ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। 


একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি এখনও নাগালের মধ্যেই রয়েছে।


মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই।


তার ভাষায়, কূটনৈতিক সমাধান আমাদের নাগালের মধ্যেই। আমরা সহজেই তা অর্জন করতে পারি।


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, একটি ন্যায্য ও উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক (উইন-উইন) সমাধানের ভিত্তিতে চুক্তি সম্ভব।


আরাঘচির সতর্কবার্তা, সামরিক বিকল্প কেবল পরিস্থিতিকে জটিল করবে এবং শুধু আমাদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানান।


তিনি বলেন, আমি বলতে পারি, বিষয়টি বিবেচনায় আছে।


ট্রাম্প এর আগে তেহরানকে ১০ দিনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা বেঁধে দেন, পরে তা বাড়িয়ে ১৫ দিন পর্যন্ত করেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া উচিত।


গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা আলোচনা করেছে এবং উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন।


তবে এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের চারপাশে সামরিক শক্তি জড়ো করা অব্যাহত রেখেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।


গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।


আরাঘচি বলেন, ইরানিরা গর্বিত জাতি এবং তারা কেবল সম্মানের ভাষা বোঝে।


তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনগুলো—এমনকি বর্তমান প্রশাসনও—যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে দেখেছে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটি কার্যকর হয়নি।


বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া বক্তব্যের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড়িয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে একটি বাড়ির বাইরে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে চারজন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে ৩২ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হন। টাকোমা শহরের উত্তর-পশ্চিমের ‘কি পেনিনসুলা’ এলাকার এক বাড়ির সামনে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে এ ঘটনা ঘটে।


পিয়ার্স কাউন্টির শেরিফ অফিসে এক ব্যক্তি একটি ‘নো-কন্ট্যাক্ট’ আদেশ (আদালতের নির্দেশ; যা কোনো ব্যক্তিকে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে যেতে বাধা দেয়) লঙ্ঘন করছেন সন্দেহে অভিযোগ আসার পর সকাল ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।


এর আগে পুলিশ কর্মকর্তারা ‘নো-কন্ট্যাক্ট’ আদেশের একটি অনুলিপি হাতে পান। কিন্তু তাঁরা দেখেন, সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। কারণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়নি।


পুলিশ আদেশটি ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছে দিতে যায়। কিন্তু সে সময় ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন।


একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ব্যক্তি ছুরিকাঘাত শুরু করেন। তিন মিনিট পর পুলিশ হামলাকারীকে নিবৃত্ত করতে গুলি ছোড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হন। 


এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত তিনজন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। চতুর্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু তিনিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এপির খবর অনুযায়ী, যে বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে সেটি একজন নারীর। তিনি তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এক বছরের ‘নো-কন্ট্যাক্ট’ বা সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেছিলেন।


অভিযোগপত্রে ওই নারী বলেছিলেন, তাঁর ছেলে তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। ছেলেটি মাদকাসক্ত ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।


আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই নারী অভিযোগপত্রে লিখেছিলেন, ‘সে আমাকে নির্যাতন করেছে, ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের ক্ষতি করেছে এবং আমার পোষা বিড়ালকে আঘাত করেছে।’


সন্দেহভাজন হামলাকারী ও হামলায় নিহত ব্যক্তিদের কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১:০৯ পিএম

প্রতি ১০ মার্কিনের ছয়জনই মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি অসংলগ্ন প্রকৃতির হয়ে উঠছেন। ট্রাম্পের ব্যাপারে এমন মনোভাব পোষণকারী মার্কিনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রিপাবলিকান সমর্থকও আছেন। রয়টার্স/ইপসোসের করা নতুন এক জনমত জরিপে এমন চিত্র দেখা গেছে।


ছয় দিন ধরে চালানো এ জরিপ গত সোমবার শেষ হয়। এর ঠিক এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় আজ) ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে তাঁর বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিচ্ছেন।


এক মাস ধরে আইনপ্রণেতা এবং বিচারকদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের তীব্র ভৎ৴সনা ও ক্ষোভ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এ ভাষণকে ঘিরে বাড়তি নজর রয়েছে অনেকের।


