সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ রোববার থেকে অফিস চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস চলে।
গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন অফিস সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নিদের্শেনা দেবেন। আর বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ রোববার থেকে অফিস চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস চলে।
জরুরি পরিষেবা বলতে সাধারণত বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম ইত্যাদিকে বোঝোনা হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত হলো জরুরি সেবা ব্যতীত সব বিপণিবিতান (মার্কেট), অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।
ব্যাংকের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আজ থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি অনুসারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলবে। আর ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বলবৎ থাকবে।
তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং বুথ আগের মতো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত হলো জরুরি সেবা ব্যতীত সব বিপণিবিতান (মার্কেট), অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাত আটটা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলার দাবি জানান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই দোকান ও শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে জুনে আবার স্বাভাবিক সময়ে, অর্থাৎ নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস করা হয়। এখন বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে আবার অফিস সময় এক ঘণ্টা কমল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠেনে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে গত শুক্রবার তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ রোববার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক গতকাল বলেন, ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়ে। তাদের সবাইকে অনলাইনে ক্লাসের আওতায় আনা অসম্ভব। এর আগে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন বাস্তবে তাঁদের বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসে আনা যায়নি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, তারাও মনে করে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া কঠিন। এ জন্য খোলা রেখে কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, সেই চিন্তা তাদেরও আছে। তবে সিদ্ধান্তটি আসবে মন্ত্রিপরিষদ থেকে।
পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানিসংকটে পড়েছে অনেক দেশ, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠিয়ে বাংলাদেশকে তাঁদের কারাবাস ও দণ্ডের বিষয়ে অবহিত করে। বিভিন্ন কারণে এসব প্রবাসী দণ্ডিত হয়েছেন।
সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবও তাদের বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক নিহত হলে বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ধৈর্য ধরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসের সময়কালেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৩ সালে ঘটনা ঘটে থাকলে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমান সরকার যখনই এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে পারবে, তখনই বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের দেশে পুনর্বাসন কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”
প্রতীকী ছবি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।
এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।