প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।


তার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাবা গত এক সপ্তাহ চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়। তার ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।’


১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ছন্দের জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।


প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ প্রভৃতি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় উঠে এসেছে।


‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘যুক্তবর্ণ‘, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ তার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই।


২০১৭ সালে ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।



  • প্রকাশ : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


বইমেলা

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ পিএম

একদিনের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে হয়েছে। অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একাডেমি চত্বরে এই আয়োজন করেছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। মেলা শুরু হবে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায়। 


বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মেলার উদ্বোধন করবেন। আয়োজকেরা জানান, ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রতীকী মেলায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 


‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের’ যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রকাশক সাঈদ বারী বলেন, বায়ান্নর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়। অমর একুশে বইমেলা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।


তিনি বলেন, অমর একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য ভঙ্গ করে বাংলা একাডেমি তথা সরকার ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। 


গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলন করে একদিনের মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রকাশক সাঈদ বারী, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার, প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, দেলোয়ার হোসেন, লেখক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, কবি কৌমুদী নার্গিস, সাংস্কৃতিক কর্মী খন্দকার শাহ আলমসহ আরও অনেকে।


লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বাংলা একাডেমি গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই সংস্কৃতিকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা করার দাবিতে লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশকদের নিয়ে 'একুশে বইমেলা সংগ্রাম কমিটি' গঠন করা হয়।


বইমেলা কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বলে তারা মনে করেন না। তাদের ভাষ্য ছিল, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করে নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরে আরও দুই দিন মেলা বন্ধ রাখা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি।


লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বইমেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই মেলার তারিখ পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। বহু জীবনের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণ এটা প্রত্যাশা করে না।


এমন পরিস্থিতিতে মহান ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থেকে একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই প্রতীকী বইমেলার আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। 


আয়োজকেরা আশা করছেন, প্রতীকী এই মেলায় বিশিষ্ট লেখক, কবি, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেবেন। আর মেলার মঞ্চে সারা দিনই থাকবে আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত, নাটকসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রাণের টানে ভাষার মাসের প্রথম দিনের বইমেলায় বাংলা সংস্কৃতির অনুরাগীদের বিপুল সমাগম ঘটবে। 

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার। এ উপলক্ষে মধুকবির আবক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণসহ চিত্রাঙ্কন ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে প্রতিবছর তাঁর জন্মস্থান সাগরদাঁড়ীতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার হচ্ছে না।


বাসস জানিয়েছে, কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। 


তিনি বলেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মে মানবিক চেতনা, মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীলতার যে দীপ্ত প্রকাশ, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। 


উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, ‘মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী গ্রামে মধুসূদন জন্ম উৎসব পালিত হবে জেনে আমি আনন্দিত।”


তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীলতা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আধুনিকতার নতুন দিশা দেখিয়েছে। এ মহান সাহিত্যিককে স্মরণ করার এ আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মহাকবি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন, মহাকাব্যিক রচনাশৈলী ও নাট্যসাহিত্যে নতুন ধারা প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর মহাকাব্য, নাটক ও কাব্যগ্রন্থে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং মুক্তচিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও আমাদের চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করছে। ‘মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম উৎসব’ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।


১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ী গ্রামের বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদন দত্ত। তাঁর বাবা জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত আর মা জাহ্নবী দেবী। ১৮৫৩ সালে তিনি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করলে তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মধুসূদন দত্তের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মাবতী’ নাটক, ‘একেই বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামের দুটি প্রহসন, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনাকাব্য’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ ও ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’।


সাগরদাঁড়ী গ্রামের পাশে বয়ে চলা স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষের সঙ্গে মধুসূদনের গড়ে উঠে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। তাঁর বাল্যকালে আজকের মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদ কাকের কালো চোখের মতো স্বচ্ছ জলের জোয়ার-ভাটায় পূর্ণ ছিল। 

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:০৬ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

একুশে বইমেলায় শব্দনীলের কাব্যগ্রন্থ ‘চালাকচরের ফুলপরী’

একুশে বইমেলায় শব্দনীলের কাব্যগ্রন্থ ‘চালাকচরের ফুলপরী’

একুশে বইমেলায় শব্দনীলের কাব্যগ্রন্থ ‘চালাকচরের ফুলপরী’


একুশে বইমেলায় শব্দনীলের কাব্যগ্রন্থ ‘চালাকচরের ফুলপরী’

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:০৬ পিএম

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে শব্দনীলের কাব্যগ্রন্থ ‘চালাকচরের ফুলপরী’। বইটি সম্পূর্ণ নরসিংদীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত, যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেম কাহিনি একাধিক কবিতার মাধ্যমে ঘটনাপ্রবাহ ঠিক রেখে তুলে ধরা হয়েছে। প্রচ্ছদ করেছেন সুপ্রসন্ন কুণ্ডু, আর অলংকরণ করেছেন কাজী সুমাইয়া হোসাইন লিমু। বইটির মুদ্রিত মূল্য ২০০ টাকা, যা পাওয়া যাচ্ছে ঘাসফুল প্রকাশনীর ১৮০-১৮১ নম্বর স্টলে।

কবি শব্দনীল জানান, তার শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের প্রথম অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাটায় তিনি নানা আঞ্চলিক ভাষার সংস্পর্শে আসেন। এর ফলে ভাষার প্রতি এক নতুন অনুরাগ জন্ম নেয়। তিনি বলেন, ‘একসময় রংপুরের ভাষা, চট্টগ্রামের ভাষা ও শুদ্ধ ভাষার মিশ্রণে কথা বলতাম। এটাকে বলা যায় আঞ্চলিক ভাষার গুরুচণ্ডালী দোষ। তবে এভাবেই আমি মাটির কাছাকাছি যাওয়া শিখেছি, জারি, সারি, ভাওয়াইয়া গানের ভাষার সুর-তাল-লয়ের প্রেমে পড়েছি।’

শব্দনীল আরও বলেন, ‘আমাদের শহুরে জীবনের আড়ালে এক বিস্ময়কর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে। এটিকে খোঁজার নেশা থেকেই আমি আঞ্চলিক ভাষায় লেখালেখি শুরু করি। দেবব্রত সিংহের বাঁকুড়ার ভাষায় লেখা ‘তেজ’ কবিতা, জসীমউদদীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারা জীবন’—এসব কাব্য আমার ভেতর নাড়া দিয়েছে। মনে হলো, আমাদের শেকড়ের ভাষায় সাহিত্যচর্চা করাটা জরুরি।’

লেখকের ভাষায়, ‘এটি শুধু কবিতার সংকলন নয়, বরং একটি গল্প। এই গল্পটি নরসিংদীর আঞ্চলিক ভাষায় লেখা হলেও এর আবেগ সার্বজনীন। গ্রামীণ জীবনের প্রেম কাহিনির পাশাপাশি বইটিতে নরসিংদীর সংস্কৃতির একটি চিত্রও পাওয়া যাবে। এখানে আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করেছি পরাবাস্তববাদ বা সুররিয়ালিজমের হাত ধরে।’

তিনি আরও জানান, ‘চালাকচরের ফুলপরী কবিতা সংকলন হলেও এটিকে কাব্যগল্প বা কাব্যনাট্য বলা যায়। এটি বিভিন্ন ধরনের বিচ্ছিন্ন কবিতার সংকলন নয়, বরং একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রেম কাহিনি, যা কবিতার মাধ্যমে এগিয়ে গেছে।’

বইটির ফ্ল্যাপে লেখা— ‘উদয় মাগো সোনার বাংলা তরে হাজার সেলাম পুবেতে বন্দনা করলাম’— পুবের বানু সারো একদিকদা উদয় বানু চৌদিকে ফসর উত্তরে বন্দনা করলাম’— হিমালয় পর্বত তার— ইয়ালে কাঁপে সয়ালও সংসার পশ্চিমে বন্দনা করলাম’— মৌক্কা বানু সারো মুসলমান’— পড়ে নুমাজ আল্লাহু আকবার দক্ষিণে বন্দনা করলাম’— কালী দশায় সে সায়রে বাণিজ্য করে চান সওদাগর চারকোনা বন্দনা করলাম’— আসর হইলো স্থির নরসিংহদীর বন্দনা করালাম’— জেলা হয় নসন্দী নরসিংদীর বন্দনা করলাম’— থানা হয় শিপপুর পোস্ট অফিস নৌকাঘাটা ছুটা বন্দর ঠিকানা বন্দনা ছাড়িয়া এবার কিসসায় দিলাম মন চালাকচরের ফুলপরী তুই বুইত্যাই আপন।’

‘চালাকচরের ফুলপরী’ শুধু একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি নরসিংদীর আঞ্চলিক সংস্কৃতি, প্রেম, জীবনের গল্পের প্রতিচ্ছবি। আঞ্চলিক ভাষার স্বাদ নিতে এবং শেকড়ের সন্ধানে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি হতে পারে এক অনন্য সংযোজন।