ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:২৪ পিএম

প্রথমে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পর পোলিং অফিসার ভোটার তালিকায় আপনার নাম এবং ক্রমিক নম্বর যাচাই করবেন। ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি মিললেই ভোট দেওয়া সম্ভব। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন।


নির্বাচনের দিন ভোটারের আঙুলে যে বেগুনি কালি লাগানো হয় সেটাকেই বলে অমোচনীয় কালি। সেটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চিহ্ন নয় এটি গণতন্ত্র রক্ষার এক কার্যকর ও পরীক্ষিত ব্যবস্থা। ভোটার একবার ভোট দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে এবং একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই কালি ব্যবহার করা হয়। বহু দেশে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ।


কেন দেওয়া হয় অমোচনীয় কালি?


গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে বিপুল মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ লাইন এবং নানা প্রশাসনিক চাপে কখনো কখনো অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ যদি একাধিক কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন, তা ঠেকাতে একটি দৃশ্যমান, দ্রুত এবং কম খরচের পদ্ধতি দরকার। অমোচনীয় কালি সেই কাজটাই করে।


ভোটার তালিকায় নাম মিলিয়ে ভোট দেওয়ার পর ভোটারের বাম হাতের তর্জনী বা নির্দিষ্ট আঙুলে কালি লাগানো হয়। এই কালি সাধারণ সাবান-পানি দিয়ে সহজে ওঠে না এবং কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দাগ থাকে। ফলে একই ব্যক্তি আবার ভোটকেন্দ্রে গেলে সহজেই বোঝা যায় যে তিনি এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন।


কবে থেকে শুরু?


অমোচনীয় কালি ব্যবহারের ইতিহাস প্রায় ৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো। ১৯৬২ সালে প্রথমবারের মতো ভারতের সাধারণ নির্বাচনে এই কালি ব্যবহৃত হয়। সে সময় দেশজুড়ে বিপুল ভোটার এবং বিশাল ভৌগোলিক বিস্তারের কারণে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঝুঁকি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীদের সহায়তায় তৈরি হয় বিশেষ ধরনের এক কালি, যা সহজে মোছা যায় না।


এরপর ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, আফ্রিকার বিভিন্ন রাষ্ট্র, এমনকি লাতিন আমেরিকার কিছু দেশেও এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশেও জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহু বছর ধরেই এই কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হয়। তখন থেকেই এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে।


এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সব ধরনের নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে এই কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সাধারণত সিলভার নাইট্রেটসমৃদ্ধ বিশেষ কালি ব্যবহার করে, যা কয়েকদিন পর্যন্ত আঙুলে দাগ রেখে দেয়।


অর্থাৎ প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে অমোচনীয় কালি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


কালি তৈরি হয় কীভাবে?


এই অমোচনীয় কালির মূল উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট। এটি ত্বকের উপরের স্তরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এক ধরনের স্থায়ী দাগ তৈরি করে। সাধারণত ১০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ সিলভার নাইট্রেট মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। কালি আঙুলে লাগানোর পর এটি ত্বকের কোষের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে এবং সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে আরও গাঢ় হয়ে যায়।


এই কালি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, কারণ খুব অল্প পরিমাণ ব্যবহার করা হয় এবং এটি শুধু ত্বকের উপরিভাগে কাজ করে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘষা, ব্লিচ বা রাসায়নিক ব্যবহার করলেও সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি তোলা যায় না।


কতদিন থাকে এই দাগ?


সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত দাগ স্পষ্ট থাকে। কারও ত্বক অনুযায়ী এটি কিছুটা কম বা বেশি সময়ও থাকতে পারে। ত্বকের ওপরের মৃত কোষ ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাগও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। এ কারণেই একে ‘অমোচনীয়’ বলা হলেও এটি স্থায়ী নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর।


কীভাবে প্রয়োগ করা হয়?


ভোটার যাচাই-বাছাই শেষে পোলিং অফিসার একটি ছোট বোতল বা মার্কার পেনের মতো যন্ত্র দিয়ে আঙুলে কালি লাগান। সাধারণত নখের গোড়া থেকে আঙুলের ওপরের অংশ পর্যন্ত একটি সরু দাগ টানা হয়। কিছু দেশে বুড়ো আঙুলে, কোথাও আবার তর্জনীতে কালি লাগানো হয় দেশভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।



জালিয়াতি রোধে কতটা কার্যকর?


