পুরো ইনিংসে ১৯টি ছক্কা মেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

টস হেরে বোলিং বেছে নিয়ে এখন হয়ত আক্ষেপে পুড়ছেন সিকান্দার রাজা। শুরুতে উইকেট হারালেও দুবার জীবন পাওয়া শেমরন হেটমায়ার খেললেন টার্নেডো ইনিংস। 


রভম্যান পাওয়েল, শেরফাইন রাদারফোর্ডরা মাতলেন চার-ছক্কার উৎসবে। আড়াইশো ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়া পুঁজি পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 


মুম্বাইতে সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬ উইকেটে  ২৫৫ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোন দলের এটাই সর্বোচ্চ সংগ্রহ, এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা করেছিল ২৬০। 


পুরো ইনিংসে ১৯টি ছক্কা মেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ। রান বন্যার ম্যাচে ৩৪ বলে ৭টি করে চার-ছক্কায় ৮৫ রান করেছেন হেটমায়ার। পাওয়েলের ব্যাট থেকে ৩৫ বলে এসেছে ৫৯ রান। রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩১, রোমারিও শেফার্ড ১০ বলে ২১ এমনকি জেসন হোল্ডার নেমে ৪ বলে করেছেন ১৩ রান।


টস জিতে বোলিং বেছে ১৭ রানে ব্র্যান্ডন কিং আর ৫৪ রানে শেই হোপকে তুলে নিয়েছিলো জিম্বাবুয়ে। তিনে নেমে শুরুতেই ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন হেটমায়ার। এরপর উত্তাল হয়ে উঠে তার ব্যাট। 


মাত্র ১৯ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি, যা এই বিশ্বকাপের দ্রুততম। ফিফটির পর আবার ক্যাচ দিয়েছিলেন। দুইবারই তার সহজ ক্যাচ ফেলে দেন তাসিঙ্গা মুসেকিওয়া। যার খেসারত কড়ায় গণ্ডায় দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।


পাওয়েল অবশ্য কোন সুযোগ না দিয়ে ৫৯ করে গেছেন। স্লগ ওভারে রাদারফোর্ড, শেফার্ডরা মনখুলে হিট করেছেন, রানও এসেছে বিস্তর। দলকে তারা এমন এক জায়গায় নিয়েছেন যা জিম্বাবুয়ের জন্য পেরিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।




আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১:৩২ পিএম

আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আজ এই সূচি ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট। এরপর কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ম্যাকাই শহরে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় ২২ আগস্ট শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।


ম্যাকাইয়ে এটাই হবে প্রথম টেস্ট ম্যাচ এবং গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা হবে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু। আর ২২ বছর পর ডারউইনে ফিরবে টেস্ট ম্যাচ। 


সর্বশেষ ২০০৪ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের এ শহরে টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেবার মারারা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া।


২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ডারউইনে একটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল খালেদ মাহমুদের দল। 


তারপর এই প্রথম এবং সব মিলিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের পর দুই দলের মধ্যে এটাই হবে প্রথম টেস্ট সিরিজ। ২০২০ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে সিরিজটি বাতিল হয়।


দুই ম্যাচের এ সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চক্রের অংশ। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচি। 


ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, ‘এটা গোপন কিছু নয় যে আন্তর্জাতিক সূচি এখন ব্যস্ততাপূর্ণ। তবে আগস্টে বিশ্বমানের ভেন্যু পাওয়ায় আমরা সৌভাগ্যবান। এতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের বাইরে টেস্ট ক্রিকেট আয়োজনের আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।’


গত জানুয়ারিতে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার ছেলেদের দলের এটাই হবে প্রথম টেস্ট সিরিজ। বাংলাদেশ সিরিজ শেষে আগামী অক্টোবরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে অস্ট্রেলিয়া। ডারবান, গেবারা ও কেপটাউনে-এই তিনটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ সফরের অংশ হিসেবে জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজও খেলবে অস্ট্রেলিয়া।


এরপর অস্ট্রেলিয়া ফিরবে ঘরোয়া মৌসুমে। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলার পর টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলতে ভারত সফরে যাবে তারা। 


টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী মার্চে মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (এমসিজি) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। এ বছরের জুনে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরেও আসবে অস্ট্রেলিয়া দল।


বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে বসতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। 


১২ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশ্ব ক্রিকেটের এই মহারণ। আসন্ন এই মেগা ইভেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।


এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ-১ এ। এই গ্রুপে টাইগ্রেসদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। 


অন্যদিকে, গ্রুপ-২ এ লড়াই করবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড।


আগামী ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১৭ জুন হেডিংলিতে টাইগ্রেসদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টির পরাশক্তিদের বিপক্ষে এই ম্যাচটিই হতে পারে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ২০ জুন হ্যাম্পশায়ারে পাকিস্তান, ২৫ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারত এবং ২৮ জুন ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে টাইগ্রেসদের।


গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে ৩০ জুন ও ২ জুলাই দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের দুটি সেমিফাইনাল। আর ৫ জুলাই লর্ডসের ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরের।


একনজরে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচসূচি:


১৪ জুন: বনাম নেদারল্যান্ডস – এজবাস্টন (বিকেল ৩:৩০ মিনিট)


১৭ জুন: বনাম অস্ট্রেলিয়া – হেডিংলি (বিকেল ৩:৩০ মিনিট)


২০ জুন: বনাম পাকিস্তান – হ্যাম্পশায়ার বোল (সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট)


২৫ জুন: বনাম ভারত – ওল্ড ট্র্যাফোর্ড (সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট)


২৮ জুন: বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা – লর্ডস (বিকেল ৩:৩০ মিনিট)



সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের উল্লাস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।


পাঁচ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৩ উইকেটে ৩১। পাঁচ ওভারে ভারতের রান ৩ উইকেটে ২৯। শুরুর বিপর্যয় সামলে দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও, ভারত সেটা পারল না। মিডল অর্ডারে তিনটি ঝড়ো ইনিংসে প্রোটিয়ারা যত রান তুলল পরের ১৫ ওভারে, গোটা ইনিংসেও তা স্পর্শ করতে পারল না ভারতীয়রা।


গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ে পাত্তাই পেল না শিরোপাধারীরা। ৭৬ রানের বড় জয়ে সুপার এইটে যাত্রা শুরু করল গতবারের রানার্স আপ দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদে রোববার ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান। জবাবে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার চোখরাঙানি এড়িয়ে ১১১ পর্যন্ত যেতে পারে ভারত।


২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।


বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে ভারত অলআউট হয়েছে কেবল একবারই, ২০১৬ আসরে নাগপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৯। রানের হিসাবে বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় হার অবশ্য এটিই। আগের বড় হার ছিল ২০১০ আসরে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৯ রানে। বিশ্বকাপে রেকর্ড টানা ১২ জয়ের পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল ভারত।


দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক ডেভিড মিলার। চাপের মুখে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাল্টা আক্রমণে সাত চার ও তিন ছক্কায় ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই। চার নম্বরে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ছয় নম্বরে তিন ছক্কা ও এক চারে ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন ট্রিস্টান স্টাবস।


ভারতের হয়ে শিভাম দুবের ৪২ ছাড়া আর কেউ ১৮ রান পার হতে পারেননি। টানা তিন শূন্যের পর অবশেষে বিশ্বকাপে রানের দেখা পেয়েছেন আভিশেক শার্মা। ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার পেস বোলিং অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন। আরেক অলরাউন্ডার কর্বিন বশ ১২ রানে ২টি ও বাঁহাতি স্পিনার কেশাভ মহারাজ ২৪ রানে নেন ৩টি উইকেট।


আহমেদাবাদের ম্যাচটিতে ভারত খেই হারিয়েছে রান তাড়ার শুরুতেই। প্রথম ওভারে ঈশান কিষান আর দ্বিতীয় ওভারে তিলক বর্মাকে হারিয়ে ৫ রানে হারায় ২ উইকেট। শুরুর এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি স্বাগতিকেরা। অভিষেক শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর হয়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও যখন ফেরেন, ভারতের রান ৫ উইকেটে ৫১।


এরপর শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়ার ষষ্ঠ উইকেট জুটি কিছুক্ষণ টিকলেও বাড়তে থাকা রান রেটের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে কেশব মহারাজ বোলিংয়ে এসে ৩৫ রানের জুটিটিই ভাঙেননি, এক ওভারের মধ্যে তুলে নেন পান্ডিয়া রিংকু ও অর্শদীপের তিন উইকেট। এরপর দুবে কয়েকটি বড় শটে দলকে এক শ পার করিয়ে হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন যা। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ৩ ছক্কা ১ চারে ৩৭ বলে করেছেন ৪২ রান। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই।


সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৮৭/৭ (মার্করাম ৪, ডি কক ৬, রিকেলটন ৭, ব্রেভিস ৪৫, মিলার ৬৩, স্টাবস ৪৪*, ইয়ানসেন ২, বশ ৫, রাবাদা ০*; আর্শদিপ ৪-০-২৮-২, বুমরাহ ৪-০-১৫-৩, ভারুন ৪-০-৪৭-১, ওয়াশিংটন ২-০-১৭-০, পান্ডিয়া ৪-০-৪৫-০, দুবে ২-০-৩২-১)


ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১১১ (কিষান ০, আভিশেক ১৫, তিলাক ১, সুরিয়াকুমার ১৮, ওয়াশিংটন ১১, দুবে ৪২, পান্ডিয়া ১৮, রিঙ্কু ০, আর্শদিপ ১, ভারুন ০*, বুমরাহ ০; মার্করাম ১-০-৫-১, ইয়ানসেন ৩.৫-০-২২-৪, রাবাদা ৪-০-৩২-০, এনগিডি ৪-০-১৫-০, মহারাজ ৩-০-২৪-৩, বশ ৩-০-১২-২)


ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী


ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড মিলার


অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

  • প্রকাশ : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১১:৩২ পিএম

যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 


আজ রোববার বিসিবির ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলমের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে বোর্ড। 


বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল জাতীয় নারী দলের সিনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা আলমের একটি অভিযোগ কেন্দ্র করে। নারী দলে দায়িত্ব পালনকালে মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন জাহানারা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। সেই কমিটির দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে জাহানারার চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।


তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে আজ মঞ্জুরুলকে বাংলাদেশের সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। বর্তমানে মঞ্জুরুল ইসলাম চীনের নারী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, দেশে ফেরার পর বা দেশের কোনো ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি আর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবেন না।


সূত্র আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাহানারা আলম যদি ব্যক্তিগতভাবে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, তবে বিসিবি তাকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে। নারীর নিরাপত্তা ও ক্রিকেটের পরিবেশ স্বচ্ছ রাখার স্বার্থেই বোর্ড এমন আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।



এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত, বাংলাদেশ রানারআপ।

  • প্রকাশ : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে ভারতের কাছে ৪৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাতেই শিরোপার জেতা হলো না ফাহিমা খাতুনদের। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত, বাংলাদেশ রানারআপ। 


ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান করে ভারত। জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।


টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত নারী দল। অন্যদিকে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।


শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ১৩৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান তোলে দল। এরপর ঘটে ছন্দপতন। 


উইকেট পতনের মিছিলে যোগ দিতে থাকেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। আর শেষ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহতই থাকে। ফলে জয়ের মুখ আর দেখা হয়নি বাংলাদেশের মেয়েদের।


দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ওপেনার শামিমা সুলতানা। ১৮ রান করেন শারমিন সুলতানা। ফাহিমা খাতুন করেন ১৪ রান। আর ১০ রান আসে সাদিয়া আক্তারের ব্যাট থেকে। বাকি ব্যাটারদের কেউই দশের কোটা পার করতে পারেননি।


ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার প্রেমা রাওয়াট। তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুটি করে উইকেট নেন সোনিয়া ও তানুজা। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন তিনজন বোলার।


এর আগে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে ভারত। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপেই পড়ে দল। 


কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন দলনেতা রাধা যাদব ও তেজাল হাসাবনিস। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। তাতেই বাড়তে থাকে দলীয় সংগ্রহ।


ফাহিমা খাতুনের বলে আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে ৩৬ রান করেন রাধা। অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত খেলে যান তেজাল। ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণের পর ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। 


মাত্র ৩৪ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি তিনটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। এছাড়া ১৯ রান আসে দিনেশ ভ্রিন্দার ব্যাট থেকে। বাকিরা কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।


বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন। আর একটি করে উইকেট নেন দুজন বোলার।


জিদান

  • প্রকাশ : শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের কাঁধে উঠতে যাচ্ছে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব। তবে সেটি আসন্ন বিশ্বকাপের পর। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।


দাবি করা হচ্ছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)-এর সঙ্গে মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন জিদান। বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। দেশমের অধীনে ২০১৮ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স এবং ২০২২ বিশ্বকাপে হয়েছিল রানার্সআপ।


স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন ২০২১ সালে। ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে জেতেন বিশ্বকাপ। ২০০৬ বিশ্বকাপে হন রানার্সআপ। ইতালির বিপক্ষে সেই আসরের ফাইনালে লাল কার্ড দেখায় ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।


এর আগে ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। 


গত বছর এক অনুষ্ঠানে জিদান বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে আবার কোচিংয়ে ফিরবো। এখনই হবে এমনটা বলছি না, তবে একদিন জাতীয় দলকে কোচিং করানোই আমার ইচ্ছা।’


২০০৬ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার ৪ বছর পর ২০১০ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। প্রথমে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ হোসে মরিনহোর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এর বছর ছয়েক পর রাফায়েল বেনিতেজ এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নেন রিয়ালের প্রধান কোচের।


২০১৬ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৯ থেকে ২০২১, এই দুই মেয়াদে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মেয়াদে তিন বছরে ‘লস ব্লাঙ্কোস’ পাঁচটি ইউরোপীয় শিরোপা জেতে, যার মধ্যে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাও ছিল।


রিয়াল মাদ্রিদই তার কোচিং ক্যারিয়ারের একমাত্র সিনিয়র দল। দুই মেয়াদ মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে তিনি ১১টি বড় শিরোপা জেতেন। ২০২১ সালের ২৭ মে দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।