জরিপে অংশ নেওয়া লোকজনের মধ্যে ৬১ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্প বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অসংলগ্ন হয়ে উঠছেন বলে তাঁরা মনে করেন। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান ও ৬৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ট্রাম্পের সম্পর্কে এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংলে এ জরিপের ফলাফলকে ‘মিথ্যা ও বেপরোয়া বয়ানের’ দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের ‘তীক্ষ্ণতা, তুলনাহীন শক্তি ও নজিরবিহীনভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তাঁকে তাঁর পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের থেকে আলাদা করেছে।’


সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তার হারে খুব সামান্যই পরিবর্তন হতে দেখা গেছে। নতুন জরিপে প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা চলতি মাসের শুরুর দিকের তুলনায় ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।


প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার তুলনামূলক বেশি ছিল। তখন ৪৭ শতাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজে সমর্থন দিয়েছিল। গত বছরের এপ্রিলের পর থেকে জনমত জরিপগুলোতে তাঁর জনপ্রিয়তার হার এক-দুই শতাংশের ব্যবধানে স্থিতিশীল রয়েছে।


বয়স্ক নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ


অধিকাংশ মার্কিন মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব অতিরিক্ত বয়স্ক। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা একমত হয়েছেন যে ওয়াশিংটন ডিসির নির্বাচিত কর্মকর্তারা অধিকাংশ মার্কিনের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে খুব বেশি বয়স্ক।


বর্তমানে মার্কিন সিনেট সদস্যদের গড় বয়স প্রায় ৬৪ বছর এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের প্রায় ৫৮ বছর।


ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে তরুণ রাজনীতিকদের পক্ষে মত বেশি দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ মনে করেন, সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা ৭৫ বছর বয়সী চাক শুমার সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বেশি বয়স্ক।


ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৭৮ বছর বয়সে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোনো প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ। এর পর থেকে তিনি দ্রুত নানা নীতি ও পরিকল্পনা ঘোষণা করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে-বহু দেশের পণ্যের ওপর চড়া শুল্কারোপ এবং অননুমোদিত অভিবাসন দমনে দেশজুড়ে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ।


ট্রাম্পকে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছেন, রক্ষণশীল ঘরানার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর ঘোষিত অনেক শুল্ককে অবৈধ হিসেবে বাতিল করায় তিনি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছেন।


এরপর ট্রাম্প নতুন করে শুল্কারোপ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ভিন্ন আইনি ক্ষমতায় এটা করতে সক্ষম।


ট্রাম্পের পূর্বসূরি ও সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স নিয়েও একসময় আলোচনা ছিল। বলা হচ্ছিল, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি মানসিক তীক্ষ্ণতা হারিয়েছেন।


বাইডেন ৮২ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ করেন। মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। ট্রাম্প সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে আছেন। আগামী জুনে তাঁর ৮০ বছর বয়স পূর্ণ হবে।


ফের ভারত-বাংলাদেশ বাস সার্ভিস চালু হয়েছে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ পিএম

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ফের ভারত-বাংলাদেশ বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ত্রিপুরার আগরতলার কৃষ্ণনগরের বাস ডিপো থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি বাস রওয়ানা দেয়। এরপর এটি কলকাতায় যায়। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) একইভাবে এই সার্ভিস চালু করা হয়।


আপাতত দু-তিন দিন এরকম পরীক্ষামূলক যাত্রা চলবে। পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সপ্তাহে তিনদিন করে এই বাস চলবে। আগেও কলকাতা-আগরতলার বাস পরিসেবা চালু ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাময়িকভাবে এই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা কমেছে।


ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক বাস অপারেটর সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন দেবনাথ জানিয়েছেন, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাসহ অনিবার্য কিছু কারণে এই বাস সর্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ফের বাস সেবা চালু করা হয়েছে।


ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি ভালো লক্ষণ। আশা করি অন্য যে সব সমস্যা আছে তারও সমাধান হবে।


এই বাস সেবা চালু হওয়ার কারণে যাত্রীরাও বেশ খুশি। আগরতলা থেকে বাসযাত্রী লক্ষণ দাস বলেন, এই পরিসেবা চালু হওয়ায় দুই দেশই লাভবান হবে। এছাড়া কম খরচে খুব সহজেই বাংলাদেশে যাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আমাদের একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং আগের মতো সব ধরনের সেবা চালু হবে।


যুক্তরাষ্ট্র তুষারঝড়ের কবলে

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বিশাল এলাকা মারাত্মক এক তুষারঝড়ের কবলে পড়ায় অনেক রাজ্য যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া এ তুষারঝড় সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল পর্যন্ত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে ধারণা দেওয়া হয়েছে। 


