ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পাশের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।


ঘূর্ণিবায়ুর ওই চক্র সোমবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। সেই সময় গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।


নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দকে আগের মতোই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস


আবহাওয়ার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আর মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে৷


মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশিরভাগ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।



সর্বশেষ সব খবর

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ এএম

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।


এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ফরহাদ হালিম ডোনার, আমানুল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুইজন ও খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৫ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৭৫ জন, খুলনায় ১৬১ জন, বরিশালে ১৪৩ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৮ জন, রংপুরে ৪৩ জন।

সর্বশেষ সব খবর

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

‘মাদক কারবারের সাথে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদকের হটস্পটগুলোতে যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে সেই দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্পটগুলো পরিচালনা করে থাকে কিছু কুচক্রী মহল। মাদক কারবারের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদকের সাথে কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মাদকের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’ 


রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে শুক্রবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এমপি এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ ও মনোচিকিৎসা বিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল।


ইশরাক হোসেন বলেন, বর্ডার অঞ্চল থেকে নানারকম কারসাজি করে সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সাথে কিছু নামকরা পরিবহনের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। একইসাথে কিছু ভূঁইফোড় ফামার্সিউটিক্যাল কোম্পানিরও মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি গোষ্ঠি পরিকল্পিতভাবে জিও পলিটিক্স ব্যবহার করে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। যারা মাদকাসক্ত তারা জঘন্য নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত। 


ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। হাত বাড়ালেই এখন পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবাসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন মাদক। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রাম—গঞ্জে, পাড়া—মহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মাদকের সাথে ক্রাইম সম্পৃক্ত। যারা মাদক ও ক্রাইমের সাথে জড়িত, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে মাদক কারবারিরা তাদের রাজনৈতিক রঙ পাল্টায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক কারবারি যাতে সুবিধা নিতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। 


তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবী, মাদক বহনকারী ও ছোট কারবারিরা ধরা পড়লেও এর মূলহোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক পরিবহনে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বহুমাত্রিক কৌশল। কখনও দোকানের আড়ালে, কখনও ভ্রাম্যমাণ দোকানে, কখনও হাঁটতে থাকা ব্যক্তির শরীরে, আবার কখনও যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে মাদক। শুধু তাই নয়, পাকস্থলীর ভেতর এমনকি মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চেম্বারেও ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 


শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাত্তর টিভি’র বার্তা প্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন, ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউছার আলম। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘মাদককে না বলি, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগিতা করছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। 


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৯ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১৪ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৯৪ জনে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে দুই লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ দুই হাজার ৩৯৪ জন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০০ পিএম

চলতি নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এবার শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে এ মৌসুমে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টিপাত, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


শৈত্যপ্রবাহের সময় ও সম্ভাব্য অঞ্চল সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।


তিনি বলেন, জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।


এদিকে আগামী তিন মাসে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়বে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।


এর কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে গড় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এবারের শীত মৌসুমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।


তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি তুলনামূলক কম থাকতে পারে। সে বিবেচনায় এবারের শীতকাল কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাবে শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


শীতের পূর্বাভাসের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।


এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছর এ সময় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।


তিনি বলেন, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। তবে বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থাকে ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থা বলা হয়।


দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার, ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার।


ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টিপাত আরও কমে আসতে পারে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা-সহ অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়াসংক্রান্ত উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর মডেল পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এতে এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।


দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ে গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘ সময়ের এমন গড় চিত্র বিশ্লেষণ করেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।


তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার মাত্রা বেশি থাকে উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণের পরামর্শ দেন।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৭ পিএম

জাতীয় চার নেতার নামে থাকা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের চারটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। এ ছাড়া ‘জয় বাংলা’ নামে থাকা কোস্টগার্ডের আরেকটি জাহাজের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কোস্টগার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিসিজিএস তাজউদ্দীন’ জাহাজের নতুন নাম হবে ‘বিসিজিএস নুরুল ইসলাম’। ‘বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল’ জাহাজের নতুন নাম ‘বিসিজিএস ফিরোজ কবীর’। ‘বিসিজিএস মনসুর আলী’ জাহাজের নতুন নাম ‘বিসিজিএস এম হুমায়ুন কবীর’। ‘বিসিজিএস কামরুজ্জামান’ জাহাজের নতুন নাম ‘বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী’। এ ছাড়া ‘বিসিজিএস জয় বাংলা’ জাহাজের নতুন নাম ‘বিসিজিএস অদম্য বাংলা’।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করতে কোস্টগার্ডকে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী কোস্টগার্ড নতুন নামের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। নতুন নাম অনুমোদনের বিষয়টি গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে কোস্টগার্ডকে জানায়।


চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে।


কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, যে চার ব্যক্তির নামে চারটি জাহাজের নতুন নাম রাখা হয়েছে, তাঁরা সবাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। দেশে ও দেশের বাইরে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে তাঁরা শহীদ হন।

সর্বশেষ সব খবর