প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬, সময় : ১:৫৬ এএম

‘আই হ্যাভ অ্য প্লান’ নিয়ে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেছেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল— একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’


আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদে বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করছেন। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকার প্রধান ঢাকার বাইরে রয়েছেন।


সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কৃষি নির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং উক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কিনা?


জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’


কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। অদ্যাবধি ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লাখ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারাদেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।


উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।


কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস  এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।


টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর আবার লক্ষ্যে সরকার কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কিনা?


জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।


বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে- পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা; নদীভাঙন রোধ; বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।


গত ১৩ মে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণপূর্বক পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস, সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা হ্রাস, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং দেশের জিডিপিতে শতকরা শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। অধিকন্তু, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ প্রতিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।


জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। 


সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ


তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও জাতীয় পর্যায়সহ সারাদেশে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট কর্তৃক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন- প্রায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। 



সর্বশেষ সব খবর

নতুন পে-স্কেল

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


তবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ একবারে নয়, কার্যকর হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপ ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।


দ্বিতীয় ধাপ ২০২৭ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের কর্মকর্তাদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।


তৃতীয় ধাপ বা শেষ ধাপ ২০২৭ সালে ১ জুলাইয়ে কার্যকর করা হবে। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ (ইনক্রিমেন্ট) শতভাগ মূল বেতন ও সুবিধা কার্যকর হবে।


২০টি গ্রেডের নতুন বেতন স্কেল 


১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নতুন স্কেলের মূল বেতনের বিষয় প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়। যেমন-


১ম গ্রেড : ১,৫৬,০০০ টাকা (নির্ধারিত)

২য় গ্রেড : ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা

৩য় গ্রেড : ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা

৪র্থ গ্রেড : ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা

৫ম গ্রেড : ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা

৬ষ্ঠ গ্রেড : ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা

৭ম গ্রেড : ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা

৮ম গ্রেড : ৪৬,০০০ – ১,১০,৮০০ টাকা

৯ম গ্রেড : ৪৪,০০০ – ১,০৫,৯০০ টাকা

১০ম গ্রেড : ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা

১১তম গ্রেড : ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা

১২তম গ্রেড : ২৪,৩০০ – ৫৪,৭০০ টাকা

১৩তম গ্রেড : ২৪,০০০ – ৫৬,০০০ টাকা

১৪তম গ্রেড : ২৫,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা

১৫তম গ্রেড : ২২,৮০০ – ৫১,২০০ টাকা

১৬তম গ্রেড : ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা

১৭তম গ্রেড : ২১,৪০০ – ৫১,১০০ টাকা

১৮তম গ্রেড : ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা

১৯তম গ্রেড : ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা

২০তম গ্রেড : ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা


প্রজ্ঞাপনে বিশেষ পদ মর্যাদায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের মূল বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা


নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মস্থল ও গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেডে ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন।


অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্দিষ্ট এলাকায় এ হার কিছুটা কম। জেলা সদর, উপজেলা ও অন্যান্য এলাকাতেও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বাসায় বসবাসকারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না।


চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা


চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।


শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত শর্তে এ ভাতা পাওয়া যাবে।


এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা এবং ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।


পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমায় পাহাড়ি ভাতা এবং হাওর, দ্বীপ ও চরসহ দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের জন্য বিশেষ ভাতা রাখা হয়েছে।


এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব ও সচিব ১ হাজার, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ এবং যুগ্মসচিব ও অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারা ৬০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা পাবেন।


সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন। নির্ধারিত শর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতাও দেওয়া হবে।


পেনশন ও উচ্চতর গ্রেড


নতুন প্রজ্ঞাপনে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিদ্যমান নিট পেনশনের ভিত্তিতে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ হবে। এতে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের স্ল্যাব রাখা হয়েছে।


পেনশনের বর্ধিত অংশও তিন ধাপে কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।


এ ছাড়া কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে।


বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের সামরিক পদ, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, দৈনিক বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত কর্মীরা এই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকবেন না।

সর্বশেষ সব খবর

পে স্কেল

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগের জারি করা এ প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।


এতে বলা হয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। এর মধ্যে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন।


এ ছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন।


২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। আর মূল বেতনের সঙ্গে যেসব ভাতা পেয়ে থাকেন সরকারি চাকুরেরা, সেসব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।


