প্রতীকী ছবি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য নজিরবিহীন করছাড়, ভ্যাট অব্যাহতি এবং আমদানি পর্যায়ে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে ‘উৎপাদনমুখী করনীতি’। অর্থাৎ যারা দেশে উৎপাদন করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং রফতানি বাড়াবে, তারা কর সুবিধা পাবে। অপরদিকে যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি হয় এবং দেশীয় শিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, সেসব পণ্যের ওপর করের চাপ বাড়ানো হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে থাকা অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে এই করনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল কতটা ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়ীদের আচরণের ওপর।
ইলেকট্রনিক্স শিল্পে সবচেয়ে বড় সুবিধা
এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদন খাত। দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিন এবং অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে এসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়ের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সরকারের ধারণা, এতে উৎপাদন খরচ কমবে, দেশীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং ভোক্তারাও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে অন্তত ২২টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করছে, যেখানে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকার এই খাতকে ভবিষ্যতে রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
কমতে পারে কম্পিউটার ও মোবাইলের দাম
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বড় ধরনের প্রণোদনা থাকছে। দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও কয়েক বছর বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও মনিটর উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর কমানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতেও করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রযুক্তিপণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।
স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তির বার্তা
স্বাস্থ্য খাতেও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকছে। ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামালের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। পাশাপাশি হার্টের রিং, চোখের লেন্স এবং ক্যান্সারের কয়েকটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আমদানিতে ভ্যাট ও কর রেয়াতের প্রস্তাব রয়েছে।
এতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
নিত্যপণ্যে কর কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে ধান, চাল, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মাছ, মাংস, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে এসব পণ্যের উৎসে কর ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। নতুন বাজেটে তা কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত করের চাপ কমলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকে উৎসাহ দিতে সৌর বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সৌর বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে করমুক্ত সুবিধা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনেও করছাড় অব্যাহত থাকবে।
ফলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় কমবে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়িতে উৎসাহ
পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের চিন্তা করছে সরকার।
এতে আগামী বছরগুলোতে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে ইউটিউবার, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা এবং অনলাইন সৃজনশীল পেশাজীবীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
স্বর্ণালঙ্কারের দামও কমতে পারে
স্বর্ণ বিক্রিতে বর্তমানে শতাংশভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে প্রতি ভরি স্বর্ণে ভ্যাটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে স্বর্ণালঙ্কারের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্রেতাদের খরচও কমবে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
দেশীয় শিল্প ও কৃষিপণ্যকে সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে— আমদানি করা কাজু বাদাম, বিদেশি প্রসাধনী, উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য, নিকোটিন পাউচ, বিদেশি মদ, এমএস রড, বিলাসী খাদ্যপণ্য, কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য।
বিশেষ করে সিগারেটের দাম প্রতি প্যাকেটে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
করনীতির মূল বার্তা কী?
অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে— ‘আমদানির পরিবর্তে উৎপাদন’। সরকার চাইছে দেশের ভেতরে শিল্প স্থাপন হোক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমুক।
একদিকে দেশীয় শিল্পের জন্য করছাড়, অপরদিকে বিলাসী ও আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি— এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সরকার শিল্পায়ন ও রাজস্ব আহরণের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।
তবে শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে কর সুবিধার সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধির গতি এবং বাজারে কার্যকর নজরদারির ওপর। যদি উৎপাদন ব্যয় কমার সুবিধা ভোক্তারা পান, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশীয় শিল্পায়নের নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হতে পারে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় আরও তিন বছর পিছিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। নেপালের উত্তরণের সময়ও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতিসংঘে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি কোনো দেশ। ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য দেন। তবে তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের তাগিদও ছিল।
এর আগে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সুপারিশ পাঠায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। তার আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনা করে জানায়, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠায় ইকোসক।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি প্রতি তিন বছর পরপর মূল্যায়ন করে সিডিপি। এ ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। কোনো দেশ অন্তত দুটি সূচকে নির্ধারিত মান অর্জন করলে অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হলে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডেই উত্তীর্ণ হয়েছে।
১৯৭৫ সালে এলডিসির তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। এরপর থেকে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ বিভিন্ন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে দেশটি। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য উত্তরণের সময় দুই বছর বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরণের সর্বশেষ নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের নভেম্বর।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ জানায়, উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেও ধারাবাহিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে প্রস্তুতি গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। কভিড-১৯-এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যের বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যে আর্থিক খাতের অনিয়ম, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য জাতীয় বাজেট থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের আবেদনে বলা হয়, এসব কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর-জিডিপি অনুপাতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতিও ব্যাহত হয়েছে। ফলে উত্তরণের প্রস্তুতির পরিবর্তে সরকারকে সংকট মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছিল।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এলডিসি উত্তরণ তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এলডিসি-সুবিধা হারালে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে রপ্তানি খাতে।
তাঁদের মতে, উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধশিল্পে মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। উৎপাদিত পণ্য ও সেবায় নগদ সহায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগও সীমিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসবিধি আরও কঠোর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে তৈরি পোশাকশিল্পে।
বাড়তি সময়ে সরকারের পরিকল্পনা
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়তি প্রস্তুতিকালে অন্তত ২৫টি সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। বাণিজ্য, আর্থিক খাত, রাজস্বব্যবস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্ত বাণিজ্য বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা বাড়ানো, সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০৮ টাকা কমানো হয়েছে। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২৭৪ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরী প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার বিক্রয় মূল্যের সাথে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের নিকট থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরী ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ এর ক্ষেত্রে ১২% ও পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮% বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র
পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পেয়েছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ- বায়েরা এর অনুমোদন দিয়েছে।
এই ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে। এর পরের ধাপ ‘বি টু’। এই ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি।
এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। আাজ বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা-রোসাটম।
ছবি : সংগৃহীত
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে এ শুনানি শুরু হয়েছে।
শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ এবং পরিবেশকেরা তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিইআরসিতে জমা দেয়া আবেদনে দেখা গেছে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে, পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।
এলপিজি আমদানির ব্যবসায় নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানি নিয়মিত আমদানি করে। এ ছাড়া আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে সিলিন্ডারজাত করার কাজে যুক্ত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দফার এ আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।
তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তারের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক, নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংক এবং মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. মাহবুব আলম এর আগে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে মো. নূরুল হুদা বর্তমানে জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অর্থাৎ জনতা ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক একজন কর্মকর্তা নিয়োগ পেলেও বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব পাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিরই একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়া নূর মোহাম্মদ যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ নিয়োগ দেওয়া হলো। এর আগে সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিভিন্ন কার্যক্রম চলে। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে জনতা ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।