অমোচনীয় কালি নির্বাচনী জালিয়াতি রোধে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে স্বীকৃত। বিশেষ করে যেসব দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র বা বায়োমেট্রিক যাচাই পুরোপুরি নির্ভুল নয়, সেখানে এটি একটি বাড়তি নিরাপত্তা স্তর যোগ করে।


তবে শুধু কালি থাকলেই সব অনিয়ম বন্ধ হয়ে যায় না। ভুয়া ভোটার তালিকা, কেন্দ্র দখল বা জাল ভোট দেওয়ার মতো বড় অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসনিক কঠোরতা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনাও জরুরি। তবু ব্যক্তিগত পর্যায়ে একাধিকবার ভোট দেওয়া ঠেকাতে এই কালি অত্যন্ত কার্যকর।


প্রযুক্তির যুগে কি এখনও প্রয়োজন?


বর্তমানে অনেক দেশে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন), বায়োমেট্রিক যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও অমোচনীয় কালি এখনও প্রাসঙ্গিক। কারণ প্রযুক্তি ব্যর্থ হতে পারে, বিদ্যুৎ বা নেটওয়ার্ক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


এমন পরিস্থিতিতে একটি দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে কালি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সমাধান দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ই নির্বাচনী নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত করে।


বিতর্ক ও সমালোচনা


কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে কালি যথেষ্ট গাঢ় নয় বা দ্রুত উঠে গেছে। আবার কোথাও কোথাও কালির মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে বেশিরভাগ দেশেই নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে কালি তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়, যাতে কার্যকারিতা বজায় থাকে। এছাড়া মানবাধিকার সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নও মাঝে মাঝে উঠে আসে যেমন, ভোট না দেওয়ার অধিকার থাকলেও কালি লাগানো মানে কি ভোটারকে চিহ্নিত করা? তবে সাধারণভাবে এটি স্বেচ্ছায় ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।


প্রতীকী গুরুত্ব


অমোচনীয় কালি শুধু একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, এটি গণতন্ত্রেরও এক প্রতীক। ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর আঙুলের কালির দাগ অনেকের কাছে গর্বের চিহ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আঙুলের ছবি শেয়ার করার প্রবণতাও দেখা যায়। এটি নাগরিক দায়িত্ব পালন করার এক দৃশ্যমান স্মারক।


বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে নির্বাচনের দিন কালিযুক্ত আঙুল যেন উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছে। তরুণ ভোটারদের কাছে এটি প্রথম ভোট দেওয়ার এক আবেগঘন মুহূর্তের স্মৃতি।




ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

ভোট দেওয়া এমন কি আর কঠিন কাজ, একটা সিল দিলেই তো কাজ শেষ – এমনটাই কি ভাবছেন আপনিও? তবে বিষয়টি এতোটা সরল না, ছোট্ট কিছু ভুলের জন্য আপনার মূল্যবান ভোটটি গণনার সময় বাতিল হয়ে যেতে পারে।


তাই ভুলগুলো নিয়ে আগেই সতর্ক হওয়া দরকার। চলুন জেনে নেওয়া যাক-


১. সঠিক স্থানে সিল দিন


ব্যালট পেপারের একপাশে থাকবে প্রার্থী ও একপাশে মার্কা। সিল দিতে হবে মার্কার ওপরে। তবে সিল যদি নির্ধারিত স্থানের বাইরে চলে যায়, তাহলে ভোট গণনার সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এর ফলে আপনার ভোটটি গণনার সময় বাতিল হয়ে যেতে পারে।


২. ব্যালট ভাঁজ করার সঠিক উপায়


সিল দেওয়ার পরে ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করার পালা। এসময় প্রথমে কাগজটি একবার লম্বালম্বি ভাঁজ দেবেন, তারপর ওপর দিকে। তা না করলে, ব্যালট ভাঁজ করার সময় সিলের কালি ওপর পাশের মার্কায় লেগে যেতে পারে। এক্ষেত্রেও আপনার ভোটটি বাতিল হতে পারে, কারণ তখন একাধিক প্রার্থীর মার্কার ওপর সিলের দাগ দেখা যাবে।


৩. একাধিক সিল মানেই ভোট বাতিল


মনে করেন, আপনার এলাকার আসনের একাধিক প্রার্থীকে আপনার পছন্দ। ভোটকেন্দ্রে সেই বিভ্রান্তি থেকেই আপনি দু’জনের মার্কাতেই সিল দিয়ে দিলেন। ব্যস! আপনার ভোটটি একেবারেই পানিতে গেল। তাই গোপন কক্ষে ব্যালট হাতে যাওয়ার আগেই মনস্থির করে নিন কাকে আপনি আপনার প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান।


৪. ভোটারকে চেনার উপায় ব্যালটে থাকা


কোনো ভোটার যদি কলম বা পেনসিল দিয়ে ব্যালট পেপারে কোনো চিহ্ন দেন, টিক দেন বা সই করেন তাহলে সেই ব্যালটটি আর গ্রহণযোগ্য থাকে না। শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্র থেকে দেওয়া নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত সিলের কালি মার্কার ওপর নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে থাকলেই আপনার ভোটটির উদ্দেশ্য পূরণ হবে।


