জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় প্রতীক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র, ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ঈদুল আজহার আগে ২০ মে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মনজিলা ঝুমা এবং এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, মো. আতাউল্লাহ ও এস এম সুজা সাংগঠনিক বিভাগওয়ারি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় সারজিস আলম জানান, ঈদের আগে ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে। দেশের ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভা থেকে প্রথম ধাপে নাম প্রকাশের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলোকে বারবার যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। শিগগিরই অন্য আটটি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় সালামত উল্লাহ রনিকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আহনাফ সাঈদ খান, তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ইকরাম হোসেন ও করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে খায়রুল কবির দলটির প্রার্থী। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মো. আরিফুল ইসলাম ও দৌলতপুর উপজেলায় মো. আবু আবদুল্লাহকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে এনসিপি। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মেহেদি হাসান। একই জেলার টাঙ্গাইল পৌরসভায় মাসুদুর রহমান, ভূঞাপুর পৌরসভায় হাসান ইমাম তালুকদার ও সখীপুর পৌরসভায় মাওলানা আনছার আলীকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। নরিসিংদী জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. শোয়েব মিয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. তুহিন মাহমুদ। মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় দলটি প্রার্থী করেছে আলী নেওয়াজকে। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। একই জেলার নগরকান্দা পৌরসভায় মুহাম্মাদ নাজমুল হুদা ও ফরিদপুর পৌরসভায় সাইফ খানকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর পৌরসভায় মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী ফেরদৌস আমিনা।
রংপুর বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় মো. হাবিবুর রহমান ও বোদা উপজেলায় শিশির আসাদকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দেবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী গোলাম মূর্তজা সেলিম। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইমরান চৌধুরী ও বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসানকে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার ফুলবাড়ি পৌরসভায় শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মো. আব্দুল মান্নান ও হাকিমপুর পৌরসভায় মো. রায়হান কবিরকে মেয়র প্রার্থী করেছে দলটি। নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ ও জলঢাকা উপজেলায় আবু সাঈদ লিয়নকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছে এনসিপি। কুড়িগ্রাম জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া রংপুর সদর উপজেলায় কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ ও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মো. খাদেমুল ইসলামকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে দলটি।
রাজশাহী বিভাগে প্রার্থী কারা
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আবু মাসুদ। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় নিশাদ আহমেদ, বদলগাছি উপজেলায় আসাদ নওশের ও পোড়শা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোস্তাফাকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। একই জেলার ধামইরহাট পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাহফুজর রহমান চৌধুরী। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বগুড়া সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহারিয়ারকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ফকির। নাটোর জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান। পাবনা জেলার চাটমোহর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুকে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোশারফ আদনান আর উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন লিয়ন।
সিলেট বিভাগে কারা এনসিপির প্রার্থী
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কামাল আহমেদ ও হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়র পদে মাহবুবুল বারি চৌধুরী মুবিনকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় খালেদ হাসান ও কুলাউড়া উপজেলায় আবু রুকিয়ান, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উবায়েদ আহমেদ, কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ, ওসমানীনগর উপজেলায় হাজি মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া লাদেন ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় মনসুরুল হাসান নগরীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।
ময়মনসিংহ বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
শেরপুর জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. লিখন মিয়া ও সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. নূর ইসলাম। জামালপুর জেলার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু, খালিয়াজুরি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান ও নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শহিদুল ইসলাম, ভালুকা উপজেলায় নুরুল ইসলাম, হালুয়াঘাট উপজেলায় মো. আবু রেহান ও ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহকে।
খুলনা বিভাগ
