রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১০:২১ পিএম

প্রায় ছয় বছর পর নানা আপত্তি ও বর্জনের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ। এরইমধ্যে সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সমাবর্তনে ৬০, ৬১ ও ৬২তম ব্যাচের মোট ৫ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। 


দ্বাদশ সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।


এর আগে সমাবর্তনের অতিথি পরিবর্তন, রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ানোসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ। দাবি মানা না হলে তারা সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দেন। তবে এসবের মধ্যেই নির্ধারিত সময় ও আয়োজনে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


গত সপ্তাহের শুরু থেকেই সমাবর্তনের ভেন্যু বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামত, গাছে চুনের প্রলেপ, প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবনে নতুন রঙের কাজ করা হয়। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, প্রধান ফটক থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কে আঁকা হয়েছে আলপনা। প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সিনেট ভবন ও স্টেডিয়াম এলাকায় বসানো হয়েছে রঙিন বাতি। ক্যাম্পাসজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে দিকনির্দেশনা বোর্ড, পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। প্রধান ফটক, বিনোদপুর ও কাজলা ফটকে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন তোরণ।


সমাবর্তনের মূল ভেন্যুতে প্রায় সাত হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ফ্যান বসানো হয়েছে এবং স্থাপন করা হয়েছে বড় এলইডি স্ক্রিন। সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণে পুরো ক্যাম্পাসে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।


সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। শোভাযাত্রা, স্বাগত বক্তব্য, ডিগ্রি প্রদান, সমাবর্তন বক্তৃতা ও সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথম পর্ব শেষ হবে। পরে দুপুর আড়াইটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বাদশ সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।


নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমাদের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।



সর্বশেষ সব খবর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন এবং ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অর্থদণ্ড এবং ৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন সাক্ষরিত এক স্মারকে এ তথ্য জানানো যায়।


স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‍্যাগিংয়ের শিকার হন।


এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। 


এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও অভিযুক্ত সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের থেকে মুচলেকা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, আগস্ট মাসে ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাই। তারা পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেছিল। পরে অডিও, ভিডিও ও ছবি সহকারে ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে অভিযোগ জমা দেয়। তদন্ত কমিটি বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে শাস্তির সুপারিশ করে।


ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ক্ষেত্রেও ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


তিনি আরও বলেন, র‍্যাগিং ও বুলিংয়ের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে দুই মাস আগে প্রায় সব ডিসিপ্লিনে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০০টি পোস্টার দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের ঐতিহ্য বজায় রাখতে চাই। তবে এর অর্থ এই নয় যে নতুন শিক্ষার্থীদের অশালীন আচরণের মাধ্যমে অপদস্থ বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কঠোর।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয়ে চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এ সময় সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


অবরোধ কর্মসূচি শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


এ সময় তাঁরা ‘আমাদের মাঠ আমাদের থাক, আমলা সচিব বাইরে থাক’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ এবং ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘বাতাস চাই, কংক্রিটের বিস্তার নয়’, ‘সচিবালয়ের জায়গা নয়, গবেষণার মাঠ চাই’ এবং ‘মাঠ যদি হারিয়ে যায়, প্রজাপতিরা কোথায় যাবে’ এমন প্রতিবাদী বার্তাও দেখা যায়।


আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিবাদী গানে মুখর হয়ে ওঠে সড়ক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, ‘আমাদের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে, এ জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আজ যদি ঢাকা শহর থেকে গাছপালা হারিয়ে যায়, তাহলে অক্সিজেন পাবেন কোথায়? শহরের বুকে যে পাখিগুলো আছে, সেগুলো কোথায় যাবে? আপনাদেরও খাবারের প্রয়োজন হয়। এই খাবারের জোগান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেয়। গবেষণার মাঠ হারিয়ে গেলে আপনারা সেগুলো কোথায় পাবেন?’


এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।


পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।


গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৫ পিএম

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের বড় অংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে বলে মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'বন্ধু' (BONDHU) এবং যুব উন্নয়ন ও নীতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংক' (BYTT) এর যৌথভাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার বিভিন্ন মাত্রার লক্ষণ দেখা গেছে। 


৪ নভেম্বর, বুধবার বিকেল ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে উক্ত অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাদ মাহমুদ। প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের পরিচালক কাজী সাদ্দাম হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজাউল ইসলাম। 


'Socio-demographic Predictors of Depression Among University Students in Bangladesh: Evidence from Regression Modeling' শীর্ষক গবেষণাটি দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত কলেজের ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী ৪২২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত হয়। বিষণ্নতার লক্ষণ পরিমাপে গবেষকেরা ডিএএসএস-২১ (DASS-21)-এর বাংলা বিষণ্নতা উপ-স্কেল ব্যবহার করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ দশমিক ৩ শতাংশের বিষণ্নতার লক্ষণ মৃদু, ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের মাঝারি, ১২ দশমিক ৩ শতাংশের তীব্র এবং ২০ দশমিক ৯ শতাংশের অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে ছিল।


গবেষণায় পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, অনিয়মিত ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতাকে বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


জরিপে অংশ নেওয়া ২৯ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা নিয়মিত পড়াশোনার জন্য দিনে এক ঘণ্টাও সময় দেন না। দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে মুঠোফোন দেখেন ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন বলে মনে করলেও তা নিতে পারছেন না।


শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু, সহজে পাওয়া যায় এমন পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গবেষণা দল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করা এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির সঙ্গে জড়িত জাতীয় গুরুত্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২০ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২০ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২০ পিএম

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আরও কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। যদিও পরীক্ষার নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ করেনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন।


তিনি বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখনো নতুন তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।’অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের পুনঃপরীক্ষায় (সাপ্লিমেন্টারি) অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ।এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, ‘সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ পাবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া এখনো ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। সেটি চূড়ান্ত হলেও আমরা সে অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে পারব।’


উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

চলতি বছরের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সময়সূচি বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বোর্ডের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আবেদনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে।


এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) শিগগির প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে অনলাইনে ফর্ম পূরণ সম্পন্ন করতে হবে।


পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ফি বাবদ বোর্ডে জমা দেওয়ার অর্থ সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে পাঠানো সোনালী সেবার রশিদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে। সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৮ নভেম্বর।পরীক্ষার ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অ্যাকটিভ হবে। চূড়ান্ত তালিকা যাচাই করে পরীক্ষার্থীর সই নিতে হবে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান সই করবেন।


এদিকে পরীক্ষার্থীর সইসহ একটি প্রিন্ট কপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই নামের একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে প্রকৃত পরীক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন করতে হবে, যেন প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য কোনো পরীক্ষার্থীর নাম নির্বাচিত না হয়। এমন ভুলের জন্য যাবতীয় দায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বহন করতে হবে।


সোনালী ব্যাংকের সোনালী সেবার কপি ও পরীক্ষার্থীদের সইসহ চূড়ান্ত প্রিন্ট আউট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ২০২৬ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বোর্ডের ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৮ পিএম

পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে তাঁরা চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন। সেখানে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।


এদিকে, সড়ক অবরোধের পাশাপাশি আজ শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।


এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।


গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।


সর্বশেষ সব খবর