• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৭:৪৬ এএম

নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি গ্রাহকের হাতে নোট দিচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার পর ব্যাংকগুলো সেই টাকা গ্রাহকের হাতে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বাক্ষরিত ৫০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোটটির আকার ১৫২ মিমি x ৬৫ মিমি। নোটের সম্মুখভাগের বাঁ পাশে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ও মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা, কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি।

অন্যদিকে নোটের পেছন ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি মুদ্রিত আছে। নোটে জলছাপ হিসেবে আছে বেঙ্গল টাইগারের মুখ। তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘৫০০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে সবুজ রঙের আধিক্য আছে।

বর্তমানে প্রচলিত ৫০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি আছে। নতুন নোটে তা নেই। নতুন নোটের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি আছে। নতুন নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সই আছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এই ৫০০ টাকার নোট খোলাবাজারে দেখা যায়নি। বিকেলে মতিঝিল খোলাবাজারে প্রতিটি নতুন ৫০০ টাকার নোটের দাম ৬০০ টাকা হাঁকতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা এর কমে নোট ছাড়ছেন না।

আজ বিকেলে মতিঝিলের ১০ জন নোট বিক্রেতার মধ্যে দুজনের কাছে ৫০০ টাকার নোট এসেছে। তাঁরা জানান, ৫৮০ টাকা দিয়ে প্রতিটি নোট কিনতে হয়েছে। সে জন্য তাঁরা ৬০০ টাকা দাম চাইছেন। তবে কোনো গ্রাহক দেখা যায়নি।

বিক্রেতারা জানান, নতুন নোট নিয়ে ঈদের সময় কিছুটা আগ্রহ থাকে। অন্য সময় গ্রাহক থাকে না। তবে ছেঁড়াফাটা নোটের বিক্রেতা নিয়মিত থাকে। ছেঁড়াফাটা নোট কেনা তাঁদের মূল ব্যবসা। এই টাকা ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বদল করে নেন তাঁরা। এটা তাঁদের আয়ের বড় অংশ।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের চলমান ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ হিসেবে আজ থেকে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া শুরু করবে।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটটি প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। পরে অন্যান্য শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নতুন নোটটির আকার ১৫২ মিমি ৬৫ মিমি এবং রং হবে প্রধানত সবুজ। বাঁ পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মাঝের পটভূমিতে ফুটন্ত শাপলা ফুল ও পাতা। বিপরীত পাশে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

নোটটিতে জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি, উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম সংযোজিত রয়েছে। নোটটির সত্যতা নিশ্চিত করতে ১০টি স্বতন্ত্র সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে।

নোটের ডান দিকের ওপরের কোণে থাকা ‘৫০০’ সংখ্যা অপটিক্যালি ভ্যারিয়েবল কালিতে মুদ্রিত। নোটটি কাত করলে এই রং সবুজ থেকে নীল হয়ে যায় এবং ভেতরে তির্যক ‘৫০০’ দেখা যায়।

৪ মিমি চওড়া একটি টুইস্টেড সিকিউরিটি থ্রেডে লাল এবং উজ্জ্বল সোনালি রঙের সমন্বয় রয়েছে। নোটটি কাত করলে লাল অংশ সবুজে রূপ নেয় (যেখানে দেখা যায় Taka ৫০০), আর সোনালি অংশে চলমান রেইনবো রঙের বার দেখা যায়।

নোটটির নিচের বর্ডারের সবুজ নকশায় লুকানো ‘৫০০’ সংখ্যাটি শুধু অনুভূমিকভাবে ধরলে দেখা যায়। গভর্নরের স্বাক্ষরের পাশে থাকা সি-থ্রু ‘৫০০’ সংখ্যাটি আলোয় ধরলে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার জন্য নোটে ডান নিচের কোণে ৫টি ছোট উঁচু ডট দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার, ব্যাংকের নাম, ডান পাশে তির্যক লাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রাফ ইনট্যালিও মুদ্রণে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা স্পর্শে নোটের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারেন। নোটের দুই পাশে ইউভি কিউরিং ভার্নিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নোটকে চকচকে অনুভূতি ও বাড়তি স্থায়িত্ব দেয়।

