নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্টেক্স কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান ‘অভ্যর্থনায় আলোড়ন ৪.০’। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধান চত্বরে ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘হেমন্তের আঙিনায়, নতুন স্বপ্নের তাসে!’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল সৃজনশীলতা, সংগীত ও আড্ডার সমন্বয়ে নানা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে তোলা এবং নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সৃজনশীল চর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় তিনটি বিশেষ পর্ব—আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা, ‘গানে গুঞ্জনে’ ও ‘আয়েশী বৈঠক’। গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিল্পসত্তা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পান। অন্যদিকে, ‘গানে গুঞ্জনে’ পর্বে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের মাতিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি ‘আয়েশী বৈঠক’ পর্বে পরিচিতি ও আড্ডার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও নতুন বন্ধন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া স্বাগতবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে নতুন সম্ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করা এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন গল্প রচনার আহ্বান জানানো হয়।
এবিষয়ে আর্টেক্সের লিডার তামিম হোসেন বলেন, “বুটেক্সে বর্ণিল পরিবেশে সম্পন্ন হলো আর্টেক্স ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা ‘অভ্যর্থনায় আলোড়ন ৪.০’। এতে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজ নিজ বিভাগের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এবং গ্রাফিতির মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাসকে এক নজরে চেনার সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন।”
আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
নোবিপ্রবি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার ও গবেষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনের ব্যবধানে অন্তত পাঁচ দফায় সাপ দেখা গেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। উদ্ধার হওয়া ও মেরে ফেলা সাপগুলোর বেশির ভাগই বিষধর পদ্ম গোখরা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার তো বটেই, নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও সাপে কাটার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম নেই। ফলে কেউ বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের জন্য প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রথম সাপের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখান থেকে দুটি পদ্ম গোখরার বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৯ ও ৩১ অক্টোবর দুই দফায় শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে সাপ দেখা যায়। ৩০ অক্টোবর জুলাই শহীদ স্মৃতি হলে এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ল্যাবে সাপের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবন থেকে সাপ উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি)-এর সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুওলজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম মিতু। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে যেসব সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বিষধর। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সাপ দেখামাত্র না মেরে দ্রুত তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাপের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাতে চলাচল কিংবা হঠাৎ কোনো ভবন বা কক্ষে সাপের মুখোমুখি হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর কেউ সাপে কামড়ালে দ্রুত অ্যান্টিভেনম পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দিন-রাত সমানভাবে সাপের দেখা মিলছে। কাউকে সাপে কামড়ালে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। এভাবে সাপের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। মেডিকেলে নাপা ও গ্যাসের ট্যাবলেট ছাড়া আর কিছুই নেই। অবিলম্বে অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করা উচিত।’
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা এখনো ঝোপঝাড়মুক্ত হয়নি। প্রকৃতির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝোপঝাড়ের কারণে সাপের উপস্থিতি বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন ইমন বলেন, ‘অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ঝোপঝাড় ও প্রয়োজনীয় স্থান আগাছামুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি সাপে কামড়ালে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাপের উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে দিন-রাত বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ(ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমাত আরা পারভীন বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম সদর হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও দেওয়া হয় না। এর আগেও আমরা একাধিকবার অ্যান্টিভেনম আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড়গুলো পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছি। এ ছাড়া অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির (বাপাজস) গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখার হোসাইন।
ইফতেখার হোসাইন পূর্ববর্তী কমিটিতে প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগে ১৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ভারতের এমসিআর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি পূর্ণ অর্থায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় সংবাদপত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত কলাম ও ফিচার লেখেন।
গত ১৬ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সমিতির সাধারণ সভায় ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মো. আবুল কাসেম শিখদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (সুমন) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম (শিবলী)।
২০২৭–২০২৮ মেয়াদের জন্য ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য পদধারী হলেন সিনিয়র সহসভাপতি রফিকুল ইমলাম পান্না (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর) ও মো. নজরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়) ও মো. সাইফুল ইসলাম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন খান (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ রহমান সরকার (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সালমান সাদেকীন চয়ন (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাক জাহান (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস) এবং ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)।
এ ছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. বশিরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), গোলাম মর্তুজা (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কামরুন নাহার (ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), খাদেমুল ইসলাম (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. সাহেদ হাসান (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়), খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), আবু সালেহ মুহাম্মদ মূসা (ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ফররুখ মাহমুদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
উল্লেখ্য, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনসংযোগ কার্যক্রমের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতি (বাপাজস) ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিবছর বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে চীন সরকার। এর মধ্যে অন্যতম চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (সিজিএস), যা চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের (সিএসসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ বৃত্তির আওতায় চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। স্কলারশিপের ধরন ও শর্ত অনুযায়ী এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও মাসিক ভাতার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রাক্তন ৫জন কৃতী শিক্ষার্থী। তাঁদের স্কলারশিপ অর্জনের অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা তুলে ধরেছেন নিয়ামুল ইসলাম তামিম।
মো. জিয়াউর রহমান
বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউর রহমান চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। তিনি চীন সরকারের ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের আওতায় এ সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার সময় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। উচ্চশিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি মাসিক ভাতার সুবিধা থাকায় এটিকে কর্মজীবন থেকে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেন তিনি।
নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করি। ইমেইলের মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলাম। আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের স্কোর ও একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, সেখানে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য অধ্যাপকদের অধীনে পৃথক ল্যাব আছে। এসব ল্যাবে বিভিন্ন ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি থাকায় শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা তৈরি করতে পারে।
জিয়াউর রহমানের মতে, বুটেক্সে স্নাতক পর্যায়ে এ ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারিক গবেষণার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং গবেষণার দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।
মো. রাকিব হাসান গাজী
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাকিব হাসান গাজী চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের আওতায় চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে রাকিব বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আমার। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সুবিধাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
চীনে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকিব কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন। রাকিবের মতে, ভালো সিজিপিএ বজায় রাখার পাশাপাশি গবেষণাপত্র, সম্মেলনে প্রকাশনা ও প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অধ্যাপকদের গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে জেনে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো প্রস্তুত রাখা জরুরি।
ভাষাগত দক্ষতার বিষয়ে রাকিব বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের মতো পরীক্ষার স্কোর সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি প্রাথমিক চীনা ভাষা শেখা দৈনন্দিন জীবন ও যোগাযোগে সহায়ক হতে পারে।
চীনে যাওয়ার পর প্রথম দিকে ভাষার পার্থক্য, খাবার ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন রাকিব। অনুবাদের অ্যাপ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চীনা বাক্য অনুশীলন, উপযোগী খাবারের জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেহেদী হাসান ইমন
বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন চীনের ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের (সিএসসি) আওতায় এ সুযোগ অর্জন করেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা ও শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতার পর উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ইচ্ছা ছিল। স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি আমাকে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ করেছে। তাঁর মতে, এ সুযোগ একাডেমিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।
নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের শর্ত সম্পর্কে খোঁজ নেই। এরপর একাডেমিক কাগজপত্র, সিভি, স্টাডি প্ল্যান ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে আইইএলটিএসসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেই এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি।
বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইমন বলেন, স্কলারশিপের মাধ্যিমে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার জন্য, স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা, ভালো একাডেমিক ফলাফল বজায় রাখা এবং গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা জরুরি। পাশাপাশি নিজের সিভি শক্তিশালী করা, সুস্পষ্ট স্টাডি প্ল্যান তৈরি এবং সুপারিশপত্রের জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।
স্কলারশিপের শর্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নিজে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
হাসান মাজহারুল হক
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান মাজহারুল হক চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে ফুল-ফান্ডেড বৃত্তি পেয়েছেন। এ বৃত্তির আওতায় তাঁর টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও মাসিক ভাতার সুবিধা রয়েছে।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হাসান বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রস্তুতি, অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি আমার কাছে আনন্দ, আবেগ ও কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত হয়ে আসে।
বুটেক্সে পড়ার সময় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর। ফাইবার কম্পোজিট, টেকসই উপকরণ, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেক্সটাইলের স্থায়িত্ব নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণার আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করেছে। হাসানের মতে, গবেষণার এ অভিজ্ঞতা এবং নিজের আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা তাঁর আবেদনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনে কোনো একটি বিষয়কে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তিনি।
বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসান পরামর্শ দেন, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার দক্ষতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। শুধু সার্টিফিকেট বা প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে শেখার মানসিকতা, গবেষণার মৌলিক দক্ষতা এবং নিজের কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।
হাসানের মতে, বিদেশে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সবার প্রোফাইল একই রকম হওয়া প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা, আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন
বুটেক্সের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর(মাস্টার্স) করছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে এ সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ অর্জনকে নিজের ও পরিবারের জন্য আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন শাওন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শাওনের কাছে এ অর্জনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
গবেষনা নিয়ে শাওন জানান, বুটেক্স ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। গবেষণার সুযোগ এবং উন্নত ল্যাবে হাতে-কলমে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই চীনে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেই। শাওন জানান, উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোজেলের মতো উন্নত উপাদান নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পেয়েছি।
বুটেক্সের যেসব শিক্ষার্থীর স্নাতক পর্যায়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা প্রকাশনার সুযোগ হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে পিএইচডি করার আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য সিএসসি স্কলারশিপকে সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শাওন। তাঁর মতে, এ ধরনের বৃত্তি আন্তর্জাতিক গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সুযোগ করে দিতে পারে শিক্ষার্থীদের।
শাওন জানান, তাঁর ক্ষেত্রে চীনে আসার জন্য ভাষা পরীক্ষা বা চীনা ভাষা জানা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে নতুন ভাষা শেখা চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও অন্য দেশের সংস্কৃতি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও গবেষণার পরিবেশ ভালোভাবে বুঝতে সে দেশের ভাষা শেখা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শাওন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০অক্টোবর) বুটেক্স ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাব। দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব।
প্রতিযোগিতায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, দেশের ২৫টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় আটটি ভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কানিজ ফারহানা, বুটেক্সের ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম নয়ন, বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার এস কে মোহাম্মদ রাফি।
প্রতিযোগিতার বিভাগগুলো ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, ট্রেজার হান্ট, কুইজার্ড, পোস্টার উপস্থাপনা, কেস প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ, প্রবন্ধ রচনা এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনী।
কলেজ বিভাগের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম হন সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাকিন শাহরিয়ার বিন কবির, দ্বিতীয় নটর ডেম কলেজের জুনায়েদ লাবীব আল ওয়াসি এবং তৃতীয় হলি ক্রস কলেজের শাকিবা আক্তার।
বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের প্রতিযোগিতা গুলোর মধ্যে ট্রেজার হান্টে প্রথম স্থান অধিকার করে বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম ইনকগনিটা', দ্বিতীয় বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম টুইলাইটস' এবং তৃতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম হ্যালোজেন'।
কুইজার্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্সের এ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম অ্যাটাক অন কুইজার্ড', দ্বিতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম ডাবল ট্রাবল' এবং তৃতীয় হয় বুটেক্সের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম দ্য রেড আর্মি'।
পোস্টার উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে 'টিম থ্রাইভ', দ্বিতীয় সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম গ্যাস্ট্রিক' এবং তৃতীয় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম নেক্সাস ইনভেন্টরস'। কেস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজ থেকে 'টিম ক্যাটালিস্ট', দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম দ্য অরফিয়াস এবং তৃতীয় আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে 'টিম আন-থ্রেড-ইশনাল'।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ বিভাগে প্রথম স্থান গ্রহন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে 'টিম দ্য ব্রেইনসেল', দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম জোনেক্স' এবং তৃতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম সোডা-পপ দল'। প্রবন্ধ রচনায় প্রথম হন বুটেক্সের আনজুম আবদুল্লাহ তাহহা, দ্বিতীয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)রোয়াইদা বিনতে আলী এবং তৃতীয় হন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) মো. আরিফুল হক নাঈম।