গত ৩০ জুন তারা যে বেতন পেয়েছিলেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে বাড়তি প্রাপ্য হিসাব করা হবে।


নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তার বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।


৩১ অগাস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার। তাতে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।


আর নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা। বিসিএস দিয়ে যারা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তারা এ গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থ্যাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার (নির্ধারিত) থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এ গ্রেডে বেতন পান।


সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোরও অনুমোদন দেওয়া হয়।


বছর কয়েক ধরে আলোচনার পর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকুরেদের কাঙ্ক্ষিত এ জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করার পর এবার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তারও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা মিলল নতুন এ আদেশে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।


বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ বরাদ্দ করে যাওয়ার কথা তখন বলেছিলেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পে কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা তিনি সেসময় বলেছিলেন।


বিএনপি সরকার গঠন করার পর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দেয়। একই সঙ্গে আগের সরকারের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অর্থের সংস্থান না থাকায় এটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় নেয়।


এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাড়তি দামে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতেও সরকারের খরচ বাড়ছে।


একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরুর আগ্রহের আলোচনার সময় তাদের তরফে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংকুলান নিয়ে প্রশ্ন এসেছিল।


চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও এসব বিবেচনায় সেই সুযোগ থাকছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় সরকারি চাকুরেদের জন্য নবম এ বেতন কাঠামো আলোর মুখ দেখল।

সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৮ এএম

 সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে রাকিবুল হাসান এখন কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ডিএমপির দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১২টার সময়েও ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন তিনি। এরপর তাঁর অবস্থান কোথায়, সেটি জানা যায়নি।


রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর রাকিবুল হাসান এখন কোথায় আছেন, তা জানতে আজ পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের আট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁদের কেউ রাকিবুলের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। রাকিবুলকে ডিবিতে নেওয়াই হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন একজন। রাকিবুল হাসানের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে রাকিবুলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল রাতে বলেছিলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো সেখানে আছেন, নাকি অন্য কোথাও গেছেন বা তাঁকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে আজ কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত তথ্য দেননি।


রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তিনি এখন কোথায় আছেন, এ বিষয়ে জানতে আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাকিবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


শফিকুল ইসলাম বলেন, রাকিবুল কোথায় আছেন তিনি জানেন না। গতকাল তিনি রাকিবুলকে ডিএমপি সদর দপ্তরে দেখেছেন। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।


পরে কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও রাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন। 


ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, রাকিবুল কোথায় আছেন, তাঁরও জানা নেই।


কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি


রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থাকা অবস্থায় গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। 


পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অডিওটি রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।


অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে রাকিবুল হাসানকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।


অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে গতকাল রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরপর রাকিবুলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ।


ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে রাকিবুল হাসানের বক্তব্যের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তিন সদস্যই ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির একজন সদস্য আজ বলেন, কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


কী বলেছিলেন রাকিবুল হাসান


অডিওতে পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’


ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা, নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’


অডিওতে রাকিবুল হাসান পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের পদায়ন দেওয়ার অভিযোগ করেন।


মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।’

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ধামাচাপার চেষ্টা। এর মূল পরিকল্পনাকারী বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল ইসলাম। তিনি নিজের অপকর্ম আড়াল করতে হিসাব-সংক্রান্ত নথি পুড়িয়ে ফেলার জন্য পুরো ঘটনা সাজান। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে এমন তথ্য।


পিবিআই বলছে, জাহিদুল চেয়েছিলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি যেন হিসাবরক্ষকের নজরে না আসে এবং উল্টো তাঁকেই ফাঁসানো যায়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য আশরাফুল ইসলাম, অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক ও গাড়িচালক ফারুক মীরকে এ কাজে ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় সম্প্রতি জাহিদুল ও আশরাফুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পিবিআই।


বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় করা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন এসআই খন্দকার সালেহ আবু নাঈম। পরে এটি পিবিআই ঢাকা মহানগরের বিশেষায়িত তদন্ত ও অভিযান (সংঘবদ্ধ অপরাধ-উত্তর) ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। 


সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলা বলেন, বিয়ামের সমবায় সমিতির ৯টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে সেখানে চাকরির সুবাদে জাহিদুল ইসলাম সব হিসাব নম্বরে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সমিতির কমিটি বছর বছর পরিবর্তন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগের হিসাবের বিষয়ে তেমন খোঁজ রাখতেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেন ওই কর্মকর্তা। তিনি ব্যাংক হিসাবের ‘সিগনেটরি অথরিটি’র স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে নেন। সেই টাকায় তিনি ঢাকায় পাঁচ কাঠার প্লট এবং অন্যত্র ২১ বিঘা জমি কেনেন। 


তিনি আরও বলেন, সমিতির হিসাবরক্ষক মমিনুর রহমান এর আগে চার লাখ টাকার গরমিল ধরে ফেলায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন জাহিদুল। তাই তিনি হিসাবের কারসাজির নথি পুড়িয়ে মমিনুরকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।


গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বিয়াম ফাউন্ডেশনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে সমবায় সমিতির অফিসে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সমিতির দলিল, নামজারির কাগজ, জমি কেনার চুক্তিপত্র, ব্যাংক হিসাবের চেকবই, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাব এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পুড়ে যায়। 


এ ঘটনায় সেখানেই পুড়ে মারা যান অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক। দগ্ধ গাড়িচালক ফারুক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে এসি বিস্ফোরণ বলে ধারণা করেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। 


পিবিআইর তদন্ত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন একই পদে থাকায় সমিতির বিভিন্ন কার্যনির্বাহী কমিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়, সদস্যদের আর্থিক লেনদেন এবং হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে জাহিদুলের বিস্তারিত ধারণা ছিল। বিভিন্ন কাজে সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তারা তাঁর কাছে টাকা দিতেন। 


এসব অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা না দিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে তিনি আত্মসাৎ করেন। পিবিআই তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। বর্তমানে জাহিদুল জামিনে এসে পলাতক এবং আশরাফুল জামিনে রয়েছেন।


আশরাফুলকে ১২ লাখ টাকার প্রস্তাব


তদন্তে বলা হয়েছে, জাহিদুল প্রথমে তাঁর পরিচিত আশরাফুল ইসলামকে পরিকল্পনার কথা জানান। এ কাজে সহযোগিতার বিনিময়ে তাঁকে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে আশরাফুল কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন এবং কয়েক মাস মগবাজারের একটি হোটেলে জাহিদুলের খরচে থাকেন। তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আব্দুল মালেককে যুক্ত করেন। মালেককে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে রাজি করানো হয়। 


সে সময় মালেক জানান, ফারুকের সহায়তা প্রয়োজন। পরে ফারুককে তিন লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হলে তিনিও রাজি হন। মালেক ও ফারুক দুজনেই রাতে অফিসে থাকতেন।


সিসিটিভি বন্ধের পরিকল্পনা


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ৫০৪ নম্বর কক্ষের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা পুরো তলা পর্যবেক্ষণ করত। এ কারণে আগেই সিসিটিভি বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়। মালেক সিসিটিভি কীভাবে বন্ধ করতে হয় তা আশরাফুলকে শেখান। আগুন দেওয়ার জন্য পেট্রোল ও লাইটার আগেই কিনে রাখা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আশরাফুলকে কাপড়, টুপি, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস কেনার জন্য জাহিদুল চার-পাঁচ হাজার টাকা দেন। রাত আড়াইটার দিকে ফারুক তাঁকে বিয়াম ভবনে নিয়ে যান।


সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার বরাত দিয়ে তদন্তে বলা হয়েছে, রাত ২টা ৩৪ মিনিটের দিকে লিফট বন্ধ থাকায় আশরাফুল সিঁড়ি দিয়ে চতুর্থ তলায় যান। ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করেন। 


এরপর মালেক ও ফারুকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। পরে তিনজন মিলে ৫০৪ নম্বর কক্ষে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ছিটিয়ে দেন। তখন আশরাফুলকে দরজার সামনে পাহারায় দাঁড়াতে বলা হয়। মালেক ও ফারুক লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।


আগুন, বিস্ফোরণ ও মৃত্যু


আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে কক্ষের কাগজপত্র ও আসবাব আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কক্ষে থাকা এসিতে আগুন ধরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মালেক ও ফারুক দগ্ধ হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আশরাফুল সেখান থেকে পালিয়ে দোতলার একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে নিজের পরনের পোশাক, টুপি ও হ্যান্ডগ্লাভস সেখানে রেখে রাত ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ভবন থেকে বের হয়ে যান।


অন্যদিকে ফারুক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হয়ে ৫০৭ নম্বর কক্ষে যান। পরে ভবনের নিচে নেমে আসেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলের উত্তর পাশের রান্নাঘরের কাছ থেকে মালেকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। ফারুককে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ মার্চ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 


যোগাযোগ ও টাকা লেনদেন


তদন্তে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। 


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জাহিদুল ঘটনার আগে মালেক ও ফারুকের নম্বরে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। ঘটনার দিনও তাদের নম্বরে টাকা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর আশরাফুলের সঙ্গে জাহিদুল নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। আশরাফুলের জবানবন্দি অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে জাহিদুল তাকে ছয়-আট লাখ টাকা দিয়েছেন। 

সর্বশেষ সব খবর

চীনা নৌবাহিনী জাহাজ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ পিএম

পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে চীনের নৌবাহিনী জাহাজ বাংলাদেশে আগমন করেছে।  ‘থাং শান’(TANG SHAN), ‘দা ছিং’ (DA QING), এবং ‘থাই হু’ (TAI HU) নামের জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। চীনা জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল-এর পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার স্বাগত জানান।


এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে।


এছাড়াও জাহাজসমূহকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশস্থ চীন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ চীনের নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সফরকারী জাহাজসমূহ বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের অভ্যর্থনা জানায়।




বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফরকারী জাহাজসমূহের অধিনায়ক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মিলিটারি অ্যাটাশেসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট এবং চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।


সফরকারী জাহাজসমূহের কর্মকর্তা ও নাবিকগণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ, ঘাঁটি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শন করবে।


এছাড়াও, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ চীনের নৌবাহিনী জাহাজ পরিদর্শন করবে। এ সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের নৌসদস্যগণ পারস্পরিক কার্যক্রম ও পেশাগত উৎকর্ষ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মতবিনিময়ের সুযোগ লাভ করবে। 


শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত বিষয়ে মতবিনিময়, ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। 


উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজসমূহ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।

সর্বশেষ সব খবর

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। 


তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্তের ভয় দেখিয়ে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস মুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে স্ট্রেংথেনিং দ্য প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব প্রসিকিউশন এথিকস ফর দ্য অ্যাটর্নি জেনারেল’স অফিস অব বাংলাদেশ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।


জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে দুদিনের এ কর্মশালার আয়োজন করে। এই প্রথমবারের মতো অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে ১৬০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নেন। প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, থাইল্যান্ডের প্রসিকিউটর ওয়ারানথর্ন ওয়ানিচথাওয়ার্ন এবং মালদ্বীপের প্রসিকিউটর মারিয়াম সিমহা মুস্তফা রাশিদ।


প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি অফিস এখন মুক্ত। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন আইন কর্মকর্তাদের আগমনের মাধ্যমে আমরা অনেকাংশে এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছি।


কর্মশালা সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা উচিত। দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সর্বাবস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।


অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ এই প্রতিষ্ঠানে থাকবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি কয়েকজন আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।


রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, আমি যতদিন আছি ততদিন কোনো অনৈতিক সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। আমাদের অঙ্গীকার-সততা, নিষ্ঠা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।


অনুষ্ঠানে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার উদাহরণ দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারিক আদালতে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব শুধু সাজা নিশ্চিত করা ছিল না, নিরপরাধ নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকই আমাদের মক্কেল। শুধু রাষ্ট্রের পক্ষে সাজা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব নয়, নিরপরাধ নাগরিকদেরও আমরা রক্ষা করছি। 


অনুষ্ঠানে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলজ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় প্রসিকিউটরদের স্বতন্ত্র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচারককে নিরপেক্ষ থাকতে হয় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীকে তার মক্কেলের পক্ষে অবস্থান নিতে হয়। অন্যদিকে, প্রসিকিউটরকে একই সঙ্গে শক্তিশালী ও সংযত হতে হয়।


উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় নৈতিক মান বজায় রাখবে এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার একটি পথচলা শুরু হবে।


সর্বশেষ সব খবর