গত বছর ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘যুদ্ধপরীক্ষিত’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এরপর দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প এখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি অস্ত্র কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিলো বাংলাদেশও। পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে, এটি এখন পুরোনো খবর। নতুন খবর হলো, দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যেসব অস্ত্রের ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, তা তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পাকিস্তানের তিনটি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বিস্তৃত অস্ত্র সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্রের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি (জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, এমএফআই-১৭ মুশাক বিমান, মনুষ্যবিহীন পর্যবেক্ষণ ও আক্রমণে সক্ষম শাহপার ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাইন-প্রতিরোধী সাঁজোয়া যান মুহাফিজ-এর ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করেনি। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ-এই তথ্যটিও দিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘পরীক্ষিত’ তকমা পেয়েছে। এরপর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন করে গতি পেয়েছে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে অবগত আছেন এমন তিনটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন এবং অস্ত্র ব্যবস্থার চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ৬ থেকে ৮টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, বেশ কয়েকটি দেশ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দেশগুলো এখন নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) তৈরির চেষ্টা করছে। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্রগুলো কার্যকর বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী উন্নত চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত জে-১০ (জে-১০)-এর পাশাপাশি জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) ব্যবহার করেছিল।
এসব প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তা এবং এক ডজন বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তারা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান অস্ত্র শিল্প এবং অস্ত্র বিক্রি আলোচনার অপ্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে পাকিস্তান উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে কোনো কোনো বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করলেও পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি যে আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে সে বিষয়ে সবাই একমত। তবে, অধিকাংশ বিশ্লেষক এও সতর্ক করেছেন, অস্ত্র বিক্রির আলোচনা মানেই তা চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে এমন নয়।
এদিকে, অস্ত্র বিক্রির আলোচনাগুলোকে ‘সুরক্ষিত গোপন বিষয়’ অভিহিত করে প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ রয়টার্সকে বলেছেন, এই আলোচনাগুলো চলছে, (তবে) আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এগুলো ভেস্তে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক শর্ত আসছে এবং আমরা আলোচনা করছি। এসময় তিনি জানান, বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে ক্রেতারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’
ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান তালিকা
সূত্রগুলো জানায়ে, অস্ত্র কিনতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়া। এ ছাড়া, পূর্ব লিবিয়ার সরকারও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার জেএফ-১৭ এবং অন্যান্য অস্ত্রের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের সঙ্গে আলোচনার কথা পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তবে, এই ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসিম সুলেমান। তিনি বলেন, ‘ক্রেতা হিসেবে আফ্রিকার তিনটি দেশও আছে। এই সংক্রান্ত রয়টার্সের পূর্বের প্রতিবেদনে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি এবং সুদানের চুক্তিগুলোর কথা বলা হয়েছিল। তবে ওই তিনটি দেশ ওই তালিকায় নেই।’
ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ব্যবস্থা
একটি বড় বাধা হবে পাকিস্তান জেএফ-১৭-এর উৎপাদন। এটি দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ বিমান এবং ড্রোনের চাহিদাও রয়েছে।
বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিম সুলেমান বলেন, ‘প্রধান কারখানার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ফলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান উৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এমনকি বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ২০টি বিমান তৈরির সক্ষমতা থেকে তা দ্বিগুণ হতে পারে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যত বাধা খুব কম। তা ছাড়া, বেইজিংয়ের সমর্থনে পাকিস্তান বেশিরভাগ বাধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
এ প্রসঙ্গে কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি সহজলভ্য ও মধ্যম স্তরের সরবরাহকারী হিসেবে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা প্রশিক্ষণ দিতে পারে, পরামর্শক পাঠাতে পারে, যৌথ মহড়া চালাতে পারে, সামুদ্রিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রস্তাব করতে পারে। নাজুক আফ্রিকান অংশীদারদের জন্য এই প্যাকেজ আকর্ষণীয় হতে পারে। আর এটি পশ্চিমা অস্ত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতও হয়। তা ছাড়া, রাজনৈতিকভাবে কম জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সস্তা। প্রতিরক্ষা খাতে, বিশেষ করে ড্রোন নির্মাণে পারদর্শী বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বও এই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।’
রাওয়ালপিন্ডি শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। এখানেই বেসরকারি কোম্পানি সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস অবস্থিত। এই কারখানার কর্মীরা বছরে শত শত কামিকাজ এবং পর্যবেক্ষণকারী ড্রোন তৈরি করেন এবং সেগুলো সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করে।
চীনের অবস্থান
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অস্ত্র স্থানান্তর গবেষক সিমন ওয়েজম্যান বলেন, ‘জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে চলার আলোচনার কতগুলো বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের কাছে বিক্রির বিষয়ে বেইজিং আপত্তি জানাতে পারে। যদিও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাজুড়ে এই বিমানের বাজারজাতকরণে পাকিস্তান চীনের স্বাভাবিক অংশীদার। তবে সুদান এবং লিবিয়ার সঙ্গে আলোচনাগুলো সত্যিই সমস্যাজনক।’
লিবিয়া এবং সুদানের দারফুর অঞ্চল জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান মিত্র দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার উত্তেজনাও সামাল দিচ্ছে।
ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরব ও তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে আরেকটি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনাও করছে দেশটি। যদিও এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ভূমিকম্প
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিটে ৫ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসও ৫ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করেছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস হলে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ’৯০-এর গণআন্দোলন এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি; জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।
তারেক রহমান বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।
তিনি বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি, গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিসহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা।
আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- সেদিন সেনাবাহিনীর সাথে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সাথে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুইটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।
২০০৯ সালে পিলখানার ঘটনায় নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ. কে. এম. শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধামন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।
ছবি- সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ১৯ মার্চ দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কনটেইনার ও জ্বালালি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া পণ্য বা মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত অন্য সব গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কিছু মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে ঈদ সামনে রেখে ট্রেনযাত্রার বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ছবি- সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করতে নতুন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
বুধবার পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দী রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একাধিকবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মামলাগুলো খতিয়ে দেখে মিথ্যা ও হয়রানিমূলকগুলো প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এ প্রত্যাশাই আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’
আইজিপিকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন। বুধবার সচিবালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সরকার আলী হোসেন ফকিরকে দেশের নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ছবি- সংগৃহীত
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে মোহাম্মদ কায়ছার রশীদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা।
দেশ-বিদেশে নানা সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুবার সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে কায়ছার রশীদ চৌধুরী নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।
মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (টপ টিসিসি) হিসেবে সম্মান অর্জন করে। তাঁর পুরো কার্যকালেই বাংলাদেশ এই শীর্ষ স্থান ধরে রাখে। শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ডেপ্লয়মেন্ট বা নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।