হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সাক্ষ্যে নিজে গুম হওয়ার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।


গুমের এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল সোমবার (১৯ জানুয়ারি); আর প্রথম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে হুম্মামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।


২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করা হয়। শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে বারবার নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্যাতনে তার সারা শরীরে ঘায়ের মতো হয়ে যেতো। পায়ের অংশে বড় ফোঁড়াও হয়। আয়নাঘরে রাখা টেবিলের নিচের অংশে লাল কালি দিয়ে সিটিআইবি দেখা দেখতে পেয়েছিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। দিন গুনতেন খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি এলে বুঝতে পারতেন দিন শুরু হয়েছে। কেননা দুপুর ও রাতের খাবার দেওয়া হতো ভাত-মাছ অথবা মুরগি-সবজি। প্রথম দুই মাস একটি পেরেকে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতেন তিনি।


জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, ফোঁড়া হওয়ার পর ভেবেছিলাম আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হবে। এতে কেউ আমাকে দেখে চিনতে পারবেন। কিন্তু তারা নেয়নি। বেশকিছুদিন পর ফোঁড়ার কারণে হাঁটতে পারছিলাম না। চিৎকার, চেঁচামেচি করে ডাক্তার ডাকতে বলি। তখন একজন ডাক্তার এসে আমাকে পরীক্ষা করেন। আমি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বলা হয় ‘একজন বড় ডাক্তার এসে চিকিৎসা করবেন’। পরদিন আমার সেলে কয়েকজন এসে আমাকে চৌকির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। একপর্যায়ে আমার ফোঁড়া অপারেশন করা হয়। এতে আমি বেঁহুশ হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে মেঝেতে রক্ত, ভেজা গজ, টিস্যু পড়ে থাকতে দেখি। আমাকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। ওষুধের মোড়ক খুলে হাতে করে নিয়ে আসা হতো। একদিন একজন ভুল করে মোড়কসহ একপাতা ওষুধ নিয়ে আসেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ভিআইপি-১’। তা দেখে আমি বুঝতে পারি যে, এটা আমার কোড নেম।


তিনি বলেন, আমাকে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করা হতো। বেশকিছু সময় তারা আমার সেলে এসে আমার হাতে ইনজেকশন দিতো। যার ফলে মনে হতো আমার পুরো শরীরে যেন আগুন ধরে গেছে। বার বার ইনজেকশন দেওয়ার কারণে আমার হাত কালো হয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবার রাজনীতির বিষয়ে জানতে চাইতো। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করি কি না বা বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না তা বারবার জিজ্ঞাসা করতো। আমার বিপরীত দিকের সেলে একজন বন্দির কোরআন তেলওয়াতের আওয়াজ ও খাবারের পর শব্দ করে ঢেকুর তোলার শব্দ প্রতিদিন শুনতে পেতাম। তার কান্নার আওয়াজও অনেক দিন শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জানতে পারি ওই কোরআন তেলাওয়াতকারী লোকটির নাম ব্রিগেডিয়ার আমান আযমী। তখন বুঝতে পারি এ ভবনে আমি একা নই, আরও বন্দি রয়েছেন। আমার সেলে দুই স্তরের দরজা ছিল। একটি লোহার বার ও আরেকটি স্টিলের। একদিন স্টিলের দরজার কিছু অংশ ফাঁকা থাকায় একজন ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখি। তাকে জমটুপি পরানো ছিল। তবে জমটুপির নিচে তার দাঁড়ি দেখা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিলো তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তি।


হুম্মাম বলেন, আমার সেলের ভেতরে একটি টিউবলাইট ও একটি সিলিং ফ্যান ছিল। লাইটটি সবসময় জ্বলতো। বন্ধ করার কোনো সুযোগ ছিল না, যা ছিল নির্যাতনের অংশ। একদিন আমাকে যখন ইন্টারোগেশন সেলে মারধর করা হচ্ছিল তখন আমার চোখের বাঁধন সরে গেলে দেখতে পাই যে কক্ষে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল সে কক্ষটি পুরোপুরি সাউন্ডপ্রুফ। চারপাশের দেয়ালে খয়েরি রংয়ের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে কার্ডবোর্ডের মতো কভার দিয়ে ঢাকা। কক্ষটি প্রথমে অনেক বড় মনে হলেও চোখের বাঁধন খুলে যাওয়ার পর দেখলাম অনেক ছোট। সেখানে থাকা অবস্থায় কোনো বন্দির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে যারা আমার দেখভাল বা খাবার দিতে আসতেন, তাদের বারবার প্রশ্ন ও কথা বলার চেষ্টা করতাম। তারা কখনও কোনো প্রশ্নের জবাব দিতেন না। তবে যখন আমি আমার কোডনেম জানতে পারি, তখন যিনি খাবার নিয়ে আসেন তাকে ভালো মানের খাবার পরিবেশন করতে বলেছিলাম। তখন তার বড় ভাইকে নিয়ে আসেন। বড় ভাই এসে আমাকে বলল এই ধরনের কথা বললে পরিণতি ভালো হবে না।