৫. ব্যালট পেপারের ক্ষতি


ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আপনার ব্যালট পেপারটি ছিঁড়ে যায়, তাহলেও বাতিল হবে আপনার ভোট।


৬. ব্যালটে লেখালেখি


অনেকে না জানার কারণে, ক্ষোভ বা রাগ থেকে অথবা মজা করে অনেক সময় ব্যালটে কিছু লিখে ফেলেন। যেমন- কোনো দাবি, স্লোগান, অভিযোগ বা বার্তা। এমন কারণেও ব্যালটি বাতিল বলে ধরে নেওয়া হবে।


৭. ব্যক্তির পরিচিতি


ব্যালটে যদি ভোটারকে চেনার কোনো উপায়, তার পরিচিতি বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন থাকে – তাহলেও ভোট বাতিল হয়।


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোট দিয়ে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করা আপনার অধিকার। আর সেই অধিকার সঠিকভাবে আদায় করতে চাইলে এই নিয়মগুলো জানা খুব জরুরি।



আজ প্রপোজ ডে

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

অনেকদিন ধরেই একজনকে পছন্দ করেন। বন্ধুদের ভিড়ে, ক্লাসে, ক্যান্টিনে কিংবা রাস্তায় দেখা হয় নিয়ম করে। পছন্দের মানুষকে দেখে মনের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক আলোড়নের। 


প্রচন্ড ভালোবাসা অনুভব করলেও মুখ ফুটে বলতে পারছেন না, অজানা শঙ্কা কিংবা ভয়ে। আজ বলেই ফেলুন, যা হবে তা দেখা যাবে। আজ কিন্তু প্রপোজ ডে।


ফেব্রুয়ারির এই সপ্তাহ জুড়ে বাতাস যেন প্রেমের সুবাস বয়ে যায়। হৃদয়ের জমে থাকা অনুভূতি যেন আজ প্রকাশের জন্য মুখিয়ে আছে। আজ প্রপোজ ডে, সেই দিন যখন কেবল চোখের ভাষা, হৃদয়ের স্পন্দন আর সরলতার সাহস একত্রিত হয়ে ওঠে সবচেয়ে মধুর মুহূর্ত।


প্রপোজ মানে শুধুই ‘আমি তোমাকে চাই’ বলার নাম নয়। এটি হলো অনুভূতির পূর্ণ প্রকাশ, এক সাহসী পদক্ষেপ, যা মানুষকে একসঙ্গে বাঁধার জন্য দেওয়া সবচেয়ে প্রাঞ্জল প্রতিশ্রুতি। প্রপোজ করার সময় সাহস লাগে। চোখের সামনের মানুষটি হয়তো আপনার হৃদয়ের আঙিনায় এক অনন্য স্থান দখল করেছে। 


তার হাসি, চোখের দীপ্তি, কিংবা নীরবতার মধ্যে লুকানো কোমলতা এই সবকিছুই আপনাকে বলছে, এবার সময় এসেছে। আজকের দিনটি সেই সাহসী মুহূর্তের জন্য সাজানো একটা চকলেট, একটি ফুল, কিংবা হৃদয়ের গভীর থেকে ওঠা এক শব্দ, যা কখনো ভাঙা হাতের মতো কোমল, কখনো ঝড়ের মতো তীব্র।


প্রপোজ ডে আমাদের শেখায়, ভালোবাসা কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না। এটি প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করে, একটি মুহূর্তের জন্য, যে মুহূর্তেই জীবন ভরে ওঠে আনন্দে, উত্তেজনায় এবং এক অনন্য অনুভূতিতে। মানুষ চায় প্রিয়জনের কাছে তার অন্তরের কথা পৌঁছে দিতে। আর যদি সাহস থাকে, তবে সেই প্রকাশ এক জাদুর মতো সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।


অল্প চাহনি, মৃদু হাসি, হাতের স্পর্শ এই প্রতিটি জায়গায় প্রেমের ভাষা লুকানো থাকে। আর প্রপোজ ডে হলো সেই ভাষার কথা বলার দিন। আপনি একটি ফুল উপহার দিতে পারেন, একটি চকলেট দিতে পারেন, অথবা শুধু নিজের হৃদয়ের কথা বলতে পারেন সবই গ্রহণযোগ্য। কারণ আজকের দিনটি কেবল চিহ্নিত করে অনুভূতির সাহস।


শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার নয়, প্রপোজ ডে আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অনুভূতির প্রকাশ কখনো ছোট বা বড় নয়। এটি হৃদয়ের আঙ্গিনায় বাস করা সবচেয়ে নিখুঁত অনুভূতি। আর আজ, এই বিশেষ দিনে, যদি আপনি বলার সাহস পান ‘আমি তোমাকে চাই, চিরকাল’ তাহলে হয়তো সেই মুহূর্ত হয়ে উঠবে জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি।


