মাহদী আমিন।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ এএম

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। 


বিএনপি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না-সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন একটি দল সব চেয়ার দখল করে রাখল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো, সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে কেন ওই দলের প্রার্থী সংঘাতের পথ বেছে নিলেন- এসব বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।


বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত আসন ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সব আসন দখল করে রাখেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে বাধা দেন। প্রশাসন বারবার অনুরোধ জানালেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর সবার প্রত্যাশা ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, সংঘাতময় পরিবেশ নয়।


তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং জনগণের বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। তাই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত থাকে এবং কেউ যেন নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত সৃষ্টি করতে না পারে- এটি আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু শেরপুরের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত হলো, কারা এতে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হলো- এসব প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে।


মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তা সত্ত্বেও তিনি কেন সেই পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন- সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ভিডিওতে তাকে বারবার বলতে শোনা গেছে, ‘জান যায় যাক।’


তিনি বলেন, এই সংঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি যে দলেরই হোন না কেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। পাশাপাশি বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহত সবাইই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে কোনো মারামারি বা সংঘাত থাকবে না।


প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব পক্ষকে আহ্বান জানাই- কেউ যেন উসকানি না দেয়, উসকানিতে পা না দেয় এবং সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করে।


তিনি আরও বলেন, শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখবে- এটাই গণমানুষের প্রত্যাশা।


অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে হবে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল এবং বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, দোষারোপের রাজনীতিতে নয়।


মাহদী আমিন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার হলো একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় থাকলে ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে পারব।




জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন নেতারা। 


আজ সোমবার এক গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়া এবং পৃথক বিবৃতিতে দলগুলোর নেতারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি ভাড়া তথা পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে। 


গতকাল রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার করা হয়েছে। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ ও অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। 


বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি, লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। এতে লোকসানের কারণে এই দাম বাড়াতে হয়েছে। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি- তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।  


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান করতে পারছে না। মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও চাপিয়ে দিল এক চরম জুলুমের বোঝা। 


ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। 


অন্যদিকে পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তাদের জীবনে তীব্র সংকট সৃষ্টি হবে। 


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‌‘যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার সামিল। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি- চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে যা সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেবে।’


তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার পাঁচ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল যা সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রকাশ। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার; গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানান তিনি। 


বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল পৃথক বিবৃতিতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 


তারা বলেন, ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে গৃহস্থালি, অফিস, কারখানা, কৃষি শিল্প, উৎপাদন পরিপূর্ণ হুমকির মধ্যে। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। সারাদেশে অস্থির পরিস্থিতি, মানুষ ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। গরিবের সূচক মাত্রা বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে পুনরায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি- বাজার থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সর্বত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ 


এই নেতারা বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবে, সরবরাহ কমে যাবে। মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। এ অসহনীয় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ সামাল দিতে পারবে না। সরকারের পক্ষে এখনও কোনো পরিপূর্ণ জ্বালানি নীতি ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তির পর জ্বালানি ক্ষেত্রে একটা লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে দেশপরিচালনার নীতি কখনও মঙ্গল বয়ে আনবে না। সরকারের উচিত হবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বাজারসহ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সকল কিছু রাখা।’


বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণের কাঁধে আরও মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপালো। জ্বালানি তেলের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচ খরচসহ কৃষকের উৎপাদন খরচ, শিল্পপণ্য, যাতায়াত, গৃহস্থালি খরচসহ সব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়বে।’ 


তিনি বলেন, ‘সরকার এমন সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল, যখন কয়েক বছর ধরে লাভে আছে বিপিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব খরচ ও কর বাদ দিয়ে বিপিসি প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। বিপিসি গত ১১ বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। বছরে গড়ে লাভ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সংস্থাটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপরে।’ 


মাসুদ রানার প্রশ্ন- তবে এমন লাভের সুফল জনগণকে কেন দেওয়া হবে না? 


তিনি বলেন, এই উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে আপদকালীন জ্বালানি তহবিল গঠন করা হলে, সেখান থেকে ভর্তুকি দিলে বা ডিজেল আমদানির সময় সরকারের আরোপিত ৩১.৮৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুটা কমালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।


তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি- বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনায় বিশাল বিশাল মেগাপ্রকল্প, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ইত্যাদিই গুরুত্ব পাচ্ছে, যার মাধ্যমে সরকারি ব্যয় বহুগুণ বাড়ছে অথচ জনগণকে মূল্যবৃদ্ধির কবল থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি জনবান্ধব কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের ওপর বিরাট মূল্যবৃদ্ধির বোঝা না চাপিয়ে সরকারি ব্যয় সমন্বয় করে স্বস্তি দেওয়া এ পরিস্থিতিতে সরকারের অন্যতম কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল।’


