অটোরিকশা জনদুর্ভোগের কারণ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। 


তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধিক্যের কারণে এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে ট্রাফিক বিভাগকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তাই ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব আলোচনায় অটোরিকশার চলাচল নিয়ে বিস্তারিত বিষয় ও সমস্যাগুলো উঠে আসে। কিন্তু একইসঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।


তবে আলোচনায় উপস্থিত দুই পক্ষই অন্তত প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি বৈঠকের কথা রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের।


আলোচনায় উপস্থিত থাকা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ দুই পক্ষই চায়, ঢাকার প্রধান সড়কে আর অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া না হোক।




তিনি বলেন, দুই পক্ষ এ বিষয়ে একমত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। আগামী মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি চূড়ান্ত বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকের পর অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসন ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখের পর এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নগরবাসীকে জানানো হতে পারে। 


এরপর সরকারের সহযোগিতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থানে যাবে ট্রাফিক বিভাগ। সড়ক থেকে অটোরিকশা সরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরা চালুর পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভাঙা, উল্টো পথে চলাচল ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রায় সব ধরনের যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ই-প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে।


তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এসব যানবাহনের বড় অংশের নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, নেই নির্ধারিত নম্বরপ্লেট, এমনকি চালকদেরও নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের দৃশ্য ধরা পড়লেও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশার চলাচল নিয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, উল্টো পথে প্রবেশ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাই ট্রাফিক বিভাগ মনে করছে, রাজধানীতে বর্তমানে যে পরিমাণ অটোরিকশা চলাচল করছে তা নিয়ন্ত্রণে না আনলে ঢাকার সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। অটোরিকশার কারণে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাই ব্যাহত হচ্ছে না, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।


এ কারণে ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরানোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায়। এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। 


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ও প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের মতো পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই। প্রতিদিন এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনতে গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সরকারি ও রাজনৈতিক পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ। কারণ এসব অটোরিকশার মালিক ও গ্যারেজ মালিকদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরানো সম্ভব হবে। বিষয়গুলো আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তুলে ধরবে ট্রাফিক বিভাগ।


এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। অটোরিকশার বিষয় উঠলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই অনুযায়ী আগামী মাসের ১৫ তারিখের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, ওই বৈঠকে অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল আগেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জনবল সংকট ও ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্প্রতি রাজধানীর কাওরানবাজার মোড় ও বাংলামোটর এলাকায় দেখা যায়, এআই ক্যামেরার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আগের তুলনায় নিয়ম মানার প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু সিগন্যাল লাল থাকলেও অটোরিকশাগুলো সুযোগ পেলেই সামনে ঢুকে পড়ছে, উল্টো পথে চলাচল করছে এবং যত্রতত্র যাত্রী তুলছে।


মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে ক্যামেরার মাধ্যমে আইন প্রয়োগ সহজ হয়েছে, কারণ তাদের রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানার তথ্য রয়েছে। কিন্তু অটোরিকশার ক্ষেত্রে এসব না থাকায় প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।


এক ট্রাফিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এআই ক্যামেরার কারণে বড় গাড়িগুলো নিয়মের মধ্যে এসেছে। কিন্তু অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আলাদা অভিযান চালাতে হয়। লাখ লাখ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের মতো জনবল আমাদের নেই।


ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ট্রাফিক আইন ভঙ্গ নয়, অটোরিকশাকে ঘিরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও হচ্ছে। এ কারণে অটোরিকশার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।




চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেসারকে।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হৃদয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।


শোকবার্তায় বিসিবি জানায়, তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা হৃদয় ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেস বোলার। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিসিবি।


অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্ত ও অস্থিমজ্জার দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন হৃদয়। তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় বিসিবি। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও। 


  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। আজ শনিবার এমন পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 


বঙ্গোপসাগরের এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। 


আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।


এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের আমবাগানে, ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আগামীকাল রোববার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।


বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য আজ শনিবার টানা ৪ ঘণ্টা রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় গ্যাস থাকবে না। 


গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর, বসুন্ধরা, জোহার সাহারা, ভাটারা ও বারিধারা জে ব্লকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।


লাউ ও পেঁপে উৎপাদন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ এএম

এক টাকায় চারটি লাউ। আর এক কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন টাকায়। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ফসল তোলার শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না। তাই জমিতে ফলনভরা লাউয়ের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষক। পেঁপে পেকে নষ্ট হচ্ছে গাছেই। অথচ রাজধানীর বাজারে একটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকায়।


পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দর পড়ে গেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায়, কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। অথচ স্থানীয় খুচরা বাজারে একটি লাউয়ের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।


আটোয়ারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। তাঁর খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই অর্থে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।


এই কৃষক আরও বলেন, দুই থেকে তিন হাজারটি লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা হয় না। লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, কৃষক এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে দাম না পেলে চাষ করবেন কীভাবে?


একই উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার-কীটনাশকের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও লাউয়ের দাম মিলছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত। একজন শ্রমিককে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। এ অবস্থায় বাগানে পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়াকে লোকসান আরও বাড়ানোর শামিল মনে করছেন তিনি।


পেঁপের বাজারেও একই চিত্র। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 


অনুকূল আবহাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার ও আবাদ বাড়ায় উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁপে আসায় দাম নেমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।


সিংগাইরে জমিতে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। এ দামে পণ্য বিক্রি করে জমির ভাড়া, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক গাছ থেকে পেঁপে তুলছেন না। কোথাও পাকা পেঁপে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও গাছ কেটে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে।


সিংগাইরের গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু ক্রেতারা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। এই দামে শ্রমিক ও ভ্যানভাড়া দেওয়াই কঠিন বলে জানান তিনি।


সিংগাইরের আরেক কৃষক তাজুল সিকদার লোকসানের কারণে দুই বিঘা জমির পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছেন। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে খরচের সামান্য অংশও ফেরত না পাওয়ায় অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন তিনি। 


কৃষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁপে চাষে আগ্রহ কমে যাবে।


এ দিকে ঢাকার পাইকারি বাজারেও এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি চার থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে খুচরা বাজারে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। 


গত বছরের বেশি দামের অভিজ্ঞতায় এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় উৎপাদন এবং আগাম বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ফলন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের হিসাব উল্টে গেছে।


কারওয়ান বাজারের পেঁপে ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান গত বছর ভালো দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবার পাঁচ জেলার কৃষকদের তিন কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, এবারও বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


ওই ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি পেঁপে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি করেছেন। এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে চার টাকায়। অথচ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে আনতেই কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ চার টাকার বেশি পড়ে। তিন কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর এর ৫০ লাখ টাকাও ফেরত পাবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। ব্যাংক ঋণ ও সুদের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ব্যবসায়ী।


মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তিন টন পেঁপে কারওয়ান বাজারে এনেছিলেন অজি উল্যাহ। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, জমির ভাড়া, বীজ, সারসহ উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয় আরও তিন টাকা। 


অর্থাৎ ঢাকার বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁপেতে খরচ দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ তাঁকে পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে আট টাকায়। প্রতি কেজিতে লোকসান হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি।


কারওয়ান বাজারে ২০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন আবু বকর। তিনি জানান, পেঁপের দাম এতটা কমে যেতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।


এদিকে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সব পণ্যের দাম একসঙ্গে কমেনি। বগুড়ার মহাস্থান পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোলের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, করলার দাম ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, ফুলকপির দাম ৭০-৮০ থেকে ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ৩৫ থেকে ২২ টাকায় নেমেছে। কিন্তু বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে পটোল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। 


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বাজারে শীতের সবজি চলে এসেছে। ফলে মানুষের এখন আগ্রহ আগাম শীতের সবজির দিকে। লাউ এবং পেঁপে সারাবছর পাওয়ার কারণে মানুষ এখন এই দুই সবজির দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ ছাড়া পেঁপে ও লাউয়ের আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে ও লাউ চাষের বিস্তার ঘটেছে। বেশি জমিতে আবাদ ও ভালো ফলনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।


কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, লাউ এবং পেঁপের বাজারের চিত্র কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থার একটি বড় সংকট সামনে এনেছে। উৎপাদন বাড়লেও সেই পণ্য লাভজনক দামে বিক্রি করার নিশ্চয়তা নেই কৃষকের। দ্রুত পচনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দাম বাড়ার অপেক্ষা করার সুযোগ কৃষকের নেই। বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে তাঁকে লোকসান মেনে নিতে হয়। সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দূরের বাজারে পণ্য পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি থেকেই যায়। কম দামে পণ্য পেয়ে ভোক্তার সাময়িক স্বস্তি মিললেও উৎপাদক যদি উৎপাদন খরচই তুলতে না পারেন, তাহলে পরের মৌসুমে সেই ফসল চাষে তাঁর আগ্রহ ও সক্ষমতা- দুটিই কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।


তিনি বলেন, ভারত ‘মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস’ নামে একটি স্কিম চালু করেছে, যা কৃষকের নিজের উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এ ছাড়া ‘ফসল বীমা কর্মসূচি’ও রয়েছে সেখানে। ভারতে প্রায় ২৩টি পণ্য সরকার কিনে নিয়ে মজুত করে। পরে যখন মৌসুম শেষ হয়, তখন সরকার বাজারে সেই পণ্য ছাড়ে। তাতে বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকে। পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষিমূল্য কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবও করেন এই বিশেষজ্ঞ।

বিষয় :


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ এএম

নভেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সে অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। পরদিন ৮ নভেম্বর রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা।


এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্র, শনি ও রবিবার মিলিয়ে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটির সুযোগ রয়েছে।


তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একই সময়ে ছুটি কার্যকর হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। 


তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। 


আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।


এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।


আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।