মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিশ্বের ছয়টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক এমন সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বসিত পুরো বিভাগ।
সাফল্যের ধরনও বিচিত্র—কেউ পেয়েছেন পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ, কেউ মাস্টার্সে ভর্তি ও বৃত্তি, কেউবা পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে ও জাপান—এই ছয় দেশে ইএসডিএম বিভাগের ৮ম থেকে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এসব সুযোগ পেয়েছেন। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন এই অর্জন নিয়ে চলছে আনন্দের রেশ।
বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার সোচি চলতি বছরের আগস্ট মাসে নরওয়ের ইনল্যান্ডেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ৪র্থ ব্যাচের ফাতেমা আক্তার লিমা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, এল পাসোতে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।
বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিদান রহমান যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থ সিস্টেমস অ্যান্ড জিওইনফরমেশন সায়েন্সেস প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি বৃত্তি পেয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
একই ব্যাচের গোলাম মো. সবুর গত ৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে পরিবেশ প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগের পাশাপাশি পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আইআরটিপি) স্কলারশিপ।
এছাড়া এই ব্যাচের মো. ফজলুল করিম মামুন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, টুইন সিট ক্যাম্পাসে বায়োপ্রোডাক্টস অ্যান্ড বায়োসিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স (এমএস) প্রোগ্রামে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পড়াশোনা শুরু করেছেন।
৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাফল্যের ধারা সবচেয়ে বেশি।৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জিহাদ গত ২৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংসাং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের (জিকেএস) আওতায় বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
একই ব্যাচের আবু সুফিয়ান সোহাগ দক্ষিণ কোরিয়ার হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোইকা-হালিম ইউনিভার্সিটি নেক্সট ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় পূর্ণ অর্থায়নে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করবেন ক্লাইমেট এআই কনভার্জেন্স প্রোগ্রামে। গত ২৫ আগস্ট তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
৮ম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী সিথী ধর বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির পাশাপাশি পেয়েছেন গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (জিটিএ)। গত ২২ আগস্ট তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। এই বছর ফল সেমিস্টারে শুরু হবে তাঁর এই পড়াশোনা।
৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রস্তাব। ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ভিন্ন প্রোগ্রামে, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি, জার্মানির হার্টি স্কুল বার্লিনে ফুলি ফান্ডেড ক্লাইমেট অ্যাকশন স্কলারশিপসহ মাস্টার অব পাবলিক পলিসি, জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন বিষয়ে মাস্টার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটর ল্যাবে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড কোস্টাল ইনফরমেটিক্স বিষয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি—এই পাঁচটি সুযোগের মধ্যে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ প্রকৌশল—সয়েল প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ট্র্যাকে মাস্টার্স করার সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ইনভেস্ট ইওর ট্যালেন্ট ইন ইতালি (আইওয়াইটি) স্কলারশিপ। গত ১০ সেপ্টেম্বর উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্সের পড়াশোনা শুরু করেন।
সবশেষে, বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ আবু জোহানি জাপানের কুমামোতো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর সেশনে তাঁর পড়াশোনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে মাস্টার্সের সুযোগ পাওয়া আবু সুফিয়ান সোহাগের কাছে এই অর্জন এসেছে বিশেষ এক মুহূর্তে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। স্নাতক শেষ করার পরপরই শুরু করেন সেই লক্ষ্যে কাজ।
সোহাগ বলেন, "স্কলারশিপ পাওয়া নিঃসন্দেহে একটা বড় অর্জন ছিল। কিন্তু বিয়ে করার দুদিনের মাথায় যখন মেইল পাই, সেই আনন্দ তখন দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছিল। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। একই সঙ্গে আমার সুপারভাইজার ও পরিবারের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ, তাঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।"
এই ধারাবাহিক সাফল্যে উদ্দীপ্ত হচ্ছেন বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও। ইএসডিএম বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে একই বিভাগের এতজন শিক্ষার্থীর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার খবর তাঁদের নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, "তাঁদের সাফল্য আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, নোবিপ্রবি থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। তাঁদের অর্জন আমাদের মতো জুনিয়র শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আরও বেশি আগ্রহী করে তুলছে।" মেহেদী আরও জানান, সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে এখন থেকেই নিজেদের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চান তাঁরা।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১০ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও।
এ বিষয়ে ইএসডিএম বিভাগের ২য় ব্যাচের অ্যালামনি ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদ বলেন, "বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর বিদেশে স্কলারশিপ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়। একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে তাঁদের সাফল্যে আমি অনুপ্রাণিত এবং আশাবাদী—তাঁরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে দেশ ও বিভাগের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।"
শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়মিত উৎসাহ ও দিকনির্দেশনার বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন ইএসডিএম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, "আমি আমার বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটা কথা সব সময় বলি—তোমাদের জব সেক্টর শুধু বাংলাদেশ নয়, তোমাদের জব সেক্টর পুরো পৃথিবী। এই বিষয়টি আমাদের শিক্ষার্থীদের মোটিভেশন হিসেবে কাজ করেছে।"
শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের এ ক্ষেত্রে অনেক বড় একটা ভূমিকা আছে। আমাদের শিক্ষকরা সব সময় শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে উৎসাহিত করেন।"
আন্তর্জাতিক গবেষণায় শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মহিনুজ্জামান বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আমাদের শিক্ষকেরা আন্তর্জাতিক অনেক শিক্ষকের সঙ্গে গবেষণা করেন। ফলে তাঁরা যখন আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রিফার করেন, তখন সেটা আমাদের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ পেতে সহায়তা করে।"
বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায় আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা-সম্পৃক্ততা এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এই তিন উপাদানই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে জলবায়ু, ভূ-পরিবেশ, পরিবেশ প্রকৌশল, বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আন্তবিষয়ক ক্ষেত্রেও এখন সুযোগ তৈরি হচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়—বরং নোবিপ্রবির ইএসডিএম বিভাগের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।
জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।
তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।
বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।
সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।