আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসপালিত হচ্ছে আজ
পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরন পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে দেশের বর্ডার এজেন্সির কাজের কৌশল ও গুরুত্ব। রাজস্ব আহরণ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানে বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধসহ নানাবিধ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আজ ২৬ জানুয়ারি সারাদেশে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস–২০২৬ পালিত হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার প্রতিপাদ্য- ‘সতর্কতা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমাজ সুরক্ষায় কাস্টমস’—এর আলোকে দিবসটি উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। কাস্টমসের বহুমূখী ভূমিকা ও তার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর বিশ্ব শুল্ক সংস্থা (উব্লিউসিও) একটি বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশ্বব্যাপী তার তাৎপর্য তুলে ধরে। ২০২৬ সালে উব্লিউসিও কর্তৃক নির্ধারিত কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘Customs protecting society through vigilance and commitment’। উব্লিউসিও এর অন্যান্য সদস্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ কাস্টমস এ প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার আয়োজন ও দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও কাস্টমস স্টেশনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ ও মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, খাদ্য-ওষুধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে—যেমন পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিকভাবে WTO-TFA, WCO-RKC ও CMAA চুক্তি এবং SAARC, D-8, তুরস্ক, সৌদি আরব ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশের কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য WCO-এর RILO এবং Customs Enforcement Network (CEN) ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ২৭ শতাংশ কাস্টমস হতে আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধায় রপ্তানি সহজীকরণ, LDC Graduation-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি দ্রুততর করছে। ASYCUDA World, iBAS++ ইন্টিগ্রেশন, Bangladesh Single Window (BSW) ও Automated Risk Management Software কার্যকর ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পণ্যচালান খালাস সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। Time Release Study অনুসারে ৯০% পণ্য এক দিনের মধ্যে শুল্কায়ন হচ্ছে। Non-Intrusive Inspection, Post Clearance Audit, AEO, Customs Bond Management System, E-auction ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা, চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসে জড়িতদের নিত্যনতুন কলাকৌশল, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। উচ্চ পেশাদরিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান, দেশি-বিদেশী অংশীজনদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখাসহ যুগোপযোগী কর্মকৌশলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে আর্থ–সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ২২ অক্টোবর এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩২৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আাজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন নয়। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যাচাই করা হচ্ছে।
সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
তাৎক্ষণিক হালনাগাদ সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট স্লো করে রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেতে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে।এদিকে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়েবসাইট কোনো না কোনোভাবে এই ঝুঁকির আওতায় থাকতে পারে।
ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পিএইচপির ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংস্করণ ও নিরাপত্তা প্যাচ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ডের সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ওয়েবসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজেদের অনলাইন সেবা নিরাপদ রাখতে কিছু ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির সরকারি ও প্রকাশ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা পিএইচপির এসব ত্রুটি শনাক্ত করেন। ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ওয়েব উন্নয়নে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ করছিলেন তারা। এ কাজে ওপেনএআইয়ের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।
ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি। গবেষকদের ধারণা, পিএইচপির এসব ত্রুটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অজানা অবস্থায় ছিল। ফলে এত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পিএইচপির ত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার ঘটনাটিও ছিল আকস্মিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিকে ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য এবং সমাধানের পদ্ধতি প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধ্য হয় পিএইচপি ফাউন্ডেশন।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশ করতে পারে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার মালিকদের দ্রুত নিজেদের প্রযুক্তিগত কাঠামো পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্যাচ দ্রুত সংযোজন এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হওয়ায় এই ত্রুটির প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে। ফলে শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকছে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজার। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটি এবং এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম। একই সময়ে বন্ধ থাকবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচদিন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা চালু থাকবে।
ছুটির আগে গত শনিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল। সেদিন সাধারণ কর্মদিবসের মতোই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এদিকে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় একই সময়ে দেশের দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পূজার ছুটিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায়, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত ১৭ অক্টোবর সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো করা হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত আগের হারেই তাঁদের ভাতা পাবেন। অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন তাঁরা যে হারে ভাতা পেতেন, পরের আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সে হারেই ভাতা পেতে থাকবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রজ্ঞাপনটি প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ দিকে এ মাসেই বাড়তি বেতন পেতে শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারি চাকরিজীবীদের ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারে ভাতা দেওয়ার বিধান করেছে সরকার। বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ঠিক এক মাস আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। অবশ্য নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ভাতা যে পরে দেওয়া হবে, সে ঘোষণা আগেই দিয়েছে সরকার।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের পুরো বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮-এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা দেওয়া হবে।
গত ১ জুলাই থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করার কাজ চলছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। এ জন্য ৫ অক্টোবর থেকে সরকারের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করছেন সরকারি কর্মচারীরা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস শেষে সরকারি কর্মচারীরা বাড়তি হারে বেতন পাবেন। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা আছে।