ইউভি ডিটেক্টরে নোট ধরলে শাপলা ফুলের ছবি মেজেন্ডা রঙে জ্বলে ওঠে এবং কাগজে ছড়ানো লাল, নীল ও সবুজ রঙের তন্তুগুলো দৃশ্যমান হয়। নোটের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রো প্রিন্টিংয়ে ‌‘BANGLADESH BANK’ লেখা রয়েছে, যা শুধু লেন্সের সাহায্যে দেখা যাবে।

এর আগে একই স্থাপত্য সিরিজে নতুন ১০০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।



সর্বশেষ সব খবর

রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৫ পিএম

পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পেয়েছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ- বায়েরা এর অনুমোদন দিয়েছে।


এই ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।


আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে। এর পরের ধাপ ‘বি টু’। এই ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি।


এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।


এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। আাজ বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা-রোসাটম।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ পিএম

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে এ শুনানি শুরু হয়েছে।


শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ এবং পরিবেশকেরা তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।


বিইআরসিতে জমা দেয়া আবেদনে দেখা গেছে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। 


অন্যদিকে, পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।


এলপিজি আমদানির ব্যবসায় নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানি নিয়মিত আমদানি করে। এ ছাড়া আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে সিলিন্ডারজাত করার কাজে যুক্ত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান।




সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ পিএম

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দফার এ আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।


তিনি জানান, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।


বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।


মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।


তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।


তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।






সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৯ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তারের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক, নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংক এবং মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. মাহবুব আলম এর আগে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


অন্যদিকে মো. নূরুল হুদা বর্তমানে জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অর্থাৎ জনতা ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক একজন কর্মকর্তা নিয়োগ পেলেও বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব পাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিরই একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়া নূর মোহাম্মদ যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ নিয়োগ দেওয়া হলো। এর আগে সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিভিন্ন কার্যক্রম চলে। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে জনতা ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে বেসরকারি ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক এবং যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। 


এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আগের আদেশ প্রত্যাহার করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ফলে তিনি সোনালী ব্যাংকের এমডি পদে বহাল থাকছেন।


সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে এসব নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ-সংক্রান্ত পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।  


দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকের এমডি


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাউথইস্ট ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়নে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এভাবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা।


বেসিক ব্যাংকের এমডিও পরিবর্তন


অন্য একটি চিঠিতে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়নে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে ১৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশটি প্রত্যাহার করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। 


আজ সোমবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগের ওই আদেশ এতদ্বারা প্রত্যাহার করা হলো। ফলে শওকত আলী খান সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে বহাল থাকছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

আপনি আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন না। ভাবুন তো, আপনার কী হবে। কর কর্মকর্তারা কঠোর হলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হতে পারে। দেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন। বছরে রিটার্ন দেন প্রায় ৫০ লাখ করদাতা। বাকি ৭৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দেন না।


আইন অনুসারে, টিআইএনধারী সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হয়। আর ৪৫ ধরনের সরকারি–বেসরকারি সেবা নিতে হলে রিটার্ন দিতে হয়।


এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রিটার্ন দেননি। এবার দেখা যাক, আয়কর রিটার্ন না দিলে কী জরিমানা হয়।


রিটার্ন না দিলে কী হয়


আয়কর আইন অনুসারে, পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। এগুলো হলো—


১. জরিমানা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা


নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। এ ধারায় বলা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা যাবে। তবে এ জরিমানা কমপক্ষে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। কোনো তদন্তের ক্ষেত্রে রিটার্নের তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে ব্যর্থ হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।


২. কর ছাড় পাওয়া যাবে না


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া যাবে না। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। আপনি প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না।


৩. বাড়তি ২ শতাংশ কর


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।


৪. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন


সময়মতো আয়কর রিটার্ন না দিলে আপনার বাড়ির গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের। এমনকি শিল্পকারখানার মালিকেরা যদি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্ন না দেন, তাহলে গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে পারবেন তাঁরা।


শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে।


৫. বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা


সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত উচ্চ গ্রেডের (প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা) কর্মকর্তাদের সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন–ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। বেসরকারি খাতের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।


রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ কবে


চলতি অর্থবছর থেকে রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর। প্রথম তিন মাস (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন কর ছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে যা কর বসবে, তা–ই দিতে হবে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রিটার্ন দিলে করের পাশাপাশি জরিমানা বসবে।


তাই অর্থবছর পেরিয়ে গেলেই শুধু রিটার্ন–সংক্রান্ত জরিমানা, বাড়তি করসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর