হিম উৎসব
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শীত মৌসুম এলেই নিয়মিত আয়োজন করা হয় ‘হিম উৎসব’। একে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উৎসব ইতিবাচক আলোচনার চেয়ে বিতর্ক, সমালোচনা ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে বেশি।
সংস্কৃতি চর্চার নামে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, অশোভন পরিবেশনা, মাদক সেবন, মব সৃষ্টি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা-এমন নানা অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।
চলতি বছরের হিম উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় পবিত্র কুরআনের সূরা নাস পাঠ ও তার বিকৃত ব্যাখ্যা নিয়ে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে আয়োজিত পালাগানের এক পর্যায়ে এক বাউল শিল্পী সূরা নাসের কিছু অংশ অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে মন্তব্য করেন-“পুরা সূরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি তত বাঁচবি।” এরপর তিনি নৃত্যসংক্রান্ত একটি গান শুরু করেন।
এ বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাংশ তীব্র আপত্তি জানান এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুইজন শিক্ষার্থী মঞ্চে উঠে শিল্পীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে আয়োজক কমিটির সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে উল্টো প্রতিবাদকারীদের নামিয়ে দেন। শিল্পী তাৎক্ষণিকভাবে ভুল স্বীকার করলেও অনুষ্ঠান বন্ধ না করে পুনরায় বিতর্কিত পরিবেশনা চালু রাখা হয়।
এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী প্রতিবাদী দুই শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরে, যা এক পর্যায়ে মব পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ‘মৌলবাদী’, ‘তৌহিদি জনতা’ ও ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে ভিলিফাই করা হয় এবং জোরপূর্বক তাফসির জিজ্ঞেস করে হেনস্তা করা হয়।
এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহীদ মিনার ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থান নেয়। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, প্রক্টরিয়াল টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে সংঘাত তৈরির ধারাবাহিকতা।
এবারের উৎসবের প্রথম দিনেও বিতর্ক সৃষ্টি হয় ‘পঞ্চরস যাত্রাপালা’ নামের একটি নৃত্য পরিবেশনাকে ঘিরে। তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন শিল্পীর পরিবেশিত নৃত্যকে অনেক শিক্ষার্থী ‘অশোভন’ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শালীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।
সামাজিক মাধ্যমে নৃত্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, এ ধরনের পরিবেশনা বারবার আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের ফেসবুক মন্তব্যকে ঘিরে। তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হাসান নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সূরা নাস ও সূরা ফালাক আল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়-এমন বক্তব্য দেন।
পরবর্তীতে তিনি এটিকে নিজের মত নয় বলে দাবি করলেও তার মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। একাধিক শিক্ষার্থী তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানান এবং একে ধর্মীয় উস্কানিকে তাত্ত্বিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
হিম উৎসবকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন বছরে উৎসব চলাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে বহিরাগতসহ শিক্ষার্থীদের আটক করেছে প্রক্টরিয়াল টিম। ২০১৯ সালে মুক্তমঞ্চ এলাকায় মাদক সেবনের সময় ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়। তখন প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাস্তবে হিম উৎসব ঘিরে মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।
এছাড়া গত বছর হিম উৎসব চলাকালে নারী হল থেকে বহিরাগত যুবক আটক হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল থেকে এক যুবক আটক হন, যিনি হিম উৎসব দেখতে এসে এক নারী শিক্ষার্থীর সহায়তায় হলে প্রবেশ করেছিলেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শাস্তি হলেও উৎসবের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
ক্যাম্পাসের একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বামপন্থী সংগঠনগুলোর বিপর্যয়ের পর হিম উৎসবকে ঘিরে তারা আরও ‘ডেসপারেট’ হয়ে উঠেছে এবং সংস্কৃতির নামে ফ্যাসাদ তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বামপন্থী নেতারা দাবি করছেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কিছু শিক্ষার্থী পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠান বানচাল করতে চেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসান সজীব তার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এবারের আয়োজনটাই ছিল কন্ট্রোভার্সি ক্রিয়েট করার পায়তারা। তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের দিয়ে নোংরা নাচ নাচিয়ে যখন খুব বেশি সমালোচনা ক্রিয়েট করা গেল না, তখন পরেরদিন ফের সেই সূরা নাসের ঘটনটা ঘটানো হইলো।
যেই সিমিলার ঘটনা নিয়ে এর আগেও একটা ঝামেলা দেশব্যাপী হয়েছিল। তিনি আরও লেখেন, একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি, গানের একই টপিক নির্ধারণ-এগুলো দেখে মনে হয়েছে সবকিছু ডেলিবারেটলি করা হয়েছে, প্ল্যানড ওয়েতে ।
সাধারণ/ধর্মপ্রাণ পোলাপানকে ট্রিগার করে সমালোচনা ইনভাইট করার চেষ্টা আছে এখানে। ইসলামপন্থী/সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একটা ঝামেলা লাগুক, এই ইন্টেনশন রাইখাই আয়োজনের বিষয়বস্তু নির্ধারন করা।
জলসিঁড়ির সাবেক সভাপতি মো. ফেরদৌস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে "হিম উৎসব" এর এমন অসুস্থ রুচির আয়োজনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। মুক্তমঞ্চ আমার কাছে বিশাল কিছু, পবিত্রতা, এখানে মুক্তভাবে নিজেকে প্রকাশ করা স্বপ্ন,সাধনা।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে প্রমোদবস্তু বানিয়ে তৈরী হওয়া যাত্রাপালা (সেমিন্যুড) মুক্তমঞ্চে প্রদর্শন করা কোনো সুস্থ সংস্কৃতি হতে পারে না।হয় বিকৃত রুচি নয়তো রুচির দুর্ভিক্ষ বা অজ্ঞতা। আয়োজক নাকি"পরম্পরায় আমরা" এরা জাহাঙ্গীরনগরের কোন পরম্পরা,কার পরম্পরা, কত দিনের পরম্পরা প্রকাশ করে তা এখনো বোধগম্য নয় নয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বরাবর আবেদন প্রদান করেন একদল শিক্ষার্থী। দাবিগুলো- অবমাননাকারী আয়োজকদের এবং মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, বারবার মাদক সেবনসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমের দায়ে 'হিম উৎসব' এর আয়োজন বন্ধ করতে হবে অথবা প্রশাসনের সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে সমর্থনের দায়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক জনাব হাদ্যম নাঈমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। কিছুক্ষন বাদে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। তখন সব জানতে পারবেন।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল
চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ (অষ্টম শ্রেণি)-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ- এই দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মাসিক ৪৫০ ও বছরে এককালীন ৫৬০ টাকা করে দেওয়া হবে। এবার ২ বছরে ১৪,৭০০ শিক্ষার্থীর অনুকূলে সর্বমোট ১৭ কোটি ৫২ লাখ ২৪ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ এবং বছরে এককালীন ৩৫০ টাকা দেওয়া হবে। এদিকে, ২ বছরে ৩১,৫০০ শিক্ষার্থীর অনুকূলে সর্বমোট ২৪ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের বৃত্তি-মেধা বৃত্তি খাত থেকে নির্বাহ করা হবে। জি-টু-পি পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বৃত্তির টাকা পাঠানো হবে।
শিক্ষার্থীরা যেভাবে ফল দেখতে পারবে-
১. অনলাইন পদ্ধতি :
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ (2026) দিলেই ফল দেখা যাবে।
২. এসএমএস পদ্ধতি :
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি মেসেজে রেজাল্ট জানা যাবে।
১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ বুধবার প্রকাশ হচ্ছে
দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ বুধবার প্রকাশ হচ্ছে। এবার দুই ক্যাটেগরি মিলিয়ে ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে এ ফল বুধবার প্রকাশ করা হবে।
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, দুই ক্যাটেগরিতে বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এ মেধাক্রম তৈরি করা হয়েছে। একটি হলো ট্যালেন্টপুল এবং অন্যটি সাধারণ বৃত্তি। বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এ মেধাক্রম করা হবে।
এবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (বিষয় কোড ১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে অংশ নেয় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী।
জানা গেছে আজ দুপুরে প্রকাশ করা হবে। বুধবার দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে ফল হস্তান্তর করা হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষার্থীরা দুইভাবে ফল দেখতে পারবে-
১. অনলাইন পদ্ধতি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ (2026) দিলেই ফল দেখা যাবে।
২. এসএমএস পদ্ধতি
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি মেসেজে রেজাল্ট জানা যাবে।
জাবিস্থ জামালপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৪৯ তম ব্যাচের সাজ্জাদ হোসেন জিহান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৫১ তম ব্যাচের মনির হোসেন।
জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন-
সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদ খান (৫০)। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বারিউল ইসলাম (৫০), ফখরুল হাসান ফাহাদ (৫০), হৃদয় শাহা (৫০), বিজয় দত্ত (৫০), আব্দুল জব্বার (৫০), সাবিকুন্নাহার পলি (৫০) ও গৌরব চন্ড (৫০)।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুমাইয়া আক্তার (৫১), আশিকুর আহমেদ (৫১), রবিন আহমেদ (৫১), মঞ্জিল হাসান (৫১), ইরতিজা হাসিন (৫১), অর্ণব (৫১), প্রসনজিৎ দেবনাথ (৫১), রাকিবুল ইসলাম (৫১), উজ্জল হাসান রবিন (৫১), মুশফিকুর রহমান নাইম (৫১) ও জান্নাতুল ইসলাম (৫১)।
সাংগঠনিক সম্পাদক আকিবুর রহমান সাবিত (৫১)। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন তানভীর (৫২) ও মারুফ হাসান (৫৩)। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল আদন (৫৩) এবং উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক আতিকুল ইসলাম (৫৪)।
আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক তিথি দাস (৫২) ও উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আফিয়া (৫৩)। শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন (৫২)। ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক রিফাত (৫৩) এবং সহ-ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক গাজী (৫৩)।
পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাকিব (৫২) ও উপ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক দিল আফরিন ইশা (৫২)। বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক সজিব আহমেদ জেনিচ (৫১)। ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস বিষয়ক সম্পাদক প্রীতম (৫২) ও উপ-ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস বিষয়ক সম্পাদক সাদিক সিদ্দিকী রোমান (৫৪)।
স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারক (৫০)। কোষাধ্যক্ষ ফারজানা ফারিন (৫১) এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ তাওহীদ (৫৩) ও আলভি (৫৪)। প্রচার সম্পাদক আসিফ তালুকদার (৫১) এবং উপ-প্রচার সম্পাদক মাহিন (৫৪) ও ফয়সাল (৫৪)।
দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম মনির (৫১) এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃদুল (৫৩) ও আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৫৪)। সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফারাজ আহমেদ (৫২) এবং উপ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাফিয়া আজরা (৫৪)। ক্রীড়া সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল (৫২) ও উপ-ক্রীড়া সম্পাদক হাবিব (৫৩)।
এছাড়া ভর্তি বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল হাসান (৫৩), তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক স্বর্ণা (৫১) ও উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবির জামান (৫৪) দায়িত্ব পালন করবেন।
সহ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সানজিদা টুসি (৫৩), হৃদয় (৫৩), জান্নাত (৫৩), তানিশা (৫৩), সাকিব (৫৩), মাছুম (৫৪), অর্পিতা (৫৪), তামিম (৫৪) ও তাহমিনা আক্তার বিভা (৫৪)।
এছাড়াও জামালপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ৫৪ তম ব্যাচের ৪১ জন শিক্ষার্থীকে কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় ভেটেরিনারি অনুষদ এ কর্মশালার আয়োজন করে
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষার আধুনিকায়ন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় ভেটেরিনারি অনুষদ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল উপস্থাপন করেন ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘হিট’ প্রকল্পের অধীনে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম পর্বেই দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে, যা ভেটেরিনারি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কাজের মাধ্যমে এমন শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রতিটি লেকচার ডিজিটালি রেকর্ড থাকবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তারা যেকোনো সময় পাঠ দেখতে পারবে। পাঠদান হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং একঘেয়েমি দূর করতে আধুনিক উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করা হবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা হবে। হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালকে আরও আধুনিক করা হবে। লক্ষ্য একটিই যে একজন শিক্ষার্থীকে ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে তোলা।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা। এছাড়াও ভেটেরিনারি অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষক ও অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, স্মার্টনেস শুধু পোশাক বা উপস্থাপনায় নয়, এটি আসে জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা থেকে। আগে শিক্ষকরা চক-ডাস্টার দিয়ে পড়াতেন। পরিশ্রম করতেন। আন্তরিকতা ছিল প্রশ্নাতীত। এখন স্লাইডভিত্তিক শিক্ষা এসেছে। তবে সব বিষয়ের জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। কোথাও স্লাইড দরকার, কোথাও আলোচনা, কোথাও ছবি বা ভিডিও, আবার কোথাও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি। কোন বিষয় কীভাবে পড়ানো হবে, তা নির্ভর করে শিক্ষকের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ওপর।প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকরা আরও নিবিড়ভাবে পাঠদান করতে পারবেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান বলেন, প্রতিযোগিতামূলক গবেষণায় অর্থায়ন পাওয়াটা অনেক বড় একটি অর্জন। আবেদন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ আবার ব্যয়ও বেশি। অনুমোদন না পেলে গবেষণার অগ্রগতি থেমে যায়, আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়ে। সেদিক থেকে বাকৃবিকে অভিনন্দন জানাই।
তিনি বলেন, দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে কাজের যথাযথ প্রচার ও স্বীকৃতি সবসময় মেলে না। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগ, স্কলারশিপ এবং বিনামূল্যে ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু হওয়ায় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। হিট প্রকল্প সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষাকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ওলনিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে। রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে আমি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবো, আর্থিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন। আপনাদের কাজটি যাতে আগামীর গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার হয়ে ওঠে সেই চেষ্টা করবেন।
