জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণ করেছে।


রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সংস্কার, ট্রেড ফেসিলিটেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং করের আওতা সম্প্রসারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বল্প মেয়াদে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এনবিআর।


রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া এসব উদ্যোগ স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পৃথক করার লক্ষ্যে ‌‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।


ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত National Implementation Committee for Administrative Reform (NICAR) এর সভায় রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটি বাস্তবায়নে সরকারের Rules of Business এবং Allocation of Business সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে নিকার সভার এ সিদ্ধান্ত একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


এতে বলা হয়, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যকর মনিটরিং, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানামুখী কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ এবং ইতোপূর্বে ফাঁকি দেওয়া কর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে এ সময়ে গতিশীলতা এসেছে।


চলতি অর্থবছরের জুলাই-২০২৫ হতে ডিসেম্বর-২০২৫ এই ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোট ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে যা গত অর্থ বছরের একই সময়কালের মোট আদায়ের চেয়ে ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।


বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রামে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কাস্টমস হাউস এবং কাস্টমস একাডেমি নির্মান কাজের আন্তর্জাতিক টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।


সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক ও নান্দনিক কর ভবন নির্মান কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অচিরেই চট্টগ্রাম কর ভবনের নির্মান কাজ শুরু হবে।


খুলনা কর ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে যা আগমী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুভ উদ্বোধন করা হবে।


দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য ১০ বছর মেয়াদি Medium and Long Term Revenue Strategy (MLTRS) গ্রহণ করা হয়েছে। এ কৌশলের মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে Strengthening Domestic Revenue Mobilization Project (SDRMP) গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এনবিআরের সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে Tax Expenditure Policy and Management Framework (TEPMF) প্রণয়ন করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩; কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ সংশোধন করে কর অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সংসদের অনুমোদন ব্যতীত কোন কর অব্যাহতি দেয়া যাবে না। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; কাস্টমস আইন, ২০২৩; আয়কর আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, কাস্টমস আইন এবং আয়কর আইনের বিধি-বিধান যথাযথভাবে জানবেন বিধায় রাজস্ব সংক্রান্ত আইনের প্রতি করদাতাগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশের ফলে আইনগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থবোধকতা দূর হবে এবং দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ উন্নতিতে সহায়তা করবে।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, আয়কর আইন যথাযথভাবে পরিপালন করে আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং আয়কর পরিশোধে করদাতাগণকে পেশাদারী সেবা প্রদানের সুবিধার্থে এবং কর সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয়করের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ হাজার ৫ শত জনকে Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান করা হয়েছে।  প্রথমবারের মতো এ বছর Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ায় আয়কর পেশাজীবীগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।



অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে নতুন অর্থবছরের শুরুতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং তাঁদের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃক আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদি A Challan এর মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কাস্টমস এর ASYCUDA World সিস্টেমের সাথে A Challan সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিকারকের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট হতে অফলাইন অথবা অনলাইন পদ্ধতিতে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে শুল্ক-কর জমা দেয়ার নতুন যুগের সূচনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের Asycuda World এবং অর্থবিভাগের iBAS++ টিম। এছাড়া, Mobile Financial Service (MFS) এর মাধ্যমে ঘরে বসেই A Challan এর মাধ্যমে যে কোন পরিমান কর অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই bkash করদাতাগণের জন্য তাদের Merchant Account ব্যবহার করে কোন প্রকারের ফিস বা চার্জ ব্যতীত যে কোন পরিমান কর পরিশোধের এ ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যান্য MFS সেবাদানকারী সংস্থার জন্য কর পরিশোধের এ সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে।



ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হয়ে কাস্টমস, আয়কর এবং ভ্যাট বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিকট উপস্থাপন করতে পারছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে।



ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA) কর্তৃক জারীকৃত সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ASYCUDA অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল তথ্যসম্পদের নিরাপত্তা জোরদার ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (Security Operations Center-SOC) স্থাপন করে তা চালু করা হয়েছে। SOC-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাইবার স্পেসে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সাইবার আক্রমণ, ঝুঁকি, সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সাইবার হুমকি সার্বক্ষণিকভাবে (২৪X৭ দিন) পর্যবেক্ষণ, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।



বৃহত্তর জনস্বার্থে গৃহীত কার্যক্রম: এনবিআরের তথ্যমতে; হজ ব্যয় হ্রাসের সরকারের মহতি উদ্যোগকে সফল করতে এবং ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের হজ পালনের আঙ্খাংকা পূরণ ও হজ পালনের ব্যয় হ্রাসের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০২৫ এবং ২০২৬ সনের হজ যাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য আবগারী শুল্ক হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।



ধর্মপ্রাণ জনগণের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে খেজুরের মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে এবং অগ্রিম আয়কর ৫০% হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে চাল, আলু, পেয়াজ, চিনি, ডিম, তাজা ফল, ভোজ্যতেল, ক্যানুলা তেল ও কীটনাশকের ওপর আয়কর, ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও রেগুলেটরি শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনীত ৩১ টি গাড়ি যথাসময়ে খালাস না করায় এবং নিলামে যৌক্তিক মূল্য না পাওয়ায় জনস্বার্থে সরকারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।



ব্যাগেজ রুলস আরো কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নতুন ব্যাগেজ রুলস (অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫) জারি করেছে। আগের ব্যবস্থায় শুল্ক পরিশোধ করে একজন যাত্রী একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারতেন, নতুন ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারী যাত্রী শুল্ক পরিশোধ না করে প্রতি বছরে একবার একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন। তবে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক ইস্যুকৃত BMET কার্ডধারী এবং ন্যূনতম ০৬ মাস বিদেশে অবস্থান করেছেন এমন প্রবাসী বাংলাদেশীগণ কোন শুল্ক-কর না দিয়ে বছরে ২ টি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন।



মোবাইল ফোনের মূল্য ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% হতে কমিয়ে ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০% কমেছে। কাস্টমস ডিউটি হাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০% থেকে হ্রাস করে ৫% ধার্য্য করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০% কমেছে। মোবাইল আমদানি এবং মোবাইল ফোন উৎপাদন উভয়ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর কারণে দেশে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমানে হ্রাস পাবে।


ভ্যাট খাতে অগ্রগতি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন গ্রহণ, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ভ্যাট স্মার্ট চালান প্রবর্তন, ভ্যাট ফাঁকি মোকাবেলায় 'রিস্ক-বেসড' অডিট সিস্টেম চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল ভ্যাটদাতা যেনো নির্বিঘ্নে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে পারে সে লক্ষ্যে ইতোপূর্বে দাখিলকৃত সকল কাগজের রিটার্ন eVAT সিস্টেমে এন্ট্রি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


ভ্যাট দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে ১০ ডিসেম্বর হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী ১ লক্ষ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে চিহ্নিতকরণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষ এই ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডিসেম্বর, ২০২৫ মাসে ১ লক্ষ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুন ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান করেছে। অন্তর্বর্তি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ১৬ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে VAT Refund স্থানান্তরের লক্ষ্যে Online VAT Refund Module চালু করেছে। Online VAT Refund Module চালুর মাধ্যমে বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থাপনার eVAT System এর সাথে অর্থ বিভাগের iBAS++ এর আন্ত:সংযোগ স্থাপন পূর্বক করদাতার প্রাপ্য ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) এর মাধ্যমে সরাসরি করদাতাদের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তর করা হচ্ছে।


আয়কর ব্যবস্থার সংস্কার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকগণ ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। চলতি অর্থ বছরে ইতোমধ্যে ৩৪ লক্ষাধিক ই-রিটার্ন জমা পড়েছে। কোনরুপ কাগজপত্র বা দলিলাদি 

আপলোড না করে সম্মানিত করদাতাগণ তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।


এ বছর বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণের জন্য মোবাইল ফোনের পরিবর্তে তাঁদের নিজস্ব ই-মেইলে OTP প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ভিসা-সিলের কপি, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য এবং ছবি ereturn@etaxnbr.gov.bd ইমেইলে প্রেরন পূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে। উক্ত লিংকের মাধ্যমে ই-রিটার্ন পোর্টালে OTP ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাগণ ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন বিধায় এটি প্রবাসী বাংলাদেশীগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৫ হাজারের বেশী প্রবাসী বাংলাদেশী করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।


