আতিফ আসলামের কনসার্ট বাতিল হয়েছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনক’ আশা করেছিল ঢাকায় পাকিস্তানি তারকা শিল্পী আতিফ আসলামের কনসার্টের আয়োজন তারা করতে উঠতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারনে ছাড়পত্র পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। তাই বাতিল হয়েছে আতিফ আসলামের কনসার্ট। বিষয়টি জানিয়েছেন গায়ক নিজেই। ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে আতিফ বলেছেন শনিবার ঢাকায় তার কনসার্ট হচ্ছে না।
আতিফ লিখেছেন, “প্রিয় বাংলাদেশি ভক্তরা, দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্ধারিত কনসার্টে আমরা পারফর্ম করছি না। এর কারণ কনসার্টের আয়োজক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় স্থানীয় অনুমতি, নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো ঠিক করতে পারেননি।”
আতিফের এই ঘোষণায় চটে গিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে। আতিফের পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে আয়োজকদের উদ্দেশে একজন লিখেছেন, “অনুমতি না নিয়েই টিকেট বিক্রি করেছিলেন?”
আরেকজনের মন্তব্য, “যারা টিকেট কিনেছেন, তারা এখন আন্দোলনে নামতে পারে।”
কনসার্টের জন্য ভেন্যু নির্ধারিত ছিল পূর্বাচল নতুন শহরের চাইনিজ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার।
গেল ২৫ নভেম্বর ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্টের খবর দিয়ে ‘মেইন স্টেজ ইনকের’ মুখপাত্র রিসালাত বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলেন “ইভেন্টটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মমাফিক কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করে অনুষ্ঠানটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এর পর মেইন স্টেজের সত্বাধিকারী নিশা সালাম গ্লিটজকে বলেছিলেন, তাদের এই কনসার্টের একটা অংশ যাবে গণআন্দোলনে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তায়। এটা যেহেতু চ্যারিটি কনসার্ট, অনুমতি না দেওয়ার কোনো কারণ তারা দেখছেন না।
নিশা সালাম বলেন বলেছিলেন, “আমরা অনুমতি নেওয়ার সব প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করেছি, এখনো আশাবাদী, সুন্দর করে কনসার্টটি আমরা করতে পারব।”
কনসার্ট স্থগিত হলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আয়োজকের সুনামও নষ্ট হয় বলে মন্তব্য করেন মেইন স্টেজের সত্বাধিকারী নিশা সালাম।
তিনি গ্লিটজকে বলেন, “শেষ মুহূর্তে কনসার্ট বাতিল হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন আয়োজকরাই। কারণ তখন সব ধরনের পেমেন্ট আগেই পরিশোধ করা থাকে।
“এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হয়, অন্যদিকে বিদেশি শিল্পীরা এভাবে ফিরে গেলে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি দেশের বিনোদন অঙ্গন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।”
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আগের মৌসুমে ঢাকায় বেশ কয়েকটি কনসার্ট হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন; ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতির’ কথা বলে অনুমতিই দিতে চাইছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তাতে একের পর এক কনসার্ট স্থগিত হচ্ছে। বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান পরিকল্পনার পর এসব আয়োজন বাতিল হওয়ায় একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আয়োজকরা, অন্যদিকে টিকেটের টাকা ফেরত না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শকরাও। তবে এর মধ্যে সুবিধা করে নিচ্ছেন এক শ্রেণির মানুষ; তারা স্থগিত হওয়া কনসার্টের শিল্পীদের দিয়ে আয়োজন করছেন ‘প্রাইভেট কনসার্ট’।
এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা অনুবিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আপাতত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনো কনসার্টের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
“কয়েক দিনে ৫-৬টি আবেদন এসেছে, তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় মাস হলো এই অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তার আগে ১০-১২টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
আবহাওয়া বিবেচনায় সাধারণত শীতের সময় কনসার্ট বেশি হয়ে থাকে। গেল মৌসুমের শেষে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ‘মব’ এর মুখে পড়েছিল দু-একটি আয়োজন। তারপর গরম শেষে কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে বিপত্তির মুখে পড়ছেন আয়োজকরা।
সবশেষ গত শুক্রবার অনুষ্ঠেয় পাকিস্তানি ব্যান্ড ‘কাভিশ’র ‘ওয়েভ ফেস্ট: ফিল দ্য উইন্টার’ শিরোনামের কনসার্ট স্থগিতের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে কনসার্ট করতে অনুমতির জটিলতা প্রসঙ্গ।
এ আয়োজন উপলক্ষে কদিন আগে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় ‘কাভিশ’র সদস্যরা। কিন্তু সব প্রস্তুতি থাকার পরও শুক্রবার তারা আর মঞ্চে উঠতে পারেনি।
শাহনেওয়াজ কাকলী ও প্রাণ রায়
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে শখের প্রাইভেটকারটি বিক্রি করে দিয়েছেন স্বামী অভিনেতা প্রাণ রায়।
বর্তমানে কাকলীর চিকিৎসায় প্রতিদিন প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বছরের অক্টোবর মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় কাকলীকে।
চিকিৎসকরা জানান, তিনি স্ট্রোক করেছেন। টানা দুই মাস চিকিৎসার পর কিছুদিন বাসায় থাকলেও চলতি মাসের ১ ফেব্রুয়ারি আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মিরপুরের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজডে (সিআরপিতে) চিকিৎসাধীন।
প্রাণ রায় জানান, স্ট্রোকের কারণে কাকলীর মুখের একাংশ বাঁকা হয়ে গেছে এবং এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না। নিয়মিত তিনটি থেরাপি চলছে। তবে আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন নিজ হাতে খেতে পারছে এবং সহায়তায় বসতে পারছে।
চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানান এই অভিনেতা। তবে নিজের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপ বেড়েছে। প্রয়োজনে সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি।
অভিনয় শিল্পী সংঘ কাকলীর পাশে দাঁড়ালেও পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে তেমন সাড়া পাননি বলে অভিযোগ প্রাণ রায়ের।
২০১২ সালে ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন শাহনেওয়াজ কাকলী। ছবিটি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসিত হয় এবং একাধিক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত শুনানি শেষে আপসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নোবেল।
তিনি বলেন, ‘আমার দর্শক-শ্রোতারা আমাকে ভালো করে বোঝে, আমি হালকা পাগলা পাগলা আছি। তারা আমাকে ক্ষমা করে দেবে। মানুষ মাত্রই ভুল। আমারও ভুল হয়েছে। আবারও হইতে পারে।’
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি একই আদালত নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন-নোবেলের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা। আদালতের নির্দেশে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের স্টুডিওতে একদিন আটকে রাখেন নোবেল। এ সময় জোর করে ওই তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী গত বছরের ১৩ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।
২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। একই দিন আদালত মাইনুল আহসান নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে আসামিদের আইনের আওতায় এনে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
মামলার পর জামিন পেলেও তার মন্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
শবনম ফারিয়া
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এর মধ্যেই অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া তাঁর ফেসবুক পোস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই অভিনেত্রী মনে করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সন্দেহভাজনদের তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ করা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজ। তবে দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে শারীরিক বা মানসিকভাবে হয়রানি করা উচিত নয়।
তিনি লেখেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবস্থা, অবশ্যই সার্চ করবেন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, এইটা আপনাদের কাজ, কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন কেন?’
ক্ষমতার অপব্যবহার হলে মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা ও সম্মান কমে যায়, এমনটাও মন্তব্য করেন শবনম ফারিয়া।
ফারিয়া আরও লেখেন, ‘এই যে শুধু শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে আপনাদের ওপর মানুষের বিশ্বাস কিংবা সম্মান নষ্ট হয়ে যায়। আমরা আপনাদের সম্মান করতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই আপনারা সত্যিই আমাদের সেবায় নিয়োজিত।
ফারিয়া সবশেষে লেখেন, ‘আমরা চাই আপনারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কিন্তু দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি সম্মানও করতে হবে।’
তাঁর পোস্টে এক ভক্তের মন্তব্য, ‘আমরা নাগরিক হিসেবে সবাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্মান ও বিশ্বাস করতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি মর্যাদা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করবেন।’
হলিউডের অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রো
হলিউডের অস্কারজয়ী অভিনেতা- এই পরিচয়ের বাইরে আরও একটি জগৎ আছে রাসেল ক্রোর। সম্প্রতি ভক্তরা আবিষ্কার করেছেন তাঁর একটি ‘গোপন’ টিকটক অ্যাকাউন্ট, যেখানে তিনি বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ভাগ করে নিচ্ছেন। অ্যাকাউন্টটির নাম ‘igp366’- যা তাঁর ব্র্যান্ড ‘ইনডোর গার্ডেন পার্টি’র প্রতি ইঙ্গিত দেয়।
সেখানে অনুসারী এখন প্রায় ৩২ হাজারের বেশি। বায়োতে তিনি লিখেছেন, ঘড়ি আর ব্র্যান্ড নিয়েই এখানে তাঁর আলাপ। কোনো তারকাসুলভ প্রচার নয়, বরং নিখাদ শখের প্রকাশ।
ভিডিওতে ক্রো জানান, তাঁর পুরো সংগ্রহ দেখাতে গেলে অনেক সময় লাগবে- কারণ তিনি ‘আক্ষরিক অর্থেই নিবেদিতপ্রাণ’। আপাতত তিনি দেখিয়েছেন নিজের ‘কারেন্ট রোটেশন’- অর্থাৎ নিয়মিত পরা প্রিয় কয়েকটি ঘড়ি। সংগ্রহে রয়েছে রোলেক্স, টুডার, ওমেগার মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড। কয়েকটি ঘড়ির দাম ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত।
বিশেষভাবে নজর কাড়ে তাঁর রোলেক্স ডেটোনা- যা তিনি গত জুলাইয়ে উইম্বলডনে পরেছিলেন। এই ঘড়ির মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ ডলার। টিফানি নীল ডায়ালের একটি ঘড়ি দেখাতে গিয়ে তিনি বলেন, সুটের হাতার নিচ থেকে যখন রংটি উঁকি দেয়, তা সবার নজর কাড়ে- এই সূক্ষ্ম নাটকীয়তাই তাঁর পছন্দ।
ভিডিওর শুরুতেই রাসেল ক্রো দেখান সুইস ব্র্যান্ড ওমেগার বিশেষ সংস্করণ সিমস্টার ডাইভার ৩০০এম, সিক্সটি ইয়ার্স অব জেমস বন্ড। জেমস বন্ড চরিত্রের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি এ ঘড়ির নীল ডায়াল মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৫ সালের ‘গোল্ডেন আই’-এ জেমস বন্ডরূপে পিয়ার্স ব্রসনানের হাতে দেখা সেই বিখ্যাত ঘড়িকে। দাম প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ডলার। তবে ক্রো জানান, বন্ড-প্রেমের জন্য নয়, বরং টেনিস ডাবলস পার্টনারের সঙ্গে ম্যাচিং ঘড়ি পরে কোর্টে মানসিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এটি সংগ্রহ করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০১ সালে ব্রসনানের পর বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাব্য তালিকায় ক্রোর নামও ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ।
ভক্তরা বিস্মিত- গ্ল্যাডিয়েটরের ম্যাক্সিমাস হঠাৎ কীভাবে হয়ে উঠলেন ঘড়িপাগল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ লিখেছেন, ‘কলোসিয়ামে বাঘের সঙ্গে লড়াই থেকে এখন এক্সক্লুসিভ অ্যালোকেশন পাওয়ার লড়াই!’
টিকটক ভিডিওর পটভূমিতেই দেখা গেছে রাসেল ক্রোর সোনালি অস্কার মূর্তি-এক কোণে প্রায় নির্লিপ্তভাবে রাখা। ২০০১ সালে ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ ছবিতে ম্যাক্সিমাস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন তিনি। সেই অস্কার যেন অনায়াসে পড়ে আছে অন্যান্য স্মারকের পাশে-যা ভক্তদের কাছে আরও ‘ফ্লেক্স’ হিসেবে ধরা দিয়েছে।
ঘড়ির প্রতি ক্রোর অনুরাগ নতুন নয়। ২০১৮ সালে ‘আর্ট অব ডিভোর্স’ নিলামে তিনি ৩৭ লাখ ডলারের স্মারক, শিল্পকর্ম ও গয়না বিক্রি করেছিলেন। সেখানে ২৪টি ঘড়িও ছিল- পানেরাই, ব্রাইটলিং, কার্টিয়ের, শোপার্ডসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের।
ক্রো নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলায় কোনো ‘ফ্ল্যাশি’ ঘড়ি ছিল না- বড় হয়ে সে অভাব পুষিয়ে নিয়েছেন। তাঁর কাছে ঘড়ি কেবল সময় জানানোর যন্ত্র নয়; প্রতিটি ঘড়ি যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়ের স্মারক।
রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা
বহুদিন ধরে চলা জল্পনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেরাই বিয়ের খবর নিশ্চিত করলেন দক্ষিণি সিনেমার আলোচিত জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা।
সম্পর্ক নিয়ে এত দিন প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও গতকাল রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ বার্তায় তাঁরা জানান, জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের এই ঘোষণা ভক্তদের কৌতূহলকে দিল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
‘বিরোশ’ নামেই বিয়ের ঘোষণা
ভক্তদের দেওয়া জনপ্রিয় নাম ‘বিরোশ’—দুজনের নাম মিলিয়ে তৈরি এই সম্বোধনকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারকা জুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা লেখেন, ‘আমরা কিছু পরিকল্পনা করার আগেই তোমরা আমাদের সঙ্গে ছিলে। অনেক ভালোবাসা দিয়ে আমাদের নাম দিয়েছিলে—বিরোশ।’
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ মুহূর্তে ভক্তদের সেই নামকেই ধারণ করে তাঁরা বিয়ের ঘোষণা দেন। ভক্তদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানান, ‘তোমরা আমাদেরই অংশ। অনেক ভালোবাসা ও আলিঙ্গন।’
তারকাদের নাম জুড়ে এমন সম্বোধনের চল নতুন নয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো ‘বিরোশ’।
রাজস্থানে গোপন আয়োজন
ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের একটি প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হবে মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিয়ের বিভিন্ন আচার। দুই পরিবারের নিজস্ব রীতিনীতি মেনে আলাদা আয়োজনও হয়েছে—একটি রাশমিকার পরিবারের উদ্যোগে, অন্যটি বিজয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে। এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক—কড়া গোপনীয়তা। বিয়ের ভেন্যুতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিথির তালিকা সীমিত। অনুষ্ঠানে মুঠোফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি যাঁরা ছবি বা ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করতে হয়েছে। অর্থাৎ ‘নো ফোন, নো লিক’ নীতিতেই হচ্ছে এই বহুল আলোচিত আয়োজন।
৪ মার্চ হায়দরাবাদে সংবর্ধনা?
বিয়ের অনুষ্ঠান থাকবে একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে। তবে ৪ মার্চ হায়দরাবাদে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের জন্য একটি বড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পর্দার রসায়ন থেকে বাস্তবের সম্পর্ক
২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গীতা গোবিন্দাম’ ছবিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেন রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রোমান্টিক এই ছবিতে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আর পর্দার সহজাত রসায়ন মুহূর্তেই দর্শকের মন কাড়ে। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের জুটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
এরপর ‘ডিয়ার কমরেড’-এ আবারও জুটি বাঁধেন তাঁরা। ভিন্ন স্বাদের, আবেগঘন এই ছবিতে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা ও সংবেদনশীল অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়ের প্রশংসা পায়। দুই ছবির পর থেকেই পর্দার রসায়ন বাস্তবেও কি রূপ নিচ্ছে—এমন প্রশ্ন ঘুরতে থাকে ভক্তমহলে।
একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কিংবা একই সময়ে একই জায়গায় ছুটি কাটানোর ছবি—সব মিলিয়ে জল্পনা ক্রমেই ঘনীভূত হয়। তবু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই সংযত ছিলেন দুজনেই। সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন এলে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, কখনোই সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
সম্প্রতি বাগ্দানের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন অঙ্গনে। যদিও সে সময়ও তাঁরা নীরব ছিলেন। অবশেষে নিজেদের মুখেই বিয়ের ঘোষণা আসায় বহুদিনের সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। পর্দায় শুরু হওয়া একটি সফল জুটির গল্প এবার বাস্তব জীবনেও পেল আনুষ্ঠানিক পরিণতি।
নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
তারকাদের জাঁকজমকপূর্ণ ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর যুগে রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডার এই নিয়ন্ত্রিত, সংযত আয়োজন আলাদা নজর কাড়ছে। আলোঝলমলে প্রচারের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ব্যক্তিগত পরিসর ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া পথ। ভক্তদের মতে, ২৬ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি বিয়ের দিন নয়—দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব জীবনের নতুন সূচনার দিন। এখন তাঁদের অপেক্ষা, কবে তাঁদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাবে বিয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ছবি।
পপ তারকা শাকিরা
দীর্ঘ ১৯ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও ভারতে কনসার্ট করতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা। আগামী এপ্রিলে ভারতের মুম্বাই ও দিল্লিতে দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন তিনি।
২০০৭ সালের পর এটিই হবে দেশটির মাটিতে এই গায়িকার প্রথম কোনো স্টেজ শো। আয়োজক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, আগামী এপ্রিল মাসে ভারতের দুটি বড় শহরে শাকিরার কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে মুম্বাইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্স ময়দান এবং দিল্লির জাওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মঞ্চ মাতাবেন তিনি। এই কনসার্টগুলোর টিকিট বুকিং শুরু হবে আগামী ১ মার্চ থেকে।
তবে টিকিটের মূল্য কত হতে পারে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
২০০৫ সালে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা ‘হিপস ডোন্ট লাই’ গানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন শাকিরা। এর আগে ২০০৭ সালে নিজের ‘ওরাল ফিক্সেশন’ ট্যুরের অংশ হিসেবে প্রথমবার ভারত সফরে যান শিল্পী। সে সময় তিনি শুধু মুম্বাইয়ে পারফর্ম করেছিলেন।
গত কয়েক বছরে এড শিরান, দুয়া লিপা, এনরিকে ইগলেসিয়াস এবং ম্যারুন ফাইভের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা ভারতে পারফর্ম করলেও এশিয়ায় শাকিরার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ফলে দীর্ঘ সময় পর তার এই ফেরা নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।