ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেছেন, "ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসুর মেয়াদ শেষ হলো, কিন্তু তফসিল দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তারা জানে, তাদের চাঁদাবাজ বাহিনী, তাদের রক্ষীবাহিনী এই নির্বাচনে আগের মতো গোহারা হারবে। সুতরাং, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট নিতে হবে যে, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক বা না থাকুক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে।”
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, “হয় ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন দেবেন, নয়তো ক্ষমতা ছাড়ার পথ নিজ দায়িত্বে বেছে নেবেন। যেকোনো একটি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নষ্ট করে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সংসদে গণতন্ত্রের বয়ান দেবেন—এ বক্তব্য আমরা মেনে নেব না।”
সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার প্রথম কয়েকটি ধাপে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ বিসিএসে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু চাকসু, জাকসু, ডাকসু ও রাকসু যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা পাঁয়তারা করছে, কীভাবে নানা কারিকুলামের মাধ্যমে সেখানে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এখানকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতেই হবে। বিএনপি ১৯৯০ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর বাংলাদেশে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়নি। কেন দেয়নি? কারণ, তারা শিক্ষার্থীদের ভোটকে ভয় পায়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভোটকে তারা ভয় পায়, তরুণ প্রজন্মের ভোটকে তারা ভয় পায়।”
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের ঘটনায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
খুবির প্রথম বই ভিত্তিক সংগঠন ‘বই বৃন্ত’ সভাপতি অপি ও সম্পাদক ওয়ালিদ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রথম বইয়ের সংগঠন "বই বৃন্ত" এর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন অপি সভাপতি এবং ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ ওয়ালিদ হাসান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের সম্পা মালো (২৩ ব্যাচ) এবং গণিত ডিসিপ্লিনের সাদিয়া তাবাসসুম (২২ ব্যাচ)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বাংলা ডিসিপ্লিনের সুমাইয়া খাতুন। সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের জাকিয়া ফারহানা চৌধুরী মাধুরী। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসিই ডিসিপ্লিনের আব্দুল কাদের নিহাজ ও বাংলা ডিসিপ্লিনের মো. শাহারিয়া সাহাদ মাহিন।
অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের মীর্জা নাজমুস সাদাত এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের আঁখি আনিস। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের আব্দুর রহমান, ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের আজিজুর রহমান এবং এসডব্লিউই ডিসিপ্লিনের প্রজ্ঞা লাবনী পাল।
প্রচারণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এস এম সাহেবী ইকরাম রেদোয়ান, লাবণী অধিকারী, মো. শিহাব হোসেন শান, এস এম আনহাজুর রহমান, কে এম রাউফুল আলম অর্ণব, আনিকা শারমিলা ও জাফিয়া সুলতানা নিস্পা।
সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোছা. তাসলিমা জান্নাত মিথিলা, রওনক জাহান লিমা, আয়েশা রহমান সারাহ, আনিকা হোসেন, মুহিব আহমেদ ও চন্দ্রিকা সানা। প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন প্রান্ত মন্ডল, মো. রিমন মিয়া ও মো. মেহেদী হাসান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসিই ডিসিপ্লিনের মো. ইয়াসিন হাসান।
এ ছাড়া ২৫ ব্যাচ থেকে নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঋতিকা কর্মকার, সাবরিনা নওশীন সিমু, তাসমিয়া রহমান অর্থী, খালিদ হোসেন শাওন, ইয়াসির আরাফাত, মো. তানভীর ইসলাম, মনামী সুলতানা উর্মি, শেখ তাসনিয়া তন্নি, মো. মশিউর রহমান খালিদ, সুবাইতা হাবিব সুহা, মাসুম বিল্লাহ, সাইদুল ভূঁইয়া, মোতাসাদ্দিক আহম্মেদ, সাবিহা সুলতানা জেবা ও উর্যসী হাসান।
নব গঠিত সংগঠনের সভাপতি আসিফ হোসেন অপি বলেন, "সুস্থ সাহিত্য চর্চা দ্বারা একটি জনগোষ্ঠির মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন সম্ভব। পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও সাহিত্য চর্চার প্রসারে বই-বৃন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদী। বই হোক বন্ধু প্রত্যয়ে আমাদের এই পথ চলা। বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি এবং সুস্থ সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্যে এই ক্লাবটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সৃষ্টি।"
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়ালিদ হাসান বলেন, “বই শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই পাঠচর্চাকে আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত করতেই ‘বই-বৃন্ত’-এর যাত্রা। আমরা চাই, বই-বৃন্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বই পড়া, বই নিয়ে আলোচনা ও নিজেদের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার প্রত্যাশা, বই-বৃন্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ ও ইতিবাচক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সিগন্যালে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় অবরোধে আটকা পড়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের গাড়ি।
অবরোধ চলাকালে কৃষিমন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের সঙ্গে তো আমার কোনো ফারাক নাই।’
রবিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সিগন্যালে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে ওই এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘আমার ক্যাম্পাস আমার থাক, আমলা সচিব বাইরে থাক’, ‘স্বৈরাচারের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও কৃষিশিক্ষার জন্য ব্যবহৃত পুরোনো গবেষণা মাঠটি তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন মেলা ও জাতীয় আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাণিজ্য মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরিত হওয়ার পরও মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ও কৃষিশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সচিবালয় স্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০অক্টোবর) বুটেক্স ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাব। দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব।
প্রতিযোগিতায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, দেশের ২৫টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় আটটি ভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কানিজ ফারহানা, বুটেক্সের ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম নয়ন, বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার এস কে মোহাম্মদ রাফি।
প্রতিযোগিতার বিভাগগুলো ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, ট্রেজার হান্ট, কুইজার্ড, পোস্টার উপস্থাপনা, কেস প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ, প্রবন্ধ রচনা এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনী।
কলেজ বিভাগের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম হন সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাকিন শাহরিয়ার বিন কবির, দ্বিতীয় নটর ডেম কলেজের জুনায়েদ লাবীব আল ওয়াসি এবং তৃতীয় হলি ক্রস কলেজের শাকিবা আক্তার।
বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের প্রতিযোগিতা গুলোর মধ্যে ট্রেজার হান্টে প্রথম স্থান অধিকার করে বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম ইনকগনিটা', দ্বিতীয় বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম টুইলাইটস' এবং তৃতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম হ্যালোজেন'।
কুইজার্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্সের এ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম অ্যাটাক অন কুইজার্ড', দ্বিতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম ডাবল ট্রাবল' এবং তৃতীয় হয় বুটেক্সের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম দ্য রেড আর্মি'।
পোস্টার উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে 'টিম থ্রাইভ', দ্বিতীয় সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম গ্যাস্ট্রিক' এবং তৃতীয় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম নেক্সাস ইনভেন্টরস'। কেস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজ থেকে 'টিম ক্যাটালিস্ট', দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম দ্য অরফিয়াস এবং তৃতীয় আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে 'টিম আন-থ্রেড-ইশনাল'।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ বিভাগে প্রথম স্থান গ্রহন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে 'টিম দ্য ব্রেইনসেল', দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম জোনেক্স' এবং তৃতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম সোডা-পপ দল'। প্রবন্ধ রচনায় প্রথম হন বুটেক্সের আনজুম আবদুল্লাহ তাহহা, দ্বিতীয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)রোয়াইদা বিনতে আলী এবং তৃতীয় হন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) মো. আরিফুল হক নাঈম।
অন্যদিকে, প্রজেক্ট প্রদর্শনী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে 'টিম হ্যাব', দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে 'টিম ইকো পাল্প বিডি' এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে থেকে 'টিম গ্রিন জেনেসিস' ও বুটেক্স থেকে 'টিম কোয়ান্টুম্যানিয়া'।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ২য় বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘কিংকল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি বুটেক্স উপাচার্য ম্যাগাজিনটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন,"টেক্সটাইল শিল্পে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই। বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ধারাবাহিক কার্যক্রম টেক্সটাইল খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা করি বুটেক্স সাইন্স ক্লাবের কাছে।"
বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি রুবায়েত রশীদ রনি বলেন,"টেক্সভার্স ২.০ এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন হওয়ায় এবং আমাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আমাদের অতিথি ও ক্লাব মডারেটর স্যারের দিকনির্দেশনা আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের পুরো আয়োজক দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। "
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কে এম শফিক রাইয়্যান বলেন,"টেক্সভার্স ২.০-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব প্রকাশনা ‘কিংকল ২.০’ ম্যাগাজিনও আজকে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই এই ম্যাগাজিন শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি, নতুন ধারণা ও সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠুক।"
বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন,"টেক্সটাইল সায়েন্সের পাশাপাশি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিকস, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাসটেইনেবিলিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। "
তিনি আরও বলেন,"গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি ও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি নয়। প্রচলিত সুতা ও কাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফাইবার এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে।"
উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী ও রানারআপদের হাতে পুরস্কার হিসেবে প্রাইজমানি, ক্রেসট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
নোবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
‘তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ, দেশব্যাপী ইনসাফের পদযাত্রা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় ও নোয়াখালী জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান। পরে তাঁরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে একাডেমিক ভবন-১, ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হল, আবদুল মালেক উকিল হল, হযরত বিবি খাদিজা হল, শান্তিনিকেতন, কেন্দ্রীয় গ্যারেজ, জুলাই শহীদ স্মৃতি হল ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আবরার ফাহাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর—গুম-খুন নো মোর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও ক্যাম্পাসে দলীয়করণের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তাঁরা।
মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ‘আমরা তিন দফা দাবি নিয়ে আমাদের পদযাত্রা শুরু করেছি।’
মার্চ ফর ইনসাফের তিন দফা দাবি হলো—
১. শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
২. গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
৩. জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
বক্তব্যে ফাতিমা তাসনিম জুমা আরও বলেন, ‘আমরা জানি, হাদি হত্যার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিএনপির এতে কোনো হাত নেই। কিন্তু বিএনপি কেন এই হত্যার বিচার করছে না, তা আমরা জানি না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন আমাদের কাছে এসে হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন, তখন এই দাবির ভার কতটা, তা এখানে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি।’
দেশের বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। কিন্তু আমরাও জানি, এখানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো বিচার হয় না।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদির প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যারা আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার এখনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেনি। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা এবং গণভোটের রায় উপেক্ষার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি। সরকারকে ভালো লাগুক বা না লাগুক, এসব দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে একজন নাগরিক হত্যার বিচারের দাবিতে মানুষকে রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে উত্থাপিত ৩৭ দফার অধিকাংশই দুই বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রধান ফটকের নাম ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখা এবং পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালুর মতো কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও আবাসন, জমি অধিগ্রহণ, লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের মতো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দাবিগুলো এখনো অপূর্ণ।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘দাবি উত্থাপন মঞ্চ’ আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৩৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শহিদ মীর মুগ্ধের নামে প্রধান ফটকের নামকরণ, সব শহিদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ, শতভাগ আবাসন, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
দাবি উত্থাপনের দুই বছর পর দেখা যায়, প্রধান ফটকের নাম ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ করা হলেও সব শহিদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া জমি পুনরায় অধিগ্রহণের দাবিও এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ ও আশ্বাসের কথা বলা হলেও কার্যকর অধিগ্রহণ হয়নি।
শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার দাবিরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও আবাসিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি। একইভাবে চারুকলা স্কুলের জন্য স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিও পূরণ হয়নি।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবিরও বাস্তবায়ন হয়নি; বর্তমানে এটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খোলা থাকে। আবাসিক হলগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ‘সংগঠন ফোরাম’ গঠনের দাবিও বাস্তবায়িত হয়নি।
রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিও পূরণ হয়নি। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালু হয়েছে। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দাবি ছিল অ্যাটেনডেন্সে ৫ এবং কন্টিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্টে ৩৫ নম্বর নির্ধারণের। বর্তমানে এ দুই ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ নম্বর রয়েছে।
মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়নেও শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখছেন না। পৃথক অভিযোগ সেল, কেন্দ্রীয় ক্যারিয়ার প্লেসমেন্ট সেন্টার, শিক্ষার্থীদের অর্জন তুলে ধরতে ‘অ্যাচিভমেন্ট কর্নার’ এবং বিনাসুদে শিক্ষাঋণের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
সব মিলিয়ে দুই বছর পর ৩৭ দফা দাবির বাস্তবায়ন পরিস্থিতিতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, অবকাঠামো, চিকিৎসা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অধিকাংশ দাবি এখনো অপেক্ষমাণ। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোন দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি প্রক্রিয়াধীন এবং কোনটির ক্ষেত্রে কী বাধা রয়েছে তা স্পষ্ট করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সময়সীমাভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে যেসব দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর যেসব দাবি অবকাঠামো, অর্থায়ন বা নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।”