ই-রিটার্ন এবং Asycuda World সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আমদানিকারক করদাতাগণ কর্তৃক আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে ক্রেডিট দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে করদাতাগণের আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত করের ক্রেডিট পাবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পূর্ণ অবসান করা সম্ভব হয়েছে। করদাতাগণ যেন তাদের অতিরিক্ত পরিশোধিত আয়কর অনলাইনে সহজে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে সরাসরি ফেরত পেতে পারেন সে লক্ষ্যে online tax refund module প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই ভ্যাটের অনুরুপ অনলাইনে সরাসরি করদাতার নিজস্ব ব্যাংক হিসেবে আয়কর ফেরত প্রদান ব্যবস্থা চালু করা হবে। Double Taxation Avoidance Agreements এর আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারিগণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে সকল সনদ গ্রহণ করতে হয় তা Bangladesh Single Window সিস্টেম থেকে সরাসরি অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিদেশী করদাতাগণের বাংলাদেশ ত্যাগের প্রাক্কালে যে Tax Clearance Certificate গ্রহণ করতে হয় তা অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকগণের বাংলাদেশে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ত্যাগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড Risk Based Audit Selection Criterion এর ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অফলাইনে দাখিলকৃত সকল পেপার রিটার্নের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডাটাবেজে এন্ট্রি না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে ২০২৩-২৪ কর বর্ষের দাখিলকৃত প্রত্যেক সার্কেলের রিটার্নের ০.৫% ডিজিটাল উপায়ে Random Selection পদ্ধতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অডিট মামলা যথাযথভাবে নিষ্পত্তির সুবিধার্থে প্রথমবারের মত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অডিট নির্দেশিকা প্রণয়ন পূর্বক তা অনুসরণ করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।


কর প্রদান ব্যবস্থাকে সহজ করে করদাতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সারাদেশে নতুনভাবে Spot Assessment কার্যক্রম শুরু করেছে। যে সকল করদাতার করযোগ্য আয় এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অথচ আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না, তাদের ব্যবসাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি সেবাপ্রদান করে সহজে রিটার্ন গ্রহণ করার জন্য Spot Assessment একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এই কার্যক্রম নতুন করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়কর প্রদান করতে উৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল এই কার্যক্রম শুরু করেছে যা ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়ন: Bangladesh National Window (BSW) চালু করা হয়েছে। সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যুকারী ১৯ টি সংস্থা ইতোমধ্যে BSW সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে এবং অনলাইনে সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট প্রদানের কার্যক্রম সম্পাদন করছে। গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হতে পরিপত্র জারীর মাধ্যমে সকল সংস্থার (১৯ টি) ক্ষেত্রেই BSW সিস্টেম এর মাধ্যমে CLP প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। BSW এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। অনলাইনে ইস্যুকৃত এসব সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিটসমূহের মধ্যে ৮৪ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ দিনের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদিত হয়েছে।


রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আংশিক রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুবিধা প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ড ব্যবস্থাপনার শর্তাদি মেনে যেসকল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্স গ্রহণ সম্ভবপর হয়ে ওঠে না তাদের জন্য শুল্ক-করাদি পরিশোধ না করে কাঁচামাল/ পণ্য আমদানি করার সুবিধা দেয়া হয়েছে।


রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে জরুরি বিবেচনায় বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মালামাল খালাস সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতা নিরসনকল্পে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি নির্দেশনা জারি করেছে। উক্ত নির্দেশনা অনুসারে বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত পণ্যের বর্ণনা ও HS Code অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা দাখিল করার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভিন্ন HS Code বা ভিন্নতর পণ্যের বর্ণনা নিরূপণ করলে এবং নিরূপিত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট এর সাথে মিল থাকলে উক্ত HS Code অথবা পণ্যের বর্ণনা বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকারনামা দাখিল করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস হতে দ্রুত পণ্যচালান খালাস করা যাচ্ছে। ASYCUDA World সিস্টেমে "Truck Movement" নামক একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাকের বাংলাদেশে প্রবেশ এবং খালি ট্রাকের ভারতে ফেরতের তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। এটি পেপারলেস কাস্টমস বাস্তবায়নের একধাপ অগ্রগতি। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলে এ সাব-মডিউলটির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই দেশের সকল স্থলবন্দরে এর লাইভ অপারেশন চালু করা হবে।


বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন কর্তৃক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই খাতে লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না এবং কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।


প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানিকারকগণের জন্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ রহিত করে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুসরণে কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ইতঃপূর্বে সি অ্যান্ড এফ লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না। কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ থেকে Utilization Permission (UP) ইস্যু সংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে CBMS সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেই অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ০৩ (তিন) টি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে সকল UP অনলাইনে জারী করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সকল সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে গত ০১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখ হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড CBMS নামক স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করে। উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির জন্য শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে অনলাইনে UP গ্রহণ করতে পারছে। তাছাড়া, BGMEA এর UD Declaration সিস্টেমের সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা প্রায় ৬০৬৯ কন্টেইনার (প্রায় ১০,০০০ TEUs) এর ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলামে বিক্রয় করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি বিশেষ আদেশ জারী করেছে। ইতোমধ্যে উক্ত কন্টেইনারসমুহের মালামালসমূহের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে ২ হাজারের বেশী কন্টেনার অকশন সম্পন্ন করে প্রায় ৮ শত কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামকারীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস দ্রুততার সাথে চলমান নিলাম সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সার্বিকভাবে, নীতি সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদকালে রাজস্ব ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে-যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ পিএম

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। 


বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ২২ অক্টোবর এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। 


নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম  ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।


বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। 


স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩২৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার  দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।





বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ পিএম

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আাজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।


পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।


তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন নয়। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।


সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যাচাই করা হচ্ছে।


সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। 


তাৎক্ষণিক হালনাগাদ সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৫ পিএম

ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট স্লো করে রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।


তিনি বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেতে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে।এদিকে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়েবসাইট কোনো না কোনোভাবে এই ঝুঁকির আওতায় থাকতে পারে।


ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পিএইচপির ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংস্করণ ও নিরাপত্তা প্যাচ প্রকাশ করা হয়েছে।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ডের সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ওয়েবসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজেদের অনলাইন সেবা নিরাপদ রাখতে কিছু ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির সরকারি ও প্রকাশ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা পিএইচপির এসব ত্রুটি শনাক্ত করেন। ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ওয়েব উন্নয়নে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ করছিলেন তারা। এ কাজে ওপেনএআইয়ের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।


ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি। গবেষকদের ধারণা, পিএইচপির এসব ত্রুটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অজানা অবস্থায় ছিল। ফলে এত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


পিএইচপির ত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার ঘটনাটিও ছিল আকস্মিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিকে ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য এবং সমাধানের পদ্ধতি প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধ্য হয় পিএইচপি ফাউন্ডেশন।


সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশ করতে পারে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


এ কারণে পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার মালিকদের দ্রুত নিজেদের প্রযুক্তিগত কাঠামো পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্যাচ দ্রুত সংযোজন এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হওয়ায় এই ত্রুটির প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে। ফলে শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ এএম

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায়। 


বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। 


বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। 


নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। 


স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকছে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজার। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটি এবং এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম। একই সময়ে বন্ধ থাকবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচদিন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা চালু থাকবে।


ছুটির আগে গত শনিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল। সেদিন সাধারণ কর্মদিবসের মতোই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


এদিকে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় একই সময়ে দেশের দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তবে পূজার ছুটিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায়, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।


এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।


এর আগে গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত ১৭ অক্টোবর সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিষয় :


  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো করা হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত আগের হারেই তাঁদের ভাতা পাবেন। অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন তাঁরা যে হারে ভাতা পেতেন, পরের আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সে হারেই ভাতা পেতে থাকবেন। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রজ্ঞাপনটি প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ দিকে এ মাসেই বাড়তি বেতন পেতে শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


সরকারি চাকরিজীবীদের ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারে ভাতা দেওয়ার বিধান করেছে সরকার। বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ঠিক এক মাস আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। অবশ্য নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ভাতা যে পরে দেওয়া হবে, সে ঘোষণা আগেই দিয়েছে সরকার।


নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের পুরো বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮-এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা দেওয়া হবে।


গত ১ জুলাই থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।


নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করার কাজ চলছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। এ জন্য ৫ অক্টোবর থেকে সরকারের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করছেন সরকারি কর্মচারীরা।


অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস শেষে সরকারি কর্মচারীরা বাড়তি হারে বেতন পাবেন। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা আছে।