২১ জানুয়ারি সিলেট আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ এএম

সিলেটেই তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুর ছিলেন সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী মাহবুব আলী খান। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে। 


তাই সিলেটকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই সিলেটে প্রায় ২০ বছর পর আসছেন তারেক রহমান। এর মধ্যে অবশ্য ১৭ বছরই ছিলেন যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে।


অবশ্য ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে থেকে ফেরার পথে তারেক কে বহনকারী বিমানের ফ্লাইটটি প্রথমে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরেই অবতরণ করে। সিলেটে কিছুক্ষণ যাত্রা বিরতি শেষে ঢাকায় রওয়ানা দেয় ফ্লাইটটি। তবে নিরাপত্তার সেদিন বিমান থেকে নামেননি তারেক রহমান। 


নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে আগামী ২১ জানুয়ারি সিলেট আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২২ জানুয়ারি সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) মাজার জিয়ারতের মধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন তিনি। 


এর আগে সবশেষ ২০০৫ সালে সিলেটে এসে ছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। সিলেটে বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ওই সম্মেলনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছিলো। 


এর ২০ বছর পর আবার নিজের শ্বশুড় বাড়ির এলাকায় আসছেন তারেক। এবার তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান হওয়ার পর ঢাকার বাইরে সিলেটেই প্রথম আসছেন তিনি। সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) মাজার জিয়ারতের মধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ; বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সেই পথে হাঁটছেন। 


বিএনপির নেতারা বলেছেন, আগামী ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর প্রথম দিনেই সিলেটে পা রাখবেন দলের চেয়ারম্যান। সেখানে মাজার জিয়ারতের পরেই ভোটের প্রচারে নেমে পড়বেন তিনি। আর প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ করবেন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে। 


দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘পীর-আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট থেকেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। ২২ জানুয়ারি প্রথমে তিনি হয়রত শাহজালাল (র.) এবং পরে খাদিম নগরে হয়রত শাহ পরাণের (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। এই জিয়ারতের মধ্য দিয়ে চেয়ারম্যানের আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু হবে।” 


বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সিলেট থেকেই প্রচারাভিযান শুরু করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে সব নির্বাচনে সিলেটে থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন খালেদা জিয়াও।সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তার প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। 


সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারম্যানের সিলেট আগমন উপলক্ষে সমাবেশ করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রায় দুই যুগ পর তারেক রহমান সিলেট আসছেন, সেজন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সিলেটবাসী। 


কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ফেরার পথে তারেক রহমান সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় পথসভা করবেন।এর মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ হবে বলে জানান কাইয়ুম চৌধুরী।তবে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বলেছে, সিলেট সফরের পুরো কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হবে। 


যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এর ১০ দিনের মাথায় শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। ভোটের প্রচার শুরুর বিষয়ে শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক বলেন, “সামনে নির্বাচন আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।”




  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ এএম

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে। সরকারি কর্ম কমিশন যেন কোনো ভাবেই দলীয়করণের আওতায় না পড়ে।


রবিবার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তি কতৃক আয়োজিত ''বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ'' শীষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।  


তিনি বলেন, "যদি পিএসসিতে শুধু সরকারদলীয় লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে একটা আশঙ্কা থেকেই যায় যে সেখানে এক ধরনের আনফেয়ার পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হতে পারে। সে কারণেই কিন্তু আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আলোচনা করেছিলাম যে পিএসসিতে নিয়োগ হতে হবে এমনভাবে যেখানে সরকারি দল কথা বলবে বিরোধী দল যারা আছে তারাও কথা বলবে।"


তিনি আরও বলেন, "যদি সরকারি দল-বিরোধীদল সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজনকে পিএসসি'র দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়, তাহলে সেই মানুষটা অন্তত পক্ষে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা রাখতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশের  অধিকাংশ মানুষ গণভোটে অংশ নেওয়ার পরেও, সেই গণভোটের রায় এখনো কার্যকর হয় নি। আমরা প্রত্যাশা করবো বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়।"


এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছবিঃ ফেসবুক

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ এএম

কক্সবাজার ও গাজীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল নিয়ে বিএনপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।



এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের আমলের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন নিয়েও বিএনপির প্রতি প্রশ্ন তোলেন।



রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।



পোস্টে সারজিস বলেন, ‘বিএনপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের গ্ৰিন সিগনালে এবং পুলিশের সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা কক্সবাজার ও গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল হয়েছে।’


প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় বিএনপি, এত তাড়াতাড়ি আপনাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের উপর স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের করা ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন সব ভুলে গেলেন? এত তাড়াতাড়ি শহিদ ওয়াসিমসহ জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া, রক্ত দেওয়া আপনাদের শত শত নেতাকর্মীদের সব ত্যাগ ভুলে গেলেন?’