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় আবুল হাশিম ও ভেড়ামারা উপজেলায় মো. জান্নাতুল ফেরদাউস চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় ইশতিয়াখ হোসেন ও ফকিরহাট উপজেলায় লাবিব আহমেদ এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। একই জেলার বাগেরহাট পৌরসভায় সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার ও মোংলা পোর্ট পৌরসভায় মো. রহমাতুল্লাহ এনসিপির মেয়র প্রার্থী। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান, একই জেলার নোয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. শাহজাহান কবির। খুলনা জেলার চালনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী খাজা আমিরুল বাশার, একই জেলার জীবননগর পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে সাকিল আহমেদকে। আর ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ফরিদ আহমেদ। ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থী জিয়াউর রহমান। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় খান মো. বাকী বিল্লাহ ও জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. নাজমুল ইসলাম এবং সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি মনোনীত করেছে মো. মাইনুল আহসান মুন্নাকে। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান।
কুমিল্লা বিভাগ
কুমিল্লা জেলার হোমনা পৌরসভার মেয়র পদে মো. রাজু সরকার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে মো. জহিরুল ইসলাম সরকারকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মো. জসিম গাজী ও মতলব উত্তর উপজেলায় মো. ইদ্রিস আলী প্রধানীয়াকে প্রার্থী করেছে দলটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় মো. আমিনুল হক চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন ও আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমিরুল ইসলাম ডালিমকে প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি।
চট্টগ্রাম বিভাগ
কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির শফিকুল ইসলাম। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মো. হোসাইন। আর কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী রাইয়্যান কাশেম। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় এনসিপির মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল আলম মানিক। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ইউসুফ রেজা, হাতিয়া পৌরসভার মেয়র পদে মুহিবুর রহমান ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. সুজা উদ্দিন। আর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মাদ ইব্রাহীম খলিল।
প্রার্থী ঘোষণার সময় সারজিস আলম বলেন, সারা দেশে যাঁরা আগ্রহী, এনসিপি ও দেশের মানুষের জন্য যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যাঁরা কখনো মানুষের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, যাঁদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না, তাঁরা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তাঁরা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও যদি কেউ আসতে চান, সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদেরও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য এনসিপি পর্যাপ্ত সময় পায়নি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও তখন সব জায়গায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্তিশালী ছিল না। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দল ২০৩৬ সালের মধ্যে সংসদে সরকারি দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে, সেই দল জোটের আশায় বা জোট হবে কি না—এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, বাজারে গিয়ে পণ্য কেনেন না রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা। তাদের হয়ে অন্যরা বাজার করেন। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও পণ্যের দাম সম্পর্কে তাদের যথাযথ ধারণা নেই।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা যখন বাজারে যাই, তখন পণ্য কিনতে গিয়ে দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? তিনি বলেন, এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষ যখন ধরে নিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়, তখন আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও প্রতিবাদ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দলীয়করণ হবে না, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা আমাদের বলেছেন, সরকার যেন তাদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলাম, তেমনি এ সময়ও অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন।
তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না, তাদের ধরা যাবে না, স্পর্শও করা যাবে না। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিএনপি সরকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। সেই অসম্ভবকে আবারও সম্ভব করতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা দেখাতে চাই, বিএনপি সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যায়।
তিনি বলেন, এটি কোনো দলের দাবি নয়। দলমত-নির্বিশেষে ধনী-গরিব সবার দাবি, আমরা পেট ভরে খেতে চাই, সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এবং সবকিছু নিজেদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চাই।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, যাদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন, যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, তাদের কাছে এক টাকাও অনেক মূল্যবান। এ কারণেই আমরা যখন বাজারে গিয়ে পণ্য কিনতে চাই, তখন দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।
তিনি জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাবেন তারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা চাই না, আপনারা এনসিপিতে যোগ দিন। আপনারা কোন রাজনৈতিক দল করেন, সেটিও আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। আমরা আপনাদের অধিকারের জন্য রাজপথে নেমেছি। নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই আপনাদেরই করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি আপনাদের হয়ে এই লড়াই করে দেবে না।
মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে এখানে কেন আনতে হবে?
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকেন, তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন না, সেখানে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। এর মাধ্যমে আগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই মাঠ পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাব, তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সব মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রধান দায়িত্ব নিজের মন্ত্রণালয়ের লোকদের দেখভাল করা। কিন্তু তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও পারলেন না। দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। এই ‘আগের চেয়ে ভালো’র মাপকাঠি কী, তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।
জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আমির আলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।
এর আগে সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।
পরে পুলিশের একটি চৌকস দল জামায়াতের আমিরকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা শহর মৌলভীবাজারে এটিই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম সফর। তার সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
এর আগে সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া এবং ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।
মতবিনিময় সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বিকালে তিনি রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ নভেম্বর। এ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। হাতে সময় মাত্র দুই দিন, এরপরই শুরু হবে প্রার্থিতা যাচাই ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসির ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। ২৯ অক্টোবর এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন।
তপশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। পরদিন ২ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ওই ঘটনার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এরপর মিষ্টি পদত্যাগ করলে সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে। ওই শূন্য আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা থেকে শুরু করে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচনের ভোটপর্ব সম্পন্ন হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বিরোধীদলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন- এর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীদলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করতে হবে। কোথায়, কখন, কার সঙ্গে এবং কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করতে হবে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ্যে দেয়াকে অন্যায় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তি কী? তা জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সেবাও দিচ্ছেন। অথচ মাদক, অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও দলীয় ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলনে যোগ দিতে মৌলভীবাজার সফর করছেন জামায়াত আমির। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতের ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডা. শফিকুর রহমান।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলেই স্থানীয় নির্বাচনে যাবে জামায়াত: শফিকুর রহমান
জামায়াত আমিরের ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে অবশ্যই বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
‘জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড: ডিবি চায় ডিভাইস, জামায়াতের উদ্বেগ নিরাপত্তায়’ এমন শিরোনামে প্রকাশিত একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে রাশেদ খাঁন এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমিরের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘যে নেতা নাকি জীবনে কোনোদিন মিথ্যা বলে নাই, সেই নেতা কেনো এতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে? তাহলে কি কর্মজীবী নারীদের কটূক্তি করার বিষয়টি সত্য?’
তিনি আরও লেখেন, ‘নাকি মোবাইল হেফাজতে নিলে আরও বড় ধরনের ক্রাইম বের হয়ে আসবে? নাকি শেখ হাসিনার সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য সঠিক? ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে অবশ্যই বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে।’ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগ ওঠার পর আট মাসের বেশি পেরিয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে বাদীপক্ষকে অন্তত তিনবার চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। তবে ডিভাইসগুলো এখনো তদন্ত সংস্থার হাতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে, এ বছর ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’
এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়, যা পরে রাজপথে বিক্ষোভেও গড়ায়। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে বলা হয়, জামায়াত আমির কর্মজীবী নারীদের চরম অবমাননা করেছেন।
পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি মেইল ব্যবহার করে আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ছরওয়ারকে আটক করে ডিবি। তার ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরদিন তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় ডিবি। তবে সেদিনই আদালত থেকে জামিন পান ছরওয়ার।
গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম
জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি থেকে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিন লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানির দাম ৩ দফায় বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে জ্বালানি ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কী হবে, সেই বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, সার্বিকভাবে ব্যর্থতার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আপাতত এই দু’জনকে সরিয়ে দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলো। কেন তাদের সরিয়ে দেয়া হলো— সেটি স্পষ্ট নয়। কিন্তু নিজ সেক্টরে যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছে, তাদের কিন্তু সরিয়ে দেয়া হচ্ছে না, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না। আমরা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই।
এনসিপির দ্বিতীয় দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রহসনের জন্য একদলীয় যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, সেই কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সেখান থেকেই সংস্কার করে নতুন সংবিধান করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায়ে যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে— সেই প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সাইবার আইনে যে সংশোধনী আনা হচ্ছে, সেটি সংসদে কোনোভাবেই পাস হতে দেয়া হবে না। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধসহ মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো যেসব কর্তৃত্ববাদী আইন পাস করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া আমরা ৫ আগস্ট থেকেই বলে এসেছি— জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের যে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এই বিচারের এখনও বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় জুলাই আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচারের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এই ৪ দফা দাবিতে রাজধানীতে গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকেল ৩টায় গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি— নিজেদের দাবি আদায়ে এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন। এ সময় ঢাকা মহানগরে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে দাবি আদায়ে সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।