মাসুদ রানার মতে, লাভে থাকার পরও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে সরকারি সেবা খাতে ভর্তুকি কমানোর নামে জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত জনবিরোধী। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বর্তমান সরকার আইএমএফসহ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা, দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের তোষণ করার নীতিতেই অর্থনীতি পরিচালনা করছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ। 


অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। জনগণকে এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন নিউ ইয়র্কের পথে রয়েছেন, তখন জ্যাকসন হাইটসে বিএনপির নেতাকর্মীদের স্লোগানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাল্টা স্লোগানে সরব থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাটিতে এ চিত্র দেখা যায়।


নোয়াখালী প্রবাসী সেলিম উদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউ ইয়র্ক আসছেন, আমরা প্রস্তুত হয়ে আছি তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানতে।


“আপনি দেখছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘তারেক রহমান আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘নিউ ইয়র্কে তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম। এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আনন্দ প্রকাশ করছে।”


নিউ ইয়র্ক সিটি শাখা বিএনপি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদাভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।


শ্রমিক দলের এক নেতা বলেন, “সোমবার দুপুরে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দুপুর আড়াইটায় জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেবে।


“সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিউ ইয়র্ক পৌঁছালে আমরা সড়কের এক পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের নেতাকে শুভেচ্ছা জানাব।”


রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী জ্যাকসন হাইটসে সমবেত হয়। তারা ‘এই মুহূর্তে দরকার, আওয়ামী লীগের সরকার’, ‘উন্নয়নের সরকার, শেখ হাসিনার সরকার’প্রভৃতি স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীরা তাদের অবস্থান জানান দেন।


জ্যাকসন হাইটসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছেন। সন্ধ্যায় তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।


গাজী মো. নজরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

অবশেষে মুখ খুলেছেন নারীসহ ভাইরাল হওয়া সেই জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলাম। দল থেকে বহিষ্কারের প্রায় দুই মাস পরও নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও সংসদ সদস্য হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। তার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল আর জামায়াতের সদস্য নন।


গণমাধ্যমকে গাজী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তার দাবি, দলের সদস্যপদ এখনো বহাল রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘আল্লাহর রহমতে সদস্যপদ এখনো আছে’ এবং খাতা-কলমে তিনি জামায়াতের সদস্য হিসেবেই রয়েছেন। দল তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান তিনি।


তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ বলেন, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।


একই কথা জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের পর স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।


এরপর তার সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় দলটি।


এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত কার?


দলীয় সদস্যপদ হারানোর পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ কীভাবে বহাল থাকবে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। তিনি দলীয় এমপি হিসেবে থাকবেন, নাকি স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।


জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। ফলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৯ দফা দাবি

কেন্দ্রীয় কমিটির ভার্চুয়াল সভা


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৯ নেতার ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিল, দলীয় কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে দলটি। গত শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব দাবি জানানো হয়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এটিই ছিল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক। এ বৈঠকটি ভারতের নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার আবাসস্থলে হওয়ার কথা থাকলেও পরে ভার্চুয়ালি হয়েছে। 


দলটির ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল শনিবার প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশে বিদ্যমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণ, তেল-গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভার প্রস্তাবে দ্রব্যমূল্য কমানো, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সরবরাহ নিশ্চিত, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, রাজবন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করা হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বিদ্যমান অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 


দলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং প্রমুখ।

বিষয় :


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে আজ রোববার মতবিনিময় করবে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। এতে অংশ নিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দলটি বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জুলাই সনদ ও গণভোটের সিদ্ধান্তের আলোকে সংবিধান সংস্কার করা উচিত। দলটির মতে, গণভোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংবিধান সংশোধনের কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।


এ কারণে আজকের মতবিনিময় সভায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে দলটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী মহাসচিব ও বিভাগীয় প্রধান শেখ ফজলুল করীম রোববার এসব তথ্য জানান।


তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত। এ বিষয়ে দলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।


হাসনাত আব্দুল্লাহ

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪০ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গত ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ চারটি বিষয় মন্ত্রীর ‘উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মন্ত্রীর ছেলে ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েকটি অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন।


পোস্টে হাসনাত লিখেছেন, গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য— ১. ছেলের বিসিবির ডিরেক্টর হওয়া। ২. প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কমিশনের জাপানি কোম্পানির লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ পাওয়া এবং সচিবদের সঙ্গে মিটিং করার সুযোগ তৈরি করা। ৩. বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্টের লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ পাওয়ার চেষ্টায় এগিয়ে থাকা। ৪. ছেলের শিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা।


পোস্টের শেষে তিনি আরও লেখেন, ‘সব মিলিয়ে, গত ছয় মাসে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার কতটা উন্নতি হয়েছে জানি না, তবে উনার পকেটের উন্নতির গতিটা বেশ লক্ষণীয়।‘


হাসনাতের এমন পোস্টে ইতোমধ্যে সাড়ে ছয় হাজারের মতো শেয়ার ও সাড়ে ৫ হাজারের মতো কমেন্ট পড়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনও কিছু বলেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে মন্ত্রী বলেছেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।