বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‌‘এই দেশ আমাদের প্রিয় দেশ। আল্লাহ তায়ালা এমন একটি সুবজ শ্যামল দেশে আমাদেরকে জন্ম  দিয়েছেন, যেখানে মাটি আমাদের উর্বর, মানুষ আমাদের পরিশ্রমী, পানিতে আছে সম্পদ, মাটির নিচে সম্পদ। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দুই দুইবার স্বাধীনতা ১৯৪৭ এবং ১৯৭১। 


কিন্তু এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারলো না। দুনিয়ার বুকে সম্মানিত একটা জায়গা করে নেয়ার কথা ছিলো এটা এখন আর নেই। আমাদের দেশের পাসপোর্টের ভ্যালু খুব দুর্বল। অনেক জায়গায় দেশের পরিচয় দিতে অনেকে লজ্জাবোধ করেন। এর জন্য দায়ী আমাদের অসৎ নেতৃত্ব। 


যারা জনগণকে ধোকা দিয়ে তাদের ধারণা অনুযায়ী বোকা বানিয়ে জনগণের কপাল খামছে খায়। এরাই বাংলাদেশকে ৫৪ বছরে এগুতে দেয়নি। ময়মনসিংহ একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার সাক্ষী আপনারা। এই রকম একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা। 


আমি জানি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট ও পার্যান্ত জনবল সরবরাহ করা দরকার তা করা হয় না। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে কাছাকাছিও কিছু দিতে পারে নাই। 


আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আগামী ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন বাংলাদেশ আল্লাহর ইচ্ছা এবং আপনাদের মায়াবী হাতের ভোটের মাধ্যমে ইনসাফের পক্ষে যদি রায় আসে, আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার তৌফিক দেন তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাআল্লাহ।’ 


আজ মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।


ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা আমাদের লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমত বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়। দ্বিতীয়ত দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে যা বাজেট আছে তা তুলে দেয়া হয়। একদিকে বাজে অপর্যাপ্ত অন্যদিকে যা বাজেট থাকে সেটা খেয়েদেয়ে শেষ করে ফেলে। 


সারা বাংলাদেশের একই চেহারা। এখানকার যারা আছেন তারা হয়তো দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, আর আসছেন বলেইতো আমরা পাচ্ছি। অপর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও আমরা পাচ্ছি। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহে কৃষি বিপ্লব ঘটবে ইনশাআল্লাহ। কৃষিকে ওই পুরানা ধাচেঁ আর আমরা দেখতে চাই না। কৃষি এবং কৃষক এই দুটোকে শিল্প এবং শিল্পীতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ।’


তিনি আরো বলেন, ‘কোন মামু খালুকে ছাড় দিবো না। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করতে দিবো না। আমরা ঘুম হারাম করে দিবো। ওদের শুধু সম্পদ নয় এই চোরদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে ইনশাআল্লাহ। এনে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 


আশ্চর্যের বিষয় এই জাতি একটি মুরগির চুরির অপরাধে একজনকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে এগুলো আমরা সমর্থন করি না। এই ছোট চোরদের না ধরে বড় চোরদেরকে ধরেন। এদেরকে এই যে মানুষগুলো পেটের ক্ষুধার তারণায় অপরাধ করে ফেলে তাদের অপরাধ করার দরকার হবে না। 


আগের ২৩ বছর পরের ৫৪ বছর এই ৭৭ বছর আমরা দেখেছি। আমাদের যুবক-যুবতীরা, তরুণ-তরুণীরা সেই পুরোনো রাজনীতি আর চায় না। এমনকি শিশুরাও চায় না, আমাদের মা-বোনেরাও চায় না। এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। এবারে নির্বাচন জাতির কিসমত উপযুক্ত রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে দেয়ার নির্বাচন। 


এই নির্বাচনে দুটি মূল্যবান ভোট। প্রথম ভোট হবে গণভোটে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দিবো আর সারা ময়মনসিংহবাসীকে হ্যাঁ ভোটে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। কেউ কেউ প্রথম দিকে না ভোটের দিকে ক্যাম্পেইন করেছেন।


জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছে। জনগণ পুরানা পঁচা রাজনীতি আর চায় না, পরিবার ব্যক্তিগোষ্ঠীতান্ত্রিক রাজনীতি চায় না। দলীয় সরকার দেখতে চায় না। জনগণ জনগণের সরকার দেখতে চায়। অনেকেই এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে আমরাও হ্যাঁ। ঠ্যালার নাম বাবাজি। জনগণের ঠ্যালা এটি ভীষণ শক্তিশালী ঠ্যালা। এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকে থামিয়ে দেয়। 


যাদেরকে ভোট দিলে বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা ৫ আগস্টের পর থেকে জনগণের জানমাল খাওয়ার জন্য চাঁদা বাণিজ্য শুরু করেছে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা মামলা বাণিজ্য করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে তাদেরকে দিবেন? 


