ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের কৃষকদের জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি সার বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। তবুও জেলাজুড়ে সারের জন্য হাহাকার করছে কৃষকরা।কারন ভর্তুকির সার প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পাচারকারী সিন্ডিকেটেে হাত ধরে চলে যাচ্ছে মিযানমারে। ফলে তৈরি হয়েছে সার সংকট। আর সংকট নিয়েই বেকায়দায় পড়েছে সরকারএ থেকে উত্তোরনের জন্য সীমান্তের দলীয় কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন উখিয়া- টেকনাফের সংসদ সদস্য।
অন্যদিকে চলতি বছরের জুন থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০৮ কেজি সার জব্দ করেছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। এ সময় ১২৭ জনকে আটক করে মামলা করেছে সংস্থা দুটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বেশি থাকার পরও সারের একটি অংশ পাচার হয়ে যাওয়ায় সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংঘবদ্ধ পাচারকারীরা বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে নৌকার মাঝি, উপকূল ও সীমান্তঘেঁষা এলাকার বাসিন্দা এবং ভাড়ায় লোক ব্যবহার করে সার পাচার করছে। কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় এলাকা এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এ কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে কক্সবাজারের জন্য ইউরিয়ার চাহিদা ১ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ২ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ৫০০ মেট্রিক টন বেশি ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে টিএসপির চাহিদা ৪৭৫ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৪৭৫ মেট্রিক টন, ডিএপির চাহিদা ৭৮৯ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৮৮৯ মেট্রিক টন এবং এমওপির চাহিদা ৩৬৮ মেট্রিক টন। তারপরও সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের একাংশ প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের প্রান্তিক চাষি সাইফুদ্দিন মোবারক বলেন, ‘আমি সারের জন্য ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু আমার প্রয়োজনমতো সার পাইনি। অথচ প্রায়ই প্রতিদিন আমার ও আমার পাশের ইউনিয়ন দিয়ে মিয়ানমারে সারসহ নানা পণ্য পাচার হচ্ছে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কচুবনিয়ার কার্ডধারী কৃষক আবদুল গফুর বলেন, যাদের সার কম লাগে, তারা ঠিকঠাক সার পাচ্ছেন। কিন্তু যাদের জমির পরিমাণ বেশি, তারা সার পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, ডিলাররা কৃষক নন এমন অনেকের কাছেও খুচরা সার বিক্রি করছেন।
পরে সেই সার মজুত করে পাচার করা হচ্ছে। ফলে প্রান্তিক কৃষকেরা সার না পেলেও পাচারকারীরা সার পাচ্ছেন। কোস্টগার্ড ও বিজিবির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে, জুন থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত থেকে মোট ২ লাখ ৪৭হাজার ৯০৮ কেজি সার জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ১২৭ জনকে আটক করে সার পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে সংস্থা দুটি। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে ৩ হাজার ২৫২ বস্তা বা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ কেজি সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।
সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮২ জনকে আটক করে জেলার বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা করেছে সংস্থাটি। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন বলেন, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই শ্রমিক। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মামলাগুলোতে মূলহোতাদের আসামি করার চেষ্টা করা হয়। এরপর বাকি দায়িত্ব তদন্ত কর্মকর্তার। একই সময়ে ৬৪ বিজিবি ৫০ হাজার ৪০০ কেজি, ১১ বিজিবি ২ হাজার ৯০০ কেজি, ৩০ বিজিবি ৫ হাজার কেজি, ২ বিজিবি ৭০০ কেজি এবং ৩৪ বিজিবি ১৪ হাজার ৩০৮ কেজি সার জব্দ করেছে। এ ছাড়া উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ৪৫ জনকে আটক করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে বিজিবি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, এসব মামলার অধিকাংশ আসামিই বহনকারী। এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর উখিয়ার স্থানীয় জনতা ১০২ বস্তা সার উদ্ধার করে কৃষি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, অভিযানের সময় যাঁদের হাতে-নাতে ধরা হয়েছে, তাঁদের আসামি করার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য কিংবা প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে যাঁদের নাম পাওয়া গেছে, তাঁদেরও আসামি করা হয়েছে। অন্তরালে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবির প্রতিটি ব্যাটালিয়ন সার পাচার রোধে কাজ করছে।
স্থলপথে নজরদারি কঠোর করায় পাচারকারীরা জলপথ বেছে নিয়েছে। কোস্টগার্ড ও বিজিবির অভিযানে মাঝেমধ্যে সারবোঝাই ট্রলার, কার্গো বোট ও বহনকারীরা আটক হলেও পাচারের নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। ফলে একের পর এক চালান জব্দ হলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ এই বাণিজ্য। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে বাংলাদেশের তুলনায় সারের দাম কয়েক গুণ বেশি।
