ছবি : সংগৃহীত
হলিউড ও বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে গায়ক-অভিনেতা নিক জোনাস কীভাবে প্রেমে জড়ালেন, এমনটা জানার আগ্রহ কার নেই! সম্প্রতি সেই আগ্রহের অবসান ঘটিয়েছেন নিক জোনাস নিজেই। ১০ বছর আগে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে সরাসরি পাঠানো প্রথম বার্তার কথা প্রকাশ করার সময় সেখানে হাজির ছিলেন প্রিয়াঙ্কা নিজেও। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল এক্সে (সাবেক টুইটার) সরাসরি একটি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে।
‘বারানসি’ ছবির এই অভিনেত্রী ও নিক সম্প্রতি জোনাস ব্রাদার্সের পডকাস্ট শো ‘হে জোনাস!’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই নিক জোনাস এক্সে তাঁদের প্রথম কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন এবং কীভাবে তাঁদের ডেটিং শুরু হয়েছিল, তা বিস্তারিত জানান।
ঘটনার শুরু
নিক জোনাস জানান, তাঁর ভাই কেভিন জোনাস তাঁকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অভিষেক হলিউড শো ‘কোয়ান্টিকো’র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। নিক এই শোর একটি বিলবোর্ড দেখেছিলেন, এরপর বাড়ি গিয়ে এক্সে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে খুঁজতে থাকেন।
পডকাস্টে নিক প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে বলেন, ‘কেভিন আমাকে বলেছিল, তুমি এবিসির “কোয়ান্টিকো” সিরিজটা দেখেছ? আমি বললাম, না দেখিনি। এরপর ও যখন সিরিজটির কথা বলছিল, তখন আমি সানসেট বুলেভার্ডে তাকিয়ে দেখি, তোমার মুখের একটি বিশাল বিলবোর্ড। তখন আমি ভাবলাম, টুইটারে (বর্তমানে এক্স) গিয়ে দেখি তো ও আমাকে ফলো করে কি না। দেখলাম, তুমি আমাকে ফলো করো। এরপরই আমি তোমাকে সরাসরি একটি বার্তা পাঠাই।’
তখন প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এটা সত্যিই দারুণ এক কাকতালীয় ঘটনা। কারণ, কেভিন আর আমি একই ধরনের শো পছন্দ করি, কিন্তু নিক আর আমার পছন্দের শো কখনোই এক হয় না।’
পডকাস্টে প্রিয়াঙ্কা ও নিক তাঁদের প্রথম কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশটও দেখান। নিকের প্রথম বার্তাটি ছিল, ‘হ্যালো। কয়েকজন আমাকে বলেছেন, আমাদের দেখা করা উচিত। আমিও তাঁদের সঙ্গে একমত। তুমি কি শিগগিরই লস অ্যাঞ্জেলেসে আসছ?’
নিকের বার্তার জবাবে প্রিয়াঙ্কা লিখেছিলেন, ‘হাই...গ্রাহাম (রজার্স) তোমার সম্পর্কে আমাকে অনেক কিছু বলেছে। চলো টেক্সটে আলাদাভাবে কথা বলি। ওটা আরও ব্যক্তিগত হবে। আমার টিম এই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে।’
পডকাস্টে প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘ও নিশ্চিত হতে চেয়েছিল যে এটি আসলেই আমি কি না। তাই ও আমার কাছে টাইম স্ট্যাম্প ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকা মুহূর্তের একটি ছবি চেয়েছিল। আমারও ওর এই বুদ্ধিটা ভালো লেগেছিল। ওটা ছিল একটা ফ্যাশন শোর পরের ঘটনা। সেদিন আমাকে বেশ মিষ্টি লাগছিল।’
‘তাই আমরা টেক্সট করা শুরু করলাম। এর প্রায় দেড় বছর পর আমরা ডেটিং শুরু করি এবং অবশেষে আমাদের বাগ্দান সম্পন্ন হয়,’ গল্পটা শেষ করে বলেন নিক জোনাস।
বলিউড গসিপের গোপন অনুসারী
নিক নাকি প্রিয়াঙ্কার চেয়ে বেশি বলিউড গসিপ সম্পর্কে খোঁজ রাখেন, এমনটাই জানিয়েছেন ‘বরফি’ অভিনেত্রী। এ সময় নিক বলেন, ‘এই আট বছরে আমি সবচেয়ে বেশি যা উপভোগ করেছি, তা হলো বলিউডের গসিপ।’
এ সময় প্রিয়াঙ্কা হেসে যোগ করেন, ‘এটা কিন্তু একদম সত্যি। এমনকি কারও ব্রেকআপ হয়েছে কি না, তা আমি না জানলেও ও ঠিকই জানে। সাধারণত এমনটা ঘটে যখন আমি কাউকে মেসেজ করতে গিয়ে বলি, “আরে, ওদের আমার ভালোবাসা জানিয়ো”, তখন ও সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, “না, ওদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে।”’
নিক জোনাস আরও একটি মজার তথ্য শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘ইনস্টাগ্রামে এমন কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আছে, যেগুলো আমি গোপনে ফলো করি। সেখানে দারুণ সব মুখরোচক গল্প থাকে। সব সময়ই এমন কিছু গল্প বা ঘটনা চলতে থাকে, যেগুলোর আপডেট অনুসরণ করতেই হয়।’
নিক ও প্রিয়াঙ্কার পথচলা
প্রিয়াঙ্কাকে সরাসরি প্রথম বার্তা পাঠানোর ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৭ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার অস্কারস আফটার-পার্টিতে তাঁদের প্রথম সরাসরি দেখা হয় এবং ২০১৮ সালে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।
ওই বছরের জুলাইয়ে গ্রিস সফরে গিয়ে নিক প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেসে হিন্দু ও খ্রিষ্টান—দুই ধর্মীয় রীতিতেই তাঁদের বিয়ে হয়।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে সারোগেসির মাধ্যমে নিক-প্রিয়াঙ্কার কন্যাসন্তান মালতী মেরি চোপড়া জোনাসের জন্ম হয়। এই দম্পতি নিয়মিতই তাঁদের পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
দিলজিত দোসানজে ও অমিতাভ বচ্চন
টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বলিউডের শাহেন শাহ অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এসেছে। এই অবস্থায় জুহুতে অমিতাভের বাড়ি ‘জলসা’র সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেইলে সরাসরি মুম্বাইয়ের মেয়রকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। মেয়র রিতু রাজেশ তাওড়ের কাছে শুক্রবার একটি হুমকির মেইল আসে।
সেইসঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়েছে গায়ক-অভিনেতা দিলজিত দোসানজেকেও। ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ে দিলজিতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। হুমকি মেলে বলা হয়েছে, সেই অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হবে। এসব হুমকির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলিউডে।
হুমকি বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। এর আগে অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলা হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে ডিসিপি মণীশ কালওয়ানিয়া জানিয়েছেন, বিএএমসি-র কাছে একটি হুমকি মেইল এসেছে। মুম্বাইয়ের দাদরের স্কুলেও হামলার হুমকি এসেছে। তবে এই হুমকির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারতের একাধিক শহরে দিলজীতের অনুষ্ঠান করার কথা আগামী কয়েক দিনে। টাইগারের ওপর হামলার পরেই দিল্লিতে দিলজিতের অনুষ্ঠানের অনুমতি মেলেনি দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই দিল্লিতে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হচ্ছে না।
কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দরের নারীদের শৌচাগারে একটি চিরকুট পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এতে ৩০ নম্বর গেটে বোমা রাখা আছে বলে লেখা ছিল। চিরকুটটি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানবন্দরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
চিরকুট পাওয়ার পরপরই এয়ারপোর্ট থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য ও বম্ব স্কোয়াডের দল বিমানবন্দরে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে, কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী ও বিমানবন্দরকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর জুহু এলাকায় এক ফুটবল ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলেন টাইগার। গাড়িতে ওঠার পরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতকারীরা। টাইগার গুরুতর আহত হননি। কিন্তু তার গাড়ির চালক ও আর এক ব্যক্তির গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকে ত্রাস ছড়িয়েছে মুম্বাইয়ের টিনসেল টাউনে।
জেমস ও হাসান
রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে আজ একই মঞ্চে গান শোনাবেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই জনপ্রিয় তারকা নগরবাউলের জেমস ও আর্কের হাসান। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মঞ্চে হাজির হচ্ছেন তারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে যমুনা শপিং কমপ্লেক্সের কার্নিভাল অ্যারেনায় শুরু হবে ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্ট।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, কনসার্টে নগরবাউল ও আর্কের পাশাপাশি পারফর্ম করবে দেশের আরও তিন জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য। ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন গিটারিস্ট ওনি হাসান। তিনি একক পরিবেশনাতেও মঞ্চে থাকবেন। এ ছাড়া একক পরিবেশনা করবেন এ কে রাহুল।
কনসার্টে নিজ দল নগরবাউলকে নিয়ে পারফর্ম করবেন জেমস। দেশে দীর্ঘদিন পর টিকিট কনসার্টে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করি শ্রোতা-দর্শক নতুন কিছু শুনতে ও দেখতে পাবেন।’
কনসার্টের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯৯ টাকা। একটি টিকিট দিয়ে ভেন্যুতে একবারই প্রবেশ করা যাবে। রি-এন্ট্রির সুযোগ থাকবে না। ছোট হাতব্যাগ বা পার্স ছাড়া বড় কোনো ব্যাগ নিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করা যাবে না।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।
অন্তর্বাসটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।
র্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।
তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।
ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।
২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হাজির হন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশ নেন তিনি। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণে অন্য ভক্তদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন এই শিল্পী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান শাওন।