যারা ঋণ খেলাপীদেরকে নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলছে ওদেরকে দিবেন? এদেশে পরিক্ষিত পরিচিত যারা ন্যায়ের পক্ষে মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে যারা থাকবেন এবার বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা তাদের পক্ষে থাকবেন ইনশাআল্লাহ। তাই গণজোয়ার শুধু ময়মনসিংহে না সারা বাংলাদেশের একই চিত্র। 


যুবকরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে আমরা আর ধান্দাবাজি ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সাথে নাই। আমরা কোন কার্ড এবং বেকার ভাতার সাথেও নাই। আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।’

 

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫  আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

 

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার আমীর মাওলানা নজরুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ঈশ্বরগঞ্জ-৮ আসনের প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল, ১১ দলীয় জোটের ভালুকা-১১ আসনের প্রার্থী ডাঃ জাহিদুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ফুলপুর-তারাকান্দ-২ আসনের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ, 


১১ দলীয় জোটের নেজামে ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মাওলানা আজিজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের নান্দাইল-৯ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ১১ দলীয় জোটের নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ী) আসনের প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ফুলবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রশিবিবের সভাপতি ডাঃ ফাউজান আব্দুর রহমান, 


১১ দলীয় জোটের গফরগাঁও-১০ আসনের প্রার্থী ইসমাইল হোসেন সোহেল, ১১ দলীয় জোটের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ত্রিশাল-৭ আসনের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য মোঃ আবদুল করিম, 


সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুর রশীদ ফরাজী, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম,  বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, কর্মপরিষদ সদস্য হায়দার করিম, আব্দুল আজিজ, খন্দকার আবু হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারী সহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




পরীক্ষার্থীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ পিএম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়-এর নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে ৯ পরীক্ষার্থীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় এ ঘটনা ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও রাজস্ব প্রশাসন নিয়োগ নির্বাচনী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান।


তিনি জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রাজস্ব প্রশাসনের অধীনে ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক ৫৫টি, নিরাপত্তা প্রহরী ৩টি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১টিসহ মোট ৫৯টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


বুধবার মৌখিক পরীক্ষার সময় সন্দেহের সৃষ্টি হলে পরীক্ষার্থীদের লিখিত খাতার হাতের লেখার সঙ্গে তাদের তাৎক্ষণিক লেখার মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রক্সির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করে।

ঘটনার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।


দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মোঃ নিজাম উদ্দিন (হোসেনপুর), পিয়াস (পাকুন্দিয়া), সাব্বির (হোসেনপুর), মেহেদী (পাকুন্দিয়া), শফিকুল (মিঠামইন), নজরুল (ইটনা), জসিম (তাড়াইল), রাহিমা আক্তার (কিশোরগঞ্জ সদর), ফয়সাল (তাড়াইল)।


ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ পলাশ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান ও রিয়াদ হোসেন।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতেও এমন অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


ছবি- সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ পিএম

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝি এবং আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের লোকজন সংঘটিত হয়ে এ হামলা চালান।


হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এসময় এনসিপি কর্মীদের অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।


স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝি এবং আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের লোকজন সংঘটিত হয়ে এ হামলা চালান।


হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এসময় এনসিপি কর্মীদের অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।


এনসিপির যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ বলেন, ‌‘পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রশাসনের এমন রহস্যময় ভূমিকা আমাদেরকে অবাক করেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীর বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসব বিষয়েও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’


জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হামলাকারী সন্ত্রাসী বেলাল মাঝিকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে অবস্থান ছাড়বো না। সে ২০১৮ সালেও সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলা করেছিল। আজ আমার গাড়িবহরে হামলা করেছে। আমি তার গ্রেফতার চাই।’


তবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত বেলাল মাঝি ও আবদুর রহমান এবং বিএনপির দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পর বিক্ষিপ্তভাবে বিএনপির কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন হামলা সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।



  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ এএম

রংপুরের পীরগাছায় গুজব রটিয়ে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের ৮টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক বছর পেরিয়েও দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বাস্তু অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের হলরুমে ন্যায়বিচার অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, পীরগাছা উপজেলার ছিদামহাট এলাকায় গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে আয়োজিত একটি প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানকে বানচাল করতে জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতির নেতৃত্বে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। পরে ওইদিন সকাল দশটায় এক কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী নাগদাহ এলাকা থেকে ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি নূর আলমের নেতৃত্বে একটি উগ্রবাদী মিছিল নিয়ে এসে মব সৃষ্টি করে তার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। সময় তাদের পরিবারের চারটি বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাট চালানো হয় বাড়িতে থাকা সমস্ত মালামাল। এতে আব্দুল কুদ্দুস শামীমসহ পরিবারের ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে এখনো দুইজন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