আল-কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর আয়োজন করতে যাচ্ছে শাখা ছাত্রশিবির
পবিত্র মাস মাহে রমজান উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ আল-কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর আয়োজন করতে যাচ্ছে শাখা ছাত্রশিবির। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকছে আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা।
গতকাল রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে শাখা ছাত্রশিবিরের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৫ রমজান (৫ মার্চ ২০২৬) পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকারী ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে সেখানে পরীক্ষার সার্বিক আপডেট ও নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
আগামী ২৩ রমজান (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৪০ মিনিটের একটি ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার সিলেবাসে রয়েছে সূরা আলে ইমরান, সূরা নিসা, সূরা নূর এবং সূরা যিলযাল এবং তাফসীর গ্রন্থ হিসেবে তাফহীমুল কুরআন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ৪ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ২ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রত্যেকে পাবেন ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার।
ছবি: সংগৃহীত।
'চলতি সপ্তাহেই' প্রকাশিত হতে যাচ্ছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এ বছর ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হবেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বা মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
বুধবার এ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার 'সম্ভাবনা' রয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার জানিয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, যা শেষ হয় ৫ জানুয়ারি। ২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর পরীক্ষার ফল প্রক্রিয়া করছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার সোমবার দুপুরে বলেন, "বৃত্তি পরীক্ষার ফল চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হওয়ার কথা আছে। আমরা ইতোমধ্যে বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুতই ফল বা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করা হবে।"
৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জুনিয়র বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার সোমবার দুপুরে বলেন, "১৪ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সাধারণ বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বৃত্তির কোটা বণ্টন করা হয়েছে।
"মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে এককালীন ৫৬০ টাকা ও প্রতিমাসে ৪৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবেন। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে ৩৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা পাবেন। আগামী দুই বছর তারা এ সুবিধা পাবেন। বুধবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল বা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকাসহ গেজেট প্রকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে।"
বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডের ৩ হাজার ৬৩৫ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৭ হাজার ৭৯০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন। ময়মনসিংহ বোর্ডের ৯৬৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি রাজশাহী বোর্ডের ১ হাজার ৯২৬ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৪ হাজার ১২৮ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, কুমিল্লা বোর্ডের ১ হাজার ৬৭৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, সিলেট বোর্ডের ৯৪৮ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৩০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং বরিশাল বোর্ডের ৮৭৩ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ১ হাজার ৮৭১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
এছাড়া যশোর বোর্ডের ১ হাজার ৬৬২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, চট্টগ্রাম বোর্ডের ১ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং দিনাজপুর বোর্ডের ১ হাজার ৮০২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষা হলেও বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা হয় একসঙ্গে। বৃত্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ৪০০। বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ১০০, গণিতে ১০০, বিজ্ঞানে ৫০ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা হয় ৩ ঘণ্টা সময়ে।
গত ২৮ ডিসেম্বর বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৫ জানুয়ারি বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।