‘নাকি আপনাদের নেতাকর্মীদের উপরে এতো জুলুম, নির্যাতন কিংবা তাদের রক্ত, জীবনের কোনো মূল্য আপনাদের কাছে নেই? নাকি যা বলেন কিংবা যা করেন সবই লোক দেখানো?’


সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ‘নেতাকর্মীদের কথা বাদই দিলাম, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যেই নির্মমতা হলো, সেসব কীভাবে ৬ মাস যেতে না যেতেই ভুলে গেলেন? মনে রাখবেন, পাপ কিন্তু বাপকেও ছাড়ে না।’


<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fsarjis.nirob%2Fposts%2Fpfbid025iBFTsKReLQBtSZy9H2sUwBneMnCereThZ1MZUsrMuBtB7LMss9gXfpoSUB8ihb4l&show_text=true&width=500" width="500" height="252" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


এ নিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন শেষ হওয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে জোটের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনও ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনও কর্মসূচির ব্যানার বা প্রচারণায় তাদের দল বা নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।



জাতীয় নাগরিক পার্টি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পর তার কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।


আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করা হলেও পুরো বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তার জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ তৈরি হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।


তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি যত অপরাধ করেছেন, সেগুলোর জন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’


আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকার বিচার হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘তিনি যদি বিচারের আওতায় না আসেন, তাহলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচারও অপূর্ণ থেকে যাবে।’


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতদিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে পদত্যাগের পর তার আর কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নতুন আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে গাজী নজরুলকে তার সঙ্গে থাকা এক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডোর, লবি এবং বিভিন্ন স্থানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার (বেগম) কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের অভ্যর্থনা ডেস্কে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে চলে যান।


ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হোটেলের লবিতে গাজী নজরুল ইসলাম ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করছেন। এ ছাড়া করিডোর ও সিঁড়ি ঘরের সামনেও তিনি ওই নারীর সঙ্গে আন্তরিক হন।


ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।


এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।


ওই ঘটনার পর লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হোটেল কক্ষে তার সঙ্গে দেখা যাওয়া নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।


এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নতুন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা নারী মরিয়ম আক্তার কি না, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না মেলায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


গাজী নজরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৫ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে দলটি।


চিঠিতে জামায়াত বলেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


চিঠিতে বলা হয়েছে, গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসিকে বলা হয়েছে।


জানতে চাইলে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।


এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গতকাল বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসি ও স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে অবহিত করতে আজ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


এর আগে গতকাল বুধবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছিলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার জন্য আজ নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হবে।


এর আগে গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেলেই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়টি সিইসি ও স্পিকারকে অবহিত করার চিন্তা করে জামায়াত। তবে কিছু বিষয়ের আলোচনা সামনে আসলে গতকাল চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দলটি। 


জামায়াত সূত্র জানায়, গতকাল দলের বৈঠকের পর ইসিতে চিঠি পাঠানোর মতো সময় পাওয়া যায়নি। কারণ, এরই মধ্যে অফিসের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া বিগত সময়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুটি ঘটনায় সংসদের স্পিকারকে আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাই আগে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হবে নাকি সিইসিকে— তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সকালে সিদ্ধান্ত হয়, একই সময়ে দুই জায়গায় চিঠি দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী বিকেলে সিইসি ও স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।


৭৪ বছর বয়সী গাজী নজরুল এবার তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সাতক্ষীরা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন তিনি।


তদন্তে যা পেয়েছে জামায়াত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। ইজ্জত উল্লাহ পাশের সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য। 


গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দেন গাজী নজরুল। কমিটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।


কী ধরনের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পেয়ে তাঁকে বহিষ্কার করা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, গাজী নজরুল বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘পর্দা লঙ্ঘন’ করেছেন। তা ছাড়া এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব হবে না বলেই তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 


জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁর আত্মীয়। তিনি ঢাকায় এলে মাঝেমধ্যে ওই আত্মীয়র বাসায় উঠতেন। 


গত সোমবার রাতে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন। 


তবে পরদিন গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 


জামায়াত, গাজী নজরুল ও তাঁর পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো বিয়ের পরের এবং প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই বিয়ে হয়েছে। তবে গাজী নজরুল নৈতিক স্খলনের পাশাপাশি একটি চক্রের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন বলেও মনে করেন জামায়াতের কোনো কোনো নেতা।