 

তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন একই সময়ে ওই এলাকায় বসবাসরত সংগঠনের আরও চারটি পরিবারের বাড়িতেও একইভাবে হামলা লুটপাট চালানো হয় সেসময়। ভাঙচুরের পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ২৩টি মোটরসাইকেল। সময় স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং বাড়ির খামারে থাকা ১২টি বিদেশি জাতের গরু দিবালোকে লুট করে নিয়ে যায় তারা। ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। যার ফায়ার সার্ভিস প্রতিবেদনেও এই ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান আব্দুল কুদ্দুস শামীম। এতে নিমিষেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন ১২টি পরিবারের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। যারা এখনো উদ্বাস্তু অবস্থায় মানবতার জীবনযাপন করছেন।

 

আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, ঘটনায় থানা আদালতে ছয়টি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বছর পেরিয়েও পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

 

তিনি আরও বলেন, থানায় দায়ের করা মামলার এক বছর পার হলেও সমাধানের কথা বলে এখনো প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। অপরদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা পাঁচটি মামলারও দীর্ঘদিন কোনো আইনি অগ্রগতি ছিল না। তবে গত সপ্তাহে আদালত থেকে দুটি মামলার হাজিরার নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর পর থেকে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এমন অভিযোগ করেন শামীম।

 

সংবাদ সম্মেলনে শামীম সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলোথানায় দায়ের করা মামলার দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারের ক্ষতিপূরণ, আসামিদের পক্ষ থেকে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং পঙ্গুত্ববরণকারীদে চিকিৎসা ব্যয় বহনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

সময় ভুক্তভোগী পঙ্গুত্ববরণ করা আবুল কালাম, হাসানুর রহমান সাদ্দাম জাফরুল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে পারুল ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি নূর আলম বলেন, আমাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা অপপ্রচার। মূলত উত্তেজিত এলাকাবাসী সেখানে গেলে আমি তাদেরকে থামাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রচার করা হয়েছে আমার নেতৃত্বে নাকি হামলা-অগ্নিসংযোগ হয়েছে। আর এখন ভয়ভীতি দেখানোর যে অভিযোগ তুলেছে সেটাও মিথ্যা।

 

তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা ইসলামের নামে আমাদের গ্রামের সহজ সরল মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ইসলাম বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এসব কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষুদ্ধ মানুষেরা তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আমাদের গ্রামে ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তবে ভিলেজ পলিটিক্সের কারণে আমাকে জড়িয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামীর কিংবা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

অন্যদিকে, পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রশিদ মুকুলের সাথে  যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনকল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিষয়ে পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিব্বুল ইসলাম জানান, থানায় আমি নতুন এসেছি। বিষয়গুলো নিয়ে অবগত হয়েছি। এখন মামলাগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করা হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে হুমকি-ধামকি দিলে তাদের পক্ষ থেকে থানায় এসে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ধীরে ধীরে শখটাই হয়ে ওঠে অহনা আক্তারের আত্মপ্রকাশের মাধ্যম।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

নিজের ভালো লাগা থেকেই যাত্রা শুরু। কোনো পরিকল্পনা ছিল না, ছিল না বড় কোনো অনুপ্রেরণার গল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আগে থেকেই পছন্দ করতেন অহনা আক্তার। সেই ভালো লাগা থেকেই টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভিডিও বানানো শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে শখটাই হয়ে ওঠে তার আত্মপ্রকাশের মাধ্যম।


মডেলিংয়ে আসার পেছনেও নেই নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকেই শুটিং বিষয়টি তার খুব প্রিয়। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে উপস্থাপন করার আনন্দই তাকে টেনে আনে এই অঙ্গনে।


পরিবার খুব বেশি সামাজিক জীবন পছন্দ না করলেও, মায়ের সঙ্গে মাঝেমধ্যে নিজের ব্লগিং করার ইচ্ছার কথা শেয়ার করতেন তিনি। তবে বাসায় ভিডিও বানানোর বিষয়টি সবাই জানতে পারেন তখনই, যখন একটি পোশাকের প্রোমোশনাল অফার পান অহনা।


ইনস্টাগ্রামে তার ভিডিও দেখেই এক উদ্যোক্তা তাকে পোশাক পাঠান। সেটিই ছিল তার জীবনের প্রথম ‘পিআর’। সেই ছোট্ট সুযোগটাই যেন খুলে দেয় সম্ভাবনার নতুন দরজা।


