সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তবে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ এবং ‘ঈদের পরে আন্দোলনের’ মতো মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলানিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাইয়ের সব পক্ষ শক্তি এক হয়ে যাবে। ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ ভোগবাদী দলে পরিণত হয়েছে। বিদেশের ভোগবিলাসের জীবন ছেড়ে বেশির ভাগ নেতা-কর্মী দেশেই আসবে না।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তিও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পেছনে নেই। সুতরাং শেখ হাসিনা দেশে ফেরার মতো এত বড় ঝুঁকি নেবেন না।
সব শেষ গত শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার এবং আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানান।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টেলিফোনে তিনি এ সাক্ষাৎকার দেন। সম্প্রতি তিনি এনডিটিভিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারেও দেশে ফেরার কথা বলেন। এর আগে রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কলরেকর্ড ভাইরাল করার মাধ্যমে বহুবার বলেছেন- তিনি যেকোনো সময় দেশে ফিরবেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী। তিনি বলেন, কোন ডিসেম্বর? বলেন নাই তো এই ডিসেম্বরে আসবেন। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাকি পরের কোনো ডিসেম্বরে। ওই বিএনপি যেমন বলত-ঈদের পরে আন্দোলন করব, কিন্তু ঈদের পরে আর আন্দোলন করত না, ওই রকমই হবে।
তিনি বলেন, রয়টার্স, এনডিটিভিকে দেশে ফিরবেন বলার আগেও বিভিন্ন ভাবে টেলিফোনিক আলাপগুলো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন- আসতেছি। কিন্তু কিছু হয় নাই। এখনকার এই বলাটাকেও ওই একই ভাবে দেখছি, খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে কতটা ঝুঁকি নেবেন এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নুরুল আমিন বলেন, মনে হয় ঝুঁকি নেওয়ার অত সাহস নেই। কারণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, তো অত সাহস মনে হয় হবে না। আর আন্তর্জাতিক লবি এখন আর আওয়ামী লীগের পেছনে নেই।
তিনি বলেন, মনে হয় না উনি এত বড় ঝুঁকি নেবেন। আর দেশে এলে উনি (শেখ হাসিনা) আদালতের সম্মুখে ফাঁসির আসামি। ফাঁসির আসামি হিসেবে ওই ড্রেস পরতে হবে, ওই ট্রিটমেন্টটা পাবেন। ভারতও কিছুদিন পর শেখ হাসিনাকে ‘বোঝা’ মনে করবে বলে মনে করেন রাজনীতির এই শিক্ষক।
তিনি আরো বলেন, কিছু দিন পর দেখবেন ভারত শেখ হাসিনাকে একটা বোঝা মনে করবে। তার কারণ, বর্তমান সরকার দেখেন চীনমুখী চলে গেছে। চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করছে। তিস্তার কাজটা যখন শুরু করবে, তখন তো ইন্ডিয়া যত চেষ্টা করুক আর আগের মতো আসতে পারবে না। ইন্ডিয়া মনে হয় একটা নতুন চিন্তাভাবনা করছে যে শেখ হাসিনাকে আর কতটুকু সাপোর্ট দেবে তারা। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় এইটা (শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য) একটা হুমকি দেওয়ার মতো হচ্ছে অথবা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাহস যোগানোর জন্য বলছেন-আসতেছি।
শেখ হাসিনা দেশে এলে তার পক্ষে কতটা জনমত তৈরি হবে? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে কি না? এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, আমার মনে হয় এখন পর্যন্ত ওই পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। উনি দেশে এলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) যারা গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল তারা সবাই সঙ্গে সঙ্গে এক হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সাহস পাবে না। তার ওপর তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত একটা দল। তাদের তো অ্যারেস্ট করবে।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনমুখী হবে না বলেও মনে করেন অধ্যাপক নুরুল আমিন। তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় হলো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর টাকার মালিক হয়েছে। একবার টাকার মালিক হইলে তারা আর আন্দোলনমুখী হয় না। তারা ভোগবাদী নেতাকর্মীতে পরিণত হয়। যেটা আমরা দেখেছি বিএনপির ক্ষেত্রেও। ১৫ বছর আমরা বিএনপিকে দেখেছি আন্দোলনকে তত তারা বেগবান করতে পারেনি। তার কারণ ওই কয় বছর তারা ক্ষমতায় ছিল তাদের মধ্যে কিছু নেতাকর্মী একই ভাবে টাকা পয়সার মালিক হয়ে গিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে তারা আন্দোলন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগও ওইভাবে একটা ভোগবাদী পার্টিতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।
অধ্যাপক নুরুল আমিন বলেন, প্রমাণ দিতে পারি অনেক কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী প্রচুর টাকার মালিক হয়েছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। তারা কখন আসবে? ওই যখন মনে করবে ২৪-এর অভ্যুত্থানের মতো আরেকটা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সফল হওয়ার পরে আসবে। এর আগে আসবে না, ঝুঁকি নেবে না। যদি নেয় অল্প সংখ্যক নেবে, ব্যাপক আকারে ঝুঁকি নেবে না। ফলশ্রুতিতে শেখ হাসিনা এই বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করতে পারবেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পলিটিক্যাল সায়েন্স) বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলামও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ মনে করছেন।
তিনি বলেন, এটা স্টান্টবাজি, এটা একটা রাজনীতি। মানে উনি আত্মসমর্পণ করবেন এরকম না। আমার মনে হয় উনি আসবেন বা আত্মসমর্পণ করবেন এরকম সম্ভাবনা খুবই কম। এটা তার কর্মীদের এক ধরনের উজ্জীবিত করা, এক ধরনের পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি।
অধ্যাপক আইনুল ইসলাম আরো বলেন, আমার মনে হলো বাংলাদেশ সরকার রেডি আছে শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করার জন্য। কারণ যদি উনি আসেন তাহলে তো ওনাকে আইন মোকাবেলা করতে হবে। আর আইনকে ফাঁকি দেওয়ার জন্যই তো আসলে ওনারা দেশ থেকে চলে গেছেন। এখন আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহ হয় আসলে আইন মোকাবেলা করার জন্য আদৌ আসবেন কিনা।
ইশরাক হোসেন
প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’
ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না। অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। ৭ মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’
বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সব ক্ষেত্রই দলীয়করণ করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আওয়ামী আমলের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যের পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার।’
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নিতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগও সরকার করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৭ মাসে সরকার লেজে গোবরে জড়িয়ে গেছে।’
বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরোয়ার বলেন, ‘৯ নং দফার বিপরীতে গিয়ে সর্বত্র দলীয়করণ করছে সরকার।’
শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হচ্ছে দাবি করে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী কখনোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল মিলে লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট কি তা ৭ মাসের মধ্যেই ভুলে গেছে বিএনপি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিজ দলের লোক বসানো, জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ বিএনপি তা ধারণ না করে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল গুলিয়ে ফেলছে বিএনপি। দুর্নীতি ও দলীয় কর্মীদের কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, জামায়াত নয়। জুজুর ভয় দেখিয়ে সব বিরোধীদলকে পাল্টা দোষারোপ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ; বিচার কার্যকরের পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।
ইশরাক হোসেন
প্রথমে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবরকে গুজব বলা, সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ করা, পরে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার– ইশরাক হোসেনের এই প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
দেশে এর আগে বিতর্কের মুখে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির আছে। ২০২১ সালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য এবং একই সময়ে ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথন নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সে তথ্য সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এর মধ্যে মুরাদ হাসান ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে যান এবং সেখান থেকে ইমেইলে মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান। মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ইশরাক হোসেনের পদক্ষেপের বড় ফারাক আছে। তবে একমাত্র মিল, তারা কেউই নিজের দোষ স্বীকার করেননি।
২০১২ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারীর গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। সে সময় তিনি ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগের কথা বললেও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন।
এ ধরনের পদত্যাগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ভর করে অভিযোগের প্রকৃতি, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী তদন্তের ওপর। এদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে দুটি পর্ব শেষ হয়েছে। একটি পর্ব বাকি থেকে গেছে। আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন।
ইশরাক হোসেন এদের ঠিক উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য ভবিষ্যতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তাঁর পক্ষে কাজ করবেন– এমন কথাও বলেছেন।
ইশরাকের গত দুদিনের ধারাবাহিক কথাবার্তায় তিনটি প্রবণতা দেখা যায়। নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন। ঘটনার ব্যাখ্যায় নিজের বয়ান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং পদত্যাগের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে দলের কাছে একটি বার্তা হিসেবে সামনে এনেছেন।
সংকটের মুখে একজন রাজনীতিক কী বলেন, কীভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় কতটা গ্রহণ করেন– এগুলো তাঁর নেতৃত্বের ধরন ও রাজনৈতিক চরিত্র বুঝতে সাহায্য করে। সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাটি এ বিবেচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে।
গত শনিবার ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির ভিডিও তিনি নিজেই প্রকাশ করেন। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। এর মাঝের সময়টায় তাঁর কর্মকাণ্ডকে পদত্যাগের নির্দেশের খবরের ফলে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে সমর্থকদের মনোবল অক্ষুণ্ন রাখার উদ্যোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে না। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সমর্থকদের উপস্থিতিও এমন সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তবে বাস্তব সমস্যা হচ্ছে, প্রথমে একটি সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে, পরে সেই সংবাদের মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় ইশরাকের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্যের নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণে এই পর্বটি প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেছেন, গেণ্ডারিয়ার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি ভুল করেননি।
ইশরাক অভিযানের উদ্দেশ্য সামনে এনেছেন, কিন্তু অস্ত্র হাতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্কের দায় স্বীকার করেননি। ব্যাখ্যায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং নিজের নিরাপত্তাকে সামনে এনেছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আত্মপক্ষ সমর্থনের পরিচিত কৌশল। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আচরণকে বৃহত্তর কোনো জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে নিজের কর্মকাণ্ডের নৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থাকে। কিন্তু জনস্বার্থের উদ্দেশ্য থাকলেই যে সব কিছু গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে, তা ঠিক না।
একই উদ্দেশ্যে ইশরাক গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, অস্ত্র হাতে থাকার দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে চলে গেছে।
আসলে ইশরাক মাদকবিরোধী উদ্যোগের পক্ষে যে যুক্তি তুলে ধরেছেন, তা বিতর্কের সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। তাই তাঁর অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া, পুলিশের ভূমিকা এবং অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই হবে যথাযথ পথ।
ইশরাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তাঁর পরবর্তী কাজের ওপর। তিনি যদি মাদকবিরোধী উদ্যোগকে আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন এবং নিজের আচরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব দেন, তাহলে বর্তমান বিতর্ক থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজনে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা, জবাবদিহি মেনে নেওয়া এবং ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি। ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনা তাঁকে সেই পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আরও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। মাদকবিরোধী কর্মসূচি জোরদার করা এবং সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর কথাও বলেছেন। বলা যায়, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগকে রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে নয়, বরং দায়িত্ব পালনের নতুন পরিসর হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। এটা করতে গিয়ে তিনি তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আপাতত মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে উপস্থাপন করেছেন।
এখন দেখার বিষয়, ইশরাক কি নিজের উদ্দেশ্যের প্রতি দৃঢ় থাকার পাশাপাশি সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন? তিনি কি মাদকবিরোধী কাজকে ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, আইনের শাসন এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারবেন?