ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ এএম

পারস্য উপসাগরীয় দেশ ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।


রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আল বাতিনা গভর্নরেট পুলিশের নেতৃত্ব আল-মাসনা গভর্নরেট এলাকায় বুধবার রাতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ওই চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ বলছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এটির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মারা যাওয়া চার সহোদর হলেন– রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।


তাদের ছোট ভাই মো. এনাম বলেছেন, তারা পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই দীর্ঘদিন ধরে ওমানে ছিলেন। তাদের মধ্যে সিরাজ ও শহিদ অবিবাহিত, ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।


“দেশে আসার প্রস্তুতিতে কেনাকাটার জন্য চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে গাড়ির ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়।”


স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদাহর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। নিজেদের লোকেশন পাঠিয়ে বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মত অবস্থাও তাদের নেই।


পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।


চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইন ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমান বলছে, মৃত চারজনেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন নিজওয়ায়, আরেকজন সুওয়াইকে এবং বাকি দুজন মুলাদাহে বসবাস থাকতেন।


এ ঘটনার পর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে রয়্যাল ওমান পুলিশ আবদ্ধ অবস্থায় যানবাহনের ভেতরে না ঘুমাতে এবং ঘুম চোখে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ এএম

যুক্তরাজ্যের কলচেস্টারের সাগরে জোয়ারের পানিতে ডুবে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা। সামার হলিডে বা গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই মারাত্মক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। 


বৃহস্পতিবার ভোরে ইউকে (যুক্তরাজ্য) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু  এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুজন হলেন যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী এবং তাদের ১৫ বছরের কিশোরী কন্যা। নিহত ওই নারী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেটের ছাতক উপজেলার অধিবাসী মুজিবুর রহমানের কন্যা। আর ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা শেখ মখন মিয়ার সন্তান।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্র সৈকতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তারা সবাই আনন্দমুখর পরিবেশে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ সাগরের প্রচণ্ড স্রোত এসে পরিবারের ছোট একটি শিশুকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। অবোধ শিশুটিকে উদ্ধারের আকুল চেষ্টায় পানিতে ঝাঁপ দেন মা ও তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচাতে পারলেও উত্তাল জোয়ারের টানে তলিয়ে গিয়ে দুজনেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।


দুর্ঘটনার সময় সৈকতে উপস্থিত থাকা শোকস্তব্ধ পিতা মুজিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত আর কিছু বলতে পারেননি। এই ঘটনায় গুরুতর আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে দ্রুত লন্ডনের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। 


দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে যুক্তরাজ্যের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কলচেস্টারের ওয়েস্ট মার্সিতে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ জনগণকে আপাতত সিভিউ অ্যাভিনিউ এবং এর সংলগ্ন সৈকত এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে। 


ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ ধরে এইচএম কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) জানিয়েছে, সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়েস্ট মার্সির ইনশোর লাইফবোটের পাশাপাশি ক্লাক্টন-অন-সি কেন্দ্রের দুটি বিশেষ লাইফবোট অবিলম্বে সাগরে নামানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ এএম

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই পরিবারের আরও এক সদস্য। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- নিহতরা হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছর বয়সী কন্যা সন্তান। তাদের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। হামলায় নিহত কামাল হোসেনের ১৮ বছর বয়সী ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।


ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। 


প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।


খবর পেয়েই রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছেন। তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি প্রশাসন।


হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চিরুনি অভিযান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ২০ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ এএম

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) বিশেষ অভিযানে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) দিনগত রাতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু মার্কেট এলাকার আশপাশে বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।


‘অপস কুতিপ’ নামের এ অভিযানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে সবাইকে আটক করা হয়।


ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।


অভিযান চলাকালে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।


আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় (৭ পুরুষ ও ২১ নারী), ২৬ জন মিয়ানমার নাগরিক (১৩ পুরুষ ও ১৩ নারী), ৫ জন ভিয়েতনামি (৩ পুরুষ ও ২ নারী), ৪ জন নেপালি, দুজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং দুজন চীনা নাগরিককে (১ পুরুষ ও ১ নারী) আটক করা হয়েছে।


প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবস্থান)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।


ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ এএম

লন্ডনে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। 


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।


মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে হট্টগোল ও ডিম নিক্ষেপ 


জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউকে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে (মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্ট) এক সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই আন্দোলনের এক সেমিনারে যোগ দিতে লন্ডনে অবস্থানরত এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন।


হাসনাত আবদুল্লাহর আসার খবরে বিকেল থেকেই ভেন্যুর বাইরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অন্যদিকে এনসিপির সমর্থকরাও অনুষ্ঠানস্থলের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এনসিপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 


স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান রাত ৯টার দিকে। কয়েক ডজন পুলিশের কঠোর পাহারায় দৌড়ে বিকল্প একটি দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারলে তিনি দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অনুষ্ঠান শেষেও তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই স্থান ত্যাগ করেন।


আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। 


এলেম পার্কে ধাওয়া ও হাতাহাতি


এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে এক দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। 


সেখানেও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতার গায়ে ডিম লাগে। এরপর তার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন। 

সর্বশেষ সব খবর

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ এএম

২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আবারও মহান সাফল্যের সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে। মাইল এন্ড রোড, লন্ডন E1- রোববার ১৭ মে জেনেসিস সিনেমায় পূর্ণ দর্শক সমাগমের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


রৌদ্রোজ্জ্বল দিন এবং সত্যিকারের উৎসবমুখর পরিবেশে চলচ্চিত্রপ্রেমী, শিল্পী, অতিথি ও নির্মাতাদের এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। ডালিয়া রহমানের সৌজন্যে একই রকম লাল শাড়ি পরে অনেক নারীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় ও বর্ণিল করে তোলে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সৈয়দা সাইমা আহমেদ। ট্রেইনি পরিচালক সামির কামাল ও অমি খান এ বছরের উৎসবে তাদের অভিজ্ঞতার কথা দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।


উৎসব পরিচালক মি. মোস্তফা কামাল সকল অতিথিকে স্বাগত জানান এবং রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দীর্ঘ ২৭ বছরের ইতিহাস ও যাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি আগামী পুরো সপ্তাহব্যাপী চলমান উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও ঘোষণা করেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সোনালী পে-এর মি. খাজা মাসুম বিল্লাহ এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের BLOC-এর মি. রুপার্ট ড্যানরয়থার। অনুষ্ঠানে এ বছর প্রয়াত রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির ট্রাস্টি মিস জয়স্রী কবিরকেও স্মরণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান “আনন্দলোকে” দলীয়ভাবে পরিবেশন করা হয় এবং পুরো দর্শকও গানে অংশগ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “আগন্তুক” প্রদর্শনের মাধ্যমে।


সফল এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে, রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব লন্ডনে বহুসাংস্কৃতিক চলচ্চিত্র, শিল্পচর্চা এবং কমিউনিটি সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।


উল্লেখ্য, ২৭তম এবারের এই উৎসবে প্রায় দশটি দেশের ৪০ টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, সাউথ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, তাজাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া, চীন, ইরান, আরমেনিয়া এবং ইউক্রেন।


চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে তা হলো- আগন্তুক,নয়া মানুষ,উড়াল,নয়া নোট,দ্য স্টোরি অফ এ রক (বাংলা) ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাংখারপুল’ (বাংলা)।


ভারতের বাংলা সিনেমাগুলো হলো- যত কাণ্ড কলকাতায়,গৃহপ্রবেশ,স্বার্থপর,অংক কি কঠিন,রাগু ডাকাত এবং বিজয় নগরীর হীরে। এছাড়া ইরানের ‘They loved me,Gageriev, He does not sleep, Whispar my name, রাশিয়ার -The Mystery of black hand, চায়নার -The shore of life, সাউথ কোরিয়ার- Drained by dream, কিরগিজস্তানের -Zhara’ এবং ‘KURAK,তাজাকিস্তানের -Mohi Dar,ফিলিপাইনের -Republika ng Pipolipinas এছাড়া থাকছে অনেকগুলো শর্ট ফিল্ম। প্রতিটি সিনেমায় ইংলিশ সাব টাইটেল থাকবে। 


সোমবার ১৮ই মে থেকে ২৩শে মে শনিবার পর্যন্ত এই উৎসব চলবে মাইল্যান্ডে অবস্থিত কুইনমারি ইউনিভার্সিটির আর্টস ওয়ান বিল্ডিংয়ের ‘ব্লক’ হলে। প্রতিদিন দুটি করে সিনেমা প্রদর্শিত হবে বিকেল চারটায় এবং সাড়ে পাঁচটায়।


২৩শে মে সমাপনী দিনে কুইনমারি ইউনিভার্সিটির আর্টস ওয়ান ব্লিডিংয়ের 'ব্লক' হলে সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় বাংলা সিনেমা 'স্বার্থপর' দর্শনীর বিনিময়ে দেখতে হবে, তবে

১৮ই মে থেকে ২৩শে মে (বিকাল চারটা) পর্যন্ত যে সকল চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে তাতে টিকেট লাগবেনা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ এএম

ভূমধ্যসাগরের নোনা জল আর উত্তাল ঢেউয়ের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ কথা নয়। যেখানে শক্তিশালী পুরুষরা এই ভয়ঙ্কর পথে চলতে গিয়ে হিমশিম খায়, সেখানে এক বাংলাদেশি তরুণীর অদম্য সাহসিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গত ৯ মে ভোরে লিবিয়া উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি অভিবাসীবাহী বোট ছেড়ে যায়। 


সম্প্রতি সেই বোটটি সফলভাবে গ্রিসে পৌঁছেছে। তবে অবাক করা বিষয় হলো- পুরো বোটভর্তি পুরুষদের ভিড়ে একজন মাত্র নারীকে দেখা গেছে।


প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওই তরুণী বাংলাদেশি এবং তার বাড়ি বরিশাল জেলায়। জীবনের স্বপ্ন পূরণের নেশায় তিনি লিবিয়া হয়ে এই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছেন।


একঝাঁক পুরুষের ভিড়ে বোটের মধ্যে ওই তরুণীর ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অনেকেই বরিশালের এই মেয়ের অসীম সাহসের প্রশংসা করছেন এবং তার এই স্বপ্নজয়কে বীরত্ব হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, একদল মানুষ এই বিপজ্জনক যাত্রার তীব্র সমালোচনা করছেন। কারণ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। একজন নারী হয়ে এতগুলো পুরুষের মাঝে এমন অনিরাপদ যাত্রাকে অনেকেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।


ছবিতে দেখা যায়, ছোট একটি বোটে গাদাগাদি করে অনেক মানুষ বসে আছেন। মাঝখানে সেই তরুণী হিজাব পরা অবস্থায় অত্যন্ত শান্তভাবে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। 


লিবিয়া থেকে গ্রীসের এই রুটটি বর্তমানে মানবপাচারকারীদের অন্যতম প্রধান পথ। এই সফলতার পেছনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি আছে হাজারো মানুষের কান্নার ইতিহাস। তবে বরিশালের এই মেয়ের গ্রিসে পৌঁছানোর খবরটি এখন টক অব দ্য টাউন।


সাফল্য সবারই কাম্য, কিন্তু জীবনের চেয়ে দামি কিছু নেই। বরিশালের এই তরুণী হয়তো ভাগ্যগুণে বেঁচে ফিরেছেন এবং তার লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, কিন্তু এই পথটি মোটেও সবার জন্য সুখকর হয় না। 


বিশেষ করে নারীদের জন্য এই রুটে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

সর্বশেষ সব খবর