প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:২৬ এএম

মেয়েরা যাতে বেতন ছাড়াই ‘ডিগ্রি পর্যন্ত’ পড়াশোনা করতে পারে, তা সরকার নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই যে প্রায় ২০ কোটি, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে।


“খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব।”


আজ সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় খুলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।


তিনি বলেন, “শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সাথে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে, যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।”


প্রধানমন্ত্রী ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার কথা বললেও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল- মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করা হবে।


নারীরা পাবেন ‘এলপিজি কার্ড’




পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য বিএনপির যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা মিলবে, যা দিয়ে একজন নারী সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারবে। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে নিজের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবে।


নারীদের জীবনকে আরও সহজ করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।


তিনি বলেন, “আমরা দুদিন আগে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই মা-বোনদের একটি ব্যাপারে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক বা শহরের মা-বোনই হোক।


“আমরা যেরকম সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ করতে চাই- সেটি হবে ‘এলপিজি কার্ড’। ‘এলপিজি গ্যাস’- এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দেব, যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।”


‘তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়’




জামায়াত জোটকে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।


সরকারপ্রধান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।


“এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি- ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি- সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।”


তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি বিগত সাড়ে সতেরো বছর থেকে বিভিন্ন সময় কারা কারা দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছে, বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে। যতবার বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, অতীতে আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল-মনে আছে আপনাদের?


“১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এখনো আমার সেই ভূত আরেকজনের কাছে গিয়ে আছর করেছে। আপনাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি- আমরা যারা শহীদি দল করি, আমরা যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক; আমরা বিশ্বাস করি-এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম, এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি-‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’।”


বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা




পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।


এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।


বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা


পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।


এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।


বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা




পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।


এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।


“এখন আজকে আমরা এসেছি এই খালটি আবার পুনঃখনন করতে, গত প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন এবং এই প্রায় চার কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করতে পারি, তাহলে এই এলাকার মানুষ পানি পাবে।


“পানি পেলে কী হবে? আমরা দেখেছি, প্রায় ২০ হাজারের মত কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এই খালে পানি আসলে।”


তিনি বলেন, “এই খালে পানি থাকলে উপকারটা কাদের হবে ভাই? এই এলাকার মানুষের হবে। শুধু তাই নয়, ইনশাল্লাহ এই খাল পুনঃখনন যখন শেষ হয়ে যাবে, আমরা ইনশাল্লাহ এই খালের দু‘পাশ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করব।


“যারা ঘরে হাঁস পালন বা হাঁস পালতেন আগে; কিন্তু এই খালে পানি না থাকার কারণে অনেকের ঘরে সেটা সম্ভব হয় না। কিন্তু যখন খালে পানি থাকে, তখন মা-বোনদের জন্য একটি বাড়তি রোজগারের সুবিধা হবে হাঁস পালনের মধ্যে দিয়ে।


“আমরা যদি সকলে মিলে পরিশ্রম করি তাহলে অবশ্যই ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।”


জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। 


তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। 


আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।


এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।


আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠিয়ে বাংলাদেশকে তাঁদের কারাবাস ও দণ্ডের বিষয়ে অবহিত করে। বিভিন্ন কারণে এসব প্রবাসী দণ্ডিত হয়েছেন।


সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।


সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।


বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।


তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবও তাদের বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক নিহত হলে বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ধৈর্য ধরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।


দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসের সময়কালেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৩ সালে ঘটনা ঘটে থাকলে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমান সরকার যখনই এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে পারবে, তখনই বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।


তিনি বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


তিনি জানান, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের দেশে পুনর্বাসন কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

সর্বশেষ সব খবর

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।


আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।


বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।


এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।





সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।







সর্বশেষ সব খবর