শুধু প্রেমিকা নয়, যার সঙ্গে অনেককাল ধরে আছেন, সংসার করছেন, মনের কথা প্রতিদিন বলা হয়ে ওঠে না। কর্মব্যস্ততায় দিন শেষেও বলার সময় বা সুযোগ হয় না আমি তোমাকে ভালোবাসি বলার, আজ বলুন। 


নতুন করে সঙ্গীকে বলুন ভালোবাসি। নতুন করে আজ আবার শুরু হোক সেই প্রথমদিনের মতোই প্রেম। প্রেমিকার চোখে যে ভালোবাসার ঝিলিক দেখে হারিয়ে যেতেন, আজ নতুন করে সেই ভালোবাসা পুরোনো প্রেমিকা, যে আজ স্ত্রী, আপনার সন্তানের মা তার চোখে দেখুন।


ভালোবাসা কখনো পুরোনো হয় না। গাছ যেমন পানি, সার, যত্নে বড় হয়, সতেজ থাকে। ভালোবাসাও তেমনি যত যত্ন নেবেন ততই বাড়বে।


আজ থেকেই আবার শুরু করুন না, ভালোবাসার যত্ন নেওয়া। দেরি না করে আজই পছন্দের মানুষকে প্রপোজ করুন। কারণ কখনো কখনো একটি শব্দ, একটি হাসি, একটি আঙ্গিক এই সমস্তকিছুই জীবনের রঙিন গল্পের শুরু হতে পারে।


মুফতি আমির হামজা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ পিএম

সম্প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম নিয়ে কটাক্ষ করা আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজার একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। 


নতুন করে ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ায় বিব্রত বোধ করেন অনেকেই। যা আমির হামজারও দৃষ্টিগোচর হয়। যে কারণে দুঃখ প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্টাটাস দিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। 


১৭ জানুয়ারি রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি পোস্ট করে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আরাফাত রহমান কোকোর জান্নাত কামনা করেন।


মুফতি আমির হামজা লিখেছেন, ‌‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে আমার দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সেই সময়ই একটি বিষয় বোঝাতে যেয়ে উদাহরণটা দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি।’


নতুন করে বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি দাবি করেন, ‘পুরোনো বক্তব্য যারা সামনে এনে নির্বাচনকালীন বক্তব্য বলে চালানোর ষড়যন্ত্র করছেন। তারাও নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যেয়ে নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তিকেও ছাড় দিলেন না। 


এটাও একটু চিন্তা করে দেখেন, অপরাধী কে বেশি এই ক্ষেত্রে!’ সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।’

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:১৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস কেন এত মলিন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:১৪ পিএম

একজন পুরুষ-ছেলে, ভাই, স্বামী, বাবা, পরিবারে অনেকগুলো ভূমিকা পালন করেন। দায়িত্বও বেশি। ভালো ছেলে হওয়া তারপর ভালো স্বামী, ভালো বাবা হওয়া। এতসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন নিজেকেই ভুলে যান যে তিনিও একজন আলাদা সত্তা।

আজ আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। এই দিবস নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে কোথাও তেমন কোনো আওয়াজ নেই। নেই অফার, ক্যাম্পেইন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট বা আলোচনার ঝড়। ক্যালেন্ডারে ১৯ নভেম্বর এলেই দৃশ্যটা উল্টো। যেন কেউ জানেনই না! পুরুষ দিবস এত নিস্তেজ কেন? উপেক্ষা, ভুলে যাওয়া নাকি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির গভীর পক্ষপাত?

সমাজে পুরুষদের নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা আছে, তারা নাকি সব সময় শক্ত, দৃঢ় আর অনুভূতি-পরিচালনায় দক্ষ। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের বলা হয়, ‘কাঁদা যাবে না’, ‘ভয় পেলে চলবে না’, ‘দুর্বলতা দেখানো মানা’। এই মানসিকতার ফলে পুরুষেরা অনেক সময় নিজের কষ্ট, মানসিক চাপ বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুই প্রকাশ করেন না। যেহেতু তাদের সমস্যা প্রকাশ পায় না, সমাজও ধরে নেয় পুরুষ দিবস পালনের তেমন প্রয়োজন নেই।

আরেকটি বড় কারণ হলো, দৃষ্টিভঙ্গিগত অসমতা। পুরুষদের সমস্যাগুলোকে অনেকেই বাস্তব সমস্যা হিসেবে মানতে চান না। অনেকের ধারণা, পুরুষেরা ‘প্রিভিলেজড’, তাই তাদের আলাদা দিবসের প্রয়োজন নেই। অথচ বাস্তবে কর্মজীবনের চাপ, আত্মহত্যার হার, আসক্তি, পরিবারে দায়িত্ব এমন কিছু ক্ষেত্রে পুরুষেরা বেশি সংকটে থাকে।