এটি এক দশকের মধ্যে ওই এলাকার সবচেয়ে বাজে তুষারঝড় হতে যাচ্ছে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।


এ দুর্যোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান বন্দরে এরই মধ্যে ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটএওয়্যারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।


ম্যাসাচুসেটস, কানেটিকাট, ডেলওয়ার, নিউ জার্সি ও রোড আইল্যান্ডসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।


বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইটের অবস্থা জেনে নিতে যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, ডেলওয়ার, কানেটিকাট ও নিউ জার্সিতে সোমবার অসংখ্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে; তবে সেসব অঙ্গরাজ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়নি।


ওয়াশিংটন ডিসিতে মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেছেন, সরকারি স্কুলগুলো ‘দুই ঘণ্টা দেরিতে খুলবে’। এরই মধ্যে পেনসিলভানিয়ার পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও ৪৫ সেন্টিমিটার তুষার রেকর্ড হয়েছে। আজ সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও ৬০ সেন্টিমিটার তুষারেরও দেখা মিলতে পারে সতর্ক করা হয়েছে।


নিউ ইয়র্ক সিটি, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও লং আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪ কোটি বাসিন্দা তুষারঝড়ের সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন, আরও প্রায় দুই কোটি মানুষ যেসব এলাকায় আছেন সেগুলো পড়েছে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায়।


নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ জার্সি ও কানেটিকাটের কোথাও কোথাও ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারের দেখা মিলতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ।


নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি রোববার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫টি প্রশাসনিক এলাকার সড়ক ও সেতুতে জরুরি যানবাহন ছাড়া অন্য সব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। সোমবার শহরটির সব স্কুলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন ইরানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ লোকজন।


গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এএফপির বরাতে এমন খবর জানুইয়েছে আল আরাবিয়া ইংলিশ।


প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যারা নিহত হয়েছিলেন, সেই নিহতদের স্মরণ করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে গত শনিবার রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ। তাদের বিক্ষোভের পাল্টায় সরকারের পক্ষে মিছিল-সমাবেশের ডাক দেয় ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে থাকা তরুণ-তরুণীরা।


ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, আর এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানের সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহালভির সময়ে পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন, সেই মিছিলে ব্যাপকভাবে দেওয়া হচ্ছে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান।


দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক দুরবস্থার জেরে গত ডিসেম্বরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুত তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারি বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।


ইরান কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহতের কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এই সহিংসতা হয়েছে, যাদেরকে ইরানের শত্রুরা উসকে দিয়েছিল।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


চাঁদে মানব অভিযানের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা

  • প্রকাশ : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদে মানব অভিযানের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সব ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন। 


এই অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করতে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


গত শুক্রবার নাসার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লোরি গ্লেজ এই সম্ভাব্য তারিখটি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণ প্যাডের কাজ, ফ্লাইটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং মহড়া বিশ্লেষণের সফল সমাপ্তির ওপরই এই তারিখটি নির্ভর করছে।


গ্লেজ বলেন, আমাদের এই সব ধাপ সফলভাবে পার করতে হবে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে ৬ মার্চ উৎক্ষেপণের জন্য আমরা খুব ভালো অবস্থানে থাকব।


উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে নাসার বিশাল এসএলএস রকেটের মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। রকেটের জ্বালানি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে এবং সব কারিগরি পরীক্ষা চালিয়ে একেবারে বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো করে এই মহড়া চালানো হয়।


নাসা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবারের এই মহড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং কাউন্টডাউন টি-২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।


এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের মহড়ায় জ্বালানি ছিদ্রসহ বেশ কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেই সমস্যার কারণে চলতি মাসেই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের যে ক্ষীণ আশা ছিল, তা ভেস্তে যায়। 


তবে কারিগরি ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠে মার্চ মাসকেই এখন লক্ষ্য হিসেবে দেখছে নাসা।


ঐতিহাসিক এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন মোট চারজন মহাকাশচারী। তাদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একজন কানাডার। এই দলটি সরাসরি চাঁদে অবতরণ না করলেও চাঁদের চারপাশ দিয়ে উড়ে আসবে, যা ভবিষ্যতে মানবজাতির চাঁদে পুনরায় পদার্পণের পথ সুগম করবে।