অন্যদিকে, প্রজেক্ট প্রদর্শনী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে 'টিম হ্যাব', দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে 'টিম ইকো পাল্প বিডি' এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে থেকে 'টিম গ্রিন জেনেসিস' ও বুটেক্স থেকে 'টিম কোয়ান্টুম্যানিয়া'।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ২য় বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘কিংকল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি বুটেক্স উপাচার্য ম্যাগাজিনটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন,"টেক্সটাইল শিল্পে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই। বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ধারাবাহিক কার্যক্রম টেক্সটাইল খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা করি বুটেক্স সাইন্স ক্লাবের কাছে।"
বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি রুবায়েত রশীদ রনি বলেন,"টেক্সভার্স ২.০ এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন হওয়ায় এবং আমাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আমাদের অতিথি ও ক্লাব মডারেটর স্যারের দিকনির্দেশনা আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের পুরো আয়োজক দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। "
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কে এম শফিক রাইয়্যান বলেন,"টেক্সভার্স ২.০-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব প্রকাশনা ‘কিংকল ২.০’ ম্যাগাজিনও আজকে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই এই ম্যাগাজিন শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি, নতুন ধারণা ও সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠুক।"
বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন,"টেক্সটাইল সায়েন্সের পাশাপাশি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিকস, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাসটেইনেবিলিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। "
তিনি আরও বলেন,"গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি ও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি নয়। প্রচলিত সুতা ও কাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফাইবার এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে।"
উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী ও রানারআপদের হাতে পুরস্কার হিসেবে প্রাইজমানি, ক্রেসট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে থাকা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামারের দুটি ট্রাক্টর নিয়ে মাঠটিতে গিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় খামারের দুটি ট্রাক্টরসহ পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উপস্থিত হন তাঁরা। এ সময় মাঠে থাকা মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষ দেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন গবেষণা মাঠ হিসেবে পরিচিত এই জায়গায় সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা। এর আগে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেন তাঁরা। মেলা বন্ধ না হওয়ায় একপর্যায়ে মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরও চালানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা সরানো হয়নি। এর প্রতিবাদেই সোমবার স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে মাঠে চাষ দেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রুহান বলেন, ‘এই মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি ফুসফুস। ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সবুজায়ন করা হলে পুরো অঞ্চল রক্ষা পাবে।’
মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান বলেন, ‘মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর আমরা মালামাল নিয়ে চলে যেতে চাইলেও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের পর আয়োজক কমিটি এক দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা সরানো হয়নি। তাঁদের দাবি, স্থাপনা সরানোর পরিবর্তে মেলার আয়োজক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি এলাকার ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি।’
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (২ নভেম্বর)। এ প্রক্রিয়া চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত। গতকাল রোববার বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে এ সময়সূচি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৃতীয় ধাপে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল রোববার রাত ৮টায় প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আজ ও আগামীকাল নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে হবে।
এবার একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির তৃতীয় ধাপকে সর্বশেষ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেনি বা আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি, চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও নিশ্চায়ন করতে পারেনি কিংবা নির্ধারিত সময়ে ভর্তি হতে পারেনি, তারা শেষ ধাপে আবেদনের সুযোগ পাবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য আসন বিবেচনায় সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে হবে। এ জন্য একাদশ শ্রেণির ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।
তবে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের শেষ ধাপে নতুন করে ২২০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে না। তাদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজের পছন্দক্রম সংশোধন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন বা ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভুলের কারণে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।