জিজ্ঞেস করা হলো কীভাবে জানলাম আমার কোডনেম ভিআইপি-১। আমি বাধ্য হয়ে বলে দেই যে, আমি ওষুধের মোড়কে এ লেখা দেখতে পেয়েছি। যে ব্যক্তি ওই সময় আমার খাবার পরিবেশন করেছিল ঘটনার পর আর আমাকে খাবার দিতে আসেনি। যারা খাবার দিতে আসতো তারা ছিল ছোট ভাই। মেজো ভাইয়েরা মাঝে মাঝে চেক করতে আসতো। আর বড় ভাইয়েরা আসতো বড় সমস্যা হলে। এটা ছিল তাদের হায়ারার্কি।


জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ইন্টারোগেশন সেলে আমাকে যখন শেষবার নেওয়া হয় তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আমাকে ছেড়ে দিলে সবাইকে কী বলবো। জবাবে বলেছিলাম আপনারা যা বলতে বলবেন তাই বলব। তারা আমাকে শিখিয়ে দিলেন আমি যেন বলি কিছু দুষ্ট লোক আমাকে কিডন্যাপ করেছিল। আমি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছি। আমাকে আরও বলা হয়, ‘অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার আপনাকে একটা সেকেন্ড চান্স দিতে চান’। তখন আমি বুঝতে পারি যে, আমাকে গুম-নির্যাতনের ঘটনার পেছনে শেখ হাসিনার হাত রয়েছে। সেদিন আমাকে আমার সেলে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন পর ভোরে কিছু লোক আমার সেলে ঢুকে তিন স্তরে চোখ বাঁধা হয়। আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সেল থেকে বের করে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়।


অনেকক্ষণ গাড়ি চলার পর আবারও সেই জিগজ্যাগ অনুভব করতে পারি। ২০ মিনিট গাড়ি চলার পর একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আমি ভয় পাচ্ছি কি না। আমি বলি না। তখন আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় পাচ্ছি না। জবাবে বলেছিলাম, ‘যদি মেরে ফেলেন তাহলে আব্বার সঙ্গে দেখা হবে, আর যদি ছেড়ে দেন তাহলে আম্মার সঙ্গে দেখা হবে। এরপর অনেকক্ষণ চলার পর গাড়িটা থেমে যায়। একপর্যায়ে আমাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। আমাকে ফুটপাতে বসিয়ে হ্যান্ডকাফ খুলে দেওয়া হয়। তারা আমার চোখের বাঁধন খুলে দিতে দিতে বলে আমি যেন তিন মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখি। যদি চোখ খুলি তাহলে সমস্যা হবে।


এরপর গাড়িটির দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পাই। গাড়িটি চলে যায়। চোখ খুলে গাড়িটিকে চলে যেতে দেখি। পরে ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে এলাকাটি চেনার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে বুঝতে পারি আমি ধানমন্ডি ৭/এ এলাকায় আছি। যেটা আমার বাসা থেকে তিন রাস্তা দূরে। আমি হেঁটে হেঁটে বাসার দিকে যেতে থাকি। বাসায় ঢুকতে গেলে দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি। আমার ওজন অনেক কমে যাওয়া, দাঁড়ি-চুল লম্বা হয়ে যাওয়ায় সে আমাকে চিনতে পারেনি। আমার বাড়িতে থাকা পোষা কুকুর আমাকে চিনতে পেরেছিল বিধায় দারোয়ান গেট খুলে দেয়। বাড়িতে প্রবেশ করে জানতে পারি আমার আম্মা এ বাসায় থাকেন না। তিনি গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় থাকেন। গাড়িতে করে গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় যাই। আম্মার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর জানতে পারি আরও দুজনকে গুম করা হয়েছে। তাদের একজন ব্যারিস্টার আরমান ও ব্রিগ্রেডিয়ার আজমী।


