সচিবালয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সবাইকে টিম-ওয়াইজ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কী কী কাজ করা সম্ভব হবে, তার অগ্রাধিকার তালিকা করতে হবে।
শপথ নেয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্ম দিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। আজ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে নতুন সরকার এসেছে, প্রথম ৬ মাসের মধ্যে সরকার কী কী কাজ করবে, মানুষ কিন্তু তা দেখবে। প্রথম ৬ মাস তো মানুষের একটা আগ্রহ থাকে, নতুনত্বের একটা স্পিরিট থাকে। গতি ও ক্ষিপ্রতা নিয়ে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’
এ সময় প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কী কী কাজ করা সম্ভব হবে, তার অগ্রাধিকার তালিকা করার জন্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দেন এ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা, তা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের সবাইকে টিমওয়াইজ কাজ করতে হবে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো, আপনারা-আমরা সবাই টিম-ওয়াইজ কাজ করতে আসছি।’ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেক দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বসবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার, আমাদের দেশটাকে যদি আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার এলাকা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা, সেখানকার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লোক কর্মসংস্থানের জন্য প্রবাসে কাজ করে থাকে।’
সভায় মন্ত্রণালয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এছাড়া তিনি দ্রুততার সঙ্গে আন্তরিকতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পাদনের জন্য মন্ত্রী-কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বানও জানান।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আসুন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনে জনগণের যে প্রত্যাশা, তা বাস্তবায়নে কাজ করি এবং সবাই মিলে কাজ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ফাস্ট প্রায়োরিটি আমাদের সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আমরা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে পারবো তা সুনির্দিষ্টভাবে আপনারা প্রস্তুত করবেন। সব কাজ তো আমরা একসঙ্গে করতে পারবো না। কিন্তু ইমিডিয়েট আমরা কী কী কাজ করতে পারি, সেটার প্রায়োরিটি ঠিক করতে হবে।’
তারা কোন দেশ থেকে এসেছেন, কোন এলাকার কত জন কাকে সহায়তা দিয়েছেন- তার বিস্তারিত তালিকা করতেও নির্দেশনা দেন এ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের কল্যাণ ও তাদের অধিকার সংরক্ষণে কত জনকে এ পর্যন্ত সহায়তা দেয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা চাই।’
মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার কেন কী কারণে বন্ধ হয়ে আছে, এটার পরবর্তী পদক্ষেপ আপনারা কি নিয়েছেন, এটা চালু করার জন্য আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং যদি পদক্ষেপ না নিয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের ইমিডিয়েটলি কী করতে হবে- এটার একটা পেপার/ রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।’
পরিচিতি এ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। দেশের বাইরে কাজ করতে যারাই যান তাদের সহযোগিতা করতে হবে। সাধারণত প্রবাসীরা বিদেশ যায় গহনা ও বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে। তাদের প্রতি আমাদের সদয় হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে কিছু কাজ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। প্রবাসীদের সঙ্গে আমাদের ব্যবহার ভালো করতে হবে এবং আন্তরিকতা দিয়ে তাদের কাজ করে দিতে হবে।’
নুরুল হক বলেন, ‘এখন সব কিছু অনলাইনে হয়, আমাদের যারা বাইরে যায়, যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠায়, সেজন্য এয়ারপোর্টে যে সাপোর্ট ডেস্ক বা হেল্প ডেস্ক আছে সেখানে যাতে তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।’জনগণের প্রতি কমিটমেন্টের জায়গা থেকে আন্তরিকতা এবং সততার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে চান উল্লেখ করে এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদেরকেও আমরা সহযোগী হিসেবে চাই।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূইয়াসহ মন্ত্রণালয় ও দপ্তর বা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভূমিকম্প
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিটে ৫ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসও ৫ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করেছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস হলে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ’৯০-এর গণআন্দোলন এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি; জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।
তারেক রহমান বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।
তিনি বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি, গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিসহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা।
আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- সেদিন সেনাবাহিনীর সাথে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সাথে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুইটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।
২০০৯ সালে পিলখানার ঘটনায় নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ. কে. এম. শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধামন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।
ছবি- সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ১৯ মার্চ দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কনটেইনার ও জ্বালালি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া পণ্য বা মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত অন্য সব গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কিছু মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে ঈদ সামনে রেখে ট্রেনযাত্রার বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ছবি- সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করতে নতুন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
বুধবার পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দী রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একাধিকবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মামলাগুলো খতিয়ে দেখে মিথ্যা ও হয়রানিমূলকগুলো প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এ প্রত্যাশাই আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’
আইজিপিকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন। বুধবার সচিবালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সরকার আলী হোসেন ফকিরকে দেশের নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ছবি- সংগৃহীত
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে মোহাম্মদ কায়ছার রশীদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা।
দেশ-বিদেশে নানা সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুবার সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে কায়ছার রশীদ চৌধুরী নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।
মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (টপ টিসিসি) হিসেবে সম্মান অর্জন করে। তাঁর পুরো কার্যকালেই বাংলাদেশ এই শীর্ষ স্থান ধরে রাখে। শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ডেপ্লয়মেন্ট বা নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।