• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

সরকার তামাক খাত থেকে যত রাজস্ব পায় তার চাইতে দ্বিগুণের বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, অকাল পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু এবং পরিবেশের ক্ষতির কারণে অপচয় হয়। তাই, শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়ার অর্থ হবে আরও বেশি মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সঙ্গে আপোষ করা।


'জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির সাথে আপোষ নয়’ এ নীতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে, দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাশ করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশের শতাধিক তামাক বিরোধী সংগঠন।  


মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত “৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালায়”-এ আহ্বান করা হয়।




সংগঠনগুলোর মতে, ২০২৫ সালে পাস হওয়া অধ্যাদেশ-এ উল্লিখিত ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসসহ ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের বিধান ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন থেক বাদ দেয়ায় নতুন প্রজন্মকে এই পণ্যের ভোক্তা বানানোর পথ সহজ হতে পারে। যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হযেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বাজার সম্প্রসারণ করবে, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও হবে ব্যাপক। সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া ই-সিগারেটকে “কম ক্ষতিকর” পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই দ্রুত ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করা জরুরি।


বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) কর্তৃক যৌথভাবে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টাস্কফোর্স কমিটির শতাধিক বেসরকারি সদস্য অংশ নেন। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, আইন বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, তামাক কর এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বিষয়ে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ ও অতিথি আলোচক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ১০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী আয়োজন ছাড়াও একটি প্ল্যানারি সেশন এবং তিনটি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে কর্মশালাটি পরিচালিত হয়। প্রতিটি সেশনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্কে অংশ নেয়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রদান করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের হেড অব প্রোগ্রাম মো. শফিকুল ইসলাম। সেশন সঞ্চালনা করেন সেতু’র প্রকল্প পরিচালক (তামাক নিয়ন্ত্রণ) শাগুফতা সুলতানা।


মো. আখতারউজ-জামান তৃনমুল পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে অনেক অর্জন রয়েছে। পাবলিক প্লেসে সিগারেটসহ সকল তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। টাস্কফোর্স কমিটিগুলো সক্রিয়করণে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতি আহবান জানান।  ফরিদা আখতার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস ইত্যাদি পণ্য নিষিদ্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।


 সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সারাদেশের তৃণমূল সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স সক্রিয় করার মাধ্যমে সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য তিনি জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-কে অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্কুল কলেজের আশেপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স উদ্যোগ নিবে এবং বাস্তবায়নে কাজ করবে।


সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের জ্যেষ্ঠ কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডিপিডিসির চেয়ারম্যান (পরিচালনা পর্ষদ) ও সিনিয়র সচিব (অব.) সৈয়দ মো. হামিদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট'র বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান। 


শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল স্বাস্থ্য ক্ষতি নয় বরং অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশের সাথেও সম্পৃক্ত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সম্পৃক্ত করেছে। ৬৪ জেলার স্কুলগুলোতে তামাক বিরোধী রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। তিনি কোন তামাক চাষি যদি তামাক চাষে প্রলুব্ধ না হয় সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে আহবান জানায়। একই সাথে জেলার জনপ্রতিনিধিদের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।  


বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য এফসিটিসি অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে। আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১ মামলার ১ মার্চ ২০১৬ সালের রায়ে সরকারকে ধাপে ধাপে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন না দেওয়া এবং বিদ্যমান কোম্পানিগুলোকে বিকল্প পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। এ সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।


বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর সদস্য সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন মনিটরিং, আইন ও তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন লঙ্ঘনের প্রতিবেদন প্রণয়ন, মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণ, তামাক কর বৃদ্ধির সুপারিশ এবং এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতার অঙ্গীকার করে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। কর্মশালা থেকে সরকারের কাছে ই-সিগারেট, ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, আমদানি আদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান বহাল রাখা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন মনিটরিং কার্যক্রমে বেসরকারি সংগঠনসমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করা, জেলা ও উপজেলাসহ সকল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্সসমূহ কমিটি সক্রিয় করা, স্কুল-কলেজের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি ও বিজ্ঞাপন বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি সংগঠনসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কার্যকর তামাক কর আরোপ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়।


প্রেস বিজ্ঞপ্তি।




পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সৌদি আরবে একাধিক হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় ৩ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।







ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।