পরবর্তীতে জানতে পারি আমাকে আটকের সময় সিটিআইবির পরিচালক ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আকবর। ২০১৭ সালের ২ মার্চ আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময় ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আবেদিন।


হুম্মাম বলেন, যারা আমাকে গুম করেছিল, গুমের নির্দেশ দিয়েছিল, আয়নাঘরে আটকে রেখেছিল, নির্যাতন করেছিল আমি তাদের বিচার চাই। শেখ হাসিনা, জেনারেল আকবর, জেনারেল আবেদিন, ব্রিগ্রেডিয়ার তৌহিদুল ইসলাম ও তাদের সহযোগী যারা হুকুমদাতা ছিল এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় যারা যারা অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সর্বোচ্চ শান্তি চাই।


সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার জেরা হয়নি। জেরার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।




সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ এএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১০টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৭ হাজার ৮৫৩টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এটি এক কার্যদিবসে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির নতুন রেকর্ড। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ৩৫ হাজার ৭৯২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৪২ হাজার ৬৯৯টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ এএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।


এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।


প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।


প্রসিকিউশন জানায়, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।


উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


জিয়া হত্যার আসামি মোজাফফর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:১৩ এএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। 


এদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।


প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে আজ হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে প্রসিকিউশন।


এর আগে, ২১ জুলাই জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন।


উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২১ জুলাই দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আরও দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় নতুন তারিখ দেননি আদালত। এজন্য তাকেও আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।


হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ এএম

নারী লাশের পোস্টমর্টেম করতে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম করা হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। 


আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মনির উদ্দিন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেছেন।


রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। এর আগে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম করা হাসপাতালগুলোতে একজন করে নারী ডোম নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন এ আবেদন করেন।


এতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মের নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখা বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটা আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিপূর্বে পুরুষ কর্তৃক বাংলাদেশে মৃত নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে। সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে যদি কোনও নারী মারা যায় তাহলে তার পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যখন জানতে পারে কোনো পুরুষ সদস্য তাদের পরিবারের প্রিয় নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম করবে তাহলে তা হয় আরও হৃদয়বিদারক। যদি কোনো নারী ডোম তাদের কাজটি করতো তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা একটু সান্ত্বনা পেতো। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান যুগে নারীরা সব ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে কাজ করছে।


এতে আরও বলা হয়, ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় যদি নারী ডোম থাকে তাহলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং বৈষম্য দূর হবে। আধুনিক সমাজের নারী রোগীদের বা মরদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে।


আবেদনে বলা হয়, গত ২২ অক্টোবর, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করার অভিযোগ উঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক এ বিষয়ে নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া ২০ নভেম্বর ২০২০ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে যতন কুমার পালের ভাগ্নে মুন্না ভগত (২০) ডোমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে।


এছাড়া এক-দুই জন নয়, ১০০ জন নারীর লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহীওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)। সে ১৯৭৬ সালের থেকে ১৯৯২ সালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১০০টি নারী লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হয়, সবগুলো হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগ এবং মহিলা লাশের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।


তবে সে আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় তিনি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।


হাইকোর্টে একদিনে ৬৩৪০ মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড

এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি ৩২ হাজার ৯০০ মামলা


সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ এএম

হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৬ হাজার ৩৪০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৬ হাজার ৩১৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ২৩টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ২৬ হাজার ১৫৩টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৬ হাজার ৭৪৭টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৩২ হাজার ৯০০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 



সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ এএম

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।


ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে গত ৫ মে ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।


প্রধান বিচারপতির আদেশ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিটি গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত করা হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৮৩-এর বিধি ২(৪) ও বিধি ৩(বি) অনুযায়ী আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে বিধি ৪(১)(জি) অনুযায়ী তাঁকে ১৪ জুলাই থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (ডিসমিসাল ফ্রম সার্ভিস) করা হলো। জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


গত ৫ মে যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য জানানো হয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল, হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানী-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন, তা ছাড়া তিনি ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নামে মিথ্যা ও অসত্য কুৎসা প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।


ওই বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ পালন না করতে অন্য কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে তিনি (ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া) অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) এমপ্লয়িজ (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুল, ১৯৮৩-এর ২(৪) ও ৩(বি) বিধি অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ এবং অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।