মো. রাকিবুল হাসান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ক্যান্টমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। 


আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা-ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে আজ ক্যান্টমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছে পুলিশ। এরপর তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়।


রাকিবুল হাসান রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থাকা অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে রাকিবুল হাসানকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।


অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরদিন রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে রাজধানীর রাজারবাগে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করে ডিএমপি।


ওই দিন রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে পরদিন (১৮ সেপ্টেম্বর) ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এরপর এই এক সপ্তাহ রাকিবুল হাসান কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। আজ রাকিবুলকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানালেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।


শফিকুল ইসলাম বলেন, রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার ওই কমিটি ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এরপর আজ রাকিবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।


অডিওতে কী বলেছিলেন রাকিবুল


অডিওতে পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’


ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা,…নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’


অডিওতে রাকিবুল হাসান পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের পদায়ন দেওয়ার অভিযোগ করেন।


মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।’


রাকিবুলের বিরুদ্ধে মামলায় যা বলা হয়েছে


ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। 


এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।



ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা ইরনা এবং বাংলাদেশি বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে, বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী, রেমিট্যান্স, নৌপরিবহন ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।



বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ঢাকা জাতিসংঘকে একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে এবং পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী কর্মী নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংঘাত যদি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে না এগোয়, তাহলে আমাদের প্রবাসী কর্মী ও রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব পড়বে।’ তিনি বিষয়টিকে ‘গভীর উদ্বেগের’ বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন।



পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজ এখনো আটকে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছি, আমরা চাই এটি দ্রুত সমাধান হোক এবং কূটনীতির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘একবার সেই সমাধান হয়ে গেলে, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়, যাতে যুদ্ধে আটকে থাকা আমাদের জাহাজগুলো নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে। আমরা এই সহযোগিতাই চেয়েছি।’




হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশকে জ্বালানিসংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—এ নিয়েও প্রতিনিধিদলটি উদ্বেগ জানিয়েছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তাঁর কর্মকর্তারা উত্থাপিত বিষয়গুলো নোট করে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার অন্য অংশীদারেরাও বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে দেশটিকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান সেই দায়িত্ব নিয়েছেন। বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা ‘নরম মধ্যস্থতাকারী প্রভাব’ হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্বে রেখে ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইরানের নেতার সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।



বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।






জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪১ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত এই  বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।



প্রধানমন্ত্রী সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।


দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে।



নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের সংকল্পও আরও দৃঢ় হোক, আর আমাদের পদক্ষেপ হোক তার চেয়েও দ্রুত।’



আজ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। 



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’



প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। তাই দেশের মানুষের জীবন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।



বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে।



সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।’



তিনি বলেন, ‘জলবায়ু সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া, মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ।’



বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধির পথেও এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’



একই সঙ্গে সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদারে কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।



সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, বৈশ্বিক নিঃসরণ আরও দ্রুত, ব্যাপক ও ন্যায়সংগতভাবে কমাতে হবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে।’



‘দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’



‘তৃতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে।’



‘চতুর্থত, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’



তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবে, ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেবে এবং কোনো দেশকে যেন একা ‘রাইজিং টাইড’- এর মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবে।’


বৈঠক আয়োজন এবং ঘোষণাপত্র প্রণয়নে সহায়তা ও প্রচেষ্টার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


গ্যাস সরবরাহ কমেছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ পিএম

প্রায় দুই মাস পর আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল গ্যাস সরবরাহ। গত ১৬ আগস্ট থেকেই মহেশখালীর দুটো ভাসমান টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করছিল। 


সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আজ বৃহস্পতিবার এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকের কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।


আজ বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করায় বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।


অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।


পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। 


গতকাল বুধবারও সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। আজ সন্ধ্যায় সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। তার মানে ৪০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে।


সূত্র বলছে, দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান দুটি টার্মিনাল আছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ও আরেকটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুটো টার্মিনাল মিলে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করতে পারে। 


এলএনজি ফুরিয়ে যাওয়ায় একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে আজ বিকেল পাঁচটায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে স্থানান্তর করা যায়নি। এর পর থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৯ কোটি ঘনফুট। কয়েক দিন ধরে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল।


এর আগে গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। 


গত ১৫ আগস্ট ওই টার্মিনাল পুরোদমে গ্যাস সরবরাহের জন্য তৈরি হলেও আমদানি করা জাহাজ না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এ মাসে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহ বাড়ানো হয়।


বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

এক বছরের মধ্যে বিসিএস পরীক্ষা শেষ করার নির্ধারিত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে আগামী বিসিএসটি সাধারণ হবে নাকি বিশেষ- তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, অবশেষে তার অবসান ঘটেছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত হয়েছে ৫১তম বিসিএসের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন। 


আর এই ৫১তম বিসিএসটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের চিকিৎসকদের নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস হিসেবে। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিএসসি সূত্র জানায়, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চলমান চরম চিকিৎসক-সংকট নিরসনে সম্প্রতি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র ও নির্দেশনা পিএসসিতে এসে পৌঁছায়।


পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুততম সময়ে এর দাপ্তরিক কাজ ও প্রয়োজনীয় বোর্ড মিটিংয়ের পর্যালোচনা শেষ করে। সাধারণ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন তৈরির আগেই বিশেষ বিসিএসের সব আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এই বিশেষ বিসিএসকেই ‘৫১তম বিসিএস’ হিসেবে আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল কমিশন।’


প্রকাশিত এই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসককে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন নিয়োগ পাবেন সহকারী সার্জন বা মেডিক্যাল অফিসার পদে এবং বাকি ৩০০ জন নিয়োগ পাবেন ডেন্টাল সার্জন পদে। 


২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানো ও চিকিৎসাসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। বাজেটের সেই নীতিগত নির্দেশনার আলোকেই পিএসসি এবার চিকিৎসকদের এই বিশেষ বিসিএস দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত করল।


পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের এই বিশেষ বিসিএসে লিখিত পরীক্ষার কোনো দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া থাকবে না। সাধারণত ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের দক্ষতাভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমেই দ্রুত প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন করা হবে। 


এর ফলে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসককে দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পদায়ন করা সম্ভব হবে।


৫২তম সাধারণ বিসিএস কবে?


এদিকে বিশেষ বিসিএস ৫১তম হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়ায় সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের চোখ এখন ৫২তম বিসিএসের দিকে। পিএসসির পূর্বঘোষিত বিসিএস ক্যালেন্ডার বা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসেই সাধারণ বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) চলছে। নির্ধারিত রোডম্যাপ মেনে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। 


৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর অথবা এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিএসসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নভেম্বরেই নতুন সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে।


ইসি আনোয়ারুল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩২ পিএম

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে আশা করি। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে এমন আশার কথা জানান তিনি।


এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বর বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট হবে না। পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে আশা করি।


তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন। তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন।


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সাথে চিঠি চালাচালি করতে হয় এমন কোন নজির নেই। সরকারের সাথে নির্বাচন উপযোগীর তালিকা চাওয়া হয়েছে।


নির্বাচনে তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।


এর আগে সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি ভোট শুরু করতে চেয়েছিল ইসি। এমনকি সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করেছিল। তবে সরকারের আপত্তি ও নানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ইসি। বিশেষ করে শিক্ষা ও পুলিশ প্রশাসন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে নির্বাচন চায় না।