উৎসবে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাওন বলেন, ‘আমরা বন্ধু, ঈদের দিন ওরা বাসায় আসে। আমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাই তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে এসেছি।’সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের কপালে সিঁদুর ও আবির মাখিয়ে উৎসবের আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেও দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মনে ছিল বিষাদের ছোঁয়া।
বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা ওই শোভাযাত্রায় যুক্ত হওয়ার পর ঢাকার ১১টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে।
ইজে ও স্যাম কিম
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তাঁর বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার ‘ভোগ’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম– দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।
ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এতদিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিল এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে। ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন; সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী।
ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’, যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট-এর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’ ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাঁকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’
‘কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে...’– এই লাইনগুলো আজও উচ্চারিত হয় শ্রোতাদের মুখে। সৃষ্টির ৩২ বছর পরও এই গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। সে কারণে ‘নিঃসঙ্গতা’ গানটি আনপ্লাগড সংগীতায়োজন রেকর্ড করেছেন সোলস সদস্যরা। একযোগে প্রকাশ করছেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে। সোলস সদস্যদের কথায়, মাত্র এক দিনের নোটিশে বিটিভির জন্য যে গানটি তৈরি হয়েছিল, সেই ‘নিঃসঙ্গতা’ সংগীতাঙ্গনে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে; যুগের পর যুগ অনুরণন তুলে যাবে শ্রোতামনে, তা কল্পনাও করেননি তারা। আর এই গানের প্রতি যতটা ভালো লাগা শ্রোতাদের, ততটাই সৃষ্টির আনন্দ মিশে আছে তাদের মনে। সে কারণে আনপ্লাগড ভার্সনে গানটি রেকর্ড করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা অনেকের ভালো লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস।
কালজয়ী এই গানের সৃষ্টি নিয়ে সোলসের লিড গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা’ গানের জন্ম অনেকটা গল্পের মতো মনে হয়। সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তপন চৌধুরী সোলস ছাড়ার পর অ্যালবাম প্রকাশনাও থেমে গেছে। সেই সময়ে হঠাৎ একদিন বিটিভিতে সোলসের ডাক পড়ে নতুন একটি গান করার জন্য। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না। যে জন্য সেখানে পারফর্ম করতে পারা যে কোনো শিল্পী ও ব্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। আমরাও তাই এক দিনের নোটিশে গান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম। গীতিকার কবির বকুলের কাছ থেকে গীতিকথা লিখিয়ে নিয়ে এক রাতেই শেষ করে ফেলেছি গানের সুর ও সংগীতায়োজন। পরদিনই বিটিভিতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছি। এরপর ‘নিঃসঙ্গতা’ বিটিভিতে প্রচারের পর যা হয়েছে, তা আজ এক ইতিহাস।
সম্প্রতি সোলস সদস্যরা ব্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে কানাডা সফর করে এসেছেন। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডা সফরে যায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ব্যান্ড। এই সফরের প্রথম কনসার্ট ছিল সাসকাচুয়ানে। প্রথম আয়োজনে সোলসের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সাড়া ফেলেছিল। যে কারণে বাড়াতে হয়েছে তাদের কনসার্ট সংখ্যা। সাসকাচুয়ানের পর একে একে কানাডার ক্যালাগেরি, হ্যালিফ্যাক্স ও এডমন্টনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গানের এই ব্যান্ড। কানাডায় ধারাবাহিকতায় আয়োজনের সমাপ্তি টানে স্কারবোরোয়। সোলসের কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার কথায়, উত্তর আমেরিকার বৃহৎ এই দেশটিতে আগেও কনসার্ট করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবারের এই কনসার্ট সফর ব্যান্ডের সবার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার। কারণ একটাই, ধারাবাহিক কনসার্টের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের ৫০ দশক পূর্তি উদযাপন করতে পারা। আশার কথা হলো, প্রতিটি কনসার্টে দর্শক সমাগম ও তাদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছরই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রথম সারির ব্যান্ড সোলস গানের ভুবনে পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করে। দেশের একমাত্র ব্যান্ড হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারা নিয়ে সোলস সদস্যরা নানা আয়োজন শুরু করেন, যা কয়েকটি ধাপে চলমান।