আইন মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের এক জেলা ও দায়রা জজ এবং ছয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারককে বদলি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তাদের বদলি করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিনকে সিলেটে শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত তিন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে আইন ও বিচার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অঞ্জন কান্তি দাস ও মোঃ আতিকুস সামাদ এবং আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোস্তফা রেজা নূর।
এছাড়া তিন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে প্রেষণে সুপ্রিম কোর্টে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার হিসেবে পদায়িত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাসান মোঃ আরিফুর রহমানকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. এম. মোর্শেদ ও রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আবু সাঈদকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল।
তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ দিন ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।
প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুদক মামলাটি দায়ের করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্লাহ দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া নাম ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন এবং এসব হিসাবে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা করেন। পরে হিসাব বিকৃতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন।
দুদকের উপপরিচালক শারিকা ইসলাম আদালতে করা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি বর্তমানে অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় জেলহাজতে আটক। তাই এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
কাজী জাফর উল্লাহ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
হাইকোর্টে ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছে
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ‘২০০১ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র- যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।’
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট জারির ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। পরে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে।
নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট জারি করেন। গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের আয়োজন করা হবে।
তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হচ্ছে না।
অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামের মাদক স্পট বন্ধ, জড়িত কর্মকর্তা শনাক্তকরণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামের আড়ালে মাদকের শ্রেণিভুক্ত দ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা পরিচালিত হচ্ছে— এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ডিজি মারুফ হোসেনের নির্দেশনায় ইতোপূর্বে বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করে বহু মাদক স্পট বন্ধ ও প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে— যা প্রশংসনীয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে— মাঠ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পুনরায় এসব মাদক স্পট চালু করে দিচ্ছে। ফলে পূর্ববর্তী অভিযানের সুফল বিনষ্ট হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে— মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগে কোনও প্রকার শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনগত কোনও বাধা নেই। সিসা বা হুক্কা মাদকদ্রব্য, তা অবশ্যই আইনের আওতাভুক্ত হবে।
এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও সেবন— সবই দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কঠোর শাস্তির বিধান বিদ্যমান। অতএব, সিসা লাউঞ্জের আড়ালে পরিচালিত মাদক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোনও আইনগত বাধা নেই।
আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো—
১. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হোক।
২. বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ ও সব মাদক স্পটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হোক।
৩. প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
৪. মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশ বাহিনীর জড়িত কর্মকর্তা বা সদস্যদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৫. অভিযান-পরবর্তী কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক, যাতে পুনরায় কোনও মাদক স্পট চালু না হতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল অষ্টমবারের মতো পিছিয়ে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) সহকারি পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগে, এ মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।
হাদির রাজনৈতিক পরিচয় এবং চলমান নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ ঘটানো হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করার উদ্দেশ্যও ছিল।
হাদির ওপর হামলার দিন ১২ ডিসেম্বর তিনি বিজয়নগরের এলাকায় গণসংযোগে ছিলেন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয় চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসা আততায়ীর দ্বারা। গুরুতর আহত হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তী দুই দিন পরে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
মামলার তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আপনারা গতকাল হয়তো দেখেছেন আইনমন্ত্রী বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কার্যক্রম সেটা স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশাকরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি আমরা স্বাভাবিক গতিতেই সমস্ত কর্মকাণ্ড চলমান রাখবো এবং এটাই ন্যায় বিচারের দাবি।
এদিন জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মিরপুর এলাকায় শহীদ ফজলে রাব্বির বাবা ও শহীদ তানহার বাবা। শহীদ দুইজনের নির্মম মৃত্যুর বর্ণনা তুলে ধরেন তারা।