শুরুর দিকে ক্যামেরার সামনে কিছুটা নার্ভাস লাগত তার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জড়তা কেটে গেছে। এখন তিনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত।


র‌্যাম্পে হাঁটার চেয়ে ফটোশুটেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অহনা । ক্যামেরার লেন্সে নিজের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতেই তিনি বেশি ভালোবাসেন। তাই মডেলিংয়ের ক্ষেত্রে ফটোশুটকেই দিচ্ছেন অগ্রাধিকার। তার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় সমর্থন তার স্বামী। সব দিক থেকেই তিনি সহযোগিতা করেন। শুধু মানসিক সমর্থনই নয়,তিনি নিজেই অহনার ক্যামেরাম্যান। আহনা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, উনি সব সময় আমাকে সাপোর্ট করেন।”


তবে স্বপ্ন এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে অহনা আক্তার একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী হতে চান। নাচের প্রতি তার ভালোবাসা গভীর, আর সেই স্বপ্নকে ঘিরেই তিনি এগিয়ে চলেছেন প্রতিদিন। ভালো লাগা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা একদিন হয়তো তাকে পৌঁছে দেবে বড় মঞ্চে সেই প্রত্যাশায় দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলছেন অহনা আক্তার।


গাজীপুর কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ চারটি আধুনিক গলফকার (ছোট বৈদ্যুতিক যান) ক্রয় করে দর্শনার্থীদের জন্য চালু করেছেন।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

গাজীপুর কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের ভোগান্তি কমাতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। কারা কল্যাণ তহবিল থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি আধুনিক গলফকার (ছোট বৈদ্যুতিক যান) ক্রয় করে দর্শনার্থীদের জন্য চালু করেছেন।


ইতোমধ্যে এই সেবাটি দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক (আরপি গেইট) থেকে সাক্ষাৎ কক্ষের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে নানাবিধ ভোগান্তি পোহাতে হতো আগত স্বজনদের। বিশেষ করে নারী, শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য ভোগান্তির মাত্রা ছিল আরো বেশি। অনেকেই রিকশার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতেন, আবার অনেক সময় কোনো যানবাহন না পেয়ে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই যেতে হতো। 


এই সুযোগে কিছু অসাধু রিকশাচালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নতুন চালু হওয়া গলফকার সেবা সেই চিত্র অনেকটাই বদলে দিয়েছে। এখন দর্শনার্থীরা সহজেই এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎ স্থানে পৌঁছাতে পারছেন। ফলে  সময় যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কমেছে শারীরিক কষ্টও। 


কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের কষ্ট কমানো। পাশাপাশি সেবাকে সহজলভ্য করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারাবন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রক্রিয়াকে আরো মানবিক, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ।


দর্শনার্থী ও বন্দীর স্বজনরা জানান, কাশিমপুর এই কারাগারের মধ্যে আলাদা আলাদা চারটি কারাগার রয়েছে। প্রতিদিন শতশত মানুষ আসেন বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। পায়ে হেঁটে চলাচল কষ্ট, তাছাড়া রিকশাভাড়াও ছিল বেশি। গলফকার চালু করায় ভোগান্তি কমে গেছে এখন মূল গেইট স্বজনদের নিয়ে সাক্ষাৎ কক্ষে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগটি সবার পছন্দ হয়েছে। 


কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, “স্বজনদের কষ্ট লাঘব করার জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা। মোট চারটি গলফকার কেনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা আরো জনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:৫৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


গাইবান্ধা-সাদুল্ল্যাপুর সড়কের মন্দুয়ার শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্নস্থানে ২ জন অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৮:৫৩ পিএম

গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুরে একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ২ জন অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 


আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে গাইবান্ধা-সাদুল্ল্যাপুর সড়কের মন্দুয়ার শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্নস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফ বাজিত গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে ও অটোরিকশা চালক আল আমিন মিয়া (৩০) ও গাইবান্ধা শহরের পুর্বপাড়ার নারায়ন চন্দ্রের ছেলে গৌতম চন্দ্র (৬০)। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।    


স্থানীয়রা জানায়, ওই সময় একটি কাভার্ডভ্যান গাইবান্ধার দিকে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে একটি সিএনজিকে সাইট দিতে গিয়ে অপর একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাকা লাগে। এতে অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত ও আরও ৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। 


নিহতদের মধ্যে অটোরিকশা চালক আল আমিন মিয়া (৩০)। তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফ বাজিত গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। অপর একজন নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।    


এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাদুল্ল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।