পাচারকারীরা দেশে ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামের এক বস্তা ইউরিয়া মিয়ানমারে প্রায় ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এই বিপুল দামের পার্থক্য পাচারকারীদের উৎসাহিত করছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আইনজীবী শাহীন শাহ বলেন, সার পাচারে তিনটি গ্রুপ জড়িত। এর মধ্যে ছোটখাটো ইয়াবা কারবারিরা সরাসরি পাচার করে। পাশাপাশি কিছু ডিলার ও কৃষি কার্ডধারী প্রান্তিক কৃষক টাকার লোভে পাচারকারীদের হাতে সার তুলে দেন। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ইয়াবা ও মানবপাচারকারীদের গডফাদাররা সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারে অর্থ লগ্নি করেন।
মাঠপর্যায়ে কাজ করা কৃষি অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, সার পাচারচক্রটি অন্তরালে থেকে প্রান্তিক কৃষকদের ব্যবহার করে ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে।
পরে তা উপকূলীয় এলাকায় নিয়ে মজুত করা হয়। সুযোগ বুঝে নৌকার মাঝি, সীমান্তে বসবাসকারী কৃষক কিংবা রাখালদের মাধ্যমে সেগুলো ওপারে পাচার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ডিলারদের সঙ্গে পাচারকারীদের যোগসাজশও থাকে বলে জানান তিনি। টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সীমান্তে বসবাসকারী লোকজন সচেতন না হলে পাচার রোধ করা প্রায় অসম্ভব। তবে সার বিতরণের সময় তাঁদের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে পাচার রোধে কাজ করছেন। তিনি বলেন, সীমান্তের পাচারকারী চক্র একই।
যারা মাদক ও অস্ত্র আনে কিংবা মানবপাচারে জড়িত, তারাই সার পাচারের মূলহোতা। উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস সরকার বলেন, সার পাচার রোধে তাঁরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। কৃষকদের সার দেওয়ার সময় বস্তা খুলে দেওয়া হচ্ছে। উখিয়ায় পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন ডিলারের নামেও মামলা রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে সার মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনজুমানপাড়া অন্যতম প্রধান রুট। টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের উলুবনিয়া, হারাইঙ্গাঘোনা, ঝিমংখালী, কানজরপাড়া, তুলাতলি, কোনারপাড়া ও আমতলী এবং হ্নীলার লেদা, দমদমিয়া খাল, হ্নীলা বাজার, স্টেশন ও রঙ্গিখালীকেও স্থানীয়ভাবে পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অধিকাংশ স্থানকে পাচারের পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি তাঁর থানায় সার পাচারসংক্রান্ত কিছু মামলা হয়েছে। সারের এই বিপুল মূল্যপার্থক্যের পেছনে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারের সিটওয়েতে বাংলাদেশের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান ও কূটনীতিক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন আরাকান আর্মির হাতে।
ওই এলাকায় এ মৌসুমে প্রায় ৫ লাখ একর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে সার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেখানে সারের চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে এবং সেই সুযোগ নিচ্ছে চোরাকারবারিরা। তিনি বলেন, আরাকান আর্মি দুটি উপায়ে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছে একটি সমঝোতার মাধ্যমে, অন্যটি চোরাকারবারের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কোস্টগার্ড কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাচারের একটি অংশই উদ্ধার করতে পারছে। এদিকে জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তা সহ একটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে সার পাচার, অতিরিক্ত দাম নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অনিয়মে জড়িত ডিলারদের নিয়ে কালো তালিকা করেছে। সেখানে কক্সবাজারের কয়েকজন ডিলারের নামও রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, জেলার চাহিদার তুলনায় এ মৌসুমে সরকার বেশি সার বরাদ্দ দিয়েছে।
তাই সার সংকটের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় জেলার কয়েকটি উপজেলার কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনিয়মে জড়িত ডিলারদের নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কালো তালিকা করেছে এবং সেখানে এ জেলারও কয়েকজনের নাম রয়েছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সার পাচারে যারা জড়িত, তারাই ইয়াবা, আইসসহ নানা ধরনের মাদক পাচারে জড়িত।
ওপার থেকে ডলার কিংবা টাকা আসার সুযোগ নেই। তাই পণ্য বিনিময় প্রথাতেই পাচার চলে বলে তাঁর দাবি। উখিয়া- টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, একটি সিন্ডিকেট সার মিয়ানমারে পাচারে জড়িত। সেই পাচার রোধে আমি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনগনকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছি, অনুরোধ করেছি। এর পরেই উখিয়ায় উখিয়ার সচেতন যুবকরা পাচারকারী সিন্ডিকেট থেকে সার জব্দ করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। আশা করছি এভাবে সীমান্তের লোকজন সচেতন হলে পাচার শূন্যের কোটায় নেমে যাবে।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠিয়ে বাংলাদেশকে তাঁদের কারাবাস ও দণ্ডের বিষয়ে অবহিত করে। বিভিন্ন কারণে এসব প্রবাসী দণ্ডিত হয়েছেন।
সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবও তাদের বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক নিহত হলে বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ধৈর্য ধরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসের সময়কালেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৩ সালে ঘটনা ঘটে থাকলে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমান সরকার যখনই এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে পারবে, তখনই বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের দেশে পুনর্বাসন কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।