বাসটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।



র‍্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।



তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।



ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।



২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।



ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ পিএম

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হাজির হন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশ নেন তিনি। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণে অন্য ভক্তদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন এই শিল্পী।


বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান শাওন।


উৎসবে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাওন বলেন, ‘আমরা বন্ধু, ঈদের দিন ওরা বাসায় আসে। আমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাই তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে এসেছি।’সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের কপালে সিঁদুর ও আবির মাখিয়ে উৎসবের আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেও দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মনে ছিল বিষাদের ছোঁয়া।


বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা ওই শোভাযাত্রায় যুক্ত হওয়ার পর ঢাকার ১১টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ইজে ও স্যাম কিম

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তাঁর বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার ‘ভোগ’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম– দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।


ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।


২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এতদিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিল এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে। ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন; সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী। 


ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’, যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট-এর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন। 


তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’ ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাঁকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন। 


এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’ 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

‘কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে...’– এই লাইনগুলো আজও উচ্চারিত হয় শ্রোতাদের মুখে। সৃষ্টির ৩২ বছর পরও এই গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। সে কারণে ‘নিঃসঙ্গতা’ গানটি আনপ্লাগড সংগীতায়োজন রেকর্ড করেছেন সোলস সদস্যরা। একযোগে প্রকাশ করছেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে। সোলস সদস্যদের কথায়, মাত্র এক দিনের নোটিশে বিটিভির জন্য যে গানটি তৈরি হয়েছিল, সেই ‘নিঃসঙ্গতা’ সংগীতাঙ্গনে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে; যুগের পর যুগ অনুরণন তুলে যাবে শ্রোতামনে, তা কল্পনাও করেননি তারা। আর এই গানের প্রতি যতটা ভালো লাগা শ্রোতাদের, ততটাই সৃষ্টির আনন্দ মিশে আছে তাদের মনে। সে কারণে আনপ্লাগড ভার্সনে গানটি রেকর্ড করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা অনেকের ভালো লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস।


কালজয়ী এই গানের সৃষ্টি নিয়ে সোলসের লিড গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা’ গানের জন্ম অনেকটা গল্পের মতো মনে হয়। সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তপন চৌধুরী সোলস ছাড়ার পর অ্যালবাম প্রকাশনাও থেমে গেছে। সেই সময়ে হঠাৎ একদিন বিটিভিতে সোলসের ডাক পড়ে নতুন একটি গান করার জন্য। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না। যে জন্য সেখানে পারফর্ম করতে পারা যে কোনো শিল্পী ও ব্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। আমরাও তাই এক দিনের নোটিশে গান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম। গীতিকার কবির বকুলের কাছ থেকে গীতিকথা লিখিয়ে নিয়ে এক রাতেই শেষ করে ফেলেছি গানের সুর ও সংগীতায়োজন। পরদিনই বিটিভিতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছি। এরপর ‘নিঃসঙ্গতা’ বিটিভিতে প্রচারের পর যা হয়েছে, তা আজ এক ইতিহাস।


সম্প্রতি সোলস সদস্যরা ব্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে কানাডা সফর করে এসেছেন। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডা সফরে যায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ব্যান্ড। এই সফরের প্রথম কনসার্ট ছিল সাসকাচুয়ানে। প্রথম আয়োজনে সোলসের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সাড়া ফেলেছিল। যে কারণে বাড়াতে হয়েছে তাদের কনসার্ট সংখ্যা। সাসকাচুয়ানের পর একে একে কানাডার ক্যালাগেরি, হ্যালিফ্যাক্স ও এডমন্টনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গানের এই ব্যান্ড। কানাডায় ধারাবাহিকতায় আয়োজনের সমাপ্তি টানে স্কারবোরোয়। সোলসের কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার কথায়, উত্তর আমেরিকার বৃহৎ এই দেশটিতে আগেও কনসার্ট করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবারের এই কনসার্ট সফর ব্যান্ডের সবার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার। কারণ একটাই, ধারাবাহিক কনসার্টের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের ৫০ দশক পূর্তি উদযাপন করতে পারা। আশার কথা হলো, প্রতিটি কনসার্টে দর্শক সমাগম ও তাদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে। 


প্রসঙ্গত, সোলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছরই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রথম সারির ব্যান্ড সোলস গানের ভুবনে পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করে। দেশের একমাত্র ব্যান্ড হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারা নিয়ে সোলস সদস্যরা নানা আয়োজন শুরু করেন, যা কয়েকটি ধাপে চলমান